বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রতিদিনের মতো সিএনজি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। আমার সকল বই সিএনজিতে রাখা। যখন যাত্রী উঠাই এ সময়েই বই পড়ি। বিষয়টা নিয়ে সবাই সমালোচনা করে।
মানুষ: আরে ভাই পড়া বাদ দাও। বেশি পড়ে লাভ কি? ড্রাইভারই থাকতে হবে। সিএনজিটা স্টার্ট দাও। সময় তো নাই। চলো তো। যত্তসব!
মনটা ভেঙে যায়। কিন্তু আমি নাছোড়বান্দা! আমি আপন মনে আমার কাজ করি। এভাবে দেখা যায় সমালোচনার মধ্য দিয়ে আমি আরো জনপ্রিয় হয়ে যায়।
একদিন। হাইওয়ে তে সিএনজি চালাচ্ছি। এতে একজন মৃত্যু পথ যাত্রী যাকে নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে যাচ্ছি। সঠিক সময়ে হাজির। কিছুক্ষণ পর জানতে পারলাম রোগী O+ রক্ত লাগবে আর্জেন্টলি। কি আর করা যায়?
আমি: কোন কিছু না মনে করলে আমি রক্ত দিতে চাই। আমার রক্তের গ্রুপ O+।
রোগীর স্ত্রী: বাবা তুমি আমাকে চিন্তামুক্ত করলে। এসো, শীঘ্রই এসো।
এরপর পর দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হলো। যাবার সময় তিনি আমাকে টাকা দিতে চাইলে আমি নিলাম না।
আমি: আমাকে টাকা দিয়ে ছোট করবেন না। এ হাতকে ভিক্ষুকের হাত বানাবেন না। আমি আমার সিএনজির আয় দ্বারা আমার পড়াশুনা চলে যাচ্ছে। শুধু আমাকে দোয়া করবেন যেন আল্লাহ আমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক। আমীন।
আমার মাথায় রাত রেখে তিনি আশির্বাদ করলেন।
রোগীর স্ত্রী: তুমি কোথায় পড়ো?
আমি: আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি।
রোগীর স্ত্রী: ভাল তো। চেষ্টা করো বাবা। তোমার চাচা সুস্থ হলে দেখা করে যেও কিন্তু। এই নাও তোমার ভাড়া।
এই ভাড়া নিয়ে চলে আসলাম আর ভাবতে লাগলাম কেউ আছে আমার পড়াশুনাকে ইতিবাচক ভাবে গ্রহণ করেছে। মনটা প্রশান্তিতে ভরে গেল।
চলবে...................................
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now