বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন

বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

~ফটোগ্রাফার~

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ariya Ibnat (০ পয়েন্ট)



X সকালে পেপারের বিনোদন পেজে নিজের ছবি দেখে আঁতকে উঠলাম।গতকাল সারাদিন বৃষ্টিতে ভিজেছি,আম্মু আব্বু অফিসে থাকায় বাঁধা দেওয়ার ছিল না।এখন কোন শালা যে আমার বৃষ্টিতে ভেজার ছবি পেপারে ছাপাইলো??ওসব পরে ভাবা যাবে,আগে পেপারটা লুকাতে হবে।তাড়াতাড়ি করে পেপারটা বিছানার নিচে লুকিয়ে ফেললাম।আব্বু এসে পেপারের জন্য কয়েকদফা চিৎকার করে অফিসে চলে গেল।আম্মু যেতেই আমি বসলাম পেপার নিয়ে ।আমার ছবির সাথে হেডলাইন দেওয়া,"শ্রাবণধারায় শ্যামকন্যার বৃষ্টিবিলাস।"হেডলাইন পড়তে নিয়ে দাঁত ভাঙার মতো অবস্থা।বুঝতেছি না বিনোদন পৃষ্ঠায় আমার মতো একটা অসুন্দর মেয়ের ছবি কোন বেহুদা ফটোগ্রাফার ছাপাইলো।নিচে ছোট্ট করে একটা নাম লেখা আছে ফটোগ্রাফারের।নিয়ান আফরান।বেশ পছন্দ হলো আমার নামটা।তৎক্ষণাৎ পেপার রেখে ফোন হাতে নিলাম।ফেসবুকে নামটা লেখে সার্চ দিলাম।কি ভাগ্য আমার!!সার্চলিস্টের প্রথমেই পেয়ে গেলাম ফটোগ্রাফার নিয়ানকে।আইডিতে ঢুকে দেখি লাস্ট পোস্ট করা ছবিটা আমার যেটা আজকের পেপারে ছাপিয়েছে।নিজের ছবি রেখে আমি ফটোগ্রাফারের ছবি দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।প্রথম যা নজর কাড়ল,তা হলো তার নীলদৃষ্টি।মনে মনে নিজেকে বললাম,"ক্রাশ খেয়ে লাভ নাই মীরা!!!!এই ছেলেরে নিজের ক্রাশলিস্টে রাখার যোগ্যতাও তোর নাই।"একবালতি আফসোস নিয়ে প্রোফাইলটা দেখতে লাগলাম।লোকটা আমার চেয়ে বারো বছরের বড় তবুও ক্রাশ খাইছি!!কি দুর্ভাগ্য আমার!!!হঠাৎ খুব ইচ্ছে হলো লোকটার সাথে কথা বলব কিন্তু ভয় হলো লোকটা কেমন কে জানে।ভয়ে ভয়ে মেসেজ দিয়েই ফেললাম।ঠিকঠিক আড়াইঘণ্টা পর রিপ্লাই দিয়েই পেলাম,"আই ডোন্ট টক টু স্ট্রেঞ্জারস।"ভাইরে ভাই!!কি মানুষ।হাই বলেছিলাম,তার জন্যেও পরিচিত হওয়া লাগবে,এতটাই প্রবলেম তাহলে রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করলো কেন??মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল।সাথে সাথে আনফ্রেন্ড করে দিলাম।আনফ্রেন্ড করে মনে হলো,ভুল করে ফেলছি।আবার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিলাম।উনি একসেপ্ট না করে মেসেজ দিয়ে বললেন,"এই মেয়ে,মাথা খারাপ তোমার??আনফ্রেন্ড করে রিকোয়েস্ট দিচ্ছো কেন??"ছোট্ট একটা সরি পাঠিয়ে দিয়ে বললাম,"আর করবো না।"দ্বিগুণ বিরক্ত হয়ে বললেন,"তোমার কাছে সেটা জানতে চাইনি আমি।"প্রচন্ড রাগ হলো লোকটার প্রতি।মনে হচ্ছে একটা উস্টা মারি।ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ক্যান্সেল করে দিলাম।তবে কিছুতেই ভুলতে পারলাম না তার ঐ নীলদৃষ্টি।উঠতে,বসতে,খেতে,ঘুমাতে আমার শুধু ঐ নীল চোখজোড়াই মনে পড়ে।আজব প্যারায় পড়েছি,রোজ একবার করে ঐ নীল চোখজোড়া না দেখলে মন বিষণ্ণ হয়ে যায়।অবশেষে নিজের মনকে বুঝালাম,আমার বয়স সবে ১৬,এখন যা হচ্ছে আমার সাথে আবেগ ছাড়া কিছু না।কিন্তু আবেগ যে ভালোবাসার চেয়েও বেশি শক্তিশালী।আবেগ খারাপ বলেই মস্তিষ্কে থাকে আর ভুলে যাওয়ার ক্ষমতার বাইরে থাকে।যতই চেষ্টা করি কিন্তু ভুলতে পারিনা।চাইলেই পরিচয় দিতে পারতাম কিন্তু তার ক্যামেরাবন্দি শুধু একটা দৃশ্য হতে চাইনি।আবেগকে মস্তিষ্কে চেপেই ভুলে যেতে চাইলাম সবকিছু কিন্তু ভুলতে পারিনা।জানিনা আবেগে জড়িয়ে ছিলাম নাকি ভালোবাসার মায়ায়।প্রতিনিয়ত তার থেকে দূরত্ব বাড়াতে লাগলাম।ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিলাম।কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই ভেসে উঠতো তার চেহারা,ঘুমাতে পারতাম না।প্রায় দুমাস টানা ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়েছি তবুও সে স্মৃতির বাইরে যায়নি।একসময় পড়ালেখার চাপ বাড়লো।মেডিকেলের জন্য পরীক্ষা দিতে গিয়ে সারা পৃথিবী ভুলে গেলাম তবে তাকে ভুলতে পারলাম না। বেশ কয়েকবছর পর, মেডিকেল কমপ্লিট করলাম।বিয়ে ঠিক হলো এক ডক্টরের সাথে তবে ফটোগ্রাফার কে এখনো ভুলতে পারিনি।খুব আফসোস হলো এই ভেবে যে মনের কথাটা তাকে বলতেও পারলাম না।বিয়ের ঠিক পূর্বমুহূর্তে তাকে একবার দেখতে মন চাইলো।ক্ষণিকের জন্য একটা অ্যাকাউন্ট খুলে তার আইডিতে ঢুকলাম।আমার সেই ছবিটা আর সাথে কিছু লেখা,"বৃষ্টিবিলাসী শ্যামকন্যাকে আজও খুঁজে পেলাম না,ভালোবাসার কথাগুলো তাকে বলাও হলো না।খুব শীঘ্রই সমাপ্তি ঘটতে চলেছে এ জীবনের।প্রেমব্যধির সাথে সাথে মরণব্যধি ক্যান্সারটাও যে বাসা বেঁধেছে শরীরে।সর্বোচ্চ সময় দুমাস।আফসোস একটাই প্রেয়সীকে কখনো ভালোবাসা হবেনা।তার কোলে মাথা রেখে মৃত্যুকে উপলব্ধি করা হবেনা।"পোস্টটা পড়ে ধপ করে ফ্লোরে বসে পড়লাম।তারিখ চেক করলাম।দুবছর আগের তারিখ,শরীরটা অবশ হয়ে এলো।চোখজোড়া ঝাপসা হতে শুরু করল।নিজের উপর রাগ হতে লাগল যে কেন তার খোঁজ রাখলাম না।তার একটা দুর্ব্যবহারের জন্য কেন দূরে সরে গেলাম।আম্মু এসে আমাকে বাইরে নিয়ে এলো।বসিয়ে দিল বরের সামনে।কাজী সাহেব বারবার কবুল বলতে বলছেন কিন্তু তা আমার কান অবধি পৌঁছাচ্ছে না।চোখজোড়া বন্ধ হতে লাগল,ধীরে ধীরে চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসলো।তলিয়ে গেলাম ঘোর অন্ধকার ক্যানভাসে,যে ক্যানভাসে আমি আছি,বৃষ্টি আছে,ক্যামেরাও আছে কিন্তু ফটোগ্রাফার তো আর নেই। --সমাপ্ত #ফটোগ্রাফার #মিহি


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪২১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...