বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

Reverse World (Part 3)

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Muhammad Abdullah Rafi (০ পয়েন্ট)

X #রিভার্স_ওয়ার্ল্ড - পর্ব : ৩ _____ বাবার খুন এবং মায়ের আকস্মিক মৃত্যুর পর আবার ইংল্যান্ডের বুকে পাড়ি জমায় খালিদ। দীর্ঘ চার বছর প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসা নিয়ে ঘুরে বেড়ায় লন্ডন সিটির বুকে। সেদিন বিশেষ একটা উদ্দেশ্য নিয়েই এসেক্সের সেই ফাইভ স্টার ক্লাবে যায় সে। ফুল স্পিডে ডিজে রিমিক্স সং, সর্ট ড্রেস আপ মেয়েদের নাচানাচি, আর বিশেষ পানীয় পান করায় উম্মাদ হয়ে ছিল এসেক্সের সেই ক্লাব। ছিল পলিটিক্সরা, বড় বড় অফিসাররা, আইনের লোকও ছিল সেখানে। তবে সবাই একটা উদ্দেশ্যে নিয়েই সেখানে যায়। ফুর্তি করে টাকা উড়িয়ে আবার চলে আসে। এখানে যারা আসে তাদের টাকার অবশ্য কমতি নাই কারো। খালিদের এদের কারোর সাথে কোন পরিচয় নেই, তবে তাদের ভাব সাব দেখলেই তাদের স্টাটাস সম্পর্কে ধারণা করে নেয়া যায়। কেউ কেউ আবার পাশের রুমে নাইট গার্লসদের নিয়ে মেতে উঠে আদিমতার উদ্যমে। তারপর হঠাৎ ডেস্কের দিকে চোখ পরতেই লাইসাকে দেখতে পায় খালিদ। একটা ড্রিংস হাতে নিয়ে একা বসে আছে লাইসা। খালিদ লাইসাকে দেখে সেদিকেই এগিয়ে যায়। সেও একটা ড্রিংস হাতে সোজা লাইসার সামনে গিয়ে বসে, . “হ্যালো!” . লাইসা কোন রিপ্লে দিয়ে চুপ করে বসে থাকে। ড্রিংসে একটা চুমুক দিয়ে খালিদ পুনরায় বলে, . “হ্যালো লাইসা।” . লাইসা এবারও খালিদকে কোন রিপ্লে না দিয়ে তাকে ইগনোর করে সেখান থেকে উঠে চলে যায়। ডান্স-ড্রিংসে যে যার মত মত্ত থাকায় খালিদ আর লাইসাকে খেয়াল করে না কেউ। লাইসা উঠে চলে যাওয়াতে খালিদের আশাভঙ্গ হলেও হাল ছেড়ে দেয় না সে। দৌড়ে গিয়ে লাইসার পিছনে হেঁটে হেঁটে বলতে থাকে, . “ফুল্লি থার্টি থাউজেন্ড পাউন্ড স্টার্লিং!” . খালিদের কথা শুনে দাঁড়িয়ে যায় লাইসা। জীবনের প্রথম কেউ তাকে এতগুলো পাউন্ড স্টাুর্লিং দিবে শুনেই যেন লাইসা নির্বাক হয়ে যায়। এই শহরে শরীরের বেচাকিনা কতই না সে করেছে! কত মানুষ কত সস্তা মূল্য দিয়ে তাদের তৃপ্তিকর আনন্দ উপভোগ করে গিয়েছে! কেউ কেউ ক্ষমতার পাওয়ারে বিনামূল্যেও ব্যবহার করে গিয়েছে তাকে। সেই শরীরের এত মূল্যও হতে পারে লাইসার জানা ছিল না। তবে লাইসা ওসব ছেড়ে দিয়েছে অনেক আগেই, যদিও খালিদের সেটা জানা ছিল না। লাইসা আজকে সবার মতই শুধু ফুর্তি করে আবার চলে যাবে এমনটাই ভেবে এসেছিল সে। এজন্যই প্রথমে সে খালিদকে ইগনোর করে। কিন্তু খালিদের অফার পেয়ে সে এখন নিজেকে কন্ট্রোলও করতে পারছে না। যদিও সে নিজকে সামলে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করছে। কিন্তু “অভাবেই মানুষ স্বভাব হারায়!” লাইসার মত সেরকম একটা কঠিন পরিস্থিতিতে কাটানো দিনগুলির মত লাইসার জায়গায় যদি অন্য কেউ থাকতো তবে সেও নির্দ্বিধায় এ কাজই করত। নিজের অভাব আর পরিবর্তিত স্বভাব__ দুটো নিয়ে একটা দ্বিধায় মাঝপথে আটকে যায় লাইসা। কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে সেখানেই। ‘নিরবতা সম্মতির লক্ষন!’ সেরকমটা ভেবেই একটা হ্যাচকা টানে লাইসাকে নিয়ে পাশের ক্যাবিনে চলে যায় খালিদ। লাইসা প্রতিবাদ করতে গিয়েও আবার করে না। নাচ-গানের উম্মাদ প্রতিধ্বনিতে এবারও যার যার আনন্দে মেতে থাকা ক্লাবের কেউই লক্ষ্য করে না তাদের। খালিদও এবার মেতে ওঠে সেই তৃপ্তিকর সুখ বিনময়ের এক অমোঘ উল্লাসে। খালিদ তখনো জানতো না সে কত বড় ভুল করতে চলেছে। কামনার এ টান খালিদকে ভুলিয়ে দেয় সব কিছু। কাম-ইচ্ছা বিনিময়ে তলিয়ে যেতে থাকে একজন আরেকজনের মাঝে। তবে প্রকৃতির এ চিরাচরিত সুখকর উদ্যমে মেতে উঠেও খালিদ ভুলে যায় না তার অতীত। নিয়মকে ডেরায় আটকে নিয়ে খালিদ কৌশলে লাইসার কাছে জানতে চায়, . “ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিক-কে সেদিন তুমিই মেরেছিলে, তাই না?” . লাইসা কিছুক্ষণ চুপ থেকে উত্তর দেয়, ”না।” . “তবে কারা মেরেছিলে সেটা তুমি জানতে, তাই না?” . লাইসা আবারো উত্তর দেয়, “না।” . “আমি জানি তুমি জানতে। বলো ওরা কারা।” লাইসার কমল ঠোঁটের অভ্যন্তরে খালিদ নিজের ঠোঁটকে তলিয়ে দিয়ে এক শীতল অনুভুতিতে আবদ্ধ হয়ে জানতে চায় কথাটা। . লাইসাও সেই তৃপ্তিকর অসহ্য কাম-বাসনার মাঝে নিজেকে ডুবিয়ে দিয়ে উত্তর দেয়, “টিম অফ অটোলোকাস।” . “ওরা কয়জন ছিল?” জানতে চায় খালিদ। . “সাতজন।” . “তুমি জানতে কিভাবে?” . “ইন্সপেক্টর ফ্রেডরিক-এর থেকেই।” . “ওদের এখন কোথায় পাওয়া যাবে?” . “জানি না।” . “অলসো মোর ফাইভ থাউজেন্ড পাউন্ড স্টার্লিং, টেল মি অ্যভাউট দেম।” . লাইসা একটু চুপ থেকে উত্তর দেয়, - “স্ট্যাচু অফ লিবার্টি!” . . _______ “লাইসা নামের ২২ বছরের এক যুবতীর আকস্মিক মৃত্যু!” পরের দিনের খবরের কাগজের প্রথম প্রচ্ছদে মোটা অক্ষরে ছাঁপানো হয় নিউজটা। নিউজটা দেখে খালিদও একটু চমকে ওঠে। তবে সে বিষয়টা নিয়ে কোন দিক থেকেই হিসেব মিলাতে পারছে না। নিউজটাও বেশ অদ্ভুত! “রক্তশূন্যতায় মারা গেছে লাইসা নামের এই যুবতী। ডাক্তাররা তার পেঁটের ভিতর চার হাত বিশিষ্ট একটা ভয়ংকর বাচ্চা পেয়েছে। বাচ্চাটার প্রতেকটা হাতের মাথায় আঙুলের বদলে রয়েছে সাপের মত থাবা। ধারণা করা হয়, সেই ভয়ংকর জন্তুর মত বাচ্চাটিই নাকি যুবতীর শরীরের সমস্ত রক্ত শুষে নিয়েছে। বাচ্চাটিকে আপাতত ইংল্যান্ড পুলিশের হেফাজতে হাসপাতালের একটা বিশেষ কক্ষে রাখা হয়েছে। যদিও তারা এখনো কোন ধরনের বিপদের আশঙ্কা দেখে নি, তবুও ঝুঁকি নিতে চায় না বলেই বাচ্চাটিকে মেরে ফেলা হতে পারে।” লন্ডনের প্রায় সবকটা মিডিয়ায় নিউজটা নিয়ে পুরো সিটি একেবারে তোলপাড় করে ফেলা হয়েছে। মানুষ কানাখুসি করতে শুরু করে দিয়েছে, “এটা তার পাপের ফল!” কিন্তু বিষয়টা খালিদের কাছে মোটেই ভালো ঠেকছে না। একজন মানুষের পেঁটে সাপের মত বাচ্চা, আবার সেই বাচ্চাটাই নাকি তার শরীরের সমস্ত রক্ত শুষে নিয়েছে। না, বিষয়টা সত্যিই সহজভাবে মেনে নেওয়ার মত নয়। একটা মাছুম বাচ্চা কিভাবে কাউকে রক্তশূন্যতায় মেরে ফেলতে পারে? বাচ্চাটার সাথেও হয়তো অবিচার করা হচ্ছে! একটুর জন্য বাচ্চাটার প্রতি মায়া জন্মে খালিদের। তবে আরেকটা বিষয় ভেবে তার কাছে বিষয়টা বেশ খটকা লাগে। বিকৃতাঙ্গের বাচ্চাটিই কি লাইসাকে মেরেছে নাকি প্রোফেশনালি কোন ইন্ট্রিগ হচ্ছে লাইসার সাথে? গতকাল লাইসাকে শুধু ব্যবহার করেছে খালিদ। একটা মেয়ের সবচেয়ে দূর্বল জায়গাটা সম্পর্কে খালিদের অনেক ভালো জানা আছে। সেই দূর্বলতাটাকে কাজে লাগিয়েই উদ্দেশ্যে হাসিল করে নেয়ে সে। লাইসাকে মেরে দেওয়ার কোন ইচ্ছেই তো তার ছিল না। আবার ডাক্তাররা বলছে বাচ্চাটিই মেরেছে। না, হিসেবটা কোন দিক থেকে মিলাতে পারছে না সে। তার একবার বাচ্চাটাকে দেখে আসা উচিত। কিন্তু তাতে সমস্যা আরো একটা আছে__ কালকে ক্লাবে লাইসার সাথে খালিদকে হয়তো কেউ দেখে থাকবে। বলা যায় না, বিপদ এখন তার দিকেও এগোতে পারে। তার এখন গা ঢাকা দিয়ে থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। . লাইসার এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর আস্তে আস্তে এসেক্স, এরপর পুরো ইংল্যান্ড, পরে সমগ্র যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বিষয়টা প্রশাসনালয় থেকে শুরু করে গভার্নমেন্ট পর্যন্ত পৌঁছায়। অবশ্য শুধু মার্ডার হলে বিষয়টা এতদূর গড়াতো না। পুলিশ ছোটখাটো একটা ইনভেস্টিগেশন চালিয়ে তরপর হয়তো কারো থেকে শ-কয়েক পাউন্ড স্টার্লিং খেয়ে কেসটা রিজেক্ট ফাইলে জমা করে দিত। কিন্তু বিষয়টা একেবারেই আলাদা। এখানে মোটিভ অফ মার্ডার হচ্ছে বাচ্চাটি। আস্তে আস্তে বিষয়টা নিয়ে সবাই কম বেশি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। পুলিশও তাদের ইনভেস্টিগেশন শুরু করে দেয়। তাদের মনেও একই প্রশ্ন, “বিকৃতাঙ্গের সেই বাচ্চাটিই কি লাইসাকে মেরেছে নাকি কেউ প্লান-মাফিক রক্ত শূণ্য করে দিয়ে লাইসাকে মার্ডার করেছে?” দ্বিপাক্ষিক ভাবনা নিয়ে চলতে থাকে তদন্ত। হঠাৎ একদিন বাচ্চাটি হাসপাতালে থাকা একটা ডাক্তারের উপর আক্রমণ করে বসে। বাচ্চাটার সাপের ছোবলের মত চার হাতের থাবা গিয়ে পরে ডাক্তারের নাকে, মুখে ও গলায়। হাসপাতালে থাকা ডাক্তার এবং নার্সসহ অনেকে উপস্থিত থাকায় সে যাত্রা বেঁচে যায় সেই ডাক্তার। তবে মাত্র মিনিটখানেক আক্রমনাত্মক থাবার কবলে পরে বেশ আহত হয় সে। এইটুকু সময়ের মধ্যে বাচ্চাটার এত বেশি রক্ত শুষে নিয়েছে যে, ব্লাড ব্যাংক থেকে এ পর্যন্ত কয়েক ব্যাক ব্লাড দেয়া হয়েছে তাকে। সে এখন বাঁচবে কিনা সেটা নিয়েও সবার মাঝে একটা হতাশা কাজ করছে। বিষয়টা নিয়েও মিডিয়া মন্ত্রনালয় থেকে শুরু করে উপর মহলের লোক পর্যন্ত সবার নজরে চলে আসে। তারপর আর আগে পিছে না ভেবেই বাচ্চাটাকে পাব্লিক প্লেজে এনে ব্রাশ ফায়ার করে উড়িয়ে দেয়া হয়। লাইসাকেও ততদিনে দাফন করে দেয়া হয়েছিল। কিছুদিন পর জানা যায় সেই ডাক্তারও নাকি রক্তশূন্যতায় মারা গিয়েছে। তাকে ব্লাড ব্যাংক থেকে যতগুলো ব্লাড দেওয়া হয়েছিল তাতে তার পজিটিভ সাপোর্ট পাওয়ার কথা। কিন্তু তারপরেও এই ডাক্তারের রক্তশূন্যতা মারা যাওয়ার কারণ কেউ বুঝে উঠতে পারে না। ___ এরপর বেশ কিছুদিন পুরো লন্ডন সিটি জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। এদিকে ভাড়া করা বাসায় গা ঢাকা দিয়ে থাকতে থাকতে বোরিং হয়ে যাচ্ছিল খালিদ। আজ ১৫ দিন হয়ে গেল সে বাইরে বের হয় না। না, এভাবে আর থাকা যায় না। লাইসার মৃত্যুর তো একটা সুরাহা হয়েই গেছে। তারা সবাই তো ভেবে নিয়েছে যে লাইসাকে তার পেঁটের বাচ্চা-ই মেরেছে। এখন আর খালিদের গা ঢাকা দিয়ে থাকার কোন মানে হয় না। তবে বাচ্চাটার কথা মনে পড়লে খালিদের এখনও হাত-পা পুরো হিম হয়ে আসে। মিনিট খানেকের আক্রমণে একজন ডাক্তারকে পুরো রক্তশূন্য করে মেরে দিয়েছে। ভাবতেই তো যে কারো গায়ের লোম খাড়া হয়ে আসবে। লাইসার মৃত্যুতে খালিদও ব্যাপক ভাবে মর্মাহত হয়। হতাশাগ্রস্তও হয় কিছুটা। ভিক্টিমদের খুঁজে পাওয়ার জন্য খালিদের কাছে একমাত্র অস্ত্র ছিল লাইসা। সেও দুনিয়া ছেড়ে ওপারে চলে গিয়েছে। এখন ভিক্টমদের বের করার জন্য শুধু একটা মাত্র ইনফরমই অবশিষ্ট থাকে খালিদের কাছে। পরেরদিন সকাল সকাল শাওয়ার সেরে তৈরি হয়ে নেয় খালিদ। একটা লম্বা কালো গাউন, চোঁখে কালো সানগ্লাস এবং মুখে একটা কালো মাস্ক টেনে আমেরিকার রাজধানী এবং প্রভাবশালী ব্যস্ত নগরী ওয়েশিংটন ডি সি-এর দিকে পা বাড়ায় সে। . . . . _______ রাত প্রায় বারোটার কাছাকাছি। রাস্তার পাশে থেকে মাতাল অবস্থায় টলতে-টলতে রাস্তার মাঝে এসে পরে জোহান। দূর থেকে একটা তীব্র আলো এসে সরাসরি জোহানের উপর পরে। জোহান সেটাকে ঝাপসা চোখে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়েই বোঝার চেষ্টা করে। টিট্ টিট্ করে ধেয়ে আসেতে থাকে সেই তীব্র আলো। আস্তে আস্তে শব্দের তীব্রতার সাথে আলোর তীব্রতাও বেড়ে যেতে থাকে। জোহানের ইচ্ছে করছে সেই তীব্র আলোটা তাকে ছুয়ে দেবার আগেই যেন অবসাদগ্রস্ত শরীরটাকে টেনে সরিয়ে নিতে পারে। কিন্তু সে মাত্রাতিরিক্ত মাতাল থাকার কারণে তার ইচ্ছায় ব্যর্থ হয়। হঠাৎ শো করে গাড়িটা এসে জোহানকে উড়িয়ে দিয়ে চলে যায়। . পরের দিনের ব্রেকিং নিউজ; “গতকাল রাত সাড়ে এগারোটা থেকে বারোটা নাগাদ টিলবারি বন্দর থেকে আসা একটা মালবাহী ট্রাকের সাথে ধাক্কা লেগে নিহত এক মাতাল। পুলিশ সকালে লাশ উদ্ধার করতে গিয়ে জানতে পারে লোকটি ‘লেগো গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রি’র মালিক মি. জোহান। লাশের পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী পেটের ভিতর পাওয়া গিয়েছে প্রচুর পরিমাণে এ্যালকোহল।” নিউজটা দেখে একটা তৃপ্তির নিশ্বাস ফেলে খালিদ। পুলিশ তাহলে বুঝেই নিয়েছে ওটা এক্সিডেন্ট ছিল। কতো সহজেই না সে মেরে দিতে পেরেছে জোহানকে, সেটা ভেবেই শব্দহীন একটা পৈশাচিক হাসি দেয় খালিদ। তার মনে হতে থাকে তার নিঃশব্দ হাসিতেও যেন মৃদু কেঁপে উঠলো পুরো সাত তলার বিল্ডিংটা। তবে এখনো আরো ছয়জন বাকি আছে। একে একে সবাইকেই খালিদের বাবার কাছে পাঠিয়ে দিতে হবে। . . . ______ একটা মালবাহী জাহাজ প্রবাহমান জলরাশির বুক চিরে সাঁ সাঁ করে ধেয়ে চলছে নিউইয়র্ক বন্দরের দিকে। দীর্ঘ সময়ে ধরে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে হাডসন নদীর উপকুলের দিকে ধেয়ে আসে জাহাজটি। জাহাজের ভিতরে মালভর্তি বক্সগুলোর ভিতর থেকেই ‘স্টাচু অফ লিবার্টি’র দিকে একটা তীক্ষ দৃষ্টিতে তাকায় খালিদ। মূর্তিটি এক হাতে একটা প্রজ্জ্বলিত মশাল এবং আরেক হাতে একটা আইনের বই নিয়ে অভিবাসন জানাচ্ছে আমেরিকান অভিযাত্রীদের। কিন্তু খালিদের মনে হচ্ছে এ অভিবাসন যেন শুধু তার একার জন্য। তার এই একঘেয়েমি ভাবনাটা অহেতুক হলেও তার কাছে সেটার যথার্থ মূল্যায়ন রয়েছে। . “আমেরিকার সাম্য ও মৌত্রের নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই ‘স্যাচু অফ লিবার্টি’। রোমান দেবী লিবার্টাসের আদলে তৈরি হয় এই মূর্তিটি। আমেরিকার স্বাধীনতার একশ বছর উপলক্ষে ফ্রান্স এই মূর্তিটি উপহার হিসেবে দিয়েছিল আমেরিকাকে। ফ্রান্স ও আমেরিকার বন্ধুদের নিদর্শন হিসেবেই মূলত ১৮ অক্টোবর ১৮৮৬ সালে আমেরিকাকে মূর্তিটি দেয়া হয়। মূর্তিটি নিয়ে আবার একটা রহস্যও আছে। ৩০৫ ফিট ১ ইঞ্চির এই মূর্তিটির স্থাপক ফ্রেডরিক বার্থোল্ডি নাকি এটা মিশরের সুয়েজ খালের পাশে বসানোর জন্য নকশা করেন, এবং নাম দিয়েছিলেন ‘ইজিপ্ট ব্রিঙিং লাইফ টু এশিয়া’ তারপরের অনেক কাহিনী, শেষে নিউইয়র্কের হাডসন নদীর অববাহিকায় লিবার্টি দ্বীপে বসানো হয় ‘স্ট্যাচু অফ লিবার্টি’। তবে প্রথমে এর নামকরণ করা হয়েছিল ‘লিবার্টি এনলাইটেনিং দ্যা ওয়াল্ড’। পরে ১৮২৪ সালের পর থেকে একে নামকরণ করা হয় ‘স্ট্যাচু অফ লিবার্টি’। স্ট্যাচু অফ লিবার্টি ঘিরে দু’টি দুঃখজনক ঘটনাও ঘটেছে। এ পর্যন্ত দুইজন মানুষ স্ট্যাচু অফ লিবার্টি থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। দু’টো ঘটনাই কাছাকাছি সময়ে হয়েছিল, যার মধ্যে প্রথম ঘটনাটি ১৯২৯ সালে ও দ্বিতীয় ঘটনাটি ১৯৩২ সালে। তাই বর্তমানে এই স্ট্যাচুর সিঁড়িটি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বন্ধ রাখা হয়েছে।” . সেই সুযোগেই মূর্তিটির মধ্যে ওরা নিজেদের ঘাটি করে নিয়েছে। এখন খালিদকে যা করতে হবে তা ভেবেচিন্তে করতে হবে। স্ট্যাচুর সদর দরজা বন্ধ। উপরে উঠতে হলে অন্য কোন উপায় খুঁজতে হবে। শেষে ঘুরে ঘুরে পিছনের দিকের একটা সুরঙ্গের মত খুঁজে পায় সে। সেটা দিয়েই ভেতরে প্রবেশ করে সিঁড়ি বেয়ে সোজা উপরে দিকে উঠে যায়। একেবারে মাথায় উঠতে হলে ৩৫৪ টি সিঁড়ির ধাপ পেরিয়ে তারপর উঠতে হবে। নিজের সিকিউরিটির জন্য PT 92 AF গানটা বের করে আগেই লোড করে নেয় সে। বেশ ভালো মানের একটা ব্রাজিলিয়ান গান PT 92 AF. এটা দিয়ে চাইলে একটা গুলি নয়, দুটো গুলিও করা যায়। মানে এক অ্যাঙ্গেলে ডাবল বুলেট। এটা খালিদকে নিঃসন্দেহে অনেকটা সিকিউর দিতে পারবে। অবশেষে পা টিপে টিপে সাবধানে স্ট্যাচুর মাথায় উঠে যায় সে। জানালা দিয়ে আসা আলোয় ফাঁকা তামার পাতের ফ্লরটা দেখে অনেকটা চমকে ওঠে খালিদ। স্ট্যাচু'র মাথায় সারি সারি পঁচিশটা জানালা রয়েছে। ফাঁকা জানালা দিয়ে আসা আলোয় স্পষ্ট হয়ে আছে তামার পাতের ফ্লরটি। কোথাও একটুকরো কাগজের চিহ্ন পর্যন্তও নেই। তবে লাইসা কি খালিদের সাথে মিথ্যা বলেছে? একটুর জন্য হতাশ হয় খালিদ। লাইসাও তো এখন আর বেঁচে নেই যে তার থেকে সত্যিটা জানবে। হঠাৎ মশাল ঘরে ওঠার দরজাটার দিকে চোখ পরতেই অবাক হয় সে। মশাল ঘরের দরজাটায় যে তালাটা ঝুলানো ছিল সেটা ভাঙা। একটা সময় যাতায়াতের ব্যাবস্থা ছিল মশাল ঘরে, তারপর একবার একটা বিষ্ফোরণ হয় এবং তারপর থেকেই সরকারিভাবে মশাল ঘরে যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। খালিদ আস্তে আস্তে গেট ঠেলে মশাল ঘরে প্রবেশ করে। সেখানেও কেউ নেই। তবে মেঝেতে কয়েকটা কাগজ পড়ে থাকতে দেখে সে। কাগজে রয়েছে হিজিবিজি করে লেখা কয়েকটা অদ্ভুত সূত্র আর কয়েটা নাম। সূত্রগুলো কিসের সেটা খালিদ বুঝতে না পেরে তার ল্যাবটবটা বের করে গুগলে সার্চ দেয়। সুত্রগুলো নিয়ে নেটে কোন ইনফরম না এসে বরং কতকগুলো গানিতিক সূত্র এসে ভিউ হয়। খালিদ সূত্রগুলো রেখে দিয়ে নামগুলোর দিকে লক্ষ্য করে। আট জনের নামের ডকুমেন্টারি রয়েছে সেখানে। তার মধ্যে তিনটা নাম খালিদের চেনা। ইকবাল, জোহান আর জ্যাসিগো। ইকবাল হচ্ছে খালিদের বাবা, আর জোহান এবং জ্যাসিগো হচ্ছে খালিদের বাবার বন্ধু। দুজনেই লন্ডনের বাসিন্দা। বাকি পাঁচটা নাম খালিদের অচেনা। একটা একটা করে সবগুলো নামই লিখে সার্চ করে সে। সবার নামেই একটা আইডি এসে খালিদের ল্যাপটপের ডিসপ্লেতে ভিউ হয়। সেখান থেকে ইনফরম কালেক্ট করে লোকেশন ট্রাক করে জানতে পারে জোহান আর জ্যাসিগো এসেক্সেই আছে। বাকি পাঁচটা নামের লোকেশন ট্রাক করতে ব্যর্থ হয় সে। তবে এটা নিশ্চিত হয় যে, তারা আমেরিকা ও যুক্তরাজ্য নেটওয়ার্কের বাইরে আছে। মোটকথা তারা যেখানে আছে সেখানে নেটওয়ার্কেরও ব্যাপক সংকট রয়েছে। এমনও হতে পারে, সেটা পৃথিবীর বাইরে। . . এরপর আবার লন্ডনে ফিরে আসে খালিদ। এসেই পায় জোহানকে। সেদিন রাতে গাড়ি করে বাসায় ফিরছিল জোহান। হঠাৎ তার গাড়ির সামনে থেকে একটা অবয়ব চলে যেতে দেখে গাড়িতে কষে একটা ব্রেক দেয়। কষে ব্রেক দেওয়াতে তার কপালে একটু চোট লাগে। এতে জোহান অনেক রেগে গিয়ে গাড়ি থেকে নেমে অবয়বটিকে ফলো করে। অবয়বটা পাশের অন্ধকার গলির ভিতরে দিয়ে চলে যায়। জোহান অবয়বটাকে লক্ষ্য করে অন্ধকার গলির দিকে এগিয়ে যায়। অন্ধকারের মধ্যেই জোহানের অজান্তে তার সামনে থেকে ক্লোরোফর্ম গ্যাস এসে তার নাকের ভিতর দিয়ে ঢুকে যায়। জোহান সেখানেই টলতে-টলতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। অজ্ঞান জোহানকে বাসায় এনে বেঁধে রাখতে বেগ পেতে হয় না খালিদকে। জ্ঞান ফেরার পর জোহানকে ঠান্ডা মাথায় কিছু প্রশ্ন করে খালিদ। তারপর অনেক ভয় দেখানোর পরেও জোহান মুখ খোলে না। এতে খালিদের মেজাজ আরো বিগ্রে যায়। খালিদ আগে থেকেই জানতো জোহানের ড্রিংসের হেভিট আছে। সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে কতগুলো অ্যালকোহল জোহানের পেঁটে চালান করে দেয়। হাতে গ্লাভস পরে থাকায় জোহানের শরীরের কোথাও কোন প্রুভও অবশিষ্ট থাকে না। তারপর তাকে গাড়ি করে মধ্যরাতে এসেক্সের সেই রাস্তার মাঝে এনে মাতাল অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয়। টিলবারি থেকে কখন ট্রাক আসবে সেই ইনফরমও খালিদের কাছে ছিল। সবকিছু প্ল্যানমাফিকই করা হয়। এরপর সেই এক্সিডেন্টের নিউজ সম্প্রচার এবং লাশ উদ্ধারের দায়িত্ব ছিল পুলিশের। ঠিক তেমনটাই হয় যেমনটা খালিদ চেয়েছিল। . . এরপরের কাজটা করতেও খুব একটা বেশি বেগ পেতে হয়না খালিদকে। জ্যাসিগো যেই ফ্লাটে থাকে সেটা খালিদের ভাড়া করা ফ্ল্যাটের পাশেরই একটা ফ্লাট। শুধু মাঝখান দিয়ে চলে গিয়েছে একটা ছোট্ট সড়ক। এই ছোট্ট সড়কটাই দুই পাশের দুই বিল্ডিংকে আলাদা করে রেখেছে। তবে কিভাবে কি করতে হবে সেটা ভালো করেই জানা আছে খালিদের। নিজের মত করে মনে মনে একটা কল্পচিত্র অঙ্কন করে নিয়ে মুখে বাঁকা একটা হাসি দেয় খালিদ। . . . চলবে!...... লেখা : মুহাম্মদ আবদুল্লাহ রাফি ___ কেমন লাগলো জানাবেন। আগামী পর্ব আগামীকাল দিব।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ Reverse world (part 2)
→ Reverse World (part 1)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now