বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভালোলাগা নাকি ভালোবাসা[পর্ব ২]

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:রোমান্টিক হৃদয়[MH2] তরীর সংস্পর্শে এসে গম্ভীর ছেলে আকাশও আজকাল প্রচুর হাসিখুশি হয়ে গেছে।তরীর মতো ও এখন প্রচুর কথা বলে।ছোটবেলা থেকে হওয়া সঙ্গীহীনতার কারণেই যে ও এতোকাল মনমরা থাকত তা এখন প্রমাণিত হয়েছে।সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় তাদের যেতে হলো ছাদ থেকে।এভাবেই চলছে আকাশ এবং তরীর বন্ধুত্ব। ছয় মাস পর,,, তরী এবং আকাশ এখন নিয়মিত একজন আরেকজনের ফ্ল্যাটে আসা যাওয়া করে।ওদের বাবা মায়ের মাঝেও বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয়ে গেছে।ইংল্যান্ডের মতো বিদেশী দেশে এসে বাঙ্গালিদের সংস্পর্শ তো সকল বাঙ্গালির কাছেই ভালো লাগে।তাই তারা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবার হয়ে গেছে।তরীকে আকাশের বাবা মা নিজেদের মেয়ের মতোই স্নেহ করে।করবেই না কেন??? তরীর সংস্পর্শে আসার পরই তো তাদের গম্ভীর ছেলেটা হাসিখুশি হয়েছে,তরীর হাসি খুশি মুখ আর দুষ্টুমি করা সব কিছুই তো তাদের ভালো লাগে।তরীর বাবা মা ও আকাশকে নিজেদের ছেলের মতো ভাবে।এতো শান্তশিষ্ট আর ভদ্র ছেলেকে তো সবাই পছন্দ করে।অবশ্য ওর শান্তশিষ্ট স্বভাবের জন্য ওকে তরীর ক্ষেপানোও সহ্য করতে হয়।তরী ওকে প্রায়প্রতিদিনই ক্ষেপাশ শান্তশিষ্ট লেজ বিশিষ্ট গরু তুই।ও এই কথাটা তো বলাই হয় নি, এই ছয়মাসে তরী আর আকাশের সম্পর্ক এতো ঘনিষ্ট হয়েছে যে এখন তারা একে অপরকে তুই করে বলে।নিয়মিত স্কুলে একসাথে যাওয়া আসা করে,টিফিনের সময় একসাথে খায় এবং গল্প করে।তরী মিশুক বলে তার বন্ধু বান্ধবের অভাব নেই।কিন্তু আকাশের শুধুমাত্র একটাই বন্ধু,আর সে হলো তরী।তরী তাকে ছেড়ে অন্য কারও সাথে কথা বলুক এটা কেন যেন তার ভালো লাগে না।একদিন টিফিন টাইমে তাই তরীকে ডেকে বলেই ফেলল,,, আকাশ:::তরী,তুই অন্যদের সাথে কথা বলিস এটা আমার ভালো লাগে না,প্লিজ আমার সাথে কথা বল।আর কারও সাথে না। তরী :::কেন অন্যদের সাথে কথা বললে বুঝি বাবুর রাগ হয়??? আকাশ::: হুম। তরী::: তা রাগটা কেন হয় জানতে পারি??? আকাশ::: জানি না,তুই আমার একমাত্র বন্ধু,তুই আমাকে ছাড়া কারও সাথে কথা বল এটা আমি মানতে পারি না। তরী: কেন??? ভালোবাসিস নাকি আমায়??? হি হি হি বলেই তরী হাসতে লাগল,সে মজা করে কথাটা বলেছে। আকাশ::: ভালোবাসি কিনা জানি না,তবে অন্যদের সাথে কথা বলিস এটা কেমন যেন লাগে। তরী যদিও মজা করে ভালোবাসার কথা জিজ্ঞেস করেছিল কিন্তু আকাশের মনে কথাটা গভীর ভাবে আটকে গেল।সে এটা নিয়ে ভাবতে লাগল।মানুষ মাত্রই কৌতুহল এবং আগ্রহ নিয়ে তার জন্ম হয়।মনের মাঝে কখনও অসাধারণ কথাও দাগ কাটে না আবার কখনও সাধারণ একটা কথাও মনে স্থান পায়।ভালোবাসার কথাটিও এমন,যদি কেউ বলে ভালোবাসি বা আমায় ভালোবাাস কিনা,তখন তাকে ভালো না বাসলেও মনে অন্তত একটা চিন্তা হলেও আসে।তেমনি আকাশের মনে এই ভালোবাসার কথাটাও দাগ কাটল।সে ভাবতে লাগল,তরী আসার পর থেকেই আমার জীবনে নতুন রকম শুরু হয়েছে,ও কি সত্যিই আমার ফ্রেন্ড নাকি আমার ভালোবাসা।তার প্রতি আমার যে টান সেটা কি ভালোলাগা নাকি ভালোবাসা,সে সঠিক এবং নিশ্চিত কোনো উত্তর পায় না।তবুও সে ভাবতে থাকে।পুরো একটা সপ্তাহ সে এটা নিয়ে ভাবল,তরীর হাসি এখন যেন তার কাছে আরও অন্যরকম ভালোলাগে,তার কথা বলা যেন আরও মধুর লাগে,সবসময় তার কথাই তার মনে পরে।পুরো এক সপ্তাহ ভাবার পর সে অন্তত এটা বুঝতে পারল তরীর মত না জেনে কিছু ভাবা ঠিক হবে না।তাই সেদিন বিকেলে স্কুল হতে ফিরে যখন ছাদে গেল,দেখল তরী তার আগেই দোলনায় বসে আছে।সে ভাবল তার সম্পর্কে তরীর ধারণা জানতে হবে।তাই গিয়ে বসল তরীর পাশে, আকাশ:::কীরে তরী,কী ভাবছিস,এতো ভাবলে তো বুড়ি হয়ে যাবি। তরী:আমি বুড়ি হবো না,হলেও তোর কী??? আকাশ:তোকে একটা বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে চাই,বলবি??? আর কথা দে রাগ করবি না। তরী: রাগ করব কেন??? আমি কি আমার বন্ধুর উপর রাগ করতে পারি???বল আকাশ: তুই ওইদিন কেন বলেছিলি যে আমি তোকে ভালোবাসি কিনা??? তরী:ওইদিনের ওইটা,আরে ওইটা তো মজা করেই বলেছিলাম,তুই সিরিয়াসলি নিয়েছিস,কেন ভালোবেসে ফেলেছিস নাকি আমায়??? বলে আবারও তরী হাসতে লাগল,আর আকাশ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তরীর হাসি দেখে যাচ্ছে। তরী: কী হলো??? কিছু বলছিস না কেন??? আকাশ কিছু বলতে যাবে তার আগেই রিহা হাজির।রিহার বয়ড মাত্র চার বছর,কিন্তু দুষ্টুমিতে তরীর চেয়েও কয়েক ধাপ এগিয়ে আছে রিহা।রিহা চকলেট খুব ভালোবাসে,আর আকাশকে সে বলে রেখেছে যেন নিয়মিত তাকে চকলেট দেয়, না দিলে তরী আপুর সাথে কথা বলতে দিবে না বলেই হুমকি দেয়।আকাশের মাঝেমাঝে মনে হয় এই ছোট বয়সেই ব্ল্যকমেইল বা হুমকি দেওয়া শিখে গেছে ও, তাহলে বড় হলে কী করবে খোদাই জানে। রিহা এসে আকাশ এবং তরীর মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় এসে বসল। রিহা: আক্কু আমাল জন্য তকলেত আনত??? আকাশকে আক্কু বলে ডাকে রিহা,আকাশেরও হাসি পায় এ নাম শুনলে।পকেট থেকে চললেট বের করল,আর রিহার গাল টেনে বলল, আকাশ: রিহামনি এবাল খুতি হয়েত??? জবাবে রিহা কিছু না বলে চকলেট মুখে দিয়ে হাসে।এই ছয়মাসে রিহারও আকাশের সাথে ঘনিষ্ট বন্ধুত্ব হয়ে গেছে।আকাশ ওকে ছোট বোন মনে করে।রিহা,আকাশ আর তরী মাঝেমাঝে একসাথে খেলে।আজ রিহা তাদের মাঝে বসে নিজের মতো কোলাহল শুরু করল।যার ফলে ভালোবাসার কথা চাপা পড়ে গেল। আকাশের মাঝে সবসময় ভালোবাসা এবং ভালোলাগার পার্থক্যের দ্বন্দ্ব লেগেই থাকল।তার একবার মনে হয়য় আমি তাকে ভালোবাসি,আবার কখনও মনে হয় এ বয়সে ভালোবাসা খুব একটা হয় না,এ বয়সে যা হয় তা ভালোলাগা।তবুও তার এ সন্দেহ কখনও কাটে না।যা কিশোর বয়সে সবারই প্রায় সময়ই হয়। তরীরও যে আকাশের প্রতি কোনো অনুভূতি নাই এমন নয়।সেও আকাশকে ভালোবাসে।তবে আকাশের মতো তারও সন্দেহ আছে এই ব্যাপারে যে এটা কি ভালোবাসা নাকি ভালোলাগা।তবে সে মোটামোটি নিশ্চিত সে ভালোবাসে।মেয়েদের বুক ফাটে তবুও মুখ ফোটে না,এরকম একটা কথা প্রচলিত আছে, যার উজ্জল প্রমান হলো তরী। ওইদিনের পর আর এ বিষয়ে ওরা কথা বলে নি,পাছে ওদের সুন্দর বন্ধুত্বটাই না নষ্ট হয়ে যায়।তাই এভাবেই তাদের বন্ধুত্বটা চলতে লাগল ইংল্যান্ডের কিন্ডাল শহরের সেই স্কুলে ।প্রতিদিন এক সাথে স্কুলে যায়,টিফিন টাইমে ক্যান্টিনে বসে কথা বলা,বিকেলে ছাদের দোলনায় বসে থাকা, এক জন অন্যজনের দিকে মায়া ভরা দৃষ্টিতে তাকানো,এগুলোও চলছে।বাতাস এসে যখন তরীর চুলগুলো উড়ায়,তখন আকাশ তা মনোযোগ দিয়ে গভীর মায়ায় দেখে।দুজনেরর কথা বলা শেষ হয় না,কথাগুলো চলতেই থাকে।নতুন নতুন কথা সবসময় আসছে তাদের মাঝে।তবুও কোথাও যেন একটা অপূর্ণতা থেকেই যায় এতো কথার মাঝেও।এভাবে দেখতে দেখতে তাদের সেকেন্ডারী লেভেলের পড়া শেষ হওয়ার পথে।তাদের পরীক্ষাও চলে আসল, পরীক্ষার জন্য তাদের মাঝে কথাও কম হওয়া শুরু হলো।পড়াশোনায় দুজনই মন দিল। পরীক্ষার পর,,, পরীক্ষার পর আকাশ তার চাচার বাসায় যায়।মূলত তার ইচ্ছায় সে সেখানে যায় নি,বরং তার বাবা মায়ের জোরের কারণে গেছে সেখানে বেড়াতে।তার বাবা এবং চাচা দুজনই ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বাস করে।ছোট বেলা থেকে সবসময় চাচার বাসায় যাওয়ার জন্য আকাশ পাগল হয়ে থাকত।কারণ চাচার অনেক বড় ব্যাক্তিগত লাইব্রেরী আছে,সেখানে অনেক বই।আকাশ বরাবরই বই ভালোবাসে,আর সেখানকার পরিবেশও তার ভালো লাগে।কিন্তু এবার তার যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না,কারণ সে চায় তরীর সঙ্গ।কিন্তু যখন জানতে পারল তরীও তার ফুপুর বাসায় বেড়াতে যাবে শুনে ও বুঝল এখানে থেকে কোনো লাভ নেই,চাচার বাসায় যাওয়া যাক। আকাশ তার চাচার বাসায় বেড়াতে তো গেল,কিন্তু কোনো কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারছিল না ও।বই নিয়ে বসলে বইয়ের প্রতি কোনো মন আসে না,টিভি দেখার সময়ও তার কিছুই ভালো লাগে না।সে শুধু তরীকেই মনে করে,বারবার তার কথাই তার মনে পরে।সে এখন বুঝতে পারছে সে তরীকে ভালোবাসে,এটা একদম নিশ্চিত। ওইদিকে তরীও তার ফুপুর বাসায় এসেছে,তার ফুফাত বোন সারার সাথে সময় কাটাচ্ছে বা টিভি দেখছে,মজা করছে।কিন্তু তার সব মনোযেগের মাঝেও একটা লুকানো অমনোযোগ লক্ষ্য করা যায়,তার সব মজা এবং দুষ্টুমির মাঝেও একটা শূণ্যতা পরিলক্ষিত হয়।তরীও বারবার আকাশের কথা মনে করে।আকাশের প্রতি তার ভালোবাসা বেড়ে যায়,সে বুঝে গেছে এটা ভালোবাসা। সাতদিনের দিন আকাশের বাবা আকাশকে কল দেয়।আকাশকে তার বাবা যা বলে তা শুনে আকাশের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরে।তারবাবা জানায় যে আকাশের বাবা এবং মায়ের ট্রান্সফার হয়েছে কিন্ডাল শহর হতে ইয়র্ক শহরে।আর কাকতালীয় হলেও সত্যি যে তরীর বাবা মায়েরও ট্রান্সফার হয়েছে কিন্ডাল শহর হতে লিভারপুলে।ওনারা পর্যবেক্ষকের কাজ করেন,যার জন্য এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় দ্রুতই বদলি হতে হয়।এটা জানার পরে আকাশ কান্নায় ভেঙ্গে পরে।ওইদিনই ফিরে আসে তাদের সেই বাসায়।এসে দেখে তরীদের ফ্ল্যাট খালি।আকাশ তার বাবা মায়ের কাছ থেকে সে জানতে পারে তরী তাকে একটা চিঠি দিয়ে গেছে,চিঠিটা হাতে নেয় আকাশ।বেশি কথা লেখা নেই,শুধু লেখা আছ: প্রিয় আকাশ, তোমায় না জানিয়ে চলে যেতে হচ্ছে আমাকে,কারণ তুমি নেই।লিভারপুলে আমার বাবা মায়ের বদলি হয়েছে।ওখনকার বাসার ঠিকানা আমি জানি না,তাই বলতে পারলাম না।তোমায় সবসময় মনে করব,কখনও তোমায় ভুলতে পারব না।আমায় কখনও ভুলে যাবে না কথা দাও,আমি তোমার একমাত্র বন্ধু আমি ছিলাম,আছি আর সবসময় থাকব।তাই মন খারাপ করো না।আল্লাহ চাইলে আবার দেখা হবে আমাদের,তবে তা কবে তা জানি না। ইতি, তোমার বন্ধু তরী। তরী তার এই চিঠিতেও তার ভালোবাসার কথা বলতে পারে নি,আকাশ কী ভাববে এটা ভেবে।আকাশ চিঠিটা পড়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল।সারারাত সে ঘুমায় নি,শুধু কেঁদেছে,আর কম করে হলেও পঞ্চাশ বার সে চিঠিটা পড়েছে।তার মনে হচ্ছে তার হৃৎপিন্ড কেউ ছিড়ে নিয়েছে।তরীকে আর আকাশের ভালোবাসি বলা হলো না। ওইদিকে তরী যখন তার বাসায় এসেছিল তখন সে জানতে পারে ওইদিনই তাদের যেতে হবে,কারণ পরের দিন তার বাবাকে অফিস জয়েন করতে হবে।সে দ্রুত আকাশকে একটা চিঠি লিখে।ভালোবাসি বলতে গিয়েওও বলতে পারে নি সে।লিভারপুলে এসে তাদের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে উঠে ওরা।সারাটা রাস্তা তরী কান্না করেছে,রিহা তাকে সবসময় শান্তনা দিয়ে যাচ্ছে,ওইটুকু মেয়ে কী আর বুঝে,তবুও যতোটুকু বুঝে ততোটুকু দিয়ে শান্তনা দিতে লাগল তার বোনকে।সারারাত তরীও ঘুমাতে পারে নি।শুধু কান্না করে চলেছে সে। এভাবে ভালোবাসা শুরু হওয়ার আগেই তাদের ভালোবাসার মানুষ দুটোর দূরত্ব বেড়ে গেল। [কেমন লাগল??? আর পরে কী হয়েছে তা জানতে পরের পর্বের অপেক্ষা করুন।পরের পর্ব থেকে আসল রোমান্টিকতা শুরু হবে] চলবে,,, আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now