বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাবু পরিবার

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান স্নিগ্ধা আফসানা রোশনী (০ পয়েন্ট)

X বাবু পরিবার স্কুলে যাওয়ার জন্য মা ঘুম থেকে ডেকে না তুললেও নিজে নিজে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল শাফি।স্কুলের জন্য মা আজকাল ডাকেনও না কারণ স্কুল বন্ধ।তাও অনেকদিনের কথা।দুইমাসের বেশিসময় ধরে কেউ স্কুলে যায় না।স্কুলে যেতে পারে না বলে শাফির মন খারাপ হয়,স্কুলে বন্ধুরা থাকে।পড়াশুনা করতেও ভাল লাগে।তবে শাফির বড় আপা কলেজে পড়ে,সেও যায় না।স্কুল-কলেজ সব বন্ধ।শাফির বাবাও বাসায়।কিন্তু তিনি বাসায় বসে অফিসের কাজ করেন।রাস্তাঘাটে লোকজন কম,কেউ বাসা থেকে বের হচ্ছে না কাজ ছাড়া।কেউ কারো বাসায় বেড়াতেও আসেনা। বাসায় থাকতেও শাফির ভালো লাগে।সবাই একসাথে বাসায় গল্প করতে করতে নাস্তা খায়,দাদু আর বাবা একটু পর পর টিভিতে খবর দেখেন আর পৃথিবীর অসুখ নিয়ে কথা বলেন।কত দেশে কত মানুষ সারাক্ষণ মারা যাচ্ছে,তাদের কত কষ্ট হচ্ছে এগুলো ভেবে ভেবে শাফির মন খারাপ হয়।মাও আঁচলে হাত মুছতে মুছতে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে আসেন।জিজ্ঞেস করেন আজ কতজন!তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে রান্নাঘরে চলে যান। এই লকডাউনে ( লকডাউন শব্দটা শাফি খবর দেখে আর সবার মুখে শুনে জেনেছে,এখনো অর্থ জানে না ভাল করে,একদিন কাউকে জিজ্ঞেস করে জেনে নেবে) মাকে যে আন্টি বাসার কাজে সাহায্য করত সেও আসতে পারেনা।তবে মা মাঝেমাঝে তাকে ডেকে আনে ফোন করে তারপর টাকা দেয়।এখন তো সবার কাজ বন্ধ কিন্তু টাকা না দিলে খাবার কিভাবে পাবে?ক্ষুধা লাগলে পেটব্যথা করে,মাঝেমাঝে শাফির টিফিন মনি খেয়ে যায়।তখন শাফির পেটে ইঁদুর না হলে তেলাপোকা দৌড়ায়।আর অনেক অনেকদিন খাবার না পেলে কত না জানি কষ্ট হয় মানুষের। সকালে ঘুম থেকে উঠে শাফি মার সাথে গাছে পানি দেয়।মার বাগানের শখ।তাদের বাসাটা বেশি বড় না।বারান্দাগুলোও ছোট তাই মা বেশি গাছ লাগাতে পারেনা।তবু তাদের পুরো ঘরেই গাছ আর গাছ।গাছ মানেই সবুজ।গাছের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলে চোখ ঠান্ডা হয়ে যায়।বাবা বলার পর শাফি গাছের দিকে তাকিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছে।কেমন আরাম আরাম লাগে। গাছে পানি দিয়ে আপার সাথে বিড়ালদের খাবার দেয়।আপার অনেকগুলো বিড়াল।মানুষের যেমন নাম থাকে বিড়ালদেরও সুন্দর নাম থাকে।আপা ওদের নাম ধরে ডাকলেই ওরা যে যেখানে থাকে ছুটে আসে।আগে শাফির একটু ভয় ভয় লাগল।বাবা বললেন- ভয় কি রে ব্যাটা,কোলে নে,দ্যাখ ওরা কত নরম।শাফি আঙ্গুল বুলিয়ে দেখেছে-নরম। মাঝেমাঝে স্কুলের মিস ফোন করেন।মিসের নাম আফা মিস।তিনি খুব সুন্দর করে কথা বলেন।শাফিকে ডাকেন শাফিবাবু।শাফিকে বাবু মা ও ডাকেন।আফা মিসও মায়ের মত সুন্দর করে বলেন- শাফিবাবু তুমি কি আমাদের ছোট নদী কবিতাটা পড়েছ?শাফির পুরো কবিতাটা মুখস্থ। সে মিসকে ফোনে আরো ছড়া শুনায়,তারপর মিস অনেক আদর আদর গলায় উপদেশ দেন- বাবু বাইরে যাবে না,বারবার হাত ধোবে,চোখে-মুখে হাত দেবে না বাইরের কিছু ধরার পরে,অবশ্যই আগে হাত ধুয়ে নেবে। শাফি সবার কথাই শোনে। আপা তাকে নিয়ে বিকেলে ছাদে ঘুরতে যায়,তারা ঘুড়ি উড়ায়।ঘুড়ি বানিয়ে দিয়েছেন দাদু।দাদু কাগজ দিয়ে খুব সুন্দর সুন্দর জিনিস বানাতে পারেন।পাখি,ফুল,প্লেন।কাগজ দিয়ে এইসব বানানোকে বলে ওরিগ্যামী। এইভাবে দিন কেটে যেতে থাকে।বাসার সবাই একটু একটু যেন অস্থির হয়ে যায়।মা কাজ করে হাঁপিয়ে ওঠেন।তখন বাবা,আপা মাকে সাহায্য করেন।দাদুর শরীর খারাপ হয় কিন্তু ডাক্তারের কাছে যাওয়া যায় না।সবার সেই হাসিখুশি ভাবটা কই যেন চলে গেল।শাফিরও স্কুলে যেতে ইচ্ছা করে,বাইরে কুকুরের ছানাগুলোর সাথে খেলতে ইচ্ছা করে।ওরা ছোট ছিল,এইটুকু হাতের মধ্যে নেওয়া যায় এমন।এতদিনে ওরা অনেক বড় হয়ে গেছে নিশ্চয়ই।ওদের কে প্রতিদিন বিকেলে শাফি আর আফা বিস্কুট খাওয়াতো।এখন বারান্দা দিয়ে টোস্ট,বিস্কুট এসব দেয়।মাঝেমাঝে নিচে নেমে মা ভাত দিয়ে আসেন কিন্তু সবাইকে দেখা যায়না।ওরা কই গেল,কি খায় এখন ভেবে শাফির খুব মন খারাপ লাগে। বাবাকেও এখন অফিসে যেতে হয়,মা বাবার জন্য হাতের গ্লাভস,মুখের মাস্ক রেডি করে দেন।বাবা সেগুলো পরে,চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে বাইরে যান।যেন অন্য কারো হাচি-কাশি গায়ে-মুখে না লাগে। এক বিকেলে মা টেলিফোন কানে নিয়ে অনেকক্ষণ কার সাথে যেন কথা বললেন।তারপর খুব মন খারাপ করে সোফায় বসে রইলেন।বাবা অফিস থেকে ফিরে এলে মা বললেন- ‘বাবুর ক্লাস টিচার আভা ম্যাডাম খুব অসুস্থ।তিনি হাসপাতালে।কি হয় বলা যায় না।‘ শাফির এত মন খারাপ লাগল যা বলার না।মিস কতদিন ফোন করেন না।করবেন কি করে মিসও যে আরো অনেক অনেক মানুষের মত সেই ছোট্ট জীবাণুর জন্য অসুস্থ।সেই রোগের নাম করোনা।কারো এই রোগ হলে সবাই বলে –করোনা পজিটিভ।শাফি সারাক্ষণ টিভিতে শোনে এই নাম।এই অসুখ হলে জ্বর হয়,কাশি হয়।আরো অনেক কিছু হয়।কেউ সুস্থ হন কেউ আল্লাহর কাছে চলে যান।এইগুলো দাদু শাফিকে বলেছেন।শাফি এখন বড় হয়েছে সব তাকে জানতে হবে। রাতে দাদুর সাথে শাফি নামাজ পড়তে দাড়ায়।বাসায় তার জন্য ছোট্ট লাল জায়নামাজ আছে।নানাভাই হজ্ব করতে গিয়ে তার জন্য নিয়ে এসেছেন।নানাও কত আদর করেন,কতদিন তারা নানাবাসায় যায় না। নামাজে দাদু দু’হাত তুলে মোনাজাত করেন।অনেক কিছু বলেন আল্লাহকে।সব শাফি বোঝেও না।কিন্তু দাদুর সাথে সাথে তারও কান্না চলে আসে।কাদতে কাঁদতেই আল্লাহকে বলে সব ঠিক করে দিতে।সবাইকে সুস্থ করে দিতে,সবাই যেন খেতে পায়,ভাল থাকে। মা নামাজ শেষ করে এসে শাফিকে কোলে করে নিয়ে যান ঘরে।চোখ মুছিয়ে দেন।মায়ের বুকে মিশে শাফির মনে হয় কাল ভোরে উঠেই যেন দেখবে সব ঠিক হয়ে গেছে,সবাই সুস্থ হয়ে গেছে।পৃথিবীর অসুখ সেরে গেছে।বাবু


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now