বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সাফিনা তার দুই সন্তানকে নিয়ে তাদের নতুন বাড়িতে উঠল। সাফিনার এক মেয়ে এক ছেলে। মেয়ে নাম ইশা ক্লাস সেভেনে পড়ে। আর ছেলে সাদ ক্লাস টুতে পড়ে। দুইজনকেই ভালো একটি স্কুলে ভর্তি করিয়েছে। এক মাস বেশ ভালোই কাটল তাদের।
একদিন রাত এগারোটা বাজে,,,,,,,,,
সাফিনাঃ অনেক হয়েছে পড়াশোনা এবার ঘুমাতে যাও।
সাদঃ আপু কি খাও???
ইশাঃ বিস্কুট,,, এই নে তুইও খা।
সাফিনাঃ বেশি বিস্কুট খেও না। রাতে পানি পিপাসা পাবে। এবার লাইট বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়।
সাফিনা তার নিজের ঘরে চলে গেল।
কিন্তু সাদ মায়ের কথা শুনল না মন মতো বিস্কুট খেল।
রাত একটা বাজে,,,,,,,,
সাদের পানি পিপাসা পেল। সে তার বোনকে ডাকল, আপু আপু পানি খাব আপু। কিন্তু ইশার কোনো সাড়া না পেয়ে। সাদ একা একাই রান্নাঘরে পানি খেতে গেল। পানি খেয়ে ঘরে আসল। তার চোখ গেল মেঝেতে পরে থাকা তার খেলনা গাড়িটির উপর। গাড়িটাকে লাথি মেরে খাটের নিচে দিলো। বিছানায় উঠে বসতে না বসতে দেখতে পেল গাড়িটা যে যায়গায় ছিল ওইযায়গায়ই রয়েছে। অবাক হয়ে তাকালো। এটা কিভাবে সম্ভব এইমাত্রই তো গাড়িটাকে লাথি দিয়ে খাটের নিচে পাঠালাম।আবার এখানেই এলো কিভাবে। সাদ আস্তে আস্তে খাটের নিচে তাকালো অন্ধকারে একটা ভয়ংকর মুখ দেখতে পেল। সাথে সাথে চিৎকার করে উঠল আম্মু আম্মু।
পাশের ঘর থেকে সাফিনা দৌড়ে গিয়ে সাদকে জড়িয়ে ধরলো।
সাফিনাঃ কি হয়েছে ???
সাদঃ আম্মু খাটের নিচে কেউ আছে!!!
সাফিনাঃ আচ্ছা দেখছি, কোথায় কেউ তোহ নেই। নিশ্চয়ই স্বপ্ন দেখেছ।
সাদঃঃ না,, মা কেউ একটা ছিল।
সাফিনাঃ এক মিনিট, ইশা কোথায় ??? ইশা ইশা
সাদঃ আপু আপু, আম্মু আপু এখানে।
গুয়ে দেখে,, ইশা বারান্দায় সোফার উপর বসে বসে ঘুমাচ্ছে।
সাফিনাঃ ইশা উঠো এখানে কি করছ ???
ইশাঃ হয়তো ঘুমের মধ্যে হাটতে হাটতে এখানে চলে আসছি।
সাফিনাঃ মিথ্যা কথা বলবানা নিশ্চয়ই আইসত্রুিম খেতে উঠছিলে আর খেতে খেতে এখানেই ঘুমিয়ে পড়ছ।
ইশাঃ না,,, আম্মু আমি তো
সাফিনাঃ হয়েছে আর কিছু শুনতে চাই না। অনেক রাত হয়েছে। যাও দুইজনই নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়।
এরপর দুই তিন ইশা প্রতিদিন সকালে ঘুম উঠে দেখত সে বান্দার সেই সোফার উপর বসে আছে।
তারপর দিন ইশা শোয়ার সময় তার হাত দড়ি দিয়ে খাটের পায়ার সাথে বেধে রাখল।
সাদঃ আপু কি করছ ???
ইশাঃ এইটাই একমাত্র উপায়। আজকে আর আমি ঘুমের মধ্যে হাটতে পারব না। আম্মু যদি আর একদিন সকালে দেখে যে আমি ওই সোফায়। আমাকে শেষ করে দেবে।
রাত তিনটা বাজে এমন সময় কেউ যেন ইশাকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দিলো।
ইশা বিকট আওয়াজ করছে সবকিছু ভেঙে ফেলছে এসব শব্দ শুনে সাফিনা দৌড়ে এত ভাঙচুর দেখে ঘাবড়ে গেল। ইশার কাছেই যাওয়াতেই ইশা তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো। সাদ তার মাকে জড়িয়ে ধরলো।।
সাফিনাঃ কি হয়েছে তোর ইশা ???
ইশাঃ আমি ইশা না আমাকে ইশা বলে ডাকবি না। চলে যা আমার বাড়ি থেকে চলে যা।
বলতে বলতে ইশা অজ্ঞান হয়ে গেল।
সাদঃ মা আপুর কি হয়েছে???
সাফিনাঃ কিছু হয়নি। একদম ভয় পাবে না। আম্মু আছে তো তোমার সাথে। ইশার কিছুই হবে না।
সাফিনা ইশাকে বিছানায় শুইয়ে রেখে দরজা বন্ধ করে দিলো। সাফিনার সবকিছু বুঝতে পারল। ভোর হতে না হতে সে পাশের বাড়ি সাহায্যের জন্য গেল। তাদের সবকিছু বলল। আর বলল, আমি এখানে নতুন আপনাদের জানা কোনো হুজুর থাকলে আমাকে বলুন।
অবশ্যই সহায়তা করব আমি এখনি হুজুর কে ফোন করছি তিনি নিশ্চয়ই আপনাদের সাহায্য করবে।
একঘন্টার মধ্যে হুজুর সাফিনাদের বাড়িতে আসল।
সাফিনাঃ আসসালামু আলাইকুম।
হুজুর ঃঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম। এই বাড়িতে কে কে থাকে???
সাফিনাঃ আমি আর আমার মেয়ে ইশা আর ছেলে সাদ।
হুজুর ঃঃ আর এদের বাবা??? কতদিন আছেন এই বাড়িতে???
সাফিনাঃ ইশার আব্বু প্রায় দুই বছর আগে মারা গেছে। তিনিই এই বাড়িটি কিনেছিল।আজ প্রায় এক মাসের বেশি এই বাড়িতে আসছি।
হুজুরঃঃ ইশা কোথায়??
ইশা বারান্দায় সেই সোফায় বসে আছে।
হুজুরঃঃ ইশা ইশা।
ইশাঃ আমি ইশা না।। আমাকে ইশা বলে ডাকবি না।
হুজুরঃ তাহলে কি বলে ডাকব ???
ইশাঃ আমার নাম জাফর।
হুজুরঃঃ তা তোমার বাড়ি কোথায়??? আর এই ছোট মেয়েকে কেন কষ্ট দিচ্ছ।
ইশাঃ এটা আমার বাড়ি আমার বাড়ি আমি থাকব। সবাই চলে যা না হলে সবাইকে শেষ করে দেবো।
হুজুরঃঃ এটা এখন আর তোমার বাড়ি নেই। তুমি আর এই দুনিয়ায় মানুষ না। তো এখান থেকে চলে যাও। আর যদি না যাও
ইশাঃ না গেলে কি??
হুজুর এবার ইশার মাথার উপর হাত রেখে জোরে জোরে দোয়া কালাম পড়তে লাগল আর ফু দিতে লাগল। এদিকে ইশা জোরে জোরে চিৎকার করছে। ইশা এবার অজ্ঞান হয়ে গেল। চিন্তা করবেন না ইশা কিছুক্ষণের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। আমার একটু কাজ আছে এখন আসছি।
কিছুক্ষণ পর ইশার জ্ঞান ফিরল। জ্ঞান ফেরার সাথে সাথে সাফিনা তাকে জড়িয়ে ধরলো। আমার ইশা।
বিকালে হুজুর আবার আসলেন,,,
সাফিনাঃ আসসালামু আলাইকুম।
হুজুরঃঃ ইশা এখন কেমন আছে??
জাফর বলছিল যে এটা তার বাড়ি। আমি আশে খোজ-খবর নিয়ে জানতে পেরেছি। জাফর নামের এই ব্যাক্তি প্রায় চার বছর আগে মারা গেছে। তারপর তার ছেলে এই বাড়ি আপনার স্বামীর কাছে বিক্রি করে। আর জাফর একজন বাজে লোক ছিল। তিনি এক সোফায় বসে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সাফিনাঃ এক মিনিট কিছুদিন ইশা সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখত ও সোফায় বসে আছে!!! কিন্তু ও বলত ঘুমের ঘোরে হাটতে হাটতে হয়তো এখানে এসে বসে থাকে।
হুজুর ঃঃ সেই সোফাটি কোথায়??
সাফিনাঃ ওই যে বারান্দায়।
হুজুরঃঃ এই সোফা কি এখানেই ছিল???
সাফিনাঃ এই সোফা এখানেই ছিল।
হুজুর ঃঃ তাহলে এই সেই সোফা যে সোফায় বসে জাফর মারা গেছিল। জিহাদ এদিকে আয় তো।
জি হুজুর,,, আরেকজন কে ডেকে এই সোফাটি বাইরে নিয়ে চল।
সাফিনাঃ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি সাহায্য না করলে আজ আমার মেয়ের যে কি হতো
হুজুরঃ ধন্যবাদ বলবেন না। এটাই আমার কাজ। এবার আমি আসি। আল্লাহ হাফেজ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now