বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অভিশাপ
পর্ব : ২
---------------------------------
সকাল সকাল নীলা ব্যাগ গুছিয়ে ফেলল। আমি জানতে চাইলাম "কই যাচ্ছ?"
সে হাসল। তার হাসির অর্থ আমি বুঝলাম না। বেশীরভাগ সময়ই আমি তার হাসির অর্থ বুঝি না। আজও বুঝলাম না। হাসিমাখা মুখেই সে মা'য়ের পায়ে হাত দিয়ে ছালাম করল। মা অবাক হয়ে বললেন, "তোমার কী হয়েছে বউমা?"
নীলা ফিক করে হেসে বলল, "আমার আবার কী হবে? আমি বাড়িতে যাচ্ছি। নাছিমা আপার শরীরটা ভালো না। তাকে দেখে আসব।"
নাছিমা নীলার বড় বোন। আমি তাকে বিয়ের সময় আর বিয়ের পর ক'বার দেখেছি ঠিক মনে নেই। নীলার সাথেও তার কথা হত কম। আজ তার শরীর খারাপের অযুহাতে হুট করে সে চলে যাচ্ছে বিষয়টা আমার কাছে খটকা লাগল।
মা বললেন, "ওমা তুমি একা একা যাবে নাকি? সিয়াম কে সাথে করে নিয়ে যাও।"
"একা যাচ্ছি কই মা? নুহাকে সাথে নিচ্ছি। বাসস্ট্যান্ডে নামলেই বড় ভাইজান থাকবেন। আমার কোনো সমস্যা হবে না। তাছাড়া সিয়ামের অফিস আছে।"
মা বললেন, "ও।"
কিন্তু মায়ের চোখ থেকে অবাক হওয়ার ভাব দূর হল না। আমি নীলাকে বললাম, "তোমাকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত এগিয়ে দেই?"
সে গম্ভীরভাবে বলল, "দাও।"
আমি নীলা আর নুহাকে নিয়ে রিকশায় বসলাম। নুহা কিছুক্ষণ পরপর ঘুমে নীলার কোলে ঢোলে পড়ছে। আমি বললাম, "মেয়েকে আমার কাছে দাও।"
নীলা বিনাবাক্য নুহাকে আমার কোলে দিল। তারপর সে থেমে থেমে বলল, "তোমাকে যদি আমি কিছু কথা বলি তুমি বিশ্বাস করবে?"
আমি বললাম, "কেন করব না?"
"কারন কথাগুলো বিশ্বাস করার মত না।"
"বিয়ের পর থেকে এমন কখনো কী হয়েছে যে আমি তোমার কথা বিশ্বাস করিনি?"
"হয়নি তবে আজ হতে পারে।"
"বলো কী কথা?"
"আমার শ্বশুর মানে তোমার বাবা যাকে শুধু আমি ছবির এ্যালবামে দেখেছি। বেশীরভাগ ছবিতে উনি সাদা পাঞ্জাবী পাজামা পড়া থাকেন।"
আমি একটু একটু করে বিস্মিত হতে শুরু করলাম। বললাম, "বাবার কথা আসছে কেন?"
নীলা বলল, "গত দু’মাস ধরে আমি সেই সাদা পোশাক পড়া অবস্থায় তাকে দেখতে পাই। বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় তিনি ঘাপটি মেরে বসে থাকেন। কখনো আলানার পিছনে আবার কখনো রান্নাঘরের কেবিনেটের মধ্যে। আমি প্রথম দিকে খুব ভয় পাই। চোখের ভুল ভেবে এড়িয়ে যাই। মনে মনে ভাবি, কী হচ্ছে আমার সাথে? কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম আসলে আমি সত্যিই তাকে দেখছি। তিনি আমার দিকে হাসিহাসি মুখ করে তাকিয়ে থাকেন। কিন্তু আমার ভয়ের মাত্রা অতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যায় যখন তিনি আমার সাথে কথা বলা শুরু করলেন।"
আমি এবার পুরোপুরি বিস্মিত হয়ে বললাম, "তিনি তোমার সাথে কথাও বলেন?"
নীলা বলল, "হ্যাঁ একদিন ছাদে কাপড় শুকাতে দিচ্ছিলাম। তিনি পিছন থেকে আমাকে বললেন, 'বউ মা তোমার হলুদ শাড়ীটা থেকে তো দাগ উঠেনি।' আমি তাকে দেখে ফিট হয়ে পড়ে গেলাম। তিনি আমার চোখেমুখে বরফ দিয়ে জাগিয়ে তুললেন।"
"বরফ দিয়ে কেন?"
"ঠিক বরফ বললে ভুল হবে। একটা আইসক্রিম আমার চোখে মুখে লেপ্টে দিতেই আমার হুঁশ ফিরল। তখন তিনি হাসিমাখা মুখে বললেন, এই আইসক্রিমটার নাম জানো? "লেনুভেনু"। বিদেশী আইসক্রিম।- কী যে ভয় পেলাম আমি তুমি বিশ্বাস করতে পারবে না।"
"তারপর?"
"তারপর আর কী। ভূত দু-একবার দেখলে মানুষ ভয় পায়। সারাক্ষণ পাশে ঘুরঘুর করলে তো আর ভয় লাগে না। আমারও ভয় কেটে গেল। আমিও তার মতন হাসিমুখে তার সাথে কথা বলতে শুরু করলাম।
আমি বললাম, " ভালো। নাছিমা আপার অসুখের খবর কখন পেলে?"
নীলা বলল, "তুমি আমার কথা বিশ্বাস করছ না তাই না? তোমার বাবা অবশ্য বলেছেন, তুমি আমার কথা বিশ্বাস করবে। কেন বলেছেন বুঝতে পারছি না। আমি এই নিয়ে তার সাথে তিনশ টাকার বাজি ধরেছি।"
আমি শান্তভাবে বললাম, "তুমি বাজিতে হেরে গেলে। আমি তোমার কথা বিশ্বাস করেছি। খামোখা তোমার তিনশ টাকা খরচ হয়ে গেল।"
নুহা এখন একবার আমার মুখের দিকে আরেকবার নীলার মুখের দিকে তাকাচ্ছে। তার ঘুম হয়তো পুরোপুরি কেটে গেছে। সে ভয়ার্ত চেহারায় বলল, "আব্বু- আম্মু আমরা কোথায় যাচ্ছি?"
নীলা বলল, "কাল রাতে যখন নুহা কাঁদছিল। ঘুম থেকে উঠে তোমাকে খুঁজতে যেয়ে দেখি তোমার আর পায়েল আপার মাঝখানে তোমার বাবা বসে আছেন। তোমাদের কথাবার্তায় তিনি খুবই মজা পাচ্ছিলেন।"
"বলো কী?"
"পায়েল আপা যখন বললেন, আমরা ভাইবোনরা কী বলি চুপিচুপি শুনছিলে বুঝি? তখন আমি তাকে কিছু কঠিন কথা বলতে যাচ্ছিলাম। বাবা নিষেধ করায় চুপ হয়ে গেছি।"
নুহা এরই মাঝে আবার বলল, "আমরা কোথায় যাচ্ছি?"
আমি এবং নীলা দুজনেই একসাথে বললাম,"তোমার নানু বাড়ি।"
ঠিক তখনই একটা ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনের দিক থেকে আমাদের ধাক্কা দিল। আমি নুহাকে নিয়েই ছিটকে পড়লাম। কাছের ডাষ্টবিনে কতগুলো কাক একসঙ্গে কাঁ কাঁ করে উঠল। লোকজনের ছুটাছুটি বাড়ছে। নীলা কোনদিকে ছিটকে পড়েছে কে জানে? শরীরে গরম রক্তের অনুভূতি হচ্ছে। চারদিকে ঝাপসা চোখে শুধু লাল রং দেখলাম। এই রক্ত আমার নাকি নুহার বোঝার আগেই আমি জ্ঞান হারালাম।
যখন আমার জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম চারদিকে সাদা পর্দা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। চোখের সামনে হালকা লাইটের আলো অস্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে। আমি মা'কে ডাকার চেষ্টা করলাম। মাথা প্রচণ্ড ভারী হয়ে আছে। হাত পা অবশ হয়ে আছে। আযানের ধ্বনি কানে আসছে। এখন কোন সময়ের আযান দিচ্ছে বুঝার চেষ্টা করছি। কিন্তু বুঝতে পারলাম না।
আমি স্বাভাবিক ভঙ্গিতে উঠে বসলাম। সাথে সাথে এলিসা আমার কেবিনে ঢুকে বলল, "আল্লাহ্! তোমার জ্ঞান ফিরেছে কখন? একদম উঠবে না। তুমি কী মনে করে উঠে বসলে?"
আমার দূর্বল শরীর নিয়ে বেশীক্ষণ বসে থাকতে পারলাম না। আবার বিছানায় শরীর এলিয়ে দিলাম। এলিসা আমার মাথার কাছে এসে বলল, "তুমি একটু অপেক্ষা করো আমি এখুনি ডাক্তার ডেকে আনছি।"
আমি অনেক কষ্টে শুধু বললাম, "হুম।"
মনে করার চেষ্টা করলাম কীভাবে আমি হাসপাতালে এসেছি? মা, পায়েল আপু, নীলা, নুহা সবাইকে বাদ দিয়ে এলিসা কেন হাসপাতালে? কী হয়েছিল আমার?
এক এক করে সেই ভয়াবহ এক্সিডেন্টের কথা মনে পড়ল। সাথে সাথে গলা শুকিয়ে এল। আমি যদি গুরুতর আহত হই তাহলে নীলারও আহত হওয়ার কথা। আমার বাচ্চা মেয়েটা কেমন আছে? ভাবতেই মাথা ঝিমঝিম করছে।
নীলা এবং নুহা ছাড়া ডাক্তারের সাথে একে একে সবাই তড়িঘড়ি করে কেবিনে ঢুকলেন। সবার মুখ যেহেতু হাসিহাসি ধরে নিলাম আমার স্ত্রী এবং মেয়ে সুস্থ আছে। ডাক্তার আমাকে খুঁটিয়ে খাটিয়ে দেখে এলিসাকে বললেন, 'আপনি একটু আমার সাথে আসুন?' মনে হচ্ছে তারা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন। এ পর্যায়ে মা মরা কান্না জুড়ে দিয়েছেন। পায়েল আপুর চোখে পানি টলমল করছে। অবাক করার বিষয় তার পাশে জহির ভাই শক্ত হয়ে দাঁড়ানো। আমি আশেপাশে তাকিয়ে ঝিনুকের খোঁজ করলাম। তারপর বললাম, "মা নীলা, নুহা ওরা কেমন আছে? "
মা আরও জোড়ালো ভাবে কাঁদতে লাগলেন। মুখে শাড়ীর আঁচল গুজে তিনি কেবিন থেকে বের হয়ে গেলেন। পায়েল আপু আমার পাশে বসতে বসতে বললেন, "তোর কী কিছু মনে পড়ে?"
আমি বললাম, "কী মনে পড়ার কথা বলছ? এক্সিডেন্টের বিষয়?"
"শুধু এক্সিডেন্ট না তার পরের দিনগুলো কি মনে পড়ে? মাঝে মাঝে তোর জ্ঞান ফিরতো আবার কোমায় চলে যেতি।"
আমি বললাম, "না মনে পড়ে না। কতদিন হয়েছে আমি এখানে? দয়া করে কী তুমি বলবে আমার স্ত্রী এবং মেয়ে কেমন আছে?"
আপু জহির ভাইকে বললেন, "তুমি একটু বাইরে যাও। আমি আমার ভাইয়ের সাথে কিছুসময় একা থাকি।"
জহির ভাই নিশ্চুপ প্রস্থান করলেন। আপু বললেন, "তোর এক্সিডেন্ট হয়েছিল কবে সেটা মনে আছে?"
আমি বললাম, "জুন মাসের তেরো তারিখ।"
আপু বললেন, "আজ মে মাসের একুশ তারিখ।"
"আমি ঠিক বুঝলাম না আপু তুমি কী বলছ?"
"তোর এক্সিডেন্ট হয়েছিল ২০১৮ সালের জুন মাসের তেরো তারিখ। আজ ২০১৯ সালের মে মাসের একুশ তারিখ। এক বছর ধরে তুই হাসপাতালে কোমায় আছিস বুঝতে পারছিস?"
আমি আপুর দিকে কিছুক্ষণ বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইলাম।
সে কাঁপা গলায় বললেন, "যত তাড়াতাড়ি সবকিছু মেনে নিতে পারবি ততই তোর জন্য ভালো। এক্সিডেন্টে নীলা আর নুহা মারা গেছে। আল্লাহ তাদের জান্নাত নসিব করুক।"- এবার আপু অন্যদিকে তাকাল।
আমি ঠিক আগের মতই আপুর দিকে তাকিয়ে রইলাম। কিছুসময় সবকিছু গল্পের মতন মনে হল। আমি যন্ত্রের মত বললাম, " আমিন।"
"আমিন" বলার সময় আমার খুব একটা কষ্ট অনুভূতি হল না। বাবার মৃত্যুর সময় যেমন সবকিছু সহজ মনে হয়েছিল এবারও ঠিক তেমনই হল। আপু বললেন, "মা ভেবে রেখেছেন তোর জ্ঞান ফিরলে বিষয়টা কিছুদিন গোপন করে রাখবেন। কিন্তু আমি সবসময় ভাবতাম যেদিন তোর জ্ঞান ফিরবে ঠিক সেদিনই আমি সব তোকে বলব। সব ধাক্কা থেকে একসাথে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠা ভালো। আমার স্বভাব তো তুই জানিস। জানিস না?"
আমি নির্বিকার ভাবে বললাম, "জানি।"
আপু বললেন, "তুই কাঁদতে চাইলে কাঁদতে পারিস।"
"আমার এখন কান্না আসছে না।"
"তোর দুলাভাইয়ের সাথে মান-অভিমান সব ঠিক হয়ে গেছে। আমি এখন শ্বশুর বাড়িতে থাকি। নীলা আমাকে কতবার বুঝাতো শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার জন্য। আমি ওকে যা তা বলেছি। ও আমাকে কখনও মাফ করবে না।"
আপু এবার হাউমাউ করে কাঁদছেন। আমি বললাম, "আপু বাইরে যেয়ে কাঁদো। কাউকে ভিতরে আসতে দিও না। আমি কিছুসময় একা থাকতে চাই।"
আমি একা থাকতে পারলাম না। কিছুক্ষণ পরপর মা কেবিনের পর্দা ফাঁক করে উঁকি দিতে লাগলেন। এলিসা ভিতরে চলে এল। থমথমে গলায় বলল, "তুমি কেমন আছ?"
আমি বললাম, "ভালো।"
"আগামীকাল তোমাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া যাবে।"
"ও।"
"কত রাত তোমার সুস্থতার জন্য দোয়া করেছি।"
"কেন করেছ?"
এলিসা কৌতূহলী চোখে বলল, "দোয়া মানুষ কেন করে?"
"এক একজন মানুষ এক এক কারনে করে।"
"তুমি কিছু জানতে চাও না?"
"অতীতে যা ঘটেছে সবকিছু তো আপু বলে গেছেন। তুমি এখানে কেন? কী করছ? এই সম্পর্কে কিছু জানতে চাই না।"
এলিসা আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে চলে গেল। ঝিনুক স্কুল থেকে সোজা হাসপাতালে আমাকে দেখতে এসে বলল, "মামা তোমার মনে আছে আমার কথা?"
আমি বললাম, "কেন থাকবে না?"
"আমি ভেবেছিলাম তুমি হাসপাতাল থেকে আর ফিরতে পারবে না।"
আপু সাথে সাথে ঝিনুককে ধমক দিয়ে বললেন, "একদম বাবার মত হয়েছিস। শুধু শুধু আজেবাজে কথা বলবি না।"
আমি ঝিনুকের মাথায় হাত রেখে বললাম, "তুমি অনেক বড় হয়ে গেছ।"
সন্ধ্যা থেকে আমার অস্থিরতা বাড়ছে। হাসপাতালের বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করে আবার কেবিনে এসে শুয়ে পড়লাম। মাথার উপর সিলিং ফ্যান শাঁ শাঁ করে ঘুরছে। তারপরেও কপালের বিন্দু বিন্দু ঘামের জল গড়িয়ে পড়ছে। আমি চোখ বন্ধ করলাম। ঠিক তখনই কপালে নরম হাত অনুভব করলাম। নীলা বলল, "এক বছর তুমি আমাকে ছেড়ে একা একা আছ। তোমার কী আমার কথা মনে পড়ে না।"
আমি চমকে উঠলাম। চোখ খুলে দেখলাম, নীলা হাসিমাখা মুখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি বললাম, "তুমি কখন এলে?"
সে বলল, "তুমি এত মন খারাপ করে কেন আছ গো? কেন এত মন খারাপ করে আছ? তুমি তো সেই ছোটবেলা থেকেই মৃত ব্যক্তির সাথে কথা বলার অদ্ভুত ক্ষমতা নিয়ে এসেছ। আমাকে চাইলেই তুমি ডাকতে পারো। কাছেও পেতে পারো। তোমার তো মন খারাপ করার কিছু নেই।"
আমি মুচকি হেসে বললাম, "নুহা কোথায়?"
নীলা বলল, "নুহা আসতে চাইলো না। কতবার তোমার কথা বললাম তারপরও রাজি হল না।"
আমি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, "তুমি কেমন আছ?"
নীলা বলল, "ভালো নেই। বিশ্বাস করো। এখানে একদম তোমায় ছেড়ে ভালো নেই। পৃথিবী থেকে চলে আসার পর বুঝতে পেরেছি তোমাকে আমি কত ভালোবাসি। তোমার কী মনে আছে আমরা একসাথে কতরাত বারান্দায় বসে চাঁদ দেখেছি? নদীর পাড়ে নৌকায় ঘুরেছি। ঝুম বৃষ্টিতে হাত ধরাধরি করে ছাদে দাঁড়িয়ে দু'জনে বৃষ্টিতে ভিজেছি।"
"সব মনে আছে। তুমি আমাকে ছেড়ে আর যেও না। সবসময় আমার পাশেপাশে থেকো।"
নীলা ছোট করে নিশ্বাস ছেড়ে বলল, "সেটা আর সম্ভব না গো, সেটা আর সম্ভব না। তোমার পরিবারের অভিশাপ আমার মধ্যেও পড়েছে।"
আমি ঘাড় ঘুরিয়ে বললাম, "কীসের অভিশাপ?"
মা কেবিনে ঢোকার সাথে সাথে নীলা পাশে সরে দাঁড়াল। আমি বললাম, "তুমি সরে দাঁড়ালে কেন? মা'তো আর তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন না।"
মা বললেন, "একা একা কার সাথে বিড়বিড় করছিস?"
আমি বললাম, "নীলার সাথে।"
মা তীক্ষ্ণ চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ পর ঢোক গিলে বললেন, "তুই এখনও পুরোপুরি সুস্থ না।"
★★সংগৃহীত★★
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now