বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এভাবেই শুরু হক........

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মফিজুল (০ পয়েন্ট)

X মা মা দেখো,দেখো কত্ত কালো মানুষ!" ১, নীলিমার ৫ বছরের মেয়ে পুষ্পার মুখ থেকে এ রকম কথা শুনে অবাক হয়ে যান তিনি।তার মেয়ে এখনি মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ করতে শিখে গেছে।না,না এ রকম হতে দেয়া যায় না।"না মা এগুলো বলতে হয় না"তাহলে যাকে বলছো সে কষ্ট পাবে?কেন কষ্ট পাবে?আমি কি মিথ্যা বলেছি!তুমিই তো বল সত্য বলতে,তাহলে এখন এগুলো বলতে না করছো কেন আম্মু?নীলিমা,পুষ্পার প্রশ্নের জবাবে কি বলবে,বুঝতে পারছে না!তার মেয়ের কথাও তো ফেলে দেয়া যায় না।নীলিমা মনে,মনে ভাবতে লাগল না এভাবে না,তাকে সময় মত বুঝাতে হবে। "মানুষের মনে কষ্ট দেয়া একটা পাপের কাজ।"যেসব মানুষকে কষ্ট দিলে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে, সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। এ মানুষদের মধ্যে ৩ শ্রেণির মানুষকে কষ্ট দিলে কিংবা আঘাত করলে আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে, বলেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এসব মানুষ হলো তারা, যারা সৃষ্টিগতভাবেই অসহায়। আর তারা হলো- > প্রতিবন্ধি > পাগল ও > অসহায় নারী। যাদের প্রতি ইহসান করলে আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও পরকালে মানুষকে মুক্তির ব্যবস্থা করে দেবেন।" ২, নীলিমা বাসায় এসে অস্থির হয়ে গেছেন।কিছুতেই তিনি নিজেকে শান্ত করতে পারছেন না।তার মেয়ের কথাটা সব সময় মাথার মধ্যে ঘুর-পাক খাচ্ছে! সে অপেক্ষা করছে তার স্বামী সাহেদের জন্য।সাহেদকে বিষয়টা না জানানো পর্যন্ত নীলিমা এ রকম করতেই থাকবে। কলিংবেলের শব্দ হতেই নীলিমা দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিল।কি হয়েছে নীলু এত ঘেমে গেছো কেন?এসি,টা কি কাজ করছে না?সাহেদের কথা শুনে নীলিমা নিজের শরীলে হাত দেয়ার পর বুঝতে পারলো সত্যিই তো তার শরীল ঘেমে একাকার হয়ে গেছে।কি ব্যাপার তুমি কি কোন কিছু নিয়ে চিন্তা করছো?সাহেদের প্রশ্নে নীলিমা হুরমুর করে বলতে থাকে,আরে তেমন কিছু না রান্না ঘরে ছিলাম তো তাই হয়তো এমন ঘেমে গেছি।তুমি ফ্রেস হয়ে আসো আমি টেবিলে নাস্তা দিচ্ছি!এই বলে সাহেদ কে পাশ কাঁটিয়ে যাওয়ার সময় নীলিমাকে দু হাত দিয়ে ধরে কাছে নিয়ে আসল সাহেদ!নীলু তুমি আমার থেকে কি লুকাতে চাচ্ছো বলতো?অহ্ বলাই হয়নি সাহেদ আদর করে নীলিমা কে নীলু বলে ডাকে।"বললাম তো কিছু না"।নীলু তুমি কি বলবা নাকি তুমি চাও আমি আজ রাতে না খেয়ে থাকি। আচ্ছা তুমি হাত-মুখ ধুয়ে খাবার টেবিলে আসো,সব খুলে বলছি।সাহেদ শর্তে রাজি হয়ে তারাতারি ফ্রেস হয়ে খাবার টেবিলে গিয়ে বসল। সাহেদের থালায় খাবার বেড়ে দিয়ে নীলিমা সকালে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা খুলে বলল।সাহেদ বলল,নীলু এতে ভাবার কি আছে,বাচ্ছা একটা মেয়ে এগুলো হয়তো না বুঝে বলেছে।সময় হলে সব বুঝে যাবে।নীলিমা বিষয়টাকে কেন জানি হালকা ভাবে নিতে পারছে না।সারা রাত এপাশ-ওপাশ করে কাঁটিয়ে দিয়েছে। ফজরের আজান হওয়ার সাথে,সাথে জেগে উঠে সে।ওজু করে নামাজ পড়তে বসে।নামাজ শেষে সন্তানের জন্য দোয়া করতে থাকে। কিছুক্ষণ কোরআন পড়ে বাহিরে হাঁটাহাঁটি করে।একসময় সাহেদের জন্য নাস্তা তৈরি করতে যায়। ৩, সকাল ৯টা বেজে গেছে।সাহেদের মোবাইলের এলার্ম সেটাই জানিয়ে দিচ্ছে।সাহেদের এলার্ম দিয়ে রাখার কারণ হল,নীলিমার নাকি সাহেদের ঘুম ভাঙ্গাতে ইচ্ছে করে না।ঘুমন্ত সাহেদ কে নাকি অনেকটা নিষ্পাপ শিশুর মত লাগে।যার জন্য নীলিমা ঘুমন্ত সাহেদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিয়ে একটা নিষ্পাপ শিশুকে তাড়িয়ে দিতে চায় না।সাহেদ এমনেও অনেক ভালো মনের মানুষ।বিয়ে হওয়া থেকে আজ অবধি সাহেদ নীলিমার সাথে উঁচু শব্দে কথা বলেনি।এমন কি নীলিমার ভুল হলেও সাহেদ তাকে কখনোই বকা দেয়নি।সাহেদ যে মানুষ হিসেবে একজন আদর্শবান স্বামী সেটা নীলিমা বুঝতে পেরেছিলো তার বিয়ে হওয়ার কিছুদিন পরই। নতুন বউ হয়ে আসায়,আর তখনো সাহেদের সাথে তেমন স্বাভাবিক ভাবে সখ্যতা ভালো করে গড়ে উঠেনি।বিয়ের পরে সাহেদের প্রথম অফিস যাওয়া।নীলিমাও সকাল,সকাল উঠতে না পেরে তারাহুড়ো করে খাবার তৈরি করে।সাহেদ খাবার টেবিলে বসে যেই না তরকারীটা মুখে দিয়েছে ভমি আসার মত অবস্থা।প্রচণ্ড পরিমানে লবণ বেশি হয়েছিল তরকারীতে। সাহেদ কেনো জানি সেদিন খুব আরাম করেই খেয়েছিল তরকারী।নীলিমা খাবার কেমন হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই সাহেদ হাসি মাখা মুখ দেখিয়ে ভালো হয়েছে বলে।সাথে বলে যে তরকারী কতটুকু রান্না করেছো?নীলিমার জবাব এখানে যা আছে সেটুকুই।সাহেদ সবটুকুই খেতে চাইল,পেট আর মুখ জিনিসটা নিতে না পারায় সামান্য পরিমাণে তরকারী রেখে দিয়ে উঠে পড়ল সাহেদ।সাহেদ অফিসে যাওয়ার পর নীলিমা সাহেদের রেখে দেয়া অবশিষ্ট তরকারীটা যেই না মুখে দিয়েছে সাথে,সাথে ভমি করে ফেলে।ওয়াশরুম থেকে এসেই সাহেদ কে ফোন দেয় নীলিমা।হ্যাঁ নীলিমা বল?আপনি তরকারীতে লবণ বেশি হয়েছে বলেন নি কেন?আর আপনি এতো পঁচা তরকারী খেলেন কেমন করে?আমার কাছে তো তেমন মনে হয়নি।তাছাড়া আমি লবণ একটু বেশি খাই।আর তোমাকে বলিনি কারণ তুমি এখনো আমাকে আপনি করেই বলছো।তাই ভাবলাম,যে আমাকে এখনো দূরের মানুষ মনে করে,তাকে বিষয়টা কেমন করে জানাই। নীলিমা কথা বলতে পারলো না চোখ বেড়ে পানি ঝড়তে লাগলো।যাকে বলে আনন্দ অশ্রু। মনে,মনে আল্লাহর দরবারে অসংখ্য শুকরিয়া আদায় করলো।না জানি কোন পূর্ণ্যের বিনিময়ে আল্লাহ তার কপালে এমন ভালো একজন স্বামী মিলিয়ে দিয়েছেন।তারপর থেকে নীলিমা তরকারী রান্না করার সময় তিনবার করে চেক করে দেখেন।তার মন মত হলেই খাবার সাহেদের সামনে দেন নয়তো দেন না। ৪, নীলিমা বিষয় টাকে বেশি সিরিয়াসভাবে নিচ্ছো নাতো?অন্যমনস্ক নীলিমা হকচকিয়ে উঠে কি ব্যাপার সে এখন কোথায়?ভালো করে খেয়াল করে দেখে, সাহেদ খেতে বসেছে,তার পাশেই বসে আসে সে। তেমন কিছু না সাহেদ।কেমন জানি শরীলটা ভালো লাগছে না তাই হয়তো এমন ভাবছো।তাছাড়া সব ঠিক আছে।ঠিক থাকলেই ভালো,আমিও চাই তুমি ঠিক থাকো আর কালকের বিষয়টা নিয়ে না ভাবো।বললাম তো তেমন কিছু না,তুমি যেহেতু ভাবতে না করেছো আর ভাববো না এখন তারাতারি অফিসে যাও তো,তা না হলে দেরি হয়ে যাবে। সাহেদ অফিসে যাওয়ার পর নীলিমা বিষয়টা নিয়ে ভাবতে লাগল। সে তার মেয়েকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলল।তাকে হাত-মুখ ধুয়ে দিয়ে খাবার খাওয়ালো।"সাহেদ নীলিমাকে চিন্তা করতে না করলেও কেনো জানি অফিসের কাজে আজ মন বসাতে পারছে না।বার,বার মেয়ের কথাটা মাথার মধ্যে ঘুর-পাক খাচ্ছে।" নীলিমা পুষ্পাকে কাছে বসিয়ে বলতে লাগল;- "আচ্ছা মা বলতো তোমার আব্বু কেমন?" জ্বী আম্মু,আমার আব্বু অনেক ভালো।" "আচ্ছা মা তোমার আব্বুকে যদি তোমার সামনে কেউ পঁচা বলে তখন তোমার কেমন লাগবে?" "আমার আব্বুকে পঁচা বললে আমার অনেক খারাপ লাগবে।" "দেখো মা তোমার আব্বুকে যদি তোমার সামনে কেউ পঁচা বলে তাহলে তোমার যেমন খারাপ লাগবে,তেমনি তুমিও যদি কাউকে পঁচা বল তাহলে তারও খারাপ লাগবে।তাদেরও তো তোমার মত ছেলে,মেয়ে থাকতে পারে।আর তারা যদি শুনে তুমি তাদের আব্বুকে পঁচা বলেছো,তখন তো তারাও কষ্ট পাবে। আর তারা তোমার আব্বুকেও পঁচা বলবে।তুমি তো আমার ভালো মা তুমি কি চাইবে বল কাউকে কষ্ট দিতে।"তাই যদি তোমার সামনে কালো,ন্যাংড়া,অন্ধ কাউকে দেখো তাদের বলবা না ওগুলো, বল মা?" "আচ্ছা মা বলবো না।তাহলে কি ওরা আমার আব্বু কে আর পঁচা বলবে না? " "তুমি যদি না বল,তাহলে তারাও বলবে না।" "আচ্ছা আম্মু আমি বলবো না।" "এইতো আমার লক্ষ্যি মা।জানো মানুষের মনে কষ্ট দিলে আল্লাহ কতটা নারাজ হোন।শুনবে তুমি?" "হুম বল আমি শুনবো!" একজন সত্যিকার মুসলমান কাউকে কষ্ট দিতে পারে না এবং কারো মনে:কষ্টের কারণও হতে পারে না। কারো অন্তরে ব্যথ্যা দেয়া, কারো চোখে অশ্রু ঝরানো বিরাট পাপের কাজ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যারা মোমিন পুরুষ ও নারীদের বিনা অপরাধে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে’ [সূরা: আহজাব: ৫৮]। #এভাবেই_হোক_শুরু। #জুয়েল রহমান


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now