বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঈশ্বরের গণিত - অধ্যায় ছয়

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ আনিছুর রহমান লিখন (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। অলংকরণঃ সৌরভ দে। পঞ্চম বর্ষ প্রথম সংখ্যা। *********************★******************* ২৫ জানুয়ারি, ২১৫৫, লালন দ্বীপ “টরণ কণিকা।” “টরণ কণিকা?” হতভম্ব প্রত্যয়ের মুখ থেকে শব্দ দুটো বেরিয়ে এল। মস্তিষ্কের আঁতিপাতি ঘেঁটেও সে শব্দদুটোর অর্থ উদ্ধার করতে পারল না। এমন কোনও কণিকার নাম তো কখনও সে শোনেনি। অনিল চ্যাটার্জির সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার পরে কেটে গেছে গোটা একটা বছর। হ্যাঁ, ভদ্রলোক কথা রেখেছেন। যা যা চাই সব জোগাড় করে এনেছেন এই বাংলাদেশে। এমনকি পৃথিবী ঘুরে নিয়ে এসেছেন তাবড় তাবড় ইঞ্জিনিয়ার, গণিতজ্ঞ, পদার্থবিদ, পরমাণুবিদ। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের তিনটে কোণায় কাজ চলছে নোয়াখালি থেকেও প্রায় একশো কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের গভীরে, কুড়ি হাজার একরের বড়সর একটা দ্বীপে বসবাস করছে প্রত্যয়। শুধু সেই নয়, আরও শ’দেড়েক বিজ্ঞানী এবং হাজারের উপরে ইঞ্জিনিয়ার। এছাড়াও অন্যান্য কর্মী আর মিলিটারিও কম নেই সেই দ্বীপে। ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের যে কোনও বড় শহরকে টেক্কা দেবে এই দ্বীপশহরটা। প্রত্যয়ের ‘ঈশ্বরের গণিত’ এখন শুধুই একটা থিয়োরি নয়। বরং বিজ্ঞানের এক শাখা হিসাবে অদূর ভবিষ্যতেই আত্মপ্রকাশ করতে চলছে। যার বাস্তবিকতা নিয়ে গবেষণা চলছে বাংলাদেশের এই একটেরে এক দ্বীপে। এই গবেষণার গোপনীয়তা চূড়ান্ত। টাকার জোরে আর নিজের প্রভাব খাটিয়ে এই দ্বীপে প্রায় স্বয়াত্তশাসন জারি করেছেন অনিল চ্যাটার্জি। অবশ্য প্রত্যয় বিশ্বাস করে তা না করলে এত দ্রুত আকাঙ্ক্ষিত ফলাফলের কাছাকাছি তাঁরা পৌঁছতে পারত না কখনোই। অনিল চ্যাটার্জির টাকা ও ক্ষমতার ব্যাপারে গত এক বছরে বহুবার সন্দিহান হয়েছে প্রত্যয়। মাঝে মাঝে তাঁর মনে হত গরীব বঙ্গভূমিতে দাঁড়িয়ে এই জটিল গবেষণার বাস্তব উপাদান সংগ্রহ করা নিতান্তই স্বপ্ন মাত্র। কিন্তু প্রত্যেকবার তাকে ভুল প্রমাণ করে ঠিক ঠিক বস্তু বা ব্যক্তি এনে হাজির করে দিয়েছেন অনিল চ্যাটার্জি। আজকাল প্রত্যয়ের মনে হয় সে যেন এক যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক যেমন আড়াইশো বছর আগে অন্য এক মহাদেশে তৈরি হয়েছিল ম্যানহাটান প্রজেক্ট। আর বদলে গেছিল পুরো মানব সভ্যতার ভাগ্য। ঠিক তেমনি আজ সে দাঁড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিক প্রোজেক্টের ঠিক চূড়ায়। যে কোনও মুহূর্তে সফল হয়ে যাবে তাঁর আবিষ্কার আর তারপরেই বদলে যাবে… “তুমি নিশ্চয় নিউট্রিনো কণিকার কথা জান?” অনিল চ্যাটার্জি কথায় সম্বিত ফিরল প্রত্যয়ের। সে গম্ভীর মুখে ঘাড় নাড়ল। হ্যাঁ। প্রত্যয় জানে নিউট্রিনো কণিকার কথা। বিজ্ঞানের প্রথমযুগে ধারণা করা হয়েছিল এই নিউট্রিনো কণিকার কোনও ভর নেই। কিন্তু পরবর্তীকালে এরও ভর নির্ণয় করা সম্ভব হয়; যদিও প্রায় শূন্যই বলা চলে সেই ভর। এই নিউট্রিনো কণিকা কোনও কিছুতেই বাধা পায় না। প্রতিনিয়ত পৃথিবী, এমনকি মানুষের শরীরকেও ভেদ করে চলে যাচ্ছে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন নিউট্রিনো কণিকা। কোনও কিছুর সঙ্গেই বিন্দুমাত্র প্রতিক্রিয়া করে না তারা। কিছুটা ইতস্তত করে প্রত্যয় বলে, “নিউট্রিনো কণিকার কথা আমার জানা আছে স্যার, কিন্তু এর সঙ্গে আমাদের ঈশ্বরের গণিত প্রজেক্টের কী সম্পর্ক?” “যদি তোমার থিয়োরি সঠিক হয়, তবে দুই বিশ্বের ভেতর যাওয়া আসা করছে এমন একটি কণিকার অস্তিত্ব থাকার কথা।” অনিল চ্যাটার্জি বললেন। প্রত্যয় কিছু বলল না, শুধু ঘাড় নাড়ল। “পদার্থবিজ্ঞানীরা এই সূত্র ধরেই এগোচ্ছিলেন। নিউট্রিনো যেমন কেবল আমাদের বিশ্বে কোনও কিছুর সঙ্গে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করে না, ঠিক তেমন দুই বিশ্বের ভেতর কোনও ক্রিয়া না করে চলাচল করছে তেমন একটা কণিকা অবশ্যই থাকবে। এখন আমাদের এই কণিকার মাধ্যমেই সেই বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। এখন বল, সেই কণিকার বৈশিষ্ট্য কেমন হবে?”, সামনের দিকে ঝুকে এসে আচমকা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন প্রফেসর। “আমার যতদূর মনে হয় শূন্য ভর, শূন্য মাত্রা…” কথাটা বলেই কিছুটা ঘাবড়ে যায় প্রত্যয়; এ আবার কেমন বস্তু! শূন্য ভর! শূন্য মাত্রা! কিন্তু অনিল চ্যাটার্জি হাততালি দিয়ে ওঠেন। “ব্রিলিয়ান্ট। আমার মনেই হয়েছিল তুমি অলরেডি এই রাস্তাতেও খানিক চিন্তাভাবনা করেছ।” “কিন্তু এটা সম্ভব নাকি?” প্রত্যয়ের চোখে সংশয়। অনিল চ্যাটার্জি হাসলেন, “প্রজেক্ট ঈশ্বরের গণিতের চ১১৯ শাখার বিজ্ঞানীরা একটা সমাধান অলরেডি আবিষ্কার করে ফেলেছেন।” টেবিলের উপরে ঠেলে দিলেন একটা পাতলা ট্যাব। ট্যাবের পর্দায় জটিল অংক। একগাদা হাতির শুঁড়ওলা ইকুয়েশন আর অজানা রাশির ভিড়। প্রত্যয় আলগোছে চোখ বোলালো। এই অংকের অনেকটাই সে জানে। শেষটা জানতো না, আজকে দেখছে। গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য সবাইকে সবটুকু জানানো হয় না কখনোই। গলা খাঁকারি দিল প্রত্যয়, “এটা তো একেবারে মৌলিক একটি কণিকা দেখছি। শূন্য ভর। শূন্য মাত্রা। ইলেকট্রনকে ধরা হয় শূন্য মাত্রার বিন্দু কণিকা; কিন্তু তারও ভর আছে। এই কণিকাটা…” “টরণ কণিকা।” অনিল চ্যাটার্জি বলে উঠলেন। চমকে উঠে প্রত্যয়, চোখে প্রশ্ন। “হ্যাঁ, আমিই এই কণিকার নাম দিয়েছি টরণ কণিকা। অলরেডি থিয়োরেটিক্যালি প্রুভড্‌। শুধু এখন বাস্তবায়িত করার কর্মযজ্ঞ শুরু।” প্রত্যয় হাত কচলালো। এই ভয়টাই সে পেয়ে এসেছে এতদিন ধরে। বাস্তব ক্ষেত্রে তাঁর থিয়োরির অ্যাপ্লাই। তবু মুখের ভাবে সে কোনও ছাপ ফুটে উঠতে দিল না। সামনে বয়োবৃদ্ধ ধুরন্ধর মানুষটার দিকে তাকিয়ে ঘাড় নাড়ল, “কিন্তু তা এত তাড়াতাড়ি কী করে সম্ভব?” “সম্ভব।” অনিল চ্যাটার্জি মুচকি হাসলেন। হাত বাড়িয়ে দিলেন জানালার বাইরে। এই কুড়িতলা সুউচ্চ বিল্ডিং-এর জানালা দিয়ে দ্বীপ শহরটার প্রায় পুরোটাই দেখা যায়। দেখা যায় আরও দশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আরেকটা দ্বীপ। প্রায় একই রকম। শুধু আয়তনে ছোট। এই জমজ দ্বীপ জোড়ার নাম রাখা হয়েছে লালন দ্বীপ ও হাসন দ্বীপ। *********************★****************** তথ্যসূত্রঃ কল্পবিশ্ব।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঈশ্বরের গণিত - অধ্যায় পাঁচ
→ ঈশ্বরের গণিত - অধ্যায় চার
→ ঈশ্বরের গণিত - অধ্যায় তিন
→ ঈশ্বরের গণিত - অধ্যায় দুই
→ ঈশ্বরের গণিত - অধ্যায় এক

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now