বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিলয় কলিংবেল বাজালো।নিলয়ের বাবাও ইদানিং নিলয়ের পথ অবলম্বন করছেন।তিনি বাড়িতে থাকলে দরজা দেরিতে খোলেন।আজ তিনি বাসায় আছেন।কিন্তু দরজা বুয়া খুললো।কিছু কিছু কাজের বুয়াকে দেখলেই কাজের বুয়া কাজের বুয়া মনে হয়।কিন্তু ইনি অনেক পরিপাটি,বেশ সুশ্রী,মধ্যবয়স্ক মহিলা।
নিলয় ফাহাদকে নিয়ে ভিতরে ঢুকলো।জহির সাহেব টিস্যু পেপার ভিজিয়ে মুখের উপরে দিয়ে সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বসে আছেন।বসে থাকার থেকে শুয়ে আছেন বললে বেশি ভাল হয়।তার হাতে হলুদ রঙের একটা ছোট্ট হাঁস।তার ছোট বেলার খেলনা।সেদিন স্টোর রুম থেকে খুঁজে পেয়েছেন।ছোট বেলার খেলনা পেয়ে উনি কেঁদে ফেলেছিলেন। নিলয় দেখে প্রচুর হেসেছিল।তিনি বেশ লজ্জা পেয়েছিলেন।
ফাহাদ নিলয়ের রুমে বসে আছে।কিছুক্ষণ পর নিলয় ফাহাদকে একটা চশমা দিয়ে বলল,
-এটা পড়ে নে।
-কেনো?
-পড়তে বলেছি পড়,নাহলে ঘর থেকে বেরিয়ে যা।
-উফ,দে।এবার বল।
ওয়েট,ওয়েট।আগে নিজেকে দেখেনি।
ঐ,তোর ড্রেসিং টেবিলের আয়না কোথায়?
-ভেঙে ফেলেছি।
-কেনো?
-নিজেকে দেখে আর কতবার ক্রাশ খাব?
-হাহ।ঢং।লাগবেনা।আমি ফোনের মিররে দেখে নিচ্ছি।
-দেখা লাগবেনা।আমি বলছি।তোকে ঠাকুমার ঝুলির শেয়াল পন্ডিতের মতো লাগছে।
-তুই এটা বলতে পারলি?
মুডটাই খারাপ করে দিলি।থাক এবার বল,চশমা কেনো পড়ালি?
-খালি চোখে কলমদানী দেখলে হিপনোটাইজড হয়ে যেতি।
-যত্তসব ফালতু।তো তুই পড়লি না কেনো?
-আমার কিছু হবেনা।কারণ এটা এখন আমার আয়ত্তে।
-তোর কথা আমার মাথায় ঢোকেনা।যাইহোক নিয়ে আয় তোর কলমদানী।
নিলয় কলমদানীটা নিয়ে এলো।সাধারণ কলমদানীর থেকে একটু ছোট।দেখে বেশ ভারী মনে হচ্ছে।ভিতরে অনেক নকশা করা।দূর থেকেই সেটা বোঝা যাচ্ছে।অতো বছর আগের জিনিস এখনো নতুনের মতো!
ফাহাদ কলমদানীটা দেখে বলল,
-কালো রঙের জিনিস দিয়েও হিপনোটাইজ করা যায় নাকি?
নিলয় বলল,
-তুই রঙ না দেখে ভিতরের ডিজাইন গুলো দেখ।
-দেখলাম।
এই তুই এটাকে সামনে থেকে নিয়ে যা তো।
দেখে দাঁড়কাকের বাচ্চা মনে হচ্ছে।
-আচ্ছা।
নিলয় কলমদানী রেখে এসে বলল,
-কিছুই বুঝিসনি?
-না।
-আগে বল, ডিজাইন দেখার সময় মাথা ব্যাথা করছিলো?
-চোখ ব্যাথা করছিল।
-ওইতো।তাহলে খালি চোখে দেখলে তুই হিপনোটাইজড হয়ে যেতি।
-থাম তো।চশমা কত পাওয়ারের ছিল সেটা বল।
-কোনো পাওয়ারের না।এমনি চশমা।
তুই কিছুতেই বিশ্বাস করবিনা?
-না।
-আচ্ছা বাদ দে।তো অরবীর কাছে কবে যাচ্ছিস সেটা বল।
-মানে?আমি অরবীর কাছে কেনো যাব?অরবী আমার কাছে আসবে।
-কেনো? তুই কি ফেরোমন ছড়ায় রাখছিস নাকি,যে তোর সঙ্গী তোর কাছে ছুটে ছুটে আসবে?
-আমি কি কীটপতঙ্গ নাকি যে ফেরোমন,হরমন ছড়াবো? আমি তো বিনা গ্যাস ওয়ালা fogg পারফিউম মাখি।
-থাম তুই।সব বিষয়ে ফাজলামি।অরবীকে বলে দে।
-আরে কিযে বলিস।আমার লজ্জা লাগে না!
-শোন কোনো লজ্জা না।প্রথমে যেয়ে হাত দুটো ধরবি,যাতে তোর কথা শোনার পর তোকে চড় মারতে না পারে।তারপর ডিরেক্টলি বলে দিবি।
-উফ।আমার লজ্জা লাগছে।আমি এখন যাই।
ফাহাদ নিচে নামল।নিলয় বেলকনিতে দাঁড়াল। এখান থেকে রাস্তা দেখা যায়।
ফাহাদ গেট খুলে বের হলো।নিলয় ফাহাদকে ডাক দিয়ে বলল,
-পিছে তাকা।
ফাহাদ পিছে তাকালো।এটা কি করে সম্ভব! নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না।সে ভাবতেই পারেনি এমন কিছু দেখবে।একটা পরী হেঁটে আসছে।যতই কাছে আসছে ততই ফাহাদের হার্টবিট বেড়েই যাচ্ছে।কি অসহ্যকর অনুভূতি! এমন কেনো হয় মেয়েটাকে দেখলে? পরীটা অরবী।ওদিক থেকে নিলয় ক্রমাগত বলেই যাচ্ছে,বল,বল,আজ তোকে বলতেই হবে।
অরবী ফাহাদকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো।ফাহাদ বার বার নিলয়ের দিকে তাকাচ্ছে।আর পারলনা নিজেকে সামলাতে।ডাক দিল,
-অরবী....
অরবী ডাক শুনে দাঁড়িয়ে পড়ল।ফাহাদ অরবীর কাছে আসলে অরবী বলল,
-জ্বী,বলেন।
-আ মানে...
ফাহাদ নিলয়ের দিকে তাকালো। সে বেলকনিতে পিছন ঘুরে দাঁড়িয়ে আছে।অসহ্য ছেলে কোথাকার!
-হ্যা বলেন।
ফাহাদ নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
-রাস্তায় বড় ভাইদের দেখলে সালাম দিতে হয় জানোনা?
-জানি।তো?
ফাহাদ মেয়েটির উত্তর শুনে হকচকিয়ে গেলো। আর বলল,
-আমাকে দিলা না কেনো?
-আপনি তো আমার দিকেই তাকিয়ে ছিলেন।আমি ভাবলাম আপনি সালাম দিবেন।তারপর যদি আমি সালাম দিতাম তাহলে ঠোকাঠুকি লেগে যেত না?
-মানে কি?শ শুনো মেয়ে,এবার থেকে তুমি সালাম দিবা।বুঝছ?
-হুম।
-আচ্ছা যাও।এই টাইমে বাইরে কেনো?ব বাসায় যাও।
-যাচ্ছি।কিন্তু আপনি তোতলাচ্ছেন কেনো?
-কই ত তোতলাচ্ছি?ব বাসায় যাও।বাসায়।
-ঠিক আছে।
অরবী চলে যাচ্ছে।ফাহাদ বেলকনির দিকে হতাশ দৃষ্টিতে তাকালো।নিলয় ফাহাদের দিকে তাকিয়ে জোরেসোরে থু করে থু মারলো।
আর অরবীকে চিৎকার করে ডেকে বলল,
-অরবী...ফাহাদ তোমাকে কি যেন বলবে।
অরবী দাঁড়াল। ফাহাদের দিকে একবার তাকালো। ও ফাহাদের কাছে আসছে।ফাহাদের অবস্থা খারাপ।হৃৎপিন্ডটা বের হওয়ার উপক্রম।আবার সেই অসহ্য অনুভূতি!
ফাহাদ এবার দুই হাত মুঠো করে বুক ভরে শ্বাস নিল।মনকে শক্ত করল।যা হওয়ার হবে।কিন্তু আজ সে বলেই ছাড়বে।
অরবী কাছে এসে বলল,
-বলেন কি বলবেন।
ফাহাদ আবার জোরে একটা শ্বাস নিল।সে প্রস্তুত। নিলয় উৎসুক দৃষ্টিতে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে।একটা উত্তেজনাপূর্ণ মূহুর্ত।কিছু একটা হতে চলেছে।
ফাহাদ অরবীর চোখে চোখ রেখে,বুক ভরা সাহস নিয়ে,তাকে বলল,
-কেমন আছ?
-ভালো।
-তো আমি যেটা বলতে যাচ্ছি...
-হ্যা বলেন।
-সেটা হলো,তুমি কাউকে ভালবাস?
-হুম।
ফাহাদ নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।এটা কি শুনছে সে!সে যতটা অস্বাভাবিক,মেয়েটা ততটা স্বাভাবিক কিভাবে!ফাহাদ গলার সুরটা নিচু করে বলল,
-কাকে?
-সবাইকে!
-মানে?
-মানে বাবা,আপু,নবনি।আমার বান্ধুবিদের আরও অনেককে।এমনকি আপনাকেও ভালবাসি।হোমোসেপিয়ান্স হিসেবে।
-আল্লাহ!আই মিন স্পেশাল কাওকে?
-হুম।আপু আর বাবাকে স্পেশালি ভালবাসি।
-এই মেয়ে,ফাজলামি করো আমার সাথে?আমি কি বলছি বুঝ নাই?বলছি বয়ফ্রেন্ড আছে বয়ফ্রেন্ড?মানুষের মতো দেখতে,সারাক্ষণ প্রেম প্রেম কথা বলে।আছে ওরকম কেও?
-না।
-ও।তো আমি কি হতে পারি?
-কি?
-ওইটা।
-কোনটা?ও ওইটা?
হ্যা পারেন।কিন্তু একটা শর্ত আছে।
ফাহাদ কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেনা।এত সহজে রাজি হয়ে গেল!কি বলে এই মেয়ে!আবার কিসের শর্ত!ফাহাদ কিছুটা হকচকিয়ে গিয়ে বলল,
-হ্যা বলো।কি শর্ত?
-আপনার ব্রেনটা আমাকে দিবেন?খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে দেখবো। আমার অনেক শখ একটা ব্রেন হাতে নিয়ে দেখার।প্রথমে নবনির সাথে Catch Catch খেলবো।তারপর খোঁচাবো।টেনশন করবেন না।আপনার ব্যাথা লাগবেনা।আপনাকে অজ্ঞান করে তারপর মাথা ফাটাবো। কিন্তু আপনি পরে বাঁঁচবেন কিনা এটা টেনশনের বিষয়।গ্যারান্টি দিতে পারছিনা।রাজি?
ফাহাদ অরবীর দিকে তাকিয়ে আছে।কি সাংঘাতিক কথা!বয়ফ্রেন্ডের ব্রেন নিয়ে catch catch খেলবে!পাগল নাকি?রাগে মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে।ফাহাদ আর পারলনা সামলাতে।ঠাটিয়ে মেয়েটার গালে একটা চড় বসিয়ে দিল।আর চিৎকার করে বলল,
-ফাজলামি হচ্ছে আমার সাথে?আমার ব্রেন নিয়ে catch catch খেলবা?শুনো মেয়ে,এস এস সি পরীক্ষার প্রথম দিন তোমাকে করবীর সাথে দেখেছিলাম।তারপর থেকে সব পরীক্ষাগুলা গেছে।তিন ৩ টা বছর ধরে তোমার পিছে লেগে আছি।তোমার স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম।তোমাকে ফলো করতাম।কিছুই বোঝোনি এতদিনে?নাটক করো?নিজেকে কি বিশ্বসুন্দরি মনে করো নাকি?সালার সাইকো একটা।আমার ব্রেন খোঁচাবে!এই শোন,আমার দিকে তাকাও,আমার দিকে।তোমার মতো এরকম মেয়ে আমার পিছে অনেক ঘুরে বেরায়।ইচ্ছা হলেই.....থাক।যত্তসব নাটকবাজ জোটে আমার কপালে।
ফাহাদ কথাগুলো একনিঃশ্বাসে বলে উল্টোপথে হাটা দিল।অসাধারণ একটা ফিলিংস কাজ করছে তার ভিতর।নিজেকে হালকা হালকা লাগছে।রাস্তার লোকজন সব তাকিয়ে আছে।মেয়েটাকে চড় মারতে পেরে ভালই লাগছে।মেয়েদের গাল এত নরম হয় আগে জানলে সারাদিন ফাইজুকে থাপড়াতো।কাওকে টাইট দিতে পেরে এত শান্তি লাগে!রাস্তার কেও কি নেই তার প্রশংসা করার জন্য?অরবীর অবস্থা একবার দেখলে হত!নিশ্চয় অবাক দৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।ফাহাদ পিছে ঘুরলো। কিন্তু সে যেটা দেখলো,সেটা দেখার জন্য সে মোটেই প্রস্তুত ছিলনা।
মেয়েটা বামগালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে!অরবীর মতো একটা মেয়ে কাঁদছে! এটা একদম ঠিক হলোনা।ফাহাদের ইচ্ছা হচ্ছে,তার কাছে গিয়ে বলতে,
তুমি কেঁদো না।প্লিজ কেদোনা।আমি তোমাকে কাঁদাতে চাইনি।বিশ্বাস করো!অনেক ব্যাথা পাইছো তাইনা? আর হবেনা।প্লিজ কেঁদোনা।প্লিজ।আচ্ছা তোমার ব্রেন লাগবে তাই তো?সমস্যা নেই।আমি ফাইজুর বিড়ালকে মারার পর ওর ব্রেন তোমাকে দিয়ে যাব।তখন যা ইচ্ছা তাই করো।আমার সাথেও catch catch খেলতে পারো।আমি ভাল catch করতে পারি।কিন্তু প্লিজ কেঁদোনা।আমার খুব খারাপ লাগছে।জানো,এতটা খারাপ কোনোদিন কারো জন্য লাগেনি।সরি!
নিজের অজান্তেই ফাহাদের চোখ ভিজে উঠলো।সে জানে কখনোই অরবীকে সে এই কথাগুলো বলবেনা।
চলবে....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now