বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
আমার পানিতে ডুবে যাওয়ার গল্প
"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)
X
লেখক:হৃদয়[MH2]
পানির অপর নাম জীবণ।তবে পানির আরেকটা অপর নাম হওয়া উচিৎ, তা হলো মরণ ।কারণ পানি ছাড়া বাঁচা যায় না,তাই এর নাম জীবণ। আবার পানিতে ডুবে যখন মরে যাওয়া হয় তখন এর অপর নাম হয় মরণ । সরি, প্রসঙ্গের বাইরে চলে গিয়েছিলাম, নিজেকে টেনেটুনে আবার প্রসঙ্গে নিয়ে আসছি। হুমম, তো বলা শুরু করি।
আমার বয়স তখন আড়াই বছর বা তিনবছরের মাঝামাঝি। আমি তখন হাটতে পারি, তবে আম্মু আব্বু আর আপুর কোলেই বেশি থাকতাম । কারণ পরিবারের সবার ছোট আমি,তাই সবার আদরও বেশি পাই।সেই সময় আমাদের মাঠে বন্যার পানি এসেছিল।আব্বু, জ্যাঠা, চাচা সবাই খাওয়ার জন্য মাছ ধরত। একদিন আব্বু মাছ ধরতে যাবে এমন সময় আমি বায়না ধরলাম আমিও যাব আমায় না নিয়ে গেলেই আমি চিৎকার করে কান্না করা শুরু করতাম । তাই আব্বু ওইদিন আমায় নিয়ে গেলেন। আমায় একটা উঁচু জায়গায় দাড় করিয়ে রেখেছিলেন।ওহ্,বলাই তো হয় নি, ওইসময় ক্ষেতেও মাছ এসেছিল ।আর ক্ষেতেই জাল, আরও কয়েকরকমের মাছ ধরার সরঞ্জাম দিয়ে মাছ ধরা হতো। আব্বুও তেমনি একটা মাছ ধরার সরঞ্জাম দিয়ে মাছ ধরছিল,আমি দাড়িয়ে দেখছিলাম। তখন কী করে জানি একটু পিছলা মাটিতে আমার পা পড়ে,আর আমিও পিছলা খেয়ে পানিতে পড়ে যাই। আব্বু তখন অন্যদিকে মাছ ধরছিলেন, পানিতে আমার হাত পা নড়ানোর কারণে পানিতে ঢেউ হচ্ছিল, আব্বু ওই ঢেউ দেখার পর আমি আছি কিনা দেখতে ওই উঁচু জায়গায় দেখলেন, কিন্তু আমি ওখানে নেই দেখে ওনার বুঝতে আর দেরী হলো না যে আমি পানিতে পড়ে গিয়েছি। আব্বু দৌড়ে এসে যখন আমায় পানি থেকে তোলে তখন আমি পানি খেতে খেতে প্রায় মরে যাচ্ছি। আব্বু আমায় তোলে নেওয়ায় সে যাত্রায় বেঁচে গেছি। না হলে ওইসময় মারাই যেতাম।আম্মুর মুখে শুনি ওইসময় নাকি আব্বুর পায়ের হাটুর সমান পানি ছিল, কিন্তু আমার জন্য তো সেটুকু পানিই অনেকটাই পানি, তাই না???
তার পরে কখনও পানিতে ডুবি নি এমন নয়। এরপরে যখন আমার বয়স দশ বছর বা এরকম হবে হয়তো,তখন আব্বুর সাথে নদীতে সাঁতার শিখতে গিয়েছিলাম। আমাদের গ্রামে একটা নদী আছে, তার নাম নরসুন্দা।সেখানে আব্বুর সাথে সাঁতার শিখছিলাম।আব্বু আমার পেটে ধরে আমায় ভাসিয়ে রাখছিল,আর আমি হাত নাড়ছিলাম। তখন আব্বু আমার এক দাদার সাথে কথা বলছিল। সাঁতার শিখতে গিয়ে আবার ডুবে গিয়েছিলাম আমি।পানি খাচ্ছিলাম, আব্বু যখন আমার দিকে তাকাল দেখল আমি পানিতে ডুবে গিয়েছি।আবার তখন পানি থেকে তোলা হয় আমায়।ওইদিন মোট দুইবার ডুবে গিয়েছিলাম। এরপর অবশ্য সাঁতার শিখেছিলাম।কিন্তু সেইসময়ের পর থেকে আর কখনও আমি পানিতে নামি না।কেমন যেন ভয় কাজ করে পানির প্রতি।
ছোট সময় পানিতে নামতে গেলে আমার বারবার মনে হতো কেউ আমার পা টেনে ধরবে কেন এমন লাগত, তা জানি না।
[আমার জীবণের বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম আপনাদের সাথে।আর আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল ইমুজি ব্যাবহার করে কোনো গল্প লেখার। সারা,সিয়াম,মফিজুল, লাকি আপু সহ আরও কয়েকজন এভাবে গল্প লিখেছে।সুন্দর দেখায় বলে আমিও লিখতে চাইতাম।আজ ইমুজি ব্যাবহার করে গল্পটা লিখলাম। জানি না ইমুজির সঠিক প্রয়োগ করতে পেরেছি কিনা।]
[ ওহ্,আরেকটা কথা,আপনারাও কি কখনও পানিতে ডুবে গিয়েছিলেন??? ]
বি.দ্র. : এটা আমার জীবণের গল্প,তাই কপি করবেন না।
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now