বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিণতি
"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)
X
লেখক:বাস্তবিক হৃদয় [MH2]
[১]
সকাল বেলা মা বাবার চিৎকার শুনে ঘুম ভাঙ্গল নীলার। সে জানত এমন কিছু একটাই হবে। এই রকম হওয়াকে আটকানোর কোনো উপায় তার জানা নেই, ছোট বেলা থেকে সে এরকম চিৎকার শুনে আসছে, কিন্তু এখন অভ্যস্ত হলেও বুকের ভিতর ঠিকই ধরফর করে উঠে। মনে হয় যেন প্রচুর পিপাসা পেয়েছে, আর তার পেটের ভিতর কেমন যেন করতে থাকে।সে জানে প্রচন্ড ভয় আর চিন্তার কারণেই তার এমন হয়।
তার মা বাবা কেন চিৎকার করছেন তার রুমের বাইরে এটা সে জানে, কারণ সে ই তো এই চিৎকার মূল কারণ। নীলা হলো স্কুলের খুব মেধাবী ছাত্রীদের মাঝে অন্যতম। সবসময় ৯০+ নাম্বার পায়। সবসময় সে প্রথম বা দ্বিতীয় হয়, গার্লস স্কুলের গত ৫ বছর ধরে এটাই হয়ে আসছে। তবে সে যদি কখনও প্রথম হতে না পারে তখনই তার বাবা মা চিৎকার করে,তাকে বকাঝকা করে। কেন সে প্রথম হতে পারে না। আবার যেকোনো বিষয়ে প্রাপ্ত নাম্বার দিয়েও সে তার বাবা মাকে সন্তুষ্ট করতে পারে না, সে যদি ৯৭/৯৮ ও পায়, তবুও তার মা বাবা বলে ১০০ থেকে ৯৯ বা ১০০ ই কেন পেল না। নীলার অবাক লাগে একটা বিষয়ে,যে তার বাবা মা দুজনেই উচ্চশিক্ষিত এবং চাকুরিজীবী, তারাও তো শিক্ষাজীবণ পার করে এসেছেন, তাহলে তারা কেন তাকে উৎসাহিত না করে বরং তাকে তার ব্যার্থতার সময় প্রতিবার নিরুৎসাহিত করে,তিরষ্কার করেন। তার বান্ধবী রিহার বাবা মা তো রেজাল্টের জন্য রিহাকে কখনও বকে না,বরং রিহাকে উৎসাহ দেয়,ঠান্ডা মাথায় বোঝায়,যার জন্য রিহাও প্রতিবছর ভালো রেজাল্ট করে। ওনারা নিজের মেয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় রেজাল্টেও খুশি হতে পারেন,কিন্তু তার বাবা মা খুশি না হয়ে তার সাথে এমন কেন করে??? এটার জবাব সে পায় না। তার মনের মাঝে আরও একটা কথা মাঝেমাঝে জেগে উঠে,আর সেটা হলো, সে জানে যে সব বাবা মা ই তাদের জীবনের অপ্রাপ্তিগুলো তাদের সন্তানদের দিয়ে পূরণ করতে চান, কিন্তু এই পূরণ করার মানে এটা নয় যে সন্তানদের উপর চাপ প্রয়োগ করবেন।
গতকাল স্কুলে এস এস সির মডেল টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট দেওয়া হয়েছে। রেজাল্ট নেওয়ার সময় নীলার খুব ভয় হচ্ছিল, আর খুব চিন্তা করছিল। ক্লাস টিচার স্যার যখন তার হাতে তার রেজাল্ট পেপারটা দেয়,তখন কাপাকাপা হাতে সে রেজাল্ট পত্রটা হাতে নেয়, সে দেখল সব বিষয়ে সে ৯০+ পেয়েছে এবারেও,খুব খুশিতে তার মন ভরে উঠল। কিন্তু যখনই সে মার্কের হিসাবে তার অবস্থানের হিসাব করল, সে দেখল সে এবার দ্বিতীয় হয়েছে, আর তখনই তাকে প্রচন্ত ভয় গ্রাস করে নিয়েছে।আসন্ন পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে তার মন কেঁদে উঠল, বাড়ি এসে সে তার রেজাল্টপত্র টা লুকিয়ে রাখে,কারণ মা যদি রেজাল্টটা জানতে পারে তাহলে তাকে প্রচুর কথা শুনতে হবে,আর বেতের বাড়ি তো আছেই। কিন্তু সে জানত রেজাল্ট পেপার লুকিয়ে রাখলেও লাভ হবে না,তার মা যখন জানতে চাইবে তার রেজাল্ট সম্পর্কে তাকে তখন বলতেই হবে।তবুও নিজেকে বাঁচানোর ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা স্বরূপ লুকিয়ে রাখল।
রাতে প্রাইভেট টিচার যখন পড়াতে আসলেন, তার রেজাল্ট জানতে চাইলেন, মার্ক দেখে খুশি হলেও ঠিক সন্তষ্ট হননি।
স্যার বলল- তোমার কাছ থেকে এরকম আশা করি না।গণিতে ৯৫ পেয়েছ, ইংরেজিতে ৯৬, সবগুলোতেই এরকম।তোমার মতো ছাত্রীর প্রতিটা বিষয়ে ৯৮/৯৯ পাওয়ার কথা। আর এবার দ্বিতীয় হয়েছ। অর্ধবার্ষিকে প্রথম হয়েছিলে, এবার দ্বিতীয়, দিন দিন তোমার অবনতি হচ্ছে।তোমাকে নিয়ে কোনো আশা করা যায় না।
স্যার আরও রাগ দেখিয়েছিল নীলার উপর।মনে কষ্ট পেলেও, এ কষ্ট আর রাগ তার বাবা মায়ের রাগের চেয়ে বেশি নয়। রাত্রে ঘুমানোর সময়ও প্রচুর কান্না করে কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছিল সে, নিজেও জানে না। সকালে তার মা বাবার চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গল, তার রুমের দরজায় প্রচুর ধাক্কানোর আওয়াজ হচ্ছে।সে কোনোমতে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলল, আর দরজা খোলতেই তার মায়ের থাপ্পড় পড়ল তার গালে।নীলা তার গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে রইল।
নীলার আম্মু থাপ্পড় দিয়ে রাগত স্বরে বলল-" বজ্জাত আর আলসের হাড্ডি মেয়ে, এইটা কি রেজাল্ট করেছিস??? এবারে দ্বিতীয় কেন হয়েছিস??? আর মার্ক এতো কম কেন???"
নীলা কিছু বলল না,ঠায় দাড়িয়ে রইল। তখন তার বাবাও তাকে আরেক গালে থাপ্পড় দিয়ে দিল।নীলা এবারে তার দু গাল ধরে দাড়িয়ে রইল।চোখ বেয়ে ফোটাফোটা পানি পড়ছে,তবে সে কষ্ট করে পানিটাকে আটকে রাখছে।
নীলার আব্বু বলল- "কত গর্ব করে আমার কলিগ রেহান কে বলেছিলাম, আমার মেয়ে দশম শ্রেণীতে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে, এস এস সি তেও জেলাতে প্রথম হবে,দেখে নিও।আর এখন রেজাল্টে এসব কী দেখছি??? এখন তো দেখছি ওর দিন দিন অবনতি হচ্ছে।ওর জন্য কলিগদের সামনে মুখ দেখানো দায় হয়ে গেল।"
নীলার মা তার বাবার মতোই বলল- "শুধু কি তোমারই মুখ দেখানো দায় হয়েছে,আমারও তো হয়েছে, যখন নীলার স্কুলে যাব তখন রাইসার মায়ের সাথে দেখ হবে।রাইসা প্রথম হয়েছে,কিন্তু আমার মেয়ে,,, ওনার সাথে কথা বলতেও এখন লজ্জা করবে আমার।সব এই অলক্ষীটার জন্য হয়েছে।"
নীলাকে আরও অনেক কথা শুনতে হলো।আরও চারপাঁচটা থাপ্পড় পড়ল তার গালে।আর বেতের বাড়িও তো আছেই। পাশের রুমের দরজায় তার ছয় বছর বয়সী ছোট বোন সিনথিয়া দাড়িয়ে দেখছিল সব। ছোট ভাই বোনের সামনে মার খাওয়া খুবই লজ্জাজনক,যা নীলাকে আরও কষ্ট দিল।সে ঠায় দাড়িয়ে থেকে সব কথা শুনল। বাবা মা তাকে কথা শুনিয়ে আর মেরে সেখান থেকে চলে গেল। সঙ্গেসঙ্গেই নীলা তার রুমের দরজা লাগিয়ে কাঁদতে লাগল,শব্দ করে সে কাঁদতে পারে না,লজ্জা করে।সারাটি দিন সে দরজা বন্ধ করে রইল, তার বাবা মা তাকে দেখতেও আসে নি,ছোট বোনটা তার দরজায় কয়েকবার নক করেছিল, কিন্তু সে দরজা খোলে নি,দরজার ওপাশে সে কেঁদেই চলেছে।খোদার কাছে নানারকম দোয়া করতে লাগল ও। এভাবেই না খেয়ে আর কান্না করে তার দিনটা কেটে গেল।
[২]
ওইদিনের পর থেকে নীলা প্রচুর পড়াশোনা শুরু করে দিয়েছে।আগেও পড়াশোনা করত সে সারাদিন, তবে এখন পড়ার সময় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সে।খুব কম খায়, কারও সাথে কথা বলে না, সারাদিন পড়ে,এটা দেখে তার বাবা মা কিছুটা খুশি হয়,তারা মেয়েটার বাইরের দিকটাই দেখে, মেয়েটার মনের ভিতর কী চলছে তা তারা দেখতে পায় না।
নীলা ছোট থাকতে পড়তে খুব ভালোবাসত,তবে পড়াশোনার প্রতি তার ভালোবাসা কমে গিয়ে একসময় পড়াশোনাকে তার বিষের মতো মনে হতে লাগল।কারণ ছোট সময় যে বয়সে বাচ্চারা খেলাধুলা করে সে বয়সে তাকে তার বাবা মা খেলাধুলা করতে দেয় নি, বাইরের কারও সাথে কথা বলতে দেয় নি, বান্ধবীদের সঙ্গে কথা বললে পড়াশোনা থেকে মনোযোগ সড়ে যাবে এইসব বলে তার বাবা মা তাকে কারও সাথে মিশতে দেয় নি,সারাদিন ঘরের ভিতর বদ্ধ হয়ে থাকতে হতো তাকে। পরীক্ষার পরে যে ছুটি পেত,সেই ছুটিটাতেও তাকে পড়াশোনা করতে হতো।তার সহপাঠিরা এই সময় খেলাধুলা করত,বেড়াতে যেত,কিন্তু সে পারত না। এসব কারণে তীব্র মানসিক অশান্তিতে ভোগতে লাগল সে।
এইদিকে এস এস সি পরীক্ষা এগিয়ে আসছে, নীলার হৃৎস্পন্দন ক্রমে বাড়তে লাগল। পড়াশোনায় সে এমন ভাবে করতে লাগল যে স্বপ্নের মাঝেও দেখত সে পড়ছে।
[৩]
এস এস সি পরীক্ষা শেষ হয়েছে নীলার।পরীক্ষা ভালো হলেও নীলা চিন্তায় আছে,কারণ পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় তার তিনটা নৈব্যক্তিক নিয়ে সে সিওর নয়,ভুল হবে বলে তার মনে হচ্ছে। সে হিসেব করে দেখেছে যে পদার্থবিজ্ঞান এ সে হয়তো ৯৪/৯৫ মার্ক পাবে, যা তার বাবা মা আশা করেন না,এর জন্যও আরও কতো কথা শুনতে হবে এটা ভেবে নীলার মনের সমস্ত আনন্দ চলে গেল।
নটরডেম কলেজ, বা এরকম বড় বড় কলেজে চান্স পেতে হলে পরীক্ষা দিতে হয়।আর সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে ভালো করে পড়তে হবে, এই কারণ দেখিয়ে এস এস সি পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পরেই নীলাকে আবারও পড়াশোনায় বসিয়ে দেওয়া হলো। তাকে আবারও পড়াশোনার শৃঙ্খলায় আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।এস এস সি র পরে যে ছুটি হয়, সেই ছুটিতে সবাই মুভি দেখে,টিভি দেখে,গেম খেলে, বেড়াতে যায় আরও কতো কী করে।কিন্তু এসব নীলার জন্য শুধুমাত্র দিবাস্বপ্ন। একদিকে পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে চিন্তা আর অন্যদিকে ভর্তি পরীক্ষার পড়ার চাপ, এই দুটো বিষয় নীলার কিশোরী হৃদয়ের মাঝে হাজারও অদৃশ্য ছিদ্র করে দিল,যা থেকে প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ হয়ে চলল। আর প্রচন্ত কষ্টের মাঝে দিন কাটতে লাগল নীলার।
[৪]
আজ নীলার রেজাল্ট দিবে। নীলার রুমের দরজায় ধাক্কানো হচ্ছে, কিন্তু অন্যদিনের মতো আজ কেউ দরজা খোলে দিচ্ছে না।প্রচন্ড রাগে চিৎকার করছেন নীলার মা বাবা।বেলা ১০ টা বাজতে চলল, নবাবজাদির এখনও দরজা খোলার নামই নেই, নিশ্চয়ই পরীক্ষা খারাপ দিয়েছে, রেজাল্ট খারাপ হবে বলে আর দরজা খোলছে না,,,ইত্যাদি বলে চেচাতে লাগল তারা। এক পর্যায়ে রেগে গিয়ে নীলার রুমের দরজা ভেঙ্গে দিল নীলার বাবা।কিন্তু রুমের দরজা ভাঙ্গার পর তাদের সব রাগের আগুণ নিভে গেল, বরং চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল,স্থির হয়ে গেল তারা। কারণ তাদের সামনে নীলার স্থির হয়ে শুয়ে থাকা দেহটা পড়ে আছে, নীলার আত্মা মানসিক কষ্টটা আর সইতে না পেরে দেহ নামক খাঁচা থেকে মুক্ত হয়ে চলে গেছে শান্তির খোঁজে। নীলা মারা গেছে,কিন্তু নীলা আত্মহত্যা করে নি, হয়তো পরম করুণাময়ের কাছে মুক্তিস্বরূপ মৃত্যুই কামনা করত নীলা, আর সে দোয়া কবুলও হয়ে গিয়েছিল যার জন্য নীলার মন আজ মুক্তি পেয়েছে, সকল চিন্তা থেকে, সকল কষ্ট বেদনা,বন্দিত্বের খাঁচা থেকে।
[৫]
নীলার টেবিলে একটা চিঠি পাওয়া গেল। নীলার মা চিঠিটা নিলেন, পড়লেন,আর চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন।কী লেখা আছে চিঠিতে দেখার জন্য নীলার বাবা অশ্রুশিক্ত চোখ নিয়ে পড়তে লাগলেন,
প্রিয় বাবা মা,
হয়তো আমার শেষ কথা তোমাদের জন্য। কিছু কথা বলে রাখছি, যা জীবনে কখনও বলা হয় নি, আজ না বললে হয়তো আর কখনও বলাও হবে না।
ছোট থেকেই সবসময় তোমাদের শাসন আর নির্যাতনই পেয়েছি, কখনও ভালোবাসা বা দয়ামায়া পাই নি, পাই নি বাবা মায়ের আদর। তোমরা আমাকে কারও সাথে মিশতে দাও নি, খেলতে দাও নি,মনে একটু আনন্দ পাব এমন কিছু কখনও করতে দাও নি। সবসময় পড়াশোনার চাপ দিয়ে রেখেছ, পড়াশোনা করতে করতে একসময় পড়াশোনাকে আমার কাছে বিষের মতো লাগতে লাগল। তোমরা বাবা মা হিসেবে কখনও আমাকে বুঝতে চাও নি,একবারও বুঝবার চেষ্টাও করো নি।প্রত্যেকবার প্রতি পরীক্ষায় সবসময় মানুষ প্রথম হয় না,কখনও কখনও দ্বিতীয়ও হয়, কিন্তু তোমরা তা মানতে না, নিজেদের স্বার্থে আমাকে ব্যাবহার করতে, আমার ভালো মন্দ বুঝবার চেষ্টাও করো নি। আমি যে সময় দ্বিতীয় হতাম,তখন যদি তোমরা আমাকে তিরষ্কার আর মারধোর না করে একটু উৎসাহ দিতে, তাহলে হয়তো সবসময় আমি প্রথম হতে পারতাম। কিন্তু তোমরা তা করো নি, সবসময় চাপ দিয়ে রেখেছ।তোমাদের সামনে আমি হাসতাম,কিন্তু আমার মনের ভিতর কী চলছে তা তোমরা দেখতে না, কারণ তোমাদের সেইরকম চোখ বা মন কোনোটাই নেই।প্রচন্ত মানসিক কষ্টে নিরবে কেঁদে গেছি, খোদার কাছে প্রার্থনা করতাম যেন আমাকে মুক্তি দেন তিনি এই জীবন থেকে। আমি বেশ কয়েকবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছি, কিন্তু ধর্মের কথা, তোমাদের এবং সিনথিয়ার মানসম্মানের কথা ভেবে তা আর করি নি। কিন্তু খোদা আমার দোয়া শুনেছেন, এস এস সির এক মাস আগে থেকে আমার বুকে প্রচন্ড ব্যাথা করত,বুঝতাম হার্টের সমস্যা হচ্ছে হয়তো,কারণ ব্যাথাটা বুকের বাম পাশে হতো। কিন্তু তোমাদের বলি নি,কারণ তোমাদের কাছে আমার কোনো দাম ছিল না, আর তার চেয়ে বড় কথা হলো এটাই হয়তো আমার মুক্তির পথ। তাই বলি নি।
সিনথিয়ার সামনে আমায় তোমরা মারতে,ছোট ভাই বোনের সামনে বড় হয়ে মার খাওয়া কতো কষ্টের তা তোমরা বুঝতে চাও নি।
আমি এস এস সি দিয়েছি, পরীক্ষা আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে, কিন্তু পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা খারাপ হয়েছে কিছুটা।হয়তো তোমরা এবারেও ৯৯% বা ১০০% মার্ক চাইবে, জানিনা এবারে তা পাব কিনা,আর এটাও জানি না, এবারে ফার্স্ট হবো কিনা। প্রচুর টেনশনে আছি।
আর একটা কথা,আমার সাথে যা করেছ সিনথিয়ার সাথে ভুলেও এইসব করো না। আমি চাই না আমার বোনও আমার মতো কষ্ট ভোগে শেষে মারা যাক।
আজ প্রচুর ব্যাথা হচ্ছে বুকে,হয়তো হার্ট অ্যাটাক করব।আর দুনিয়া ছেড়ে চলে যাব।তোমাদের আশা হয়তো পূরণ করতে পারব না,আমায় ক্ষমা করে দিও।আরও কথা বলার ইচ্ছা ছিল,বলতে পারছি না এখন।
ইতি,
তোমাদের বড় মেয়ে,
নীলা
চিঠিটা পড়ে জোরে জোরে কান্না করতে লাগল নীলার বাবা। এমন সময় বাইরের দরজায় কেউ নক করল।নীলার বাবা নীলার রুম থেকে গিয়ে দরজা খোলল।দরজার সামনে নীলার বান্ধবী রিহা দাড়িয়ে আছে।
রিহা হাসি মুখে বলল-" আঙ্কেল রেজাল্ট দিয়েছে।নীলা প্রত্যেক বিষয়ে ৯৯% মার্ক পেয়েছে, আর শুধু জেলাতেই নয় পুরো বোর্ডে সে প্রথম হয়েছে।"
[কেমন লাগল??? ভুল নজরে আসলে বলবেন।আর গল্পটা লেখার উদ্দেশ্য সেইসব বাবা মায়েদের জন্য,যারা নিজেদের ছেলে মেয়েকে এরকম অধিক চাপ দেয়,তারা যেন বুঝতে পারে,তার জন্য লেখা।আর হতাসায় ভোগে কখনও আত্মহত্যা করার কথা মনেও আনবেন না,এটাই অনুরোধ।আর গল্পে কোনো ভুল নজর আসলে বলবেন]
বি.দ্র.: অনেক সময় আর শ্রম ব্যায় করে গল্প লিখি,তাই দয়া করে কপি করবেন না।
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now