বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শুকনো পাতা®

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মফিজুল (০ পয়েন্ট)

X পাশের বাসার এক আন্টিকে শুধু বলেছি, 'আন্টি আপনাদের বাসায় যে গতকাল একটা মেয়ে এসেছিল সেই মেয়েটা কে?' আলহামদুলিল্লাহ! এখন আমায় এলাকার কেউ দেখতে পারেনা। রাস্তা দিয়ে হাঁটলে মেয়েরা ফিসফিস করে বলে...'এই লুচু রুবেল আসছে, সবাই সাবধান।' বাসায় এসে উপস্থিত হতেই আম্মা ঝাড়ু হাতে দৌঁড়ানি দিছে। দৌঁড়াতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পরে গিয়ে ব্যথা পেয়েছি। আবার নির্লজ্জের মতন বাসায় এসেছি। আম্মা হুংকার দিয়ে বলল.... --তুই কেন এই বাসায়? -আমার বাপের বাসায় আমি এসেছি। --খবরদার! মুখের উপর কথা বললে তোর মুখ সেলাই করে দিব। -আমি কি করেছি সেটাতো বলবে? --বলার মতন মুখ তুই রেখেছিস? ছিঃ আমি ভাবতে পারিনি আমার পেটের সন্তান হয়ে তুই এমন একটা কাজ করবি। -আজব ব্যাপার কি করলাম সেটাইতো জানিনা। সবাই শুধু উল্টাপাল্টা বলেই যাচ্ছ। --তুই পাশের বাসায় বেড়াতে আসা মেয়েটাকে কি বলেছিস হু? -কিছুনা! --তোরে করলা ভাঁজি দিয়ে গাড়মু হারামি ফাজলামো করস? -তুমি কি নানি লাগো? যে ফাজলামো করব? --কিছুই যদি না বলিস তাহলে তোর আন্টি কেন বিচার দিয়ে গেলো? সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে তুই নাকি ঐ মেয়েটাকে ডিস্টার্ব করিস? প্রপোজ করেছিস? হ্যারেজমেন্ট করিস, এসব কি? -আম্মা বিশ্বাস করো এসব মিথ্যা। --চুপ একদম চুপ! এলাকার সব মানুষ মিথ্যা বলে? তরে আমি হারেহারে চিনি। -চিনি নাকি গুড় সেটা পরে দেখা যাবে। কিন্তু আন্টি মিথ্যে বলছে। --আন্টি কেন মিথ্যা বলবে? -কারণ উনার ছোট মেয়ে মারিয়াকে আমি পছন্দ করি। আর এটা উনি মানতে পারেননা। উত্তেজিত হয়ে কথাটা বলেই জিহ্বায় কামড় দিলাম। তেশ মারছে! বললাম কিরে। আন্টির মেয়েকে পছন্দ করি এটা বলছি। আম্মা ভ্রু-কুঁচকে বলল.... --তোর চরিত্রের এত অধঃপতন? -আম্মা ভুল বুইঝো না। --বের হ বাসা থেকে। -আম্মা সরি! --ঐ মুখে আর কখনো আমায় মা বলে ডাকবিনা। বলেই আম্মা আবার ঝাড়ু হাতে দৌঁড়ানি দিয়েছে। আব্বাও মেসেজ করে বলে দিয়েছে, 'আর কখনো আমায় বাবা বলে ডাকবিনা।' তাদের দেখাদেখি ছোট বোন রোদেলার ফোন করে বলছে...'তুমি আমায় বোন ডাকবানা, যদি ডাকো আমি বাসা থেকে পালিয়ে নেপচুন যাব।' রোদেলার কথা শুনে আহাম্মক হয়ে গেলাম। এই হতচ্ছাড়ি নেপচুনের কি বুঝে!? মনচায় ঠুয়া মেরে কান লাল করে দেই। পেটে টান পরলে বাসার কথা ঠিকই মনে পরে। আমারো তাই। রাত ১০ টার দিকে বাসায় ফিরলাম। আম্মা সোফায় বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখছে। আমি দরজা দিয়ে মাথা দিয়ে ইঁদুরের মতন মাথা এদিক সেদিক করে তাকালাম। আম্মাকে ডেকে বললাম.... -আপু আসবো? --তুই আবার এসেছিস? আর ওয়েট! আপু কাকে বললি? -তুমিই তো বলছো তোমায় যেন মা না ডাকি। --তাই বলে আপু! তোর মাথায় কি সমস্যা? -সরি খালা। খালা ভাত দিবে? খুদা লাগছে। আম্মা হাতে থাকা রিমোট ছুঁড়ে মারলো। আমি দরজা বন্ধ করে দিলাম। রিমোট দরজায় লেগে লন্ডভন্ড। আব্বার কাছে গিয়ে দূরে দাঁড়ালাম। আব্বা পত্রিকা রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল.... --কি চাস? -খালু ভালো আছেন? --কি বললি তুই? -তুমিইতো বলেছো তোমায় যেন বাবা না ডাকি..! --তুই কি কখনোই শোধরাবিনা? -না খালু, খুদা লাগছে। খালাকে বলো ভাত দিতে। --চোখের সামনে থেকে সর! -সরবনা, ভাত দাও। আব্বা পায়ের স্যান্ডেল খুলে ছুঁড়ে মারার আগেই কেঁটে পরলাম। কেউ আমায় বোঝেনারে। বাকি রইলো রোদেলা। রোদেলার কাছে গেলাম। রোদেলা ছবি আঁকছে। গলা খাঁকড়ি দিয়ে বললাম.... --কি করিস নানি? -নানি কে? --তুই, কেন সকালেই না বললি তোকে যেন বোন না বলি। -তুমি আসলেই একটা ফাউল। --তোর চৌদ্দ গুষ্টি ফাউল, বল কি করিস? -লুডু খেলছি। --তুইতো ছবি আঁকছিস। -দেখতেই পাচ্ছ তাহলে জিজ্ঞেস করো কেন? উরিম্মা! তুমিও দেখি দিনদিন ঘাউড়ামি শিখছো। আমি রোদেলার মাথায় ঠুয়া মারতেই রোদেলা পেন্সিল দিয়ে পেটে খোঁচা মারলো। আউউউ পেটে ব্যাথা পেয়েছি। হতচ্ছাড়ি দিনদিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তোকে পরে দেখে নিব। সবকিছুর জন্য দায়ী ঐ আন্টি। উনি প্রতিশোধের জন্য আমার সাথে এমন করেছে৷ আমি লুকিয়ে আন্টিদের বাসায় গেলাম। সবাই ঘুমিয়ে পরেছে। চুপিচুপি ছাদে উঠে টয়লেটের পানির লাইনের ট্যাংকিতে গুঁড়ো মরিচ মিক্সড করে দিলাম। ব্যাপারটা ড্রাইভার মোখলেসের সাথে শেয়ার করলাম। কারণ আপডেট কি হবে মোখলেস জানাবে। রাত ১২ টার দিকে চিৎকার শুনে লুকিয়ে পরলাম রুমে। সবাই জেগে উঠে আন্টিদের বাসার দিকে দৌঁড়। মোখলেসও গেলো। সেই সুযোগে আমি আগে পেট পুরে ভাত খেলাম। তারপর গেলাম আন্টিদের বাসায়। আন্টি গামলার উপর ঠাণ্ডা পানিতে বসে আসে। মারিয়া তার মাকে পাখা দিয়ে বাতাস করছে। সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আন্টি মারিয়াকে আস্তে আস্তে বলছে.... --জ্বলে যাচ্ছেরে। -কথা না বলে চুপচাপ পানিতে বসে থাকোতো মা। সবাই শুনলে খারাপ ভাববে। --টয়লেটে মনে হয় জীন এসেছে। আন্টির কথা শুনে আমি মুখ টিপে হাসছি। আমার ব্যাপারটা আম্মার চোখে ধরা পরলো। আম্মা কিছু বলার আগেই আমি কেটে পরলাম। আজ জমপেশ একটা ঘুম দিব। আহহহ শান্তি! RIP পাশের বাসার আন্টি। . . শুকনো পাতা ® . . লেখাঃ Md Rubel Hasan


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now