বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
শুক্র গ্রহ: নীল এবং ছোট মামা
"বিজ্ঞান " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)
X
লেখক: বিজ্ঞান প্রিয় হৃদয় [MH2]
ঈদের ছুটিতে নীলের ছোট মামা নীলদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে।নীল খুব খুশি,কারণ তার মামা তাকে সুন্দর সুন্দর গল্প শুনান প্রতিবার।এবার যেহেতু মামা এসেছে সুতরাং নীলও নতুন নতুন গল্প শুনতে পারবে।তাই ওর খুশির কোনো সীমা নেই।
নীলের ছোট মামা মানে জনাব কামরুজ্জামান হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর জোতির্বিদ্যা বিভাগের লেকচারার। নীলের মা মানে রাবেয়া খাতুন হলো ওনাদের একমাত্র বোন,ভাইবোনদের সবার ছোট হলেন রাবেয়া খাতুন,তাই ওনার আদর যত্নও অনেক বেশি।তাই আদরের ছোট বোনের বাড়িতে তিনি ছুটি পেলেই বেড়াতে আসেন।নীল তার একমাত্র ভাগনে,ক্লাস ৫ এ পড়ে,খুব গল্প শুনতে ভালোবাসে,তিনি জানেন,তাই খুশিমনে সবসময় গল্প শুনান।
ছোট মামা নীলের টেবিলে বসে সৌরজগত সম্পর্কে একটা একটা বই পড়ছিলেন।নীল তাকে পেছন থেকে ডাক দিল,,,
নীল: ছোট মামা কী বই পড়ছ???
মামা: এইতো সৌরজগত নিয়ে একটা বই পড়ছি।সৌরজগত কী বল তো???
নীল: সূর্য,গ্রহ,উপগ্রহ,গ্রহাণু আরও মহাকাশের অন্যান্য বস্তু যারা সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে তাদের নিয়ে যে সৌরপরিবার গঠিত তাকে সৌরজগত বলা হয়।তুমি বলেছিলে,আমার মনে আছে।আমার উত্তর সঠিক হয়েছে???
মামা: হ্যা,সঠিক উত্তর দিয়েছ,তবে বড় হয়ে আরও গুছিয়ে সংজ্ঞা বলতে পারবে।চলো তোমায় সৌরগত সম্পর্কে কিছু কথা বলি।
চেয়ার এবং টেবিল ছেড়ে এখন খাটে বসলেন ছোট মামা।নীলও ওনার সাথে খাটে বসল।
মামা:প্রথমে বল তো সৌরজগতের গ্রহ কয়টি???
নীল: সৌরজগতে ৮ টি গ্রহ আছে,এগুলো হলো বুধ,শুক্র,পৃথিবী, মঙ্গল,বৃহস্পতি,শনি,ইউরেনাস আর নেপচুন।
মামা: আচ্ছা কোন গ্রহ সম্পর্কে তুমি জানতে চাও???
নীল কিছুক্ষণ ভাবল।তারপর বলল,
নীল: মামা শুক্র গ্রহ সম্পর্কে বল।এটা সম্পর্কে জানতে চাই।
মামা: সৌরজগতে যে আটটি গ্রহ আছে তাদের মাঝে শুক্র হলো দ্বিতীয়, শুক্র এবং পৃথিবীর আকার কাছাকাছি,যদিও শুক্র কিছুটা ছোট।ভবিষ্যতে তোমার যে তথ্য লাগবে পড়াশোনার সময় তা হলো: শুক্রের ব্যাস ১২১০৪ কি.মি. এবং ভর হলো ৪.৮৭❌ ১০^২৪।সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ১০.৩ কোটি কি.মি.,অভিকর্ষ থেকে মুক্তিবেগ প্রতিসেকেন্ডে ১০.৪ কি.মি.।
নীল: মামা এসব কী হিসাব??? আমার তো মাথায় আসছে না।
মামা: বড় হয়ে যখন বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করবে তখন এইসব বুঝবে।
নীল: মামা,পৃথিবী থেকে শুক্র কত দূরে???
মামা: পৃথিবী থেকে শুক্রের গড় দূরত্ব ৪.৩ কোটি কি.মি.।
নীল: এতো দূরে???তাহলে ওখানে মানুষ যায় কিভাবে???
মামা: হ্যা,অনেকটাই দূরে,তবে সবচেয়ে কাছের গ্রহ কিন্তু শুক্রই।আর সেখানে তো মানুষও যেতে পারে না,মানুষের পাঠানো রকেটও ৪ ঘন্টার বেশি সেখানে টিকে নি।কারণ অনেক চাপ সেইখানে।সেখানে কার্বন ডাই অক্সাইডও প্রচুর ,প্রায় ৯৬%,অক্সিজেন মাত্র ০.৪ ভাগের মতো,তাই শ্বাস না নিয়ে মরতে হবে।আবার তাপও প্রচুর,এর নিচের তাপমাত্রা ৭৫০ কেলভিন মানে ৪৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মতো।তাই সেখানে যাওয়া যায় না।আচ্ছা নীল তুমি কি জান শুক্রের নাম কী করে শুক্র হলো??? আর এটার কয়টা নাম???
নীল: না তো মামা,জানি না।বল মামা আমি জানতে চাই।
মামা: তোমার এই জানতে চাওয়ার কৌতুহলটা আমার প্রিয়,ছোট থাকতে আমিও জানতে চাইতাম এইভাবে,তোমার নানা আমায় তখন উত্তর দিতেন।শুক্রের নাম হয়েছে অশুরদের সর্দার শুক্রাচার্য এর নাম থেকে আর তার দিনের নামে নাম হয়েছে শুক্রবার।
নীল: ইংরেজিতে নাকি একে ভিয়াস বলে,কেন বলে???
মামা:ভিয়াস না ইংরেজিতে একে ভিনাস বলে।এটা নাম হয়েছে রোমান সৌন্দর্যের দেবী ভিনাসের নামে,ভিনাস হলো ভালকানের স্ত্রী এবং দেবপুত্র কিউপিড এবং দেনিয়াসের মা।এগুলো তাদের পুরানের কথা।আবার অনেকে একে সিথারিয়ান বলে,এটার কারণ হলো সৌন্দর্যের দেবী আফ্রোদিতির অপর নাম হলো সিথারিয়ান।চাইনিজ, জাপানি, কোরীয় এরা বলে ধাতব তারা।
নীল: মামা শুক্রেও কি চাঁদ আছে??? আর সেখানে কি বৃষ্টি হয়???
মামা: না, শুক্রে কোনো চাঁদ নাই।আর সেখানে বৃষ্টি হয় কিন্তু পানির নয় সালফিউরিক এসিডের বৃষ্টি হয় সেখানে,সেই বৃষ্টিও মাটিতে পড়তে পারে না প্রচন্ড তাপের কারণে।সালফিউরিক এসিডের মেঘ ভূ পৃষ্ঠ থেকে ৪৮ থেকে ৫৮ কি.মি. উপরে অবস্থান করে।মাটিতে পড়ার আগেই কিন্তু এই বৃষ্টি বাষ্প হয়ে যায়।আরেকটা মজার বিষয় আছে শুক্রের।
নীল: কী সেটা মামা???
ছোট মামা বালিশটা টেনে শুয়ে পড়লেন এবং চোখটা বুজে বলতে শুরু করলেন,
মামা: শুক্র গ্রহের দুইটা বিষয় অন্য গ্রহগুলো থেকে আলাদা,যেমন শুক্র গ্রহ ঘুরে পূর্ব থেকে পশ্চিমে,মানে সূর্য পশ্চিমে উঠে পূর্বে অস্ত যায়।আবার শুক্রের একদিন হলো ২৪৩ দিনের সমান,আর এক বছর হলো ২২৫ দিনে।ফলে এক বছরের চেয়েও এক দিন অনেক বড়।
নীল: উল্টো দিকে কেন ঘুরে???
মামা: ধারণা করা হয় কোনো গ্রহাণু বা গ্রহের সাথে এর সংঘর্ষ হয়েছিল,তবে সেই আঘাতকারী বস্তুর আকার ছিল চাঁদের সমান।তাই হয় তো কক্ষপথ অন্যরকম।আর আবহাওয়া আলাদা।আর ওইখানের ঋতু আমাদের পৃথিবীর ঋতু থেকে দীর্ঘ,কারণ ধীর আবর্তন গতি।
নীল: অনেক আলাদা গ্রহ তো।আচ্ছা মামা তাহলে তো বছর ওইখানে আমাদের চেয়ে কম সময়ে হয় কিন্তু দিন অনেক বড়।
মামা: হ্যা,দিন অনেক বড়।শুক্রের দুটি প্রতানের মধ্যবর্তী চক্র হলো ৫৮৫ দিন।
নীল: প্রতান কী???
মামা: সূর্য থেকে কোনো গ্রহের কৌণিক দূরত্বকে প্রতান বলা হয়।আচ্ছা তুমি জান আগে মানুষ এই গ্রহ নিয়ে অন্যরকম ভুল ধারণা করত???
নীল: না মামা,আগের মানুষ কী ধারণা করত???
মামা: আগে মানুষ মনে করত শুক্র পৃথিবীর জমজ বোন,কারণ আকার প্রায় কাছাকাছি।লেখক বা বিজ্ঞানীরা ভাবত সেখানে ঘন জঙ্গল আছে,সবসময় মেঘ ডাকছে আর বৃষ্টি হচ্ছে।অনেক বিজ্ঞানী ভাবত সেখানে সাগরও আছে।কিন্তু পরে দেখা গেল সেখানে এসব কিছু নাই।জঙ্গলের বদলে মসৃণ পাথর আছে।আর বৃষ্টিও মাটিতে পরে না,সব ভুল হলেও শুধু মেঘ ডাকাটা ঠিক আছে,আর আকার নিয় ধারণটা ঠিক।
নীল: মামা ওই গ্রহে এতো তাপের কারণ কী???
মামা: ভালো প্রশ্ন,ওইখানে কার্বন ডাই অক্সাইড শতকরা ৯৬ ভাগ,কার্বন ডাই অক্সাইড এমন একটা গ্যাস যা তাপ ধরে রাখতে পারে।কাঁচের ঘরে যেমন তাপ আটকে থাকে তেমনি কার্বন ডাই অক্সাইডও তাপ ধরে রাখে।ফলে তাপ ভিতরে প্রবেশ করে কিন্তু বের হতে পারে না।ফলে তাপ বেড়ে যায়।তাই শুক্র গ্রহের তাপ এতো বেশি।এটা থেকে পৃথিবীবাসীদের জন্যও একটা শিক্ষা আছে।
নীল:কী শিক্ষা মামা???
মামা: এটা থেকে শিক্ষা হলো কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।যদি আমরা কার্বন তাই অক্সাইড উৎপাদন বন্ধ না করি তাহলে পৃথিবীরও ঠিক শুক্রের মতো দশা হতে পারে।তাই পরিবেশ দূষণ বন্ধ করা উচিৎ।
নীল: শুক্রকেই তো আমরা সন্ধ্যার সময় সন্ধ্যা তারা আর ভোর বেলা শুক তারা বলি।তাই না???
মামা: হ্যা,আমরা এই দুই নামে মূলত এক গ্রহকেই ডাকি।তবে তারা বলা হয় প্রাচীনকালের ধারণা মতে।কারন লোকেরা তখন এটাকে তারা ভাবত।আরও একটা নামে এই গ্রহকে ডাকে।সকাল বেলা যখন এই গ্রহটি উদয় হয় তখন তাকে কোনো কোনো সংস্কৃতিতে লুসিফার বা শয়তানও বলা হয়।আর আরেকটা কথা হলো,এই গ্রহটা কিন্তু মেঘে ঢাকা নরক।
রাবেয়া খাতুন: এই যে মামা ভাগনে,চলুন দুপুরের খাবারটা খাবেন চলুন।
মূলত দুপুরের খাবারের সময় হয়ে গেছে,তাই রাবেয়া খাতুন তাদের ডাক দিলেন।
মামা: চলো নীল,খাবার খেয়ে আসি।আজ সন্ধ্যায় আমরা এক সাথে বসে সন্ধ্যাতারা দেখব।
--------------০--------------
সমাপ্ত
[কেমন লাগল আমার এই গল্পটি??? বিভিন্ন জায়গা থেকে যে অল্প জ্ঞান অর্জন করেছি তা গল্প আকারে সকলের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলাম।কতটুকু সফল হলাম তা জানি না,তবে পাঠকরা চাইলে অন্য গ্রহগুলো নিয়েও লিখতে চাই]
বি.দ্র.: যথেষ্ট পরিমান সময় এবং মেধা ব্যায় করে গল্পটা লিখেছি,তাই আমার নাম ছাড়া কপি করবেন না।
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now