বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ওয়ায়েস কারণী (রঃ)এ অনুরোধ রক্ষা করলেন। বললেন, যখন ঘুমিয়ে যাবেন, তখন মনে করবেন মৃত্যু আপনার শিয়রে। আর যখন জেগে থাকবেন, তখন জানবেন্ন মৃত্যু রয়েছে আপনার চোখের সামনে। কোন পাপকে ছোট মনে করবেন না। কেননা, পাপকে ছোট মনে করাও পাপ। ইবনে জামানের পরবর্তী প্রশ্ন; আমি এখন কোথায় বসবাস করব জনাব?
আপনি সিরিয়া চলে যান।
অপরিচিত দেশে আমার গ্রাসাচ্ছাদান চলবে কিভাবে?
যার মনে এত চিন্তা-ভাবনা, উপদেশ তার কোন কাজে আসবে না। দয়া করে আরো কিছু বলুন।
আপনার পিতার মৃত্যু হয়েছে। হযরত আদম, নূহ, মূসা, ঈসা এমনকি শেষ নবী মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-ও ইন্তেকাল করেছেন। ভাই উমরও মৃত্যু পথের পথিক।কথাটা বলে তিনি হায় উমর! হায় উমর! বলে কাঁদতে লাগলেন। ইবনে জামান কেমন জেন দিশেহারা হয়ে বললেন, আল্লাহ আপনার ভাল করুন। কিন্তু জনাব,হযরত উমর (রাঃ) তো মৃত্যুবরন করেননি।
ওয়ায়েস কারণী (রঃ) বললনে, আল্লাহ আমাকে তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়ে দিয়েছেন। পরে বললেন, আসলে আপনি আমি আমরা সবাই মৃতদের দলভুক্ত।
এরপর নামাযের সময় উপস্থিত হলে হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ) নামায সম্পন্ন করে দোয়া করলেন। তারপর বললেন, পাক কুরয়ান ও আল্লাহ ওলীদের কথা মেনে চলবেন। আর মুহূর্তের জন্যও মৃত্যুর কথা ভুলে যাবেন না। ইবনে জামান, আপনার সজ্ঞে আমার আর দেখা হবে না। আপনি আমার জন্য দোয়া করুন। আমিও আপনার জন্য দোয়া করছি। আপনি খাঁটি মুসলিমের জীবন-যাপন করবেন। তিনি এবার ইবনে জামানকে পথ-নির্দেশ করে বললেন, আপনি এ পথ ধরে চলে যান। তাঁর সজ্ঞে কিছুদূর যেতে চাইলেন। কিন্তু তিনি রাজি হলেন না। বিদায় মুহূর্তটি করূন হয়ে উঠল। দু’জনেই কাঁদলেন। ইবনে জামানের সজ্ঞে হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ) এর সে প্রথম ও শেষ দেখা।
ওয়ায়েস কারণী (রঃ)-এর জীবন চর্চাঃ
একটি ববরনে পাওয়া যায়, হযরত ওয়ায়েস কারণী (রঃ) ফজরের নামায শেষ করে তসবীহ পড়তে পড়তে জোহরের ওয়াক্ত পৌঁছে যেতেন। আবার জোহরের নামায শেষে তসবীহ পাঠে এসে যেত আসরের ওয়াক্ত। এভাবে নামাযও তসবীহ পাঠ চলত অনবচ্ছিন্নভাবে কয়েক দিন ও রাত। আহার নেই, নিদ্রা নেই। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়া নেই। আর এজন্য অযু বা গোসলের প্রয়োজন হতো না তাঁর। বিরামহীন উপাসনা। ইবাদত-বন্দেগী যেন তাঁর মধ্যে রূপ পরিগ্রহ করেছিল।
বহু বিনিদ্র রজনী তিনি যাপন করেছেন। তিনি বলতেন, এ রাতটি আমার কিয়ামের জন্য, এ রাতটি রুকুর জন্য। এক রাতটি সেজদার জন্য ইত্যাদি।
লোকে তাঁকে জিজ্ঞেস করতেন, হযরত! আপনি কেমন আছেন? তিনি বলতেন, কী বলব, সেজদায় গিয়ে সেজদার তাসবীহ পাঠ করতে করতে রাত কাবার হয়ে যায়।
ফেরেশতাদের মতো একটু ইবাদত করব মনে করি, কিন্তু তা আর হয়ে ওঠে না।
আপনি কেমন আছেন?-এ প্রশ্নের উত্তরে একবার বলেন, কেমন আছি, তা কি করে বলব! ভোরে উঠে সন্ধ্যার আগেই মৃত্যু আসবে কিনা তা যে বলতে পারে না, সে আর কেমন থাকবে?
তবুও বলুন, আপনার অবস্থা কি?
তিনি বলেন, এক সহায় সম্ভলহীন পথিক। তার পথ যে খুবই দীর্ঘ। কেউ তাঁকে প্রশ্ন করেন, নামাযের একাগ্রতা বলতে কি বোঝায়?
তার উত্তর যে নামাযে তীরবিদ্ধ হলেও নামাযসম্পন্নকারী তা টের পায় না।
একবার তার কাছে একটি লোকের আশ্চর্য এক খবর এল। লোকটি নাকি দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে কবর স্থানে বসে গলায় কাফনের কাপড় ঝুলিয়ে কেবল কেঁদে যাচ্ছে। আর কিছু করে না।
খবর শুনে ওয়ায়েস কারণী (রঃ) বললেন, তোমরা আমাকে তার কাছে নিয়ে চল। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হল। সত্যিই, দীর্ঘদীন কেঁদে কেঁদে বেচারা কঙ্কালসার। আহার নিদ্রা বিশ্রাম-সব ভূলে গেছে। ওয়ায়েস কারণী (রঃ)তাকে বললেন, হে ভ্রান্ত! কবর ও কাফনের কাপড় তোমাকে আল্লহার নিকট থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেছে। তোমাকে বিপদগামী করেছে। তাড়াতাড়ি উঠে পড়। আর আল্লাহর পথ ধর।
ওয়ায়েস কারণী (রঃ)এর কথায় লোকটির হুশ হল। তওবা করে নামায রোজা শুরু করলেন। শোনা যায়, একবার তিনি পরপর তিনদিন ধরে উপবাসী রইলেন। চতুর্থ দিনে ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়লেন। হঠাত তাঁর চোখে পড়ল রাস্তার ওপর পড়ে থাকা একটি দিনারের ওপর। তাঁর মনে হলো, হয়তো এ্টা অন্য লোকের। পড়ে গেছে পথের ওপর।কাজেই দীনারটি তুলে নিলেন না। এগিয়ে গেলেন সামনের দিকে। প্রচণ্ড ক্ষুধার তাড়না। স্থির করলেন, কচি ঘাস চিবিয়ে ক্ষুধার জ্বাল মিটাবেন। ঠিক এ সময়, কে যেন একখানি গরম রুটি তাঁর সমনে রেখে দিল। কিন্তু রূটির মালিক অন্য কেউ ভেবে, তাও তিনি এড়িয়ে গেলেন। তখন একটি ছাগল বলল, এ রুটি আপনারই। দেখুন, আপনি যাঁর দাস, আমিও তাঁর দাস। ওয়ায়েস কারণী (রঃ) এ ইঙ্গিত বুঝতে পারলেন। আর রুটিখানা তুলে নিলেন। ওদিকে চোখের পলকে ছগলটি মিলিয়ে গেল।
এমন পবিত্র-আত্না সচরাচর বিরল। ওয়ায়েস কারণী (রঃ)প্রকৃতই আল্লাহর এক মহান সৃষ্টি। মানুষ হিসেবে মানুষ কত উন্নত হতে পারে, তিনি তার একটি উজ্বলতর উদাহরণ। দীর্ঘজীবন শেষে তিনি জান্নাতবাসী হন। কেউ কেউ বলেন, সিফফীনের যুদ্ধে হযরত আলী (রাঃ) এর পক্ষে যোগদান করে শাহাদাত বরণ করেন।
ওয়ায়েস কারণী (রঃ)এর বাণীঃ
১। তিনি এক ব্যক্তি কে বলেন, আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি তোমার যদি আস্থা ও বিশ্বাস না থাকে, তাহলে আসমান-জমিন তুল্য ইবাদত করলেও তা কবুল হবে না। সে ইবাদত নিষ্ফল। যে ব্যক্তি বলে, কিভাবে আস্তা রাখতে হবে?
তাঁর উত্তর, তোমার যা কিছু আছে, অথ্যাত আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন, তাতেই তুষ্ট ও তৃপ্ত থাকবে। আর অন্য কোন জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হবে না।
তিনি আরো বলেন, তিনিটি জিনিস যে খুব বেশি ভালোবাসে, জাহান্নাম তার কণ্ঠ থেকেও নিকটবর্তী। যেমন, (ক)সুখাদ্য, (খ)উত্তম পোষাক, (গ) আমীর-উমারার উমেদারী।
তিনি বলেন, যে লোক আল্লাহকে চিনিছে, তার কাছে কোনও কিছু গোপন থাকে না। আর তার মাধ্যমে আল্লাহকে জানা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, শান্তি রয়েছে নির্জনতার মধ্যেই।
তাঁর অভিমত, একত্ববাদের জ্ঞান কেবল তখনই লাভ করা যায়, যখন আল্লাহর চিত্না ছাড়া অন্য সব চিন্তা মন থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হয়। আল্লাহর দরবারে মনকে হাজির রাখতে চাই। তাহলে শয়তান তার মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না।
তিনি বলেন, উচ্চ মর্যাদার অন্ব্বষন করেছি, আর তা পেয়েছি বিনয়ের মাধ্যমে। গৌরব অর্জনের বাসনা ছিল, তা অর্জন করেছি দরিদ্রের মধ্যে। নেতৃত্ব লাভের আশা করেছি তা পেয়েছি সত্যের ভেতরে। আভিজাত্যের ইচ্ছা ছিল, আল্লাহভীতির মধ্য দিয়ে তা লাভ করেছি। মহত্বের সন্ধান করেছি, আর তা পেয়েছি তুষ্টির মাধ্যমে। নির্ভরতার সন্ধান করেছি, আর তা আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতার মাধ্যমে পেয়ে গেছি
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now