বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক:রোমান্টিক হৃদয় [MH2]
তরীর প্রতি আকাশ খুবই দুর্বল হয়ে গেছে। তাই সে ঠিক করল তরীকে সে বলে দিবে যে সে তরীকে ভালোবাসে।আর আকাশও বুঝেছে তরী তাকে হয়তো ভালোবাসে।কারণ আকাশের সামান্য কিছু হলেই তরী একদম পাগল হয়ে যায়।সেই স্কুল লাইফেও এমন ছিল ও, এখন বড় হয়েছে তরী,তবুও তার মনে আকাশের প্রতি মায়া একটুও কমে নি। তাই আকাশের ধারণা তরীও তাকে ভালোবাসে। আর তরীকে ছাড়া সে বাঁচতে পারবে না, কারণ তার জীবণের একটা বড় অংশ হলো তরী। তাই সে বলে দিবে বলেই ঠিক করল।
ওইদিকে এই তিনদিন সবসময় আকাশের সঙ্গে থেকে তরীর মনেও আকাশ আরও বেশি আপন হয়ে গেল।আগেও আকাশ তরীর মনে সবচেয়ে আপনজন ছিল, এই তিনদিন তার সঙ্গে থেকে আকাশ আরও বেশি আপন হয়ে গেল।তরী পাগলের মতো আকাশকে ভালোবাসে, সেটা সে জানত এতোদিন।এই তিনদিন সে নিজের মাঝে তার সবটা প্রমাণ পেল।কিন্তু সে কী করে আকাশকে তার ভালোবাসার কথা বলবে??? আকাশ কী তাকে ভালোবাসে??? এইসব চিন্তা তার মনের মাঝে ঘুরতে লাগল।
আসলে মানুষের মন এমন একটা জায়গা,যেই জায়গায় সব কিছু বদলালেও আপনজনের প্রতি ভালোবাসা একদমই বদলায় না।এতোদিন আকাশ আর তরী খুব দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল ভালোলাগা আর ভালোবাসার মাঝে।কিন্তু এতোদিন পর তারা ভালোলাগা আর ভালোবাসার পার্থক্য বুঝেছে। তাই ভালোবাসার মানুষকে আপন করে নিতে দুটি মনই ব্যাকুল হয়ে আছে।
পরেরদিন ক্যাম্পাসে আকাশ আর তরী দুজন বসে আছে।
তরী: রাতে কি আবার জ্বর চলে এসেছিল???
আকাশ: আরে আসে নি।তুমি যে যত্ন করেছ,তাতে আর জ্বর আসবে না।
তরী: হি হি হি,সেটা হলেই ভালো। জান আকাশ,স্কুল লাইফেও দেখতাম তুমি তোমার অসুখ নিয়ে একদম চিন্তা করো না,সিরিয়াস হও না।এখনও একদম বদলাও নি।
আকাশ: তুমিও তো বদলাও নি।আগে সবসময় আমার প্রতি সিরিয়াস থাকতে,এখনও আছ।আগেও বাচ্চামি আর দুষ্টুমি ছিল তোমার মাঝে,এখনও আছে।তবে একটা দিক দিয়ে বদলে গেছ।
তরী: কোন দিক দিয়ে বদলে গেছি???
আকাশ: আগের চেয়ে তোমার চেহারায় মায়াটা আরও বেড়েছে। চোখের সৌন্দর্যও বেড়েছে আরও।
তরী: তাই নাকি??? আকাশ তুমি কি আমায়,,,হি হি হি
আকাশ: আজ আমার মতো বলছ।
আকাশ কথা বলছে ঠিকই,কিন্তু তার মাঝে একটা অমনোযোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মেয়েরা এইসব দিক ভালো করে বুঝতে পারে।তরীও বুঝতে পারল,আর তাই আকাশকে জিজ্ঞেস করল,,,
তরী: আকাশ তুমি কি কিছু নিয়ে চিন্তিত??? কিছু বলবে???
আকাশ: আরে কিছু না।
তরী:আকাশ,বলতেই হবে।না হলে কাতুকুতু দিয়ে তোমার অবস্থা কাহিল করে দিব বলে দিলাম।
আকাশ:কিন্তু তুমি যদি রাগ করো বা ভুল বোঝ।
তরী: আরে এসব কিছু হবে না।বল
আকাশ তবুও চুপ করে থাকল।আসলে ভালোবাসি বলতে সাহস লাগে, তবে সব কথা অনায়াসে বলা গেলেও ভালোবাসার কথা বলতে গেলে সবাই আটকে যায়।নিজের মাঝে কেমন যেন একটা অনিশ্চয়তা ভয় কাজ করে।আকাশের মাঝেও এমন হচ্ছে। সে অনিশ্চিত এটা ভেবে যে তরী কথাটা কেমন করে নিবে, সে রাগ করে চলে যাবে না তো।এদিকে তরী আকাশকে কাতুকুতু দিতে লাগল।
আকাশ: আরে তরী কাতুকুতু থামাও বলছি।
তরী: হ্যা থামাচ্ছি।এখন বল।
আকাশ: আমি তোমায় ভালোবাসি।তরী তুমি কি আমায় ভালোবাস???
তরী একটু চুপ করে থেকে বলল,,,
তরী: আমি এখনও এসবে ভাবি নি।আমায় একটু সময় দাও,ভেবে দেখি।
আকাশ: আচ্ছা।তবে কিছু কথা বলব শুনবে???
তরী: বল।
আকাশ: তোমায় স্কুল লাইফ থেকে ভালোবাসতাম। তখন ভালোলাগা আর ভালোবাসার দ্বন্দে ছিলাম। তোমায় সবসময় প্রতিটা মূহূর্তে মিস করতাম।তোমায় এতোদিন পরে পেলাম ,আর তোমায় হারাতে চাই না।
তরী কিছু বলল না।চুপচাপ চলে আসল।আকাশও ওই জায়গায় বসে রইল। তরী মনে মনে প্রচুর খুশি হয়েছে।কিন্তু সাথেসাথেই সে তার ভালোবাসার কথা বলে দিল না। কারণ সে চায় একটু সময় নিয়ে, নিজের মাঝে সাহস নিয়ে এসে তারপর বলতে। তার কানে বারবার আকাশের বলা কথাগুলো ভাসছে। সে সবটা সময় আকাশকে ভাবতে লাগল।নারীর চিরাচরিত স্বভাব এবং বুক ফাটে তবু মুখ ফাটে না, স্বভাবের কারণে সে এখনও বলে নি তার মনের কথা। বাসায় এসে চুপচাপ নিজের মতো করে স্বপ্ন বুনতে লাগল।তবে বারবার মনে হতে লাগল, আকাশকে তখনই মনের কথা বলে দেওয়া উচিৎ ছিল ।কিন্তু বলতেও তো সে পারছিল না।বারবার তার মনে কেমন যেন করতে লাগল।তাই ঠিক করল, রাতে কথা বলার সময় সে তার মনের কথা বলে দিবে।
আকাশ খুবই চিন্তিত।কারণ তরী কী জবাব দিবে সেটা নিয়ে সে অনিশ্চিত। তবে একটা দিক দিয়ে সে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে, তার মনের কথা সে বলে দিয়েছে।মনের কথাগুলো প্রায় সময় এমন হয় যে,কথাগুলো না বললে মনে হয় অনেক বোঝা বুকে জমে আছে।বারবার সে কথা মনে জ্বালা দিতে থাকে।আবার সেই কথাটা যখন বলে দেওয়া হয়,তারপর মনে হয় কথাটা বলা মনে হয় ঠিক হয় নি।বলে দিয়ে সমস্যা হলো।আকাশের অবস্থাও ঠিক তেমনি।বাসায় এসে চুপচাপ পড়তে বসল। রাতে তরী কী বলে জানার অপেক্ষায় রইল।
রাতের বেলা,,,
আকাশ তরীকে ফেসবুকে একটিভ পেল। মেসেঞ্জারে কথা শুরু করল,
আকাশ:হাই তরী।
তরী: হ্যালো আকাশ।কী কর???
আকাশ: বসে আছি।তুমি???
তরী:আমিও বসে আছি।
আকাশ:আমি তোমাকে ভালোবাসি। আবেগের বসে বলছি না, সত্যি বলছি মন থেকে তোমায় ভালোবাসি।তরী তুমিও কি আমায় ভালোবাস???
তরী: আকাশ,আমিও তোমায় ভালোবাসি।প্রচুর ভালোবাসি।
আকাশ:আমার সঙ্গে জীবণের পথে একসাথে চলবে???
তরী: সেই পথে চলার জন্য তো সেই স্কুল লাইফ থেকে অপেক্ষা করে আছি।
আকাশ:তারমানে তুমিও আমায় স্কুল লাইফ থেকে ভালোবাসতে???
তরী:হ্যা,সেই তখন থেকে ভালোবাসি। আর তুমি আমায় আগে বললে না কেন ভালোবাসার কথা???
আকাশ:আগে ভাবতাম তুমি কী ভাববে,আর সন্দেহে ছিলাম।এখন পুরো নিশ্চিত হয়ে বলেছি।আর তুমিও তাহলে আমার প্রপোজ করার সময় তোমার জবাব দিলে না কেন???
তরী:তখন আমি নিজের মাঝে থাকা কথাগুলো বলতে পারছিলাম না।আর তোমার ওই প্রপোজ করাটাকে কি কখনও প্রপোজ করা বলে নাকি???
আকাশ: প্রপোজ মানে প্রস্তাব প্রদান।আমি তোমায় আমার মনের ভালোবাসা বললাম, তাহলে এটা প্রপোজ হলো না???
তরী: আরে বোকা, ওইটা আবার কোনো প্রপোজ নাকি??? এখনও দেখছি আগের মতো গম্ভীর টাইপের আছ??? আরে হাটু গেড়ে বসে রোমান্টিক টাইপে প্রপোজ করবে, সেটাও কি বলে দিতে হয়???
আকাশ: সরি,তখন মনে ছিল না।
তরী: সরি বললেই চলবে না।কাল আমায় প্রপোজ করতে হবে।
আকাশ: আচ্ছা প্রপোজ করব।কাল একটা লাল শাড়ি পড়ে আসবে।
তরী:শাড়ি কেন???
আকাশ: আমি চাই,আমার নিজ দেশের সংস্কৃতিতে থাকা অবস্থায় তোমায় দেখতে। তাই প্লিজ লাল শাড়ি পড়ে এসো।
তরী: আচ্ছা।এখন আরও পড়াশোনা করতে হবে।বিদায়
আকাশ: আমিও পড়ব।বিদায়।
এভাবে রাতে তাদের মনের কথার আদানপ্রদান হলো।দুজনের অপেক্ষা আগামীদিনের।
পরের দিন,,,
আজও সে জায়গায় আকাশ আর তরী এসেছে।আজ তাদের ডিপার্টমেন্ট এ ক্লাস নাই।তাই তরী লাল শাড়ি পড়ে এসেছে।আকাশ হাতে লাল গোলাপ নিয়ে এসেছে।আকাশ তরীর দিকে এক নজরে তাকিয়ে আছে লাল শাড়িতে তরীকে অনেক সুন্দর লাগছে,আর খোলা চুলগুলো যখন হাওয়ায় উড়ছে তখন সেই আগের মতো অনেক সুন্দর লাগছে আকাশের কাছে।
তরী: এই আকাশ,এভাবে তাকিয়েই থাকবে।নাকি প্রপোজও করবে???
আকাশ হাটু গেড়ে বসল,
" আমি তোমায় মনের গভীর থেকে ভালোবাসি। সেই স্কুল লাইফ থেকে তোমায় ভালোবাসি।পুরোটা সময় তো শুধুই তুমিই ছিলে আমার চিন্তা ভাবনা কল্পনায়।যখন তুমি অন্য শহরে চলে গিয়েছিলে, তখন তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা সবটা বুঝেছি। বাতাসে যখন তোমার চুল উড়ে,তখন দেখতে অনেক সুন্দর লাগে। তোমার চোখ দেখতে অনেক সুন্দর।তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলে মনে হয় তোমার চোখের গভীর দিয়ে তোমার মনের ভিতর ঢুকে যাওয়া যায়।আবার তুমি চোখ দিয়ে মনের ভিতরটা দেখতে পার।তোমার হাতটা আমি ধরে থাকতে চাই সারাজীবণ,লাল পরী।আমি আবারও বলছি।আমি তোমায় প্রচন্ড ভালোবাসি।জানি তুমিও আমায় ভালোবাস।তবুও আমি আমার লালপরীর মুখ থেকে শুনতে চাই,প্লিজ বল,তুমি আমায় ভালোবাস???
তরী: এত্তো লম্বা প্রপোজ???
তারপর গোলাপ ফুলটা হাতে নিয়ে বলল,
তরী:আমি তোমায় ভালোবাসি।এ ভালোবাসা কখনও কমবে না তোমার জন্য।
সেদিন দুজন অনেকক্ষণ ঘুরল। তারপর বাসায় আসল প্রশান্তি নিয়ে।দুজনই খুব খুশি।রাতে কথা বলবে, এইটা বলে দুজন দুজনের কাছ থেকে বিদায় নিল।
[কেমন লাগল??? ভুল নজরে আসলে বলবেন।]
বি.দ্র.: অনেকটা সময় এবং শ্রম কাজে লাগিয়ে গল্প লিখি,তাই কপি করবেন না।
চলবে,,,
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now