বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কুয়াকাটা সমুদ্রের আশপাশের মার্কেটগুলো দেখতে দেখতে সময়টা হয়ে গেলো দুপুর ১২টার মতো।সেই সময় আবার কুয়াকাটা সমুদ্রে গিয়ে দেখি জোয়ার আসছে।যেই জায়গায় সকালে ঘুরলাম আর এখন সেই জায়গা সমুদ্রের পানিতে ভর্তি।ঢেউ ও এখন বড় আকার ধারণ করে পাড়ের দিকে আসছে।তো এবার আমরা সুমুদ্রের পাড়ে বসে সমুদ্রের জোয়ারের দৃশ্য দেখতে লাগলাম।আমাদের সাথে যারা আসছে এই ভ্রমণে তারা সমুদ্রে গোসল করছে।অনেক কে দেখলাম ফুটবল খেলছে এই জোয়ার এর মধ্যে।অনেকে সমুদ্রের ঢেউ এর উপর ঝাপ দিচ্ছে।সত্যি দৃশ্যগুলো দেখে ভালই লাগছে আমার।কিন্তু আফসোস আমি নিজে সমুদ্রে গোসল করতে পারছি না।গোসলের জন্য কোনো জামাকাপড় ও নিয়ে আসি নি।তাই এখন চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আমার আর কিছু করার নাই।তো পাড়ে বসে আছি সমুদ্রের ঢেউ এবার আরো এগিয়ে আসছে আমাদের দিকে।একেবারে আমাদের পায়ের কাছে চলে আসছে।হঠাৎ একটা বড় ঢেউ আমাদের দিকে ছুটে আসলো আমরা উঠার ও সময় পেলাম না এর মধ্যে ঢেউ টা এসে আমার আব্বু,আম্মু,ও মামির পা ভিজিয়ে দিয়ে চলে গেল।ব্যাপারটাতে অনেক অবাকের সাথে সাথে আমি সমুদ্রের শক্তির ও একটা নমুনা পেলাম।তারপর আরো কিছুক্ষণ সমুদ্রের জোয়ারের দৃশ্য দেখে দেখে আমরা সবাই এবার দুপুরের খাবারের জন্য হোটেল এর দিকে হাটা দিলাম।হোটেল এ গিয়ে আমি এবার আমাদের হোটেল রুমের বাথরুমে গোসল করে নিলাম।গোসল শেষে সবাই দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম।খাওয়াদাওয়া করার পর আবার রুমে এসে একটু বিছানায় শুয়ে পরলাম।তো হোটেল এ আম্মু আর মামি ঘুমাচ্ছে কিন্তু আমি আর আব্বু দুপুর বেলায় আবার সমুদ্রে গেলাম।তখন সময় তাও দুইটা কি তিনটা হবে।তো সমুদ্রে গিয়ে দেখি জোয়ার চলে গেছে এখন আবার ভাটার সময়।তাই সমুদ্র সৈকত দেখা যাচ্ছে।এবার আমি আর আব্বু সমুদ্রে সৈকতে পরে থাকা একটা নারকেল গাছের গুড়ির উপর বসে সমুদ্র দেখতে লাগলাম।
ভরা দুপুর গ্রীষ্মের প্রখর রোদ।চারিদিকে রৌদ্র ঝলমল করছে।সমুদ্র টাও একেবারে ফাকা।দুপুর বেলা কেউ বের হয় নি।আমি চারিদিকে তাকাচ্ছি ফাকা সমুদ্র সৈকত,সমুদ্রের মাঝে জেলেরা মাছ ধরায় ব্যাস্ত,পেটের দায়ে যাদের কাছে গ্রীষ্মের প্রখর রোদ তুচ্ছ।এসব দৃশ্য দেখতে দেখতে হঠাৎ আব্বু আমায় বললো সমুদ্রে থেকে এখন আবার আমরা হোটেল ফিরবো তাই বসা থেকে উঠো।তো এবার আমরা আবার হোটেল এ ফিরে গেলাম।তাছাড়া বিকেলের দিকে আমরা আবার ঘুরবো।কুয়াকাটায় রাখাইন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাস করে তাদের আমার অনেক আগ্রহ আছে।তো হোটেল এ ফিরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার আমরা চারটার একটু পর হোটেল থেকে বের হয়ে গেলাম কুয়াকাটার আরো কিছু দর্শনীয় জায়গা দেখতে।আমরা হাটছি কুয়াকাটা সমুদ্র থেকে উত্তর দিকে।প্রথমে আমরা যাবো কয়েকশো বছরের পুরাতন একটা নৌকা দেখতে।তো কিছুক্ষণ হাটার পর আমরা আমাদের কাঙ্খিত জায়গায় পৌছে গেলাম।আমি দেখলাম একটা ঘরে একটা কয়েকশো বছরের সেই নৌকাটি রাখা।অনেক বছরের পুরাতনের জন্য নৌকাটির অবস্থাও এখন অনেক খারাপ।সবকিছুই প্রায় খুলে আসছে।কিছুক্ষণ নৌকাটি দেখে আমরা আবার হাটতে লাগলাম।কিছুক্ষণ হাটার পর আমরা এবার পৌছালাম রাখাইন মার্কেট এ কিন্তু আফসোস তাদের মার্কেট গুলো সব বন্ধ ছিলো।হয়তোবা ভ্রমণের মৌসুম ছিল না তাই সব মার্কেটগুলো বন্ধ।তবে সেখানে এমনি আরো অনেক দোকান ছিল।সেসব দোকান আমরা ঘুরলাম আর কিছু কেনাকাটাও করলাম।আমি একটা ভুতের মত চোখ আলা,আলো জ্বলে এরকম একটা কলম কিনেছিলাম।কলমটা দেখতে আমার কাছে অদ্ভুদ লাগে তাই কলমটা আমি কিনি।তো তারপর মার্কেট ঘুরার পর আমরা এবার খুজে খুজে একটা রাখাইন পল্লি তে গিয়ে উপস্থিত হই।আসলে আমার আম্মুর উপজাতিদের দেখার অনেক শখ।আর আমরা কেউই আগে উপজাতি দেখি নি তাই রাখাইন পল্লি তে আমরা যাবো সেটা ভেবেই এসেছি।
তারপর অবশেষে সেখানে গিয়ে দেখি রাখাইনদের দেখা পাইলাম।আমরা কিছু মহিলাদের দেখলাম যে তারা বসে আছে।আর তারা আমাদের দিকে দেখেও না দেখার ভান করলো।বাইরে থেকে যে কেউ এসেছে সেই দিকে তাদের কোনো আগ্রহ নেই তারা সবাই যে যার কাজে ব্যাস্ত।আবার আমরা কিছু ঘর থেকে ছোট ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার শব্দ শুনতে পেলাম।মনে হলো অনেকগুলো ছোট ছেলেমেয়ে বসে পড়াশুনা করছে ঠিক পাঠশালার মতো কিন্তু ওরা পড়াশুনা করছে ওদের ভাষায়।কি সব বলছিল সেটা বোঝা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।তো কিছুক্ষণ রাখাইন পল্লিতে দাঁড়িয়ে থেকে এবার আমরা রওনা দিলাম কুয়া দেখতে।আরো ভাল করে বলতে যেই কুয়ার জন্য জায়গা টির নাম কুয়াকাটা হয়েছে সেই কুয়াটি দেখতে।তো কিছুক্ষণ হাটার পর আমরা একটা সুন্দর বৌদ্ধ মন্দির এর সামনে এসে পৌছালাম।সেই বৌদ্ধ মন্দির এ প্রবেশ করলেই হাতের বায়েই দেখতে পাওয়া যায় সেই কুয়াটি।আর বৌদ্ধ মন্দিরে প্রবেশ করতে ২০ টাকা টিকিট লাগবে।তো আমি আর আব্বু বৌদ্ধ মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করার জন্য তো একেবারে প্রস্তুত কিন্তু একটা মন্দির দেখে আম্মু আর মামি বৌদ্ধ মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করতে রাজি হলো না।তাই কি আর করার আমি আর আব্বুই শুধু ২০টাকার টিকিট কেটে ভিতরে প্রবেশ করলাম।ভিতরে প্রবেশ করেই হাতের বায়ে দেখলাম সেই কুয়া যেই কুয়াটির জন্যই জায়াগাটার নাম হয়েছে কুয়াকাটা।তো আমি আর আব্বু গিয়ে কুয়াটি দেখলাম।কুয়াটি দেখে আমরা সীড়ি বেয়ে আবার উপরে উঠতে লাগলাম।সিড়ি বেয়ে উপরে উঠছি চারপাশে বিভিন্ন গাছে চারিদিকে সবুজ সত্যি অনেক সুন্দর বৌদ্ধ মন্দিরটা।তো সিড়ি বেয়ে কিছুক্ষণ উপরে উঠে একটা বৌদ্ধ মন্দির দেখতে পেলাম।মন্দিরটা অনেক সুন্দর লাগছিল বাইরে থেকে।ভিতরে গেলে সম্ভবত গৌতম বুদ্ধের একটা বিশাল মুর্তি দেখা যাবে কিন্তু আমরা ভিতরে না গিয়ে বৌদ্ধ মন্দির থেকে বাইরে চলে এলাম।বাইরে আম্মু আর মামি দাঁড়িয়ে ছিলো।তো বাইরে এসে এবার আমরা কুয়াকাটা সমুদ্রে যাওয়ার জন্য মনস্থির করলাম।বিকেল বেলায় সমুদ্র দেখার মজাই আলাদা।তাছাড়া আমরা সূর্যাস্ত তো দেখবো।তাই এবার আমরা কুয়াকাটা সমুদ্রের উদ্দেশ্য আবার হাটতে লাগলাম।
চলবে.............
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now