বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোঃ আনিছুর রহমান ( নিজ )
প্রকাশনাঃ হ্যামক ট্যুরিজম বিডি
শ্রেণীঃ উপন্যাস
প্রকাশকালঃ ২০১০
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
♥পর্ব-১♥
শরতের সকাল। দখিনা বায়ু বয়ছে। নদীর তীরে কাশফুলগুলো যেন আনন্দে দোল খাচ্ছে। সাদা সাদা মেঘের সাথে সূর্য যেন লুকোচুরি খেলছে সুনীল আকাশে। ভাবনার করিডোরে নিজেকে যেন রঙিন করে মেখে নিয়েছি।আমার স্বরচিত একটা কবিতাই শুধু বারবার মনে পড়ছে।
" আর কত দেরি! পাব তারে আমি-
হায়! করছি স্মরণ তোমায়,
তুমি তো মোর জীবনের চেয়ে দামী।"
খোলা নীল আকাশের নিচে যমুনা নদীর দৃশ্যে আমি অভিভূত। পাল তোলা নৌকার সৌন্দর্যে আমি কল্পনায় হারিয়ে যায়। বাতাসের ঝাপটায় স্থির পানিতে আমার প্রতিবিম্বটা কাঁপতে শুরু করেছে। সময়টা দ্রুত বয়ে যাচ্ছে। দিগন্তের আলোয় আমার ছায়াবৃত্তটি আনুভূমিক সমতলে বেশ লম্বা হয়ে পড়েছে। মনে হচ্ছে অতি শীঘ্রই সন্ধ্যে নামবে।
প্রকৃতি তার স্বীয় ধারায় তাকে সাজিয়েছে। চাঁদের আলো যমুনার জলে প্রতিফলিত হয়ে আমার চোখে পড়ছে। বিমূর্ত দৃশ্যের আলিঙ্গনে, নদীর বুকে অজানা এক অতৃপ্তি নিয়ে, পড়ন্ত সন্ধ্যার উদ্দেশ্যে আর একটি কবিতা রচনা শুরু করেছি মাত্র।
" তুমি কি সন্ধ্যা? নাকি আমার রজনীগন্ধা
নাকি আমার মনে রয়েছো বান্ধা?
তুমি কোথায় এই পড়ন্ত সন্ধ্যায়?
আমি তো আছি তোমার মনের বারান্দায়।"
হঠাৎ একটি কণ্ঠস্বরে আমার মনের অতৃপ্ত কল্পনার অবসান হলো। অচেনা এক মাঝি। বৈঠা হাতে আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। হাসিমুখের অসম্ভব-সুন্দর অবয়য়। আমাকে উদ্দেশ করে বলল,
- কি করছেন স্যার?
- কবিতা লিখি ভাই।
- কোন বিষয়ের উপর?
- এই তো ভাই, পড়ন্ত সন্ধ্যার উপর।
- কোথাও যাইবেন স্যার? পার করে দিই।
আমি তো মাঝির বন্ধুই হয়ে গেলাম। মাঝির বয়স ততটা বেশি নয়। হবে হয়ত কুড়ি হতে পঁচিশ। দেখেই তাকে বুঝা যায়। প্রথমে ভেবেছিলাম মাঝি বেশ গম্ভীর বোধহয়। না, তেমনটিও নয়। একটু রসিকই বটে। কখন যে তার সাথে আমার পরিচয়টা হলো আমি বুঝতেই পারি নি। তার বুঝার প্রশ্নই উঠে না। যা বলছিলাম। শরতের প্রকৃতিকে বরণ করার জন্য সবেমাত্র বের হয়েছি। এরই মধ্যে সুন্দর একটি অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলাম আমি। তবুও মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো উঁকি দিচ্ছে বারবার। নদীর জলে কষ্টগুলোকে ভাসিয়ে দিব বলেই যমুনা নদীতে বেড়াতে এসেছিলাম আমি।
মাঝির সাথের আমার অনেকটা সময় অতিবাহিত হচ্ছে। আরো হচ্ছে দুই জীবনের গল্প। মাঝি ও আমার। পরিবেশটা যেন ক্রমশ বেদনাতুর হয়ে উঠছে। কেন এমনটা হচ্ছে বুঝতে পারলাম না বৈকি? আমি আমার দুঃখটা এতটাই বেশি মনে করেছি যে অন্যের দুঃখকে দুঃখ মনে করি নি। আমি এখন বুঝতে শিখেছি যে, মানুষের মনটা কতটা কুমল হতে পারে। আবার কতটা নিষ্ঠুরও হতে পারে! আমি এটাও বুঝেছি যে, মানুষকে কেমন করে ভালবাসতে হয়, কাছে টেনে নিতে হয়। কেমন করেই বা মানুষের জীবন মর্মান্তিক ট্রাজেডিতে পরিণত হয়। মাঝি কণ্ঠে এই সত্যটা, কতটা বেদনাময় হতে পারে; তার প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হচ্ছে।
" কত যত্নে রাখলাম যারে-
সেই হয়েছে পর,
জীবন দিয়ে বাসলাম ভাল,
ভাসাইলাম অন্তর। "
মাঝির চোখে বেদনার অশ্রু আমাকে স্থির থাকতে দিল না। শেষ পর্যন্তই আমি জিজ্ঞেস করেই ফেলাম।
- মাঝি, তুমি কাউকে ভালবাসতে নাকি?
- হুম। তাই!
- তাহলে তোমার চোখে অশ্রু কেন? তুমি কি আমার মতো প্রেমে ব্যর্থ?
- ওহে কবি, বলছি শুন তাহলে। কবি তুমি তো জানো মানুষের মনটা ভালবাসার সুন্দর নিকেতন। ভালবাসা জীবনের অমৃত সুধা। ভালবাসার জন্যই এই পৃথিবীর সৃষ্টি। আমার মনে এখনো আছো ভালবাসার দরিয়া। আমি এই প্রেমিক মাঝি যার ভালবাসার বিরুদ্ধে মানুষই কাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মানুষ কত নিষ্ঠুর হায়! এভাবেই আমি ব্যর্থতার প্রহর গুনতে শুরু করেছি। এখন কবি তুমি বলো, কবির মনে কে ব্যর্থতার ছাপ ফেলেছে?
পূর্বেই বলছি মাঝি বেশ রসিক। কিন্তু রসিক মানুষের মনে কত দুঃখ, কত কষ্টে জর্জরিত! কে জানতো আর?
♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
চলবে.............
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now