বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভুত-১(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)

"ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Niloy (০ পয়েন্ট)

X কিরে ছোট কাঁদছিস কেনো? -ভাইয়া ভয় পাইছি! -এই দিবালোকে আবার ভয় পাইলি কি দেখে? -ঐ পাশের গ্রামের কাকুর লাশ দেখতে গেছিলাম। -ধুর পাগল! লাশ দেখে আবার কেউ ভয় পায়! . গ্রামে এই প্রচলনটা একটু বেশিই,যদিও কেউ কারো আত্মীয় নয় তবুও কেউ মারা গেলে শেষবারের মত দেখার জন্য ছুটে যায়। . বিষয়টা তেমন মাথায় নিলামনা,কিছুক্ষন পর দেখি দুজন ফ্রেন্ড আমার কাছে আসল... -এ তোরা কই যাস? -দোস্ত তোর কাছেই আসলাম,চল লাশটা দেখে আসি। -না তোরাই যা,আমি যাবোনা। -আরে চলনা! যে দেখতে গেছে সেই নাকি ভয় পেয়েছে। তোরতো আবার সাহস বেশি,তুই দেখে যদি ভয় না পাস তাহলে আমরাও দেখবো,আর যদি তুইও ভয় পাস তাহলে আমরা দেখবোনা। -ঠিক আছে চল..... . গত তিন দিন আগে কারেন্ট এ শক খেয়ে উনি মারা গেছেন। এ কয়দিন পুলিশের কাছে ছিল লাশটা,আজকে বাসায় নিয়ে এসেছে দাফন করার জন্য। . অবশেষে ফ্রেন্ডদের বাহিরে রেখে আমি ভিতরে প্রবেশ করলাম লাশটা দেখার জন্য,দু তিনজন আমাকে নিষেধ ও করেছিল না দেখার জন্য। . আসলে এটাই সত্য,আমি কোনো কিছু ভয় করিনা। তাই ওদের কথাটাকে এড়িয়ে সাহস করে এগিয়ে যাই। । . যা দেখলাম,এতে কোন মানুষ ভয় না পেয়ে থাকার কথার না। উনার দেহটা ফুলে এত বড় হয়েছে যেন তিনজন মানুষকে একসাথে বেঁধে রাখা হয়েছে। . আর এমন একটা গন্ধ বের হচ্ছে যা সহ্য করার মত নয়। দেখে আমার কলিজাখানাও নাড়া দিয়ে উঠল,এটা আমি কি দেখলাম! এতটা ভয় আগে কখনো পাইনি যতটা ভয় আজকে পাইলাম এই লাশটা দেখে। . আমি বন্ধুদের কাছে এটা আড়াল রাখলাম কারন ওদের কাছে আমি একজন সবচেয়ে সাহসী মানুষ। . -দোস্ত কি দেখলিলি,ভয় পাইছস? -ধুর হ্লা! আমি আবার ভয় পাই নাকি! লাশতো আর ভুত-পেত্নী না যে,দেখে ভয় পাবো। তোরা থাক আমি যাইই,কাজ আছে একটু। . রাতে খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিয়ে বাতিটা অফ করে শুয়ে পড়লাম। হঠাৎ করেই পুরো শরীরটা ঝাকি দিয়ে উঠল। যে মানুষটাকে দাফন করা হয়েছে সে মানুষটা দাড়িয়ে আছে আমার সামনে! এটা কেমনে সম্ভব! . যেদিকেই দৃষ্টি দেই সেদিকে শুধু ওনাকেই দেখতে পাই ওনার লাশটা যে রূপ ধারন করেছিল ঠিক সেই আকৃতিতে। . উনি বারবার আমাকে হাত ইশারা করে ওনার দিকে ডাকছিল।সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়টা হল,ওনার পরনে ছিল সাদা কাপড় যে কাপড়ে ওনাকে দাফন করা হয়েছে। . আমার শরীর থরথর করে কাঁপছে,বাতিটা জ্বালাবো এ শক্তিটাও আমার মাঝে নাই। ভয়ে একটা চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। . সরাটা রাত অচেতন অবস্থায় ছিলাম,আব্বু আম্মু পাশে বসে রাত কাটিয়েছে। . সকাল নয়টার পরে জ্ঞান ফিরে পাই,তবুও কেমন যেন শরীরটা কাঁপছে। কারন,গতরাতে আমার সাথে যা হয়েছে তা ভুলে যাওয়ার মত নয়। . অতঃপর এক আলেম এর নিকট সমার্পন হলাম...... । হুজুরের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী বেশ ভালই ছিলাম কয়েক মাস। . সময়টা ছিল শীতকাল,চাঁদনি রাতে বন্ধুদের সাথে কয়েকদিন পর পর আড্ডা দেয়াটা একটা অভ্যাসে রূপ নিয়েছে। . রাত তিনটার দিকে এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে বাসায় ফিরছিলাম।ক্ষিদেও লেগেছে অনেক। রাস্তার পাশে অনেক খেজুর গাছ ছিল এবং কিছু কিছু গাছে রসও লাগানো ছিল। . বন্ধুকে বললাম দাড়া রস খাব।তুই নিচে দাড়িয়ে থাক আমি গাছে উঠি... . দুষ্টামিতে ছিলাম পরিপক্ব,যদিও আমার জীবনে ভয়াবহ দিন গেছে তবুও সাহসটা যেন কমে যায়নি। . কনকনা শীত,এর মাঝেই গাছে উঠলাম সেই রাত তিনটার সময়। পাতিলটা মুখে দিয়ে একটু রস পান করে পাতিলটা নিয়ে নিচে নামবো বাট নিচে চেয়ে দেখি খেজুর গাছের গোড়া নাই। . আমার ফ্রেন্ডটাকে ঠিকমতই দেখতে পাচ্ছি ও নিচে দাড়িয়ে আছে বাট গাছের গোড়া উধাও! . বুঝতে পারছি যে কাহিনীটা কি হচ্ছে। আমার সাথে শয়তানি করোস!খাড়া দেখাচ্ছি মজা.এইটা বলে পাতিলটা নিচে ফেলে দিয়েছি.....যেন ভুতের মাথায় গিয়ে পরে। (চলবে............)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now