বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শেষ পর্যন্ত হলো দেখা
লেখিকা:ইসরাত জাহান ইভা
রিয়া নিলয়কে ফোন করলো।
"হ্যা নিলয় কালকে কখন দেখা করবে?"
"কাল বিকেল ৫টায়।"
"আচ্ছা এসো।"
নিলয়ের সাথে রিয়ার ফেসবুকে পরিচয়।কখনো তারা দেখা করেনি।কিন্তু তারা দুইজন দুজনকেই মনের অজান্তে পছন্দ করে ফেলে এবং ভালোবেসে ফেলে।রিয়া ইন্টার ফাস্টে পড়ে।আর নিলয় অনার্স ফাস্টে পড়ে।
পরদিন রিয়া সেখানে গেলো যেখানে দেখা করার কথা ছিল।রিয়া অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলো।কিন্তু নিলয়ের কোনো দেখা পেলো না।রিয়ার ভীষন রাগ উঠলো।নিলয় ফোনও ধরছে না।কেন এরকম করলো নিলয়!!অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর নিলয়ের দেখা না পেয়ে রিয়া চলে গেলো।দুইতিন দিন হয়ে গেল নিলয় এসএমএসও দিচ্ছে না।কি হলো তাহলে নিলয়ের এসব ভাবতে লাগলো রিয়া।কিন্তু নিলয়ের কোনো খোঁজ পেলো না।
চার বছর পর
রিয়া ঢাকায় যাচ্ছে।পাশে একটা ছেলে এসে বসলো।ছেলেটা বললো,"হাই আমরা কি পরিচয় হতে পারি?"
"হ্যা।আমি রিয়া।আমার বাড়ি রাজশাহী।"
"ওহ আমি নিলয়।আমার বাড়ি সুনামগঞ্জ।"
"কোথায় যাচ্ছেন মানে কার বাড়িতে?"
"আমার মামার বাড়িতে।আর আপনি?"
"আমি খালাতো ভাইয়ের বাড়িতে।"
"ওহ।"
তাদের কথা বলা শেষ হলো।কিছুক্ষন পর নিলয় বললো,"আপনার বাড়িতে কে কে আছে?"
"আমার বাড়িতে মা বাবা আর বড় ভাই।আর আপনার?"
"আমার মা বাবা আর একটা ছোট বোন।"
"ওহ।আচ্ছা আপনি কি কবিতা জানেন?"
"জানি একটু।তবে একটা রোমান্টিক কবিতা জানি।"
"একটু বলেন তো।"
"তোমার অপেক্ষায় থাকি সারাক্ষণ,
ভাবতে থাকি তুমি আসবে আর কখন।
তোমায় ছাড়া একেলা লাগে না ভালো,
তুমি এসে জ্বালিয়ে দাও হৃদয়ের আলো।
সারাক্ষনই তোমার কথা জাগে এ অন্তরালে ,
তবুও কেন তুমি থাকো চোখের আড়ালে।"
এ কবিতা শুনে রিয়া চমকে উঠলো।নিলয় বললো,"কবিতার মাঝখান থেকে একটু বলেছি।"
"কিন্তু আপনি কোথায় থেকে জানলেন এ কবিতা?"
"এ কবিতার কবিই আমাকে এ কবিতা বলেছিল।"
"এ কবিতার কবি!!"
"হ্যা সে কবিতা বানাতে পারে।"
রিয়া মনে মনে ভাবতে লাগলো,"এ কবিতা তো আমার।আমি নিজে বানিয়েছি।আমি তো নিলয়কে বলেছিলাম।তাহলে এই ছেলেটাই কি আমার নিলয়?এই ছেলেটাই কি সেই ছেলে যাকে আমি ভালোবেছি?"
নিলয় বললো,"কি ভাবছেন কবিতা কি ভালো লাগেনি?"
"হ্যা ভালো।আমরা মনে হয় পৌঁছে গেছে।আচ্ছা আপনার ঠিকানাটা।"
"ওহ।এইযে আমার ফোন নাম্বার।"
"ধন্যবাদ।"
রাতে রিয়া নিলয়কে ফোন করলো।নিলয় ফোন ধরলো।রিয়া বললো,"কি করছেন?"
"এইতো ছাদে বসে আছি।আপনি?"
"আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি।আচ্ছা কাল আমরা কি দেখা করতে পারি?কিছু কথা ছিলো।"
"কি কথা?"
"সেটা দেখা হলেই বলবো।"
"ঠিক আছে।"
পরদিন নিলয়ের সাথে রিয়া দেখা করলো।নিলয় বললো,"কি কথা ছিলো?"
"কাল যে কবিতা বলেছিলেন সেটা কে বলেছিল আপনাকে?"
"আসলে একটা মেয়ের সাথে আমার ফেসবুকে পরিচয় ছিল।তাঁকে আমার খুব ভালো লাগলো।আস্তে আস্তে তাকে ভালোবেসে ফেলি।সে আমাকে কবিতা বলতো।সে আমাকে এ কবিতা শোনাতো।"
"এখন আর কবিতা শোনায় না?"
"না।"
"তার আইডির নাম কি ছিলো?"
"পূর্ণিমার রাত্রি নাম ছিল।"
"আপনার আইডির নাম কি ছিলো?"
"নিলয় নাম ছিলো।"
রিয়া মনে মনে ভাবলো,"হায় আল্লাহ এইতো আমার সেই নিলয়।কিন্তু কেন সে সেদিন আসলো না?কেন সে দেখা করলো না?"
রিয়া বললো,"নিলয়।"
"হুমম বলুন।"
"আপনি কি তাকে কখনো দেখেছেন?"
"না দেখা হয়নি।"
"যদি বলি ওই মেয়েটা আমি।"
"কি?ওই মেয়েটা!!"
"হুমম ।আমার আইডির নাম ছিলো পূর্ণিমার রাত্রি।আমি এই কবিতা বানিয়েছি।আমি এই কবিতা তোমাকে বলতাম।"
"সত্যি?"
"হুমম।সেদিন কেন এলে না তুমি?তোমার জন্য অনেক্ষন অপেক্ষা করেছি।কিন্তু তবুও এলে না কেন?"
"আসলে সেদিন আমি দেখা করার জন্য বের হয়েছিলাম।কিন্তু?"
রিয়া নিলয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,"কি কি নিলয়?"
"সেদিন আমার একটা এক্সিডেন্ট হয়ে যায়।এতে আমার চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যায়।চার মাস পর একটা ভালো ডাক্তারকে দেখানো হয়।ডাক্তার বললেন আমি নাকি আবার দেখতে পাবো।তারপর আমার চোখের দৃষ্টি ফিরে এলো।কিন্তু তোমাকে খুঁজে পেলাম না।তোমার আইডি খুঁজে পেলাম না।"
"সত্যি বলছো তো?"
"হুমম।সত্যি।"
এ কথা শুনে রিয়ার চোখ দিয়ে পানি বের হলো।প্রিয় মানুষ এত কাছে তবুও বুঝতে পারেনি সে।নিলয় বললো,"তুমি কাঁদছো?"
"আমি তোমাকে এখনো ভালোবাসি নিলয়।"
"আমিও তোমাকে ভালোবাসি।"
নিলয় পকেট থেকে টিস্যু বের করে রিয়াকে দিলো।রিয়া টিস্যু হাতে নিয়ে চোখ মুখ মুছতে লাগলো।রিয়া বললো,"শেষ পর্যন্ত দেখা হলো।"
"হুমম।দেখা করার কথা ছিল অনেকদিন আগে।"
"কিন্তু হয়নি তখন।"
"হুমম।"
রিয়া চলে গেলো।হঠাৎ করেই তাদের দেখা হয়ে গেলো।দেখা করার কথা ছিলো অনেক আগে।কিন্তু অনেকদিন পর না চাইতেই দেখা হয়ে গেলো।
সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now