বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পূর্বকথা:
সে অনেক অনেক দিন আগের কথা। সাত সমুদ্র, তেরো নদী আর বাহান্ন পাহাড় পাড়ি দিয়ে অভিযাত্রীরা একটা দেশে আসত।
দেশটার নাম ছিল গল্পের ঝুড়ি। ইংরেজিতে জিজে।
সেই দেশের মানুষ নিজেদের গল্পের ঝুড়িয়ান বলে পরিচয় দিত।
গল্পের ঝুড়ির জিজেবাসীরা গল্প পড়তে খুব পছন্দ করত। সবাই খুব ভালো ভালো গল্পও জানত। কেউ কারো থেকে কম যায় না।
তো সব আদিবাসী, অধিবাসী, নিবাসী, প্রবাসীদের মতো জিজেবাসীদেরও একজন রাজা ছিলেন। রাজার নাম যুবরাজ ফাহাদ।
(- আচ্ছা, আপুনি। রাজা কীভাবে যুবরাজ হয়?
-- গল্পটা শোন, বুঝতে পারবে। তাছাড়া রাজাতো একসময় যুবরাজই থাকে। তাইনা?)
১
রাজ দরবারে.............
প্রথমে যুবরাজ ফাহাদের সভাসদদের পরিচয় দিচ্ছি।
রাজার প্রধানমন্ত্রী হলেন জনাব মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম। যিনি সখিনা নামের একটা মেয়ের জন্য পাগল। আমরা চাইলে তাকে সখিনা প্রেমিকও বলতে পারি!
খাদ্যমন্ত্রী হলেন জনাব তানিম রাব্বী। যিনি খাদ্য নিয়েই পড়ে থাকেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হলেন জনাব সামির। তবে গুজব আছে যে, তার নিজের স্বাস্থ্যই খুব একটা ভালো নয়।
সেনাপতি হলেন জনাব মোহাম্মদ রনি। যিনি বিশ্বস্ত সেনাপতি হিসেবে জিজেবাসীদের বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করেন।
রাজার বিশেষ গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হলেন জনাব ফারহান তোপসে। যার বয়স কম হলেও যোগ্যতার জন্য এই পদে তাকে নির্বাচন করা হয়েছে। বুদ্ধিমান এই ক্ষুদে গোয়েন্দাকে জিজেবাসীরা খুব পছন্দ করেন।
রাজকবি হলেন জনাব কাব্য নামধারী কবি রিয়াদুল ইসলাম রূপচান। তিনি বিরহের কবি, আরহের কবি, কবিতার কবি, কবির কবি, কবিনীর কবি.....। তবে সবচেয়ে বড় কথা, তিনি গল্পের ঝুড়ির খুব বড় একজন কবি।
রাজপন্ডিত জনাব হিমু। হিমু হলো রাজপন্ডিতের উপাধি। আসল নাম সাইম আরাফাত। রাজবৈজ্ঞানিকও তিনিই। তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। যেকোনো বিষয়ে তার থেকে ভালো জিজেতে আর কেউ জানে না।
রাজ দার্শনিক হলেন জনাব শুভ সূত্রধর। যার দর্শন জিজেবাসীদের ভাবাতে শেখায়, কাঁপাতে শেখায়, হাঁপাতে শেখায়, লাফাতে শেখায়। জিজের অন্যতম জ্ঞানী মানুষ তিনি।
রাজার বিশেষ গল্পকার হলেন জনাব মোহাম্মদ হৃদয়। নামের মতোই তার কথাবার্তা হৃদয় ছুঁয়ে যায়। জনাব হৃদয়ের অবশ্য হৃদয়ের সংখ্যা একটিই! মানুষের তো হৃদয় একটিই থাকে।
আর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যিনি তিনি হলেন রাজার ভাঁড় জনাব মেহেদী হাসান প্রভা। নিজেকে তিনি বিশিষ্ট ভিভিআইপি বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
(- আপুনি, ভাঁড় মানে কী?
-- ভাঁড় হলো শান্ত-শিষ্ট, লেজহীন তবে লেজবিশিষ্ট একজন ব্যক্তি। যার কাজই হলো মানুষকে হাসিয়ে হাসিয়ে হাসপাতালে পাঠানো।
- আপুনি, রানী কে?
-- ওফ! চুপচাপ শোনো তো। নাহলে আমি আর গল্প বলবো না।
- সরি আপুনি। তুমি না ভালো! গল্পটা বলো না, প্লিইইইজ।
-- আচ্ছা, আর কোনো কথা না। ঠিক আছে?
- ঠিক আছে।)
****************
বিপদের শুরু.........
রাজা ফাহাদের রানীর নাম অত্যন্ত গোপনীয়। তবে বিখ্যাত-কুখ্যাত-অখ্যাত হ্যাকার মৃতমানুষ সিয়াম রাজার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে রানীর নাম বের করেছে। রানীর নাম বললে সভাসদদের কারো চাকরি থাকবে না। তাই আমি রানীর নাম বলবো না।
রাজা যুবরাজ ফাহাদ তার সভাসদদের সাথে এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করতে বসলেন।
- নাহ! কীযে করি কিছুই বুঝতে পারছি না।(জনাব রাজা)
-- কেন রাজা মশাই? আপনার আবার কী সমস্যা হলো?(প্রধানমন্ত্রী জনাব মফিজুল)
--- উত্তমরূপে খাদ্য গ্রহণ করিলে সব ঠিক হইয়া যাইবে।(খাদ্যমন্ত্রী জনাব তানিম)
-- খাদ্যমন্ত্রী হয়ে তো শুধু খাবার চিন্তাই মাথায় আসবে। নাকি?(প্রধানমন্ত্রী জনাব মফিজুল)
--- খাদ্য নিয়ে কোনও চুদুরবুদুর চলিবে না।(খাদ্যমন্ত্রী জনাব তানিম)
---- মশাই, চুদুরবুদুর শব্দের মানে কী?(ভাঁড় সাহেব জনাব মেহেদী)
--- আই দোন্ত নো!(পেটমোটা খাদ্যমন্ত্রী জনাব তানিম)
---- হা হা হা হা হা! ইউ ডোন্ট নো। দেন হোয়াই ডিড ইউ টোল্ড দ্যাট?(ভাঁড় মিয়া জনাব মেহেদী ওরফে বিশিষ্ট ভিভিআইপি)
----- কখনো যদি কোনো শব্দের অর্থ না জানিয়া থাকো, তবে বৎস বই পড়িয়া তাহা জানিয়া লইবে। তাহা হইলেই তোমার জ্ঞান বিকশিত হইবে।(রাজপন্ডিত জনাব হিমু কিংবা অর্ধ হিমু কিংবা পকেটওয়ালা হিমু)
--- আরে মিয়া রাখেন আপনার বই। বই পড়লে যদি সব জানা যায় তবে আমাদের রাজাইতো সব জানত। কী বলেন আপনারা?(পেটমোটা খাদ্যমন্ত্রী তানিম মিয়া)
----- বই পড়াটা একটা সাধনা। ইহাতে জ্ঞান অর্জিত হয়। সকলে ইহা বুঝিতে পারে না।(রাজপন্ডিত জনাব জ্ঞানী হিমু)
---- সখিনাআআআআআ, হিমু ভাইয়া অনেক জ্ঞানী। কিন্তু আমি তোমাকে.........(ভাঁড় সাহেব ওরফে সখিনার নতুন প্রেমিক)
- আহ, সবাই একটু চুপ করুন। আমি আছি নিজের যন্ত্রণায় আর এনারা সবাই.....(জনাব রাজা মিয়া)
-- কিন্তু রাজা মশাই আপনার সমস্যা কী? কী নিয়ে এতো পেরেশানিতে পড়ে প্রেশার বাড়াচ্ছেন?(মন্ত্রী মিয়া মফিজুল)
- আমার বউ চুরি হয়েছে!(জনাব রাজা)
----- কী! বউ কীভাবে চুরি হয়?(রাজপন্ডিত হিমু)
---- হিমু ভাইয়া, হিমু সংবিধানের ৪২০ নং ধারায় বলা হয়েছে যে, "হিমুদের জন্য আশ্চর্য হওয়া নিষিদ্ধ!" আর আপনি?(লেজহীন তবে লেজবিশিষ্ট ভাঁড় জনাব মেহেদী)
----- ইশ! আবার ভুল করে ফেললাম।(জনাব অল্প একটু হিমু)
---- হিমু ভাইয়া, হিমু সংবিধানের ৪১৯ নং ধারায়.....
- আহ! চুপ করোতো ভাঁড় মিয়া। আমার বউ চুরি হয়েছে সেই.......
-- কিন্তু রাজা মশাই, বউ কীভাবে চুরি হবে?(প্রধানমন্ত্রী মফিজুল)
- ওহহো ভুল করে ফেলেছি। বউ চুরি না। আমার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড চুরি হয়েছে। ওখানে আমার বউয়ের নাম ছিল। ওটা এখন মৃত হ্যাকার সিয়াম জেনে গিয়েছে।(বউয়ের নাম চুরি হয়ে যাওয়া রাজা)
------ জন্ম-মৃত্যু সবার জীবনেই আসবে। এতে দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই। কারণ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ায় সিয়াম এখন আর কিছুই করতে পারবে না।(রাজ দার্শনিক জনাব শুভ মিয়া)
- সিয়াম তো মারা যায়নি। মৃতব্যক্তি তার উপাধি।(রাজা মিয়া)
-- রাজা সাহেব, এই ব্যাপারে আমরা চাইলে গোয়েন্দা দফতরের প্রধান ফারহান তোপসের সাথে কথা বলতে পারি।(অপ্রধানমন্ত্রী)
- হ্যাঁ মন্ত্রী! আপনি ঠিকই বলেছেন। ফারহান তোপসেকে এখনই হাজির করা হোক।(রাজা ভাই)
– ফারহান তোপসে হাজিইইইইর হোওওওওন।(পাইক আংকেল)
******************
জনাব ফারহান তোপসে হাজির হওয়ার পর.......
-- রাজা ভাই, মানে কী বলে রাজা আংকেল উপস সরি মহামান্য রাজা আপনার খেদমতে আমি হাজিইইইইর।(তোপসে কাকু)
- শোন ফারহান তোপসে। তুমি কি তোমার কাজটা জানো? আমি তোমাকে কেন গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেছি, তা কি তুমি জানো?(রাজা ভাই ওরফে রাজা আংকেল)
-- দাঁড়ান রাজা আংকেল মানে মহামান্য রাজা। আমি এক্ষুনি বই পড়ে আমার কাজটা জেনে নিচ্ছি।(ফারহান মিয়া তোপসে কাকু)
- কী বই?
-- এ্যাঁ....... বইয়ের নাম হলো..... ত্রিশ দিনে গোয়েন্দা হন!
- ধুর! তোমাকে তো এই দায়িত্ব দেওয়াটাই ভুল হয়েছে।
--- যার রয়েছে দায়িত্ব জ্ঞান, সেই পড়ে বিজ্ঞান!(জনাব জ্ঞানী হিমু)
---- দায়িত্ব এই মহাবিশ্বের সবাইকে পালন করতে হয়।(জনাব দার্শনিক শুভ মিয়া)
----- দায়িত্ব নিয়ে কোনও চুদুরবুদুর চলিবে না!(চুদুরবুদুর মন্ত্রী মানে খাদ্যমন্ত্রী জনাব তানিম মামা)
- চুপ করুন সবাই! আমি না বলা পর্যন্ত কেউ কোনো কথা বলবেন না।(রাগী রাজা)
-- আচ্ছা রাজাংকেল মানে রাজা আংকেল, আপনি কী জন্যে এই বিখ্যাত-কুখ্যাত-অখ্যাত গোয়েন্দাকে ডেকেছেন?(বিখ্যাত গোয়েন্দা কুখ্যাত তোপসে অখ্যাত ফারহান)
- ও হ্যাঁ হ্যাঁ। আসলে কীভাবে যে বলি! আসলে আমার বউ চুরি হয়েছে।(লাজুক রাজা)
-- বউ..... বউ..... মানে আস্ত বউ! পুরো ঘটনা খুলে বলুন তো?
- ঘটনা ঘটেছে গতকাল রাতে। হ্যাকার মৃতব্যাক্তি সিয়াম আমাকে একটা ইমেইল পাঠালো। আমি সরল মনে ইমেইলে ঢুকলাম। ঢোকার সময় আমার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড চাইলো। আমি দিলাম। আধা ঘন্টা পরে আরেকটা ইমেইল আসলো। ওটা ছিল আমাকে দেওয়া মরা মানুষের হুমকি! যদি আমি তিন দিনের মধ্যে তাকে এক কোটি এক লক্ষ এক হাজার এক শত এক টাকা না দেই তবে সে আমার রানী সাহেবার নাম প্রকাশ করে দেবে! এতো টাকা আমার কাছে নেই। জীবনটা বেদনার! এখন তুমিই কিছু কর।
-- আচ্ছা প্রথম ইমেইলটা কী ছিল?
- এটা জেনে কী করবে?
-- তদন্তের জন্য সব জানতে হবে। বুঝলেন রাজা আংকেল!
- কীভাবে যে বলি! মানে আসলে ইমেইলটা ছিল একটা খবরের।
-- কী খবর?
- ওহহো! এটা.... মানে.... এটা ছিল..... খবরটা ছিল...... খবরটা ছিল, "তেলাপোকা দেখে একি করলেন বেয়ার গ্রিলস! দেখুন ভিডিও সহ!"
-- হুমম খবরটা নিশ্চয়ই গুজব! আচ্ছা আমি একটা ব্যাপার বুঝলাম না। রানী সাহেবার নাম চুরি হয়েছে। কিন্তু আপনি কেন রানী চুরি হয়েছে বলে গুজব ছড়াচ্ছেন?
- বোঝো নাই ব্যাপারটা! এটাকে বলে পাবলিসিটি! একটু বিখ্যাত হওয়ার জন্য আসলে এমনটা বলেছি। হাজার হোক রাজার বউয়ের মানে রানীর নাম চুরি হয়েছে। চাট্টিখানি কথা নাকি!
-- আচ্ছা মৃত মানুষকে ধরার জন্যই তাহলে আমাকে ডেকেছেন? আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করবো।
- এই জন্যেই তোমাকে আমার খুব ভালো লাগে।
*******************
২
জিজের রাজধানীতে........
জিজেবাসী গল্প-গুজবে মত্ত। সারাদিনই অবশ্য গল্প চলে। সবাই নিজের গল্প বলেন। অন্যের গল্প শোনেন। মতামত দেন। ছুটির দিন হওয়ায় আজ কারো কোনো ব্যস্ততা নেই।
গল্পের পাশাপাশি আড্ডাও চলে। বিভিন্ন গেস্টের বাসায় গেস্ট মানে মেহমান হিসেবে গিয়ে শুরু হয় জিজেবাসীর আড্ডা!
জিজেবাসীদের মনে কোনো দুঃখ নেই। সবাই খুব সুখী।
রাজার শাসন ব্যবস্থা নিয়েও কারো কোনো অভিযোগ নেই।
গল্পের ঝুড়ির আদি রাজা বা দেশটির প্রতিষ্ঠাতা হলেন জনাব সাঈদ আমীন।
দেশ পরিচালনার জন্য এক সুন্দর শাসন ব্যবস্থা তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। এর তদারকিতে আছেন তিনজন।
ফাহমিদ সরফরাজ তূর্য, সাইমন জাফরি এবং সুবর্ণা আক্তার ঝুমুর হলেন জিজের তদারককারী। তারা তিনজন বিচারপতির দায়িত্বেও আছেন। প্রধান বিচারপতি হলেন চিফ জাস্টিস সুবর্ণা আক্তার ঝুমুর।
রাজা তার শাসনে কোনো ভুল করলে তারাই এর বিরোধিতা করেন, এবং ভুলটা ধরিয়ে দেন।
এজন্যই জিজেবাসী অনেক সুখি।
*********
শহরের সবচেয়ে বড় পোষা প্রাণীর দোকানের মধ্যে।
যার মালিক হলেন পুষি ক্যাট পুস্পিতা ওরফে পুস্পিতা দ্যা কিটেন কিংবা হ্যালো কিটি।
- পুস্পি আপ্পু, দেও তো পাপ্পু!(সুস্মিতা খুকি)
-- কে? ও সুস্মি, তুই? বল কী লাগবে? সব খবর ভালো তো?(পুস্পিতা দ্যা কিটেন)
- সাবিরা আপুও এসেছে।
-- তাই নাকি? ও কোথায় তাহলে? সারা কই তুমি?
--- পুস্পি আপু, আমার একটা পুষি ক্যাট লাগবে।(সাবিরা খুকি)
-- সেটা না হয় তুমি পছন্দ করে নিও। তা তোমাদের খবর কী?
- মফিজুল তো প্রধানমন্ত্রী হয়ে আমাদের ভুলেই গিয়েছে!(সুস্মিতা)
---- নাম বলতেই মফিজুল হাজির!(অপ্রধানমন্ত্রী মফিজুল)
- কীরে, তুই নাকি রাজা সাহেবের সাথে বেয়াদবি করিস।(সুস্মিতা)
---- আমি! আর বেয়াদবি! কক্ষনো না।
- আমি জানি। আমি দেখেছি যে রাজা তোকে অনেক বকা দেয়।
---- সুস্মিইইই তোরে আমি খাইছি!
— এই বাচ্চারা ঝগড়া করে না।(তাহিরা আপু)
– তাহিরা আপুউউউ! কেমন আছো?(সবাই একসাথে)
— আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। তোমাদের কী খবর?
--- খবর! কার খবর? কীসের খবর? কয়টার খবর?(খবরবাজ সাবিরা)
– আমরাও ভালো আছি। তোমাকে তো আজকাল দেখাই যায় না।(বাকি সবাই)
— একটু ব্যস্ত আছি আজকাল। কাজ-কর্ম নিয়েই থাকি।(তাহিরা আপু)
---- আচ্ছা আজকে চল সবাই মিলে রুবাইয়া আপুর বাসায় যাই।(প্রধান কিংবা অপ্রধানমন্ত্রী মফিজুল)
– হ্যাঁ চলো। সাথে অন্যদেরও নিয়ে যাই।(তাহিরা আপু সহ সবাই)
**********
সবাই রুবাইয়া আপুর বাসায় যাচ্ছেন।
রুবাইয়া আপু হলেন জিজের সবচেয়ে শান্তশিষ্ট মানুষ। তিনি "জিজে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে"র একজন ডাক্তার।
তাহিরা আপু জিজের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান হিসেবে আছেন। আইনের ব্যাপারে প্রচুর কড়া তিনি।
পুস্পিতা দ্যা কিটেন হলেন জিজের একমাত্র পোষা প্রাণী বিশেষ করে বিড়াল বিক্রেতা। তিনি জিজের "প্রাণী বাঁচাও আন্দোলন" এরও প্রধান।
সুস্মিতা আর সাবিরা দুজনেই "জিজেʼস আইসক্রিম" নামের একটি আইসক্রিম কম্পানির বড় পদে আছেন।
রুবাইয়া আপুর বাসায় যাওয়ার পথে তারা তাদের আরও বন্ধুদের নিয়ে নিল। ওদের পরিচয়ও দিচ্ছি।
ইসরাত জাহান হলেন জিজের একমাত্র চা বাগানের মালিক। তার চা প্রক্রিয়াজাতকরনের বড় একটি কারখানাও রয়েছে। চায়ের ব্র্যান্ডের নাম হলো "প্রত্যাশা"। ব্র্যান্ডের মূল কথাটা খুব সুন্দর, "কেউ এনা চা দাও।"
রামিশা নূর রাওহা হলেন হাসিপ্রেমী একজন মানুষ। জিজের রাজকীয় হাসির প্রতিযোগিতায় তিনিই সবসময় বিজয়ী হন।
নায়রা আহমেদ হলেন জিজের একমাত্র পাখি অধিকারকর্মী। তার প্রিয় পাখি পায়রা। তিনি মাথায় দেন টায়রা। তিনি পালকি তে বসে কলমদানী নিয়ে সবসময় ব্যস্ত থাকেন। পালকি ছাড়া তিনি কোথাও চলাচল করেন না। তার প্রিয় কথা হলো, "পালকি ছাড়া আমার চলেই না!"
*********************
রুবাইয়া আপুর বাসায়।
ক্রিং..... ক্রিং.....
দরজা খোলার পর।
- ও আল্লাহ! সবাই হঠাৎ আমার বাসায়! ভেতরে আসো।(জনাবা ডা. রুবাইয়া ইসলাম)
– রুবাইয়া আপ্পু, দেও তো পাপ্পু।(সবাই)
- সব দেব। আগে ভেতরে তো আসবে। আজকের দিনটা খুব ভালো। তুবা আর রেহনুমা আপুও আমার বাসায় এসেছেন।(ডা. রুবাইয়া আপ্পু, দেবেন পাপ্পু)
-- নুমা আপ্পিও আছেন। তোমার পাপ্পুর দরকার নেই রুবি আপু। নুমা আপ্পি কোথায়? ওনার কাছ থেকেই পাপ্পু নেব।(নুমা আপ্পিকে খোঁজ করা ব্যক্তিগণ)
- কেউ এনা চা দাও।(চা প্রেমী ইসরাত)
-- হি হি হি হি হি। ইসরাত আপু শুধু চা চা করে।(হাসির রাজা থুড়ি হাসির রানি রামিশা)
- আমি চা ভালোবাসি তো সমস্যা কী, হুউউ? সবাই খুব পঁচা।(বেচারী চা প্রেমী ইসরাত)
- এই নুমা আপুই সব ঝামেলা। আমাকে পাপ্পু দিতে দিল না। আর ইসরাত, চা বসিয়েছি। চিন্তা নেই।(মন খারাপকারী ডা. রুবাইয়া আপ্পু, যে দেবেন না পাপ্পু, কিন্তু চা ঠিকই দেবেন)
-- তুমি আমাকে পাপ্পু দিও রুবি আপ্পু।(অপ্রধানমন্ত্রী মফিজুল)
- যাক! একজন হলেও আমার কষ্টটা বুঝতে পারলো। তা মফিজুল প্রধানমন্ত্রী হয়ে তো আর আমার বাসায় আসোই না।
-- আসলে রাজা মিয়াকে নিয়ে অনেক ঝামেলায় আছি তো, তাই এদিকে আসতে চাইলেও তা পারছি না।
--- বলেছি না আমি, যে মফিজুল রাজার সাথে বেয়াদবী করে। দেখলে সবাই, রাজাকে মিয়া বলে ডেকেছে ও।(সুস্মিতা খুকি)
-- সুস্মি চুপ কর তো। আমি এমনিতেই আছি অনেক ঝামেলায় আর তুই......
– কী ঝামেলা?(সুস্মিতা)
-- রানীর নাম চুরি হয়েছে!
– কীইইইহ!(সবাই)
*********
রুবাইয়া আপুর বাসায় গিয়ে সবাই দেখতে পেল যে রেহনুমা আপু আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত। ডা. রেহনুমা আহমেদ হলেন জিজেবাসীর অন্যতম প্রিয় একজন।
তিনি সাইক্রিয়াটিস্ট হিসেবে "জিজে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল"এ কর্মরত আছেন। ছুটির দিন হওয়ায় আজ তার সহকর্মী ডা. রুবাইয়া ইসলামের বাসায় এসেছেন।
আর তুবা রুবাইয়াত হলেন ডা. রুবাইয়া ইসলামের চাচাতো বোন।
*********
প্রধানমন্ত্রী মফিজুলের মুখে রানীর নাম চুরি হওয়ার খবর শুনে সবাই চমকে উঠলেন।
- এসব কীভাবে হলো মফিজুল?(আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান তাহিরা আপু)
-- বলছি।(প্রধানমন্ত্রী মফিজুল পুরো ঘটনা বিস্তারিত বললেন)
--- তো ফারহান তোপসে এখন কী করছে?(রেহনুমা আপু)
-- তদন্তের স্বার্থে এসব বলা সম্ভব নয়।(প্রধানমন্ত্রী)
---- আসলে তুই জানিস না সেটা বল।(সুস্মিতা খুকি)
-- সুস্মিইই তোরে একদিন দেখিস কী করি।
- এই পঁচা বাচ্চারা, ঝগড়া করে না।(তাহিরা আপু, রেহনুমা আপু ও রুবাইয়া আপু)
----- কলমদানী দিয়ে হিপনোটাইজ করে কথা বের করা যাবে। মফিজুল, তুমি আমার কলমদানীটা নিয়ে যেও।(পায়রা প্রেমী নায়রা)
-- তা নেওয়া যাবে। কিন্তু ব্যাটা মরা মানুষটারই কোনো খবর নাই!(অপ্রধানমন্ত্রী)
— আনিছুর ভাইয়ার কাছে যাও। উনি আইটি এক্সপার্ট।
-- আশ্চর্য! তার কথা তো মাথাতেই আসেনি। তোমরা গল্প করো। আমি এক্ষুনি যাচ্ছি।(আশ্চর্য হওয়া দায়িত্ববান প্রধানমন্ত্রী)
---- তোর তো কোনো কিছুই মাথায় থাকে না।(সুস্মিতা খুকি)
-- সুস্মি, সমস্যা মিটে গেলে তোরে ট্রিট দেব। সত্যি বলছি।(ট্রিট দেওয়া মন্ত্রী)
---- আগেও বলেছিলি। দিস নাই।(বেচারী সুস্মিতা খুকি)
*********
৩
প্রধানমন্ত্রী মফিজুল আনিছুর ভাইয়ার সাথে দেখা করতে বের হয়ে গেলেন। বাকিরা অবশ্য ডা. রুবাইয়া ইসলামের বাড়িতেই আছেন।
আনিছুর রহমান লিখন হলেন গল্পের ঝুড়ির একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় "জিজে বিশ্ববিদ্যালয়"র আইটি ডিপার্টমেন্টের প্রধান। এই বিষয়ে এমন কোনো জিনিস নেই যা তিনি জানেন না।
প্রধানমন্ত্রী মফিজুল এখন আনিছুর ভাইয়ার বাড়িতে বসে আছেন। অবশ্য তার না আসলেও হতো। কারণ বুদ্ধিমান গোয়েন্দা ফারহান তোপসে আগে থেকেই সেখানে আছে।
- তুমি কখন আসলে এখানে?(প্রধানমন্ত্রী মফিজুল)
-- কিছুক্ষণ আগে মন্ত্রী সাহেব।(গোয়েন্দা ফারহান তোপসে)
- নতুন কিছু জানতে পেরেছ?
-- সব জানা শেষ। ইমেইলটা কোন জায়গা থেকে পাঠানো হয়েছে সেটা জানার জন্য এখন আনিছুর স্যারের সাথে দেখা করতে এসেছি।
- সব জানা শেষ? এতো তাড়াতাড়ি। তুমি আসলে কেমন জাতের গোয়েন্দা?
-- হুহ্হু! রিশতেমে হাম আপকে ছোটে ভাই লাগতে হ্যায়, নাম হ্যায় ফারহান তোপসে!
--- কী হে, সিনেমার ডায়ালগ দিচ্ছ যে ক্ষুদে গোয়েন্দা?(জনাব আনিছুর স্যার)
-- আসলে মন্ত্রী সাহেব অবাক হয়ে গিয়েছেন তো তাই। তা স্যার কেমন আছেন?(ফারহান তোপসে)
--- আলহামদুলিল্লাহ! ভালো আছি। তোমাদের কী খবর?
- খবর ভালো নেই ভাইয়া! রানীর নাম চুরি হয়েছে।(প্রধানমন্ত্রী মফিজুল)
--- জানি। ফারহান সব বলেছে। ইমেইলটা কোথায় থেকে পাঠানো হয়েছে তা জানা গিয়েছে। অনেক কষ্ট হলেও আমি আইপি এড্রেস ট্র্যাক করে ফেলেছি।
-- আপনি আসলেই জিনিয়াস! আসলাম মাত্র দশ মিনিট হলো, আর কাজ এতো তাড়াতাড়িই শেষ!(ফারহান তোপসে)
- দেখতে হবে না, কার কাছ থেকে কম্পিউটার চালানো শিখেছেন উনি! আমার কাছ থেকে!(ভাব দেখানো প্রধানমন্ত্রী)
-- ও তাইতো! আপনার জন্মের আগেই আপনি স্যারকে সব শিখিয়েছিলেন! খুব ভালো কথা! তা কম্পিউটার বানান বলেন দেখি?(বুদ্ধিমান গোয়েন্দা ফারহান তোপসে)
--- থাক! ছেড়ে দাও ফারহান। লোকেশন ম্যাপে পিনড্ করে রেখেছি। গিয়ে এবার সিয়ামকে ধরো। তবে ছেলেটা কিন্তু খুব ভালোই হ্যাকিং জানে। ওকে চাইলে আইটি সেক্টরে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হিসেবে নেওয়া যায়।(আনিছুর স্যার)
****************
আনিছুর ভাইয়া বা আনিছুর স্যারের সাথে দেখা করে ফারহান তোপসে ও প্রধানমন্ত্রী মফিজুল গেলেন সিয়ামকে গ্রেফতার করতে।
আর যাওয়ার সময় সাথে ডা. রুবাইয়া আপুর বাসা থেকে পুলিশ বাহিনীর প্রধান তাহিরা আপুকেও নিয়ে নিলেন।
****************
মৃতব্যাক্তি সিয়ামের বাসায়.......
- সিয়াম! পালানোর চেষ্টা করো না। আমরা তোমাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছি। এই মুহূর্তে আত্মসমর্পণ করো। নয়তো আমরা জোর খাটাতে বাধ্য হব।(তাহিরা আপু)
-- আমি কোনো খারাপ কাজ করিনি। আমাকে ধরে নেবেন না।(সিয়াম দ্যা হ্যাকার)
- আশ্চর্য! অপরাধ করে তা স্বীকার করছো না! পাঁচ পর্যন্ত গুনব। এর মধ্যে আত্মসমর্পণ কর।
-- আমি করবো না।
- এক....
-- প্লিজ বোঝার চেষ্টা করুন। আমি কোনো খারাপ কাজ....
- যা বলার, তা বিচারককে বোলো। দুই....
-- আমি আসলে মানুষকে সত্যি.....
- তিন....
-- আচ্ছা আচ্ছা। আমি আত্মসমর্পণ করছি। কিন্তু আমি কোনো অপরাধ করিনি।
- ওকে গ্রেফতার কর।(তাহিরা আপু একজন পুলিশকে আদেশ দিলেন)
***********
৪
সিয়ামকে ধরাটা খুব সহজ ছিল। এতোটা সহজ হবে তা অনেকে কল্পনাই করতে পারেনি।
নিজেকে সে বারবার নির্দোষ বলে যাচ্ছে। ডা. রেহনুমা আহমেদ এই মত দিয়েছেন যে সিয়াম মানসিক ভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ।
সিয়ামের স্টেটমেন্ট অনুযায়ী:
আমি সিয়াম দ্যা ডেডম্যান। আমি একজন হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার। আমি সবসময় ভালোর জন্যই হ্যাকিং করি। বিভিন্ন গুপ্তচরদের গোপন বার্তা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে জেনে নিয়ে রাজার গোয়েন্দা বিভাগে ছন্দ পরিচয়ে পাঠিয়ে দেই। এভাবে আমি জিজেবাসীদের অনেক বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করি। আমি কখনো অন্যায় কাজে হ্যাকিং করিনি।
রানীর নাম জানা সব মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে।
আমাদের সংবিধানে উল্লেখ করা আছে যে রাজার কোনো কাজই গোপন থাকতে পারবে না। একমাত্র যদি তাতে জিজেবাসীর বিপদের আশঙ্কা থাকে তবেই তা গোপন রাখা যাবে।
রানীর নাম প্রকাশে তো জিজেবাসীর বিপদের কোনো আশঙ্কা নেই। তাই আমি রানীর নাম জানার জন্যই রাজার ফেসবুক আইডি হ্যাক করেছি।
মানছি যে আমি হ্যাকিং করে একটা বড় অপরাধ করেছি। তাছাড়া আমি অনেক টাকাও দাবি করেছি। আমি জানতাম যে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী রাজার পক্ষে এতো টাকা দেওয়া কখনোই সম্ভব না। তাই আমি এই দাবি করেছি। আমার টাকার কোনো প্রয়োজন নেই।
আমি আবারো বলছি, আমি কোনো অন্যায় করিনি। আমার বক্তব্য আমি শেষ করছি।
****************
সিয়ামের বক্তব্যটি প্রধান বিচারপতি সুবর্ণা আক্তার ঝুমুর অনেকবার পড়লেন। শেষে সিয়ামকে মাত্র এক সপ্তাহের জন্য গরুর গোবর পরিষ্কারের শাস্তি দিলেন। এবং শাস্তি শেষে সিয়ামকে আইটি বিশেষজ্ঞ জনাব আনিছুর রহমান লিখন সাহেবের অধিনে "জিজে বিশ্ববিদ্যালয়"এ কাজের নির্দেশ দিলেন।
তার মতে,"সিয়াম যা বলেছে তা সম্পূর্ণ সঠিক। রানীর নাম এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় যে জিজেবাসীর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই আমি রাজাকে নির্দেশ দিচ্ছি, সংবিধানের ৫৭ ধারা অনুযায়ী রানীর নাম প্রকাশ করতে। সিয়ামকে শুধু হ্যাকিং করার অপরাধেই এক সপ্তাহের জন্য গরুর গোবর পরিষ্কার করার শাস্তি দেওয়া হচ্ছে সংবিধানের অপরাধীর শাস্তির ৭৩৪ ধারা অনুযায়ী।"
সিয়াম এই শাস্তিতে মোটেই দুঃখী নয়। কারণ জিজেবাসীদের কাছে কোনো কাজই অসম্মানের নয়। এই শাস্তি রাখার একমাত্র কারণ হচ্ছে অপরাধীদের মানসিক উন্নতি ঘটানো।
জনাব সাঈদ আমীন খুব বিচক্ষণ একজন মানুষ ছিলেন। তাই তিনি শারিরীক শাস্তির বদলে বিভিন্ন কাজ করাকে শাস্তি হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
****************
গল্পের ঝুড়ির স্বাধীনতা দিবসে রাজা তার রানীর নাম প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জিজেবাসীদের আর মাত্র কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে। এরপর তারা তাদের রানীর নাম জানতে পারবে।
আর বুদ্ধি খাটানোর জন্য ফারহান তোপসেকে তিনি "সন্তু" উপাধি দিলেন! এতে ফারহান সন্তু তোপসে খুবই খুশি।
এদিকে রুবাইয়া আপু একটা পার্টি দিলেন মফিজুলের জন্য। বেচারা সেদিন চা না খেয়েই চলে গিয়েছে এইজন্য। পার্টিতে স্পেশাল কাঁঠালের চাও তৈরি করা হয়েছে।
এটা "প্রত্যাশা" ব্র্যান্ডের নতুন ফ্লেভারের চা।
পার্টিতে শুধু সেদিনের জিজেদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া পার্টি, তাই এতো কম মানুষদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।
- কিরে, তুই না বলেছিলি যে ট্রিট দিবি।(সুস্মিতা)
-- তুই আমার মুখ থেকে ট্রিট শব্দটা শুনেছিস?(প্রধান কিংবা অপ্রধানমন্ত্রী মফিজুল)
- হ্যাঁ! তুই নিজেই তো বলেছিলি ঐদিন।
-- তুই জানিস আইনস্টাইন এসম্পর্কে কি বলে গিয়েছেন?
- না! কী বলেছেন?
-- আইনস্টাইন বলেছেন যে শোনা কথায় বিশ্বাস করতে নেই।
- তো? এটার সাথে ওটার সম্পর্ক কী?
-- সম্পর্ক আছে। তুই বুঝতে পারবি না।
- না বুঝতে পারলে নাই। বুঝিয়ে বল।
-- দেখ তুই আমার মুখে ট্রিটের কথা শুনেছিস। আর শোনা কথা বিশ্বাস করতে নাই। মানে তুই আমার কথা বিশ্বাস করতে পারবি না!(অতি চালাক প্রধানমন্ত্রী)
- মফিইইই!(রাগি মেয়ে সুস্মিতা)
মফিজুল আর সুস্মিতা ট্রিট নিয়ে ঝগড়া শুরু করে দিল। বাকিরা তাদের ঝগড়া দেখছে আর মিটিমিটি হাসছে। কারণ সবাই জানে যে ওরা কত ভালো বন্ধু।
বন্ধুরাই তো ঝগড়া করে। তাইনা?
****************
- তাপ্পর! আপুনি তাপ্পর!
-- তারপর আরকি! সিয়াম দ্যা ডেডম্যানকে রাজা হোয়াইট টাইগার উপাধি দিলেন। সিয়ামকে এখন সবাই সিয়াম দ্যা হোয়াইট টাইগার বলে ডাকে।
- রানীর নামতো বললে না।
-- রানীর নাম হলো রানী!
- মানে?
-- মানে, রানীর নাম হলো রানী। কেউ বুঝতেই পারেনি! রাজা যখন এই কথা বললেন তখন সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিল। তারা জানতেই পারেনি যে রানীর নাম গোপন রাখা হলেও আসলে গোপন কখনো ছিলই না!
- এরপর সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করছিল। তাইনা আপুনি?
-- হ্যাঁ! আপিমনি। এরপর সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করছিল। আর আজকের গল্প এখানেই শেষ! এবার ঘুমিয়ে পড়ো।
- আরেকটা গল্প বলোনা! প্লিইইইজ। আর মাত্র একটা। ছোট একটা।
-- আচ্ছা শুধু একটাই। ঠিক আছে?
- লক্ষী আপুনি!
-- এটাও অনেক আগের কথা। তখন সময় রাজা নেপোলিয়নের। রাজা একদিন..........
******************সমাপ্ত*******************
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
উৎসর্গ– সাঈদ আমীন স্যারসহ সকল গল্পের ঝুরিয়ানকে।
আমার কথা– জিজেবাসীদের নিয়ে সবাই লিখছেন। আমি কেন বাদ যাবো? আমিও লিখলাম। তবে আমি যাকে যে চরিত্রে কল্পনা করেছি তা আমার নিজের কল্পনা এবং সেভাবেই গল্পে উপস্থাপন করেছি। এর সাথে বাস্তবতার হয়তো কোন সম্পর্ক নেই। কেউ যেন এটাকে তাকে হেয় করছি বলে মনে না করেন। তবে বাস্তবতার খানিকটা তুলে এনেছি।
আরেকটা কথা– ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে এই প্রেক্ষাপটে আরও গল্প লিখবো। তখন অন্যান্য গল্পের ঝুড়িয়ানরা বা জিজেরা আসবেন। এক গল্পে সবাইকে আনা সম্ভব নয়। এই গল্পে যারা আছেন তারা যদি নিজের চরিত্র পাল্টাতে চান তবে আমাকে জানাবেন। মেসেজ করে জানালেই ভালো।
গল্পের বিষয়ে– রূপকথার গল্পের মতো করে লিখতে চেষ্টা করেছি। জানিনা কতটুকু সফল হয়েছি।
কপিরাইট– প্রিয় কপিবাজ! আপনি আমার গল্পগুলো নিজের নামেই আমাকে প্রাপ্য স্বত্ব বা ক্রেডিট না দিয়েই প্রকাশ করুন। আমার কোনো অভিযোগ নেই আর থাকবেও না। তবে যদি আপনি দাবী করেন যে এটা সম্পূর্ন আপনার নিজেরই লেখা তো মনে রাখবেন (স্রষ্টায় যদি বিশ্বাসী হন) মৃত্যুর পর সব কাজের হিসেব দিতে হবে। তাই সাবধান!
খুব বড় হয়ে গিয়েছে। তবে কষ্ট করে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
আল্লাহ হাফেজ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now