বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
দেরিতে বিবাহ ইসলামের বিরুদ্ধে শতাব্দীর এক শ্রেষ্ঠ ষড়যন্ত্র
"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আরওয়া (০ পয়েন্ট)
X
মাসুমা ইসলাম
কুফফাররা অনেক চিন্তা ভাবনা করে দেখলো যে, শুধু অস্ত্র দিয়ে মুসলিমদের হত্যা করে পরাজিত করা সম্ভব নয় কেননা মুসলিমরা তো আল্লাহর পথে শহীদ হওয়াকেই তাঁদের চূড়ান্ত সফলতা মনে করে। তাছাড়া যাদের একমাত্র লক্ষই হচ্ছে আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া, আপনি তাঁদেরকে কিভাবে থামাবেন?? তাই কুফফাররা চিন্তা করলো মুসলিম যুবকদের নৈতিকভাবে ধ্বংস করে দিতে হবে, কেননা নৈতিকতাই হচ্ছে মুসলিম যুবকদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
এ অস্ত্রের জোরেই তারা আল্লাহর পথে কুফফারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তাই তারা প্রথমে মুসলিম দেশগুলোতে বিবাহের উপর একটি নির্দিষ্ট সময় সীমা বেধে দিলো যে, এর আগে বিয়ে করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, যদিও একটি ছেলে এবং মেয়ে এই নির্দিষ্ট সময় সীমার অনেক আগেই বিবাহের উপযুক্ত হয়। সেই সাথে তারা এমন শিক্ষা ব্যবস্থাও চালু করলো যে, এই শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা ছেলে চাইলেও ২৮-৩০ বছরের আগে উপার্জনক্ষম হতে পারবে না।
যদিও একটা ছেলে ১৫ বছর বয়সেই যৌবনপ্রাপ্ত হয়। তাহলে একটি ছেলে যৌবনপ্রাপ্ত হওয়ার পরের ১৫ টি বছর কিভাবে পাড়ি দিবে?? এই জন্যে কুফফাররা ব্যাপকহারে পর্ণ ছবি ছড়িয়ে দিলো, বিবাহপূর্ব প্রেম ভালবাসাকে ছড়িয়ে দিলো। যুবকদের যুবতীদেরকে একটা মেসেজ দিলো যে, “এই নাও পর্ণ ছবি। এগুলো দেখো। এগুলো দেখে উত্তেজিত হও।
উত্তেজিত তো হয়েছো কিন্তু এখন কি করবে?? বিয়ে তো করতে পারবে না। তাহলে প্রেম করো, প্রেম করে প্রেমিকার সাথে সেক্স করো, যৌবনের চাহিদা মেটাও।” আর যে যুবক প্রেম করবে, পর্ণ দেখবে, প্রেমিকার সাথে অবৈধ মেলামেশা করবে সেই যুবক কি কখনো আল্লাহর রাস্তায় কুফফারদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার কথা চিন্তা করবে?? কস্মিনকালেও না। এভাবেই কুফফাররা মুসলিম যুবকদেরকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, আমাদের যুবকদের জীবনী শক্তিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
আল্লাহ আমাদের সকল ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুক। আমিন।
•বিবাহের জন্য সাবালক হওয়া যেমন জরুরি। তেমনি ছেলেদের ক্ষেত্রে উপার্জনক্ষম হওয়াটাও জরুরি।সমাজে "প্রতিষ্ঠিত" অর্থাৎ, বাড়ি -গাড়ী-ব্যাংক-ব্যালেস্ ব্যাপার ভিন্ন। এটা আল্লাহ বলেন নি। বা এটা কোনো মানদন্ড না।অন্তত স্ত্রীর ভরন পোষন করার মতো নিজেকে তৈরি হতে হবে। একটা ছেলে উপার্জন করা না শিখলে কোনো মেয়ের অভিভাবক মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হতে চাইবে না। এটা স্বাভাবিক।
•বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা হিসেবে দেখলে পড়াশোনা শেষ করে চাকরী পেয়ে বিয়ে করতে চাইলে ৩০/৩৫ হয়ে যায়।ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আর কাফফারদের যড়যন্ত্রের দিকে খেয়াল করলে বয়স বেড়ে যায়।
•এজন্য বিকল্প পদ্ধতি হলো, "বাচ্চাদের ছোট থেকে স্বাবলম্বী হিসেবে,স্বকর্মসংস্থান তৈরি করা যেমনঃ বিভিন্ন ব্যবসা , বানিজ্য হতে পারে আগ্রহী করে তুলতে হবে। বাড়ির আশেপাশে সবজি চাষ, মাছ চাষ, মাঠে কাজ অর্থাৎ জমির হালচাষ , ফলের ব্যবসা, কাপড়ের ব্যবসা, ইলেকট্রনিক্স এর দোকান, মিস্ত্রি হিসেবে, কাঠের আসবাবপত্র তৈরি, এছাড়াও বর্তমানে আরো একটা বিষয় বেশি পাওয়ারফুল সেটা হলো, কম্পিউটার বিষয়ে দক্ষ করে তোলা। এই সেক্টরে হরেক রকম কাজ আছে। ইনশাআল্লাহ ছেলেরা কোনো কাজকে ছোট মনে না করে পড়াশোনার পাশাপাশি এর মধ্যে কোনো একটা কাজে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারে।
• এমন যদি সম্ভব হয়,তাহলে একটা ছেলে ২০/২১ বছর বয়সেই বিয়ে করতে পারবে। এতে চরিত্র ঠিক রেখে পড়াশোনা+ নিজের কর্মজীবন + সাংসারিক জীবন যাপন করতে পারে।
•নিজেদের মধ্যে থেকে গোড়ামী মনোভাব দূর করতে হবে।
•একটা মেয়ে বাচ্চাকেও বাল্যকাল পার হলেই সাংসারিক কাজকর্ম যেমন, রান্না করা-ঘর গোছানো-হাতের কাজ অর্থাৎ, সুঁই সুতার কাজে দক্ষ করে গড়ে তোলা, খাস পর্দায় রেখে তাকে কোরআন-হাদীস সহ দুনিয়াবী শিক্ষায় শিক্ষিত করা।
•স্বামীর সংসার দেখভালো করার জন্য যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। শুধু আহ্লাদ দিয়ে বড় করে অকর্মার ঢেকি করার কোনোই মানে নেই।
•মুসলিম অভিভাবকদেরকেও সচেতন হতে হবে। শুধু ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার,বিসিএস ক্যাডার,বড় কর্মকর্তা না দেখে ধার্মিক সৎ চরিত্রবাণ কর্মঠ যুবক দেখে মেয়ে বিয়ে দিতে হবে।দেখা যায়,৩০/৩৫/৩৬ বছরের ছেলের সাথে ১৫/১৭/১৮ বছরের মেয়ের বিয়ে দেয় বাবা মা শুধু টাকাওয়ালা দেখে।মেয়ের পছন্দ অপছন্দের খেয়াল রাখে না।এটা দুঃখজনক। এরজন্য জবাবদিহি করতে হবে আল্লাহর কাছে।
•আশাকরি, মুসলিমরা তাদের আখেরাত এবং দুনিয়া দোজাহানে কামিয়াবী হবার জন্য চেষ্টা করবে। কোনো কাজকেই ছোট করে দেখবে না।
• নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনে ইহুদি লোকের কুয়ো থেকে পানি তুলে দেওয়া অর্থাৎ শ্রমিকের কাজ ও করেছেন। তিনিই আমাদের আর্দশ। ।এ কথার এখন শুধু প্রচলন আছে। কিন্তু এমন ধরনের কাজ গুলো করতে এখন অনেক মুসলিমেরই আত্নসম্মানবোধে বাঁধে।
যাইহোক,এটা পড়ার পর থেকে যেন অন্তত বুঝে মেনে চলতে উৎসাহিত হই। হে আল্লাহ! দুনিয়ার কাফের মুশরিক মুনাফিকদের সব যড়যন্ত্র বুঝে তা প্রতিরোধ ও চূর্ণবিচূর্ণ করে চলার তৌফিক দান করুন। আমীন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now