বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কথা মতো আজও ঠিক সময়ে এসে বসে আছি। কিন্তু যার আসার কথা সে আসলো পাক্কা দেড় ঘণ্টা পর। আজও সামান্য বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটিটা ঝগড়ায় পরিণত করলো শান্তা। নাম শান্ত ক্যাটাগরির হলেও সে মোটেও সেরকম ছিল না।
আমি কাচুমাচু করে তার কাছে জানতে চাইলাম, আজ কেন দেরি করে আসলে? ব্যস এতটুকুই! কড়া ভাষায় শাসিয়ে হঠাৎ বোল পাল্টালো। তুমি থেকে সরাসরি তুই। তুলকালাম কাণ্ড! আমার চারদিকে একটা কৃত্রিম ঝড়ের আবহ।
উৎসুক জনতার একটা বড়সড় ভিড় জমে গেছে ইতোমধ্যে। কেউ এগিয়ে আসতে চেয়েও শান্তার রুদ্রমূর্তি দেখে সে সাহসটা করতে পারছে না। আমি অসহায়ের মতো মাথা নাড়িয়ে দোষ না করেও ক্ষমা চেয়েই যাচ্ছি। কিন্তু বিধিবাম। সময়টা মোটেও আমার পক্ষে না। ঝগড়ার সুযোগে শান্তা আমার চরিত্র নিয়ে বেশ কতক মিথ্যে দোষারোপ করলো। আমি হতাশ হয়ে সেটাও মেনে নিচ্ছি। আর রাগে মাথার চুল একটা করে ছিড়ছি। কিন্তু সেটাও ঠিকঠাক মতো হচ্ছে না। কেননা শান্তা আমাকে বকতে থাকলে তার চোখে তাকানোর অঘোষিত নিয়ম আছে। আমি সেটাও তার সামনে বসে ভেঙে চলছি।
শপাং করে আমার হাতের উপর একটা হাড্ডিসার হাত পড়লো। আমি ব্যথায় ককিয়ে উঠে চোখ তুলে তাকাতেই নিজেকে আশ্বস্ত করে নিলাম। শান্তার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে ভিক্ষুক মহিলা। আমার চোখের ইঙ্গিতে আমাদের পাশ দিয়ে চলে গেলো। একটা রহস্যময় পরিবেশ সৃষ্টি হলো চারপাশে। শান্তা ককিয়ে উঠল, উফ! ওটা একটা ভিক্ষুক!
আমি তার সুইয়ের মতো কথায় বিদ্ধ হয়েও চুপ থাকলাম। কিছু সময় পর আবার আমার কাঁধে সেই হাড্ডিসার হাত। বুঝলাম কোনো এক উদ্ভট কারণে শান্তার রাগ বাবাজি বিদায় নিয়েছে। আর আমাকে ফেলে গেছে অতল জলে। আমিও ‘ছুটি’ গল্পের ফটিকের মতো খালাশিদের অনুকরণ করে জল মানে সময় গুনতে লাগলাম, ‘এক বাও মেলে না। দো বাও মেলে—এ-এ না।’
পরের আধা ঘণ্টায় আগামী পঁচিশ বছরে কী হবে তা আমাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলো শান্তা। আমি সব বুঝে নিলাম। আর সেই ভদ্র মহিলা ভিক্ষুকের অপেক্ষার প্রহর, দুঃখিত সেকেন্ড গুনতে লাগলাম। কারণ আমার চলমান এই বিপদ থেকে সারাজীবনের জন্য মুক্তি পেতে তার ভূমিকা অপরিসীম। আমি আমার প্রেমিকার মহাপ্রয়াণ না চাইলেও আপাতত প্রয়াণের জন্য প্ল্যান ফেঁদে বসে আছি।
শান্তা আমার ভার্সিটির সিনিয়র আপু। কী কারণে যেন তাকে প্রস্তাব দিলাম। আর সেও আমাকে একপ্রকার বোকা বানিয়ে গ্রহণ করে নিলো। বেশ! এরপর থেকেই তার অত্যাচার শুরু। ক্লাসে কোথায় বসবো, কে আমার বন্ধু হবে, কার কার সঙ্গে একদমই কথা বলা যাবে না, ফেসবুকের পাসওয়ার্ড, ভার্সিটির আড্ডা সবকিছুতেই বিশাল বাগড়া! সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ফুটেজে রেকর্ড করে আমাকে! কিছুই স্বাধীনভাবে হচ্ছিল না। তাই তাকে ছেড়ে দেওয়ার তাল বাহানা! আমার হয়ে কাজ করার জন্য নিয়োগ দিলাম এক ভিক্ষুক ভদ্র মহিলাকে।
শেষমেশ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসলো সেই ভদ্র ভিক্ষুক মহিলা! কোলে বছর তিনেকের একটা বাচ্চা। আমার সামনে এসে হাত পাতলো। আমি কিছুটা মেকি রাগ দেখিয়ে বললাম, এখান থেকে যান তো একটু শান্তিতে থাকতে দিন।
আমাকে অবাক করে দিয়ে মহিলা দারুণ অ্যাক্টিং করে চলল। আমার মনে হলো বাংলা সিনেমার বস্তি ভাঙার দৃশ্যে মহিলা বেশ সফল অভিনয় করতে পারতো। শান্তার দিকে তাকিয়ে আমার উদ্দেশে মহিলাটি বলে উঠল, ‘হামনে যে নতুন আরেক ম্যাডামের সাথ নিত্য বিয়ালো দেহা করেন, আর কুট কুট করে বাদাম চাবান; হেইডা কি ম্যাডামরে কবো?’
আমি বেশ একটা ব্যস্ত ভাব নিয়ে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক মহিলার হাতে একটা একশ টাকার নোট গুজে দিয়ে বললাম, চলে যান এখান থেকে।
মহিলাও বেশ বুঝবানের মতো চলে গেলো। আমি তার চলে যাওয়ার পথে তাকিয়ে মুচকি হাসলাম। মনে মনে বললাম, ‘গুড জব!’
পেছনে ঘুরে দেখি শান্তা নেই। বেশ বড় একটা নিশ্বাস নিলাম, আহ্!
রাতে দীর্ঘ একটা মেসেজ ইনবক্সে পাঠিয়ে আমাকে ব্লক করে দিল শান্তা। পরের দিন বন্ধুর মাধ্যমে ফেরত এলো আমার দেওয়া গিফটগুলো। বুঝলাম চলে গেছে, মানে প্রেমিকার প্রত্যক্ষ প্রয়াণ ঘটেছে।
#হেম
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now