বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি ঈমন। আমি এখন সাতাশ বছরের যুবক। যার এই বয়সে ক্যারিয়ার থাকে উজ্বল আলোতে আলোকিত তখন আমার ক্যারিয়ারের আলো নিভু নিভু। এই বয়সের প্রতিক্ষা করে সমগ্র জাতি। কিন্তু আমি জাতির উপকার নয় অপকার।
তবে এটির জন্য সম্পূর্ণ আমি নিজেই দায়ী। সময় কতটা মূল্যবান বুঝা যায় তখন যখন সেই সময়গুলো ঘুমাতে দেয় না। হারিয়ে যাওয়া সময়গুলো আমাকে ঘুমাতে দেয় না। যদি সেই সময়গুলো আবার ফিরে পেতাম তবে!
ফিরে দেখা আমার ব্যাচেলর জীবন.........
আমার বয়স যখন ছয় তখন আমি আমার জীবনের ক্যারিয়ার নামক গাছের জন্ম দিলাম। ভালো ভাবেই বেড়ে উঠছিল গাছটি। তখন সেই গাছের যত্ন করতেন আমার বাবা-মা ও শিক্ষক তাদের সাথে আমিও। দশম শ্রেণি প্রর্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে উঠছিল গাছটি। আমি এসএসসি তে গোল্ডেন এ প্লাস পাই। আমি বাবাকে বললাম বাবা আমাকে এইসএসসি তে ভালো ফলাফল করতে হলে ঢাকায় গিয়ে ভালো কলেজে পড়তে হবে। তখন বাবা বলেছিলেন আমাদের হাতটা ছাড়ার বয়স এখনও হয়নি ঈমন তোমার। আমি চাই তোমি আমাদের হাত ধরেই এইসএসসি টা দাও। এখন গাছটা খুব তাড়াতাড়ি বড় হবে একা গাছটিকে তোমি সামলাতে পারবে না আমাদেরও ধরে রাখতে হবে। কারন গাছটির গুড়া একনও শক্ত হয় নি। তারপর তোমি মেডিকেলেই পড় বা ভালো একটা ভার্সিটিতে। আমি তখন বাবাকে বলেছিলাম আমি কি সেই ছোট্টটি যে আমাকে এখনও হাত ধরতে হবে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে। আমি ঢাকা গিয়েই পড়ব। আমার খুব মনে আছে সেই কথাটি তখন বাবা বলেছিলেন আমি খুব বেশি পড়ালেখা করিনি আমি বোধহয় আসলেই এসব বুঝিনা। ঈমন তোমি যা ভাল মনে কর তাই কর আমি শুধু অনাথ জ্ঞানের কথা বললাম। তখন আমি কথাগুলো কে পাত্তাই দেইনি। আমি ঢাকার একটি ভালো কলেজে ভর্তি হয়ে যাই। আমার আত্মীয় কেউ ছিলনা এইখানে আমাকে ম্যাচে থাকতে হত। আমাদের ম্যাচে আমি ছাড়া আমার সমবয়সী দুজন এবং ভার্সিটিতে পড়ে আরও দুজন। প্রথম প্রথম আমি যখন পড়তে বসতাম তখন আমার ম্যাচের বড় ভাইরা এসে বলত কিহ ছোট ভাই শুধু পড় এটা কি স্কুল লাইফ যে শুধু পড়বে। কলেজে কি পড়তে হয় নাকি! আমরাতো কলেজ লাইফে শুধু পরিক্ষার সময় পড়ে যেতাম। কলেজ লাইফ হচ্ছে এনজয়। আস আমাদের সাথে এসে আড্ডা দাও দেখবে খুব ভাল লাগবে। এভাবে কয়েকদিন বলার পড় একদিন আমি আড্ডাতে যোগ দেই। গিয়ে দেখি কেউ মদ খাচ্ছে আবার কেউ সিগারেট। আমি আমার ম্যাচের বড় ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম এটা কোন ধরনের আড্ডা! তখন ভাই বলেছিল কয়েকদিন পর এমনিতেই বুঝতে পারবে। কিছুদিন আড্ডাতে যাওয়ার পর আড্ডাতে না গেলে ভালই লাগত না। একদিন বড় ভাই আড্ডাতে আমার কাছে সিগারেট নিয়ে এসে বললেন এটি খেয়ে দেখ খুব টেস্ট। একরকম ঝুরাঝুরি করে আমাকে খাইয়ে দিল। তারপর থেকে আড্ডার সাথে সিগারেটও খাওয়া শুরু করলাম। প্রথম প্রথম আমাকে এগুলোতে আসক্ত করার জন্য বিনা টাকায় খাওয়াত। যখন আমি এগুলোতে আসক্ত হয়ে যাই তারপর থেকে তারা আর আমাকে বিনা টাকায় খাওয়াত না। আমি বাবার কাছ থেকে লেখাপড়ার কথা বলে টাকা নিয়ে সিগারেট খেতাম। আমি বাবাকে যা বলতাম তার কোনোটিই করতাম না। সেই সময়টাতে পড়া কি জিনিষ সেটা ভুলেই গিয়েছিলাম। ঢাকা যাবার ছয় মাস পর যখন বাড়ি ফিরলাম তখন বাবা আমাকে দেখে বললেন তুই এখন ঢাকায় তাখিস তর চোক মুখের একি অবস্থা। সব কিছু ঠিক আছে ত! আমি বাবাকে বলেছিলাম এটা কি হাই স্কুল বাবা যে একরকম পড়লেই হবে। আমি এখন কলেজে পড়ি আমাকে খুব বেশি রাত জেগে পড়তে হয় তাই এইরকম। তখন বাবা ভাবোকের মতো দাঁড়িয়েছিলেন কিছু না বলে। আমি খুব খারাপ রেজাল্ট করলাম এইসএসসি তে। মাত্র ২.৫০ পেয়েছিলাম। তখন আমার ক্যারিয়ার নামক গাছের এতটাই বেয়াল অবস্থা যেন একটি কিলকিল বাতাসেই ধুমড়ে মুছড়ে যাবে গাছটি। কারন যখন গাছটিতে ফল আসা শুরু করেছিল তখন আমি তাকে যত্ন করিনি এবং ফলগুলো বিনা যত্নে ঝড়ে যায়। আমার পয়েন্ট আমাকে ভালো ভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ দেয় নি। আমি স্থানীয় একটি ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হই। আমার আসক্তগুলো বাড়িতে থাকা সত্বেও হারিয়ে যাচ্ছিল না। আমি তখনও পড়ালেখার দুনিয়া খুব ধুরে ছিলাম। আমার খারাপ অভ্যাসগুলো আমাকে তখন সত্য মিথ্যা যাচাইয়ে অন্ধ বানিয়ে ফেলেছিল। আসলেই খারাপ হতে চাইলে বেশি সময়ের প্রয়োজন নেই কিন্তু ভাল মানুষ হতে হলে অনেক সময়ের প্রয়োজন। আমার ডিগ্রীর লেখাপড়াও এইসএসসির মতোই বেয়াল অবস্থা। কোনো মতে এই অবস্থাতেই মাস্টার্স কমপ্লেইন্ট করি। আমি চাকরি খুজছি চাকরি পাচ্ছি না। আমার ফলাফল ও মেধা কোনো চাকরিরই যোগ্য না। আমি অনেকদিন ধরে চাকরি খুজছি কিন্তু চাকরি পাচ্ছি না কারন আমার ক্যারিয়ার গাছটিতে কোনো ফল নেই। ফল ছাড়া গাছ কিনে লাভই বা কি!
আমার বাবা এখন রিটায়ার্ড তার পেনশনের টাকা দিয়ে খাচ্ছি। কিছুদিন পর তাও শেষ হয়ে যাবে।
ব্যাচেলর জীবনের একেকটা মূহুত্ব খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যাকটা সময়কে গুরুত্বতার সহিত কড়ছ করতে হবে। চমার মতো অনেকেই এইসময়ে এইরকম করে থাকেন। যারা এইরকম করে থাকেন তাদের অবস্থা এইরকমি।
[আমার প্রকাশিত গল্পসমূহ সব আমার নিজের লেখা তাই দয়া করে আমার নাম ব্যাতিত লেখাগুলো কপিরাইট করবেন না[
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now