বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রাণের ভাষা বাংলা ভাষা

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাফায়েত হোসেন (০ পয়েন্ট)

X ১৯৫২ সালের ২১ এ ফেব্রুয়ারী তে আমি মিলন এবং আমার বন্ধু রুবেল আমরা দুজন ভাষা আন্দোলন এ যোগ দিয়েছি।১৪৪ ধারা ভেঙ্গে আমরা ঢাকার রাজপথে বেড় হয়েছি।মোহাম্মদ আলী জিন্নাহার ১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসে উর্দুকে রাষ্ট্রাভাষা করার দাবিতে আমরা না না বলে প্রতিবাদ করেছি।আমি ছিলাম সেদিন সেই ভাষণের সময় সাথে ছিল আমার বন্ধু রুবেল।আরো ছিল অনেক দেশপ্রেমি মানুষ যারা তাদের মাতৃভাষা বাংলা কে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।সবাই আমরা একসাথে প্রতিবাদ করেছিলাম সেদিন।তাতেও পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের কথার মূল্য দেয় নি।বাংলা ভাষাভাষি মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানিরা উর্দু কে আমাদের উপর চাঁপিয়ে দিতে চেয়েছে।কিন্তু আমরা তা মেনে নেই নি।আমাদের প্রাণের ভাষা আমাদের মায়ের ভাষা বাংলা কে ভূলে আমরা কেন উর্দু শেখবো।বাংলা কে ভূলে যাওয়া মানে নিজের মায়ে কে ভুলে যাওয়া।তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ভাষার জন্য আন্দোলন করবো।এতে যদি আমাদের মৃত্যুও হয় তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।আমাদের একটাই উদ্দেশ্য বাংলা ভাষা কে রাষ্ট্রভাষা করা।বাংলা ভাষা কে প্রতিষ্ঠিত করা।আমরা আলোচনা করলাম ২১ শে ফ্রেব্রুয়ারীর দিনে আন্দোলন করবো।সরকার আমাদের প্রতিরোধ করতে ১৪৪ ধারা জারী করলো।কিন্তু আমরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে আন্দোলন করতে করতে এগিয়ে গেলাম।আমি আর রুবেল ও আন্দোলনে করছি।আমরা দুইজন জোড়ে জোড়ে বলছি"রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই"।এর মধ্যে পুলিশ এসে আমাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদুনে গ্যাস ছুড়লো কিন্তু তাতেও আমাদের কিছু যায় আসে না।আমরা এগিয়ে যাচ্ছি আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি।হঠাৎ রকেট গতিতে একটা বুলেট এসে আমার বন্ধু রুবেল এর মাথায় গিয়ে লাগলো।সাথে সাথে রাস্তায় পড়ে গেল রুবেল।আমি রুবেলের দিকে তাকিয়ে দেখি রুবেলের মাথায় গোল হয়ে আছে।তার ভিতর থেকে বের হচ্ছে রক্ত।অবিরাম ধারায় রক্ত বের হয়ে যাচ্ছে।আর আমার বন্ধু আকশের দিকে তাকিয়ে আছে।সে আর বেঁচে নেই।নিজের মায়ের ভাষার জন্য সে প্রাণ দিয়েছে।এবার আরো একটা বুলেট ছুটে আসলো।তীব্র গতিতে গিয়ে আমার বুকে লাগলো।আমি তখন রুবেলের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।পিছন থেকে গুলিটা এসে আমার বুকে লাগলো।আমি পড়ে গেলাম।আমিও তাকিয়ে আছি আকাশের দিকে।আমার শরীর থেকে লাল টকটকে রক্ত বের হয়ে যেন রাস্তার মাঝে একটা নদী তৈরি করে দিয়েছে।আর সেই লাল রক্তের নদীতে ভেসে যাচ্ছে যারা আমাদের বাংলা ভাষার বিরোধিতা করেছে তারা এবং তার পাশে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করে আমদের বীর সন্তানেরা ভাষণ দিচ্ছে 'আমার প্রাণের ভাষা আমার মাতৃভাষা বাংলা'।এসব ভাবতে ভাবতে আমার মুখে একটু হাসি ফুটলো।আমার শরীর এ যেন ব্যাথা নেই।গুলি আমার শরীরে ক্ষত করেছে কিন্তু সেই ক্ষতের ব্যাথা আমার কাছে তুচ্ছ কারণ আমি আমার মাতৃভাষার জন্য আমার শরীরের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিতে পেরেছি।এবার আস্তে আস্তে আমার চোঁখের পাতা এক হয়ে আসছে।গভির ঘুম আমাকে ঘিরে ধরছে।যেই ঘুম থেকে আর কখনো জেগে উঠবো না।আবশেষে আমি ঘুমিয়ে গেলাম। তারপর................... ভাষা আন্দোলনে পুলিশের গুলি চালিয়ে ছাত্রদের হত্যার দাবিতে পুরো দেশে আন্দোলন আরো বেরে গেলো।এতে বিচলিত হয়ে গেলো পশ্চিম পাকিস্তানিরা।অবশেষে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম এবং ভাষার জন্য নিজ জীবন উৎসর্গ করা বীর সন্তানের আত্মত্যাগের ফলে পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়।পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তার সাথে আরো অনেক সংগ্রাম আন্দোলন এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালের মহান মুকিযুদ্ধে ৯ মাস যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি।বিশ্বের মানচিত্রে নতুন একটা দেশের আগমন ঘটে সেই দেশের নাম বাংলাদেশ।আর আমরাই বিশ্বে এক মাত্র দেশ যারা নিজ মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছি।এই গৌরব টাকে স্মীকৃতি দিতে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের একটি সংস্থা ইউনেস্কো ২১ শে ফ্রেব্রুয়ারীকে আন্তজার্তীক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।তারপর ২০০০ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী থেকে আজ পর্যন্ত এই দিনে বিশ্বের সকল দেশ তাদের নিজ মাতৃভাষা কে স্মরণ করে। এখন ২০২০ সাল।লাল সবুজের বাংলাদেশ সময়ের তালে তালে এগিয়ে চলছে হচ্ছে আধুনিক। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বা বাংলা ভাষা নিয়ে আমরা গর্ব করি।কিন্তু আজ হতাশার সুরে বলতে হচ্ছে বাংলা ভাষাকে আমরা ভালোভাবে রক্ষা করতে পারি নি।যেই ভাষার জন্য কিছু বীর সন্তানেরা রাজপথে তাদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে আর আজ সেই ভাষা কে উপেক্ষা করে আমরা ইংরেজী কে বেশি গূরুত্ব দিচ্ছি।ঘরে ঘরে চলছে ইংরেজী শেখার আয়োজন।ইংরেজী না জানলে আজ সবার কাছে ছোট হতে হয়।পাওয়া জায় না ভালো চাকরি।বর্তমান প্রেক্ষিতে হয়তো ইংরেজী শেখা জরুরি।হ্যা আমরা প্রয়োজনে ইংরেজী শিখবো।কিন্তু তার প্রয়োগ টা করবো শুধু বিদেশীদের সাথে কথা বলতে।ইংরেজী বলে তাদের বুঝিয়ে দিব আমাদের গৌরবময় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস,আমাদের মুক্তযুদ্ধের ইতিহাস।কিন্তু আমরা আজ নিজ দেশেই ইংরেজি নিয়ে মহা চর্চায় আছি।আজকাল কার ডিজিটাল বাবা মা সন্তানের লেখাপড়ার প্রথম ধাপটাই শুরু করে দেয় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়ে।সেই বাচ্চা ইংলিশ শিখলো ঠিক কিন্তু নিজ ভাষাটাই সে ভালো করে জানলো না এবং দেখা গেলো সে বাংলাই পড়তে পারে না।তাইলে এটা কি ধরনের শিক্ষা হলো।এই জন্যই কি বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন হয়েছে।আজ তাই হতাশ মনেই একটা কথা বলতে হচ্ছে তা হলো জীবন দিয়েছি বাংলার জন্য, চাকরি হয় না ইংরেজীর জন্য। তাই আমি আবারো বলছি আগে নিজ মাতৃভাষা বাংলা টা ভালোভাবে শিখুন।তারপর ইংরেজি বা অন্য ভাষা দরকার হলে শিখুন।শুদ্ধ ভাবে বাংলা বলুন।বাংলা ইংরেজী একসাথে বলে জগাখিচুড়ি করবেন না।পরিশেষে সারা বছর এখন যখন ইংরেজি চর্চা করে,ইংরেজি বলে নিজেকে স্মার্ট ভেবে যেদিন ২১ শে ফ্রেব্রুয়ারী আসে সেদিন আমরা খালি পায়ে "আমার ভাইয়ের রক্তের রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী,আমি কি ভূলিতে পারি" গানটা বলে শহীন মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করি।তখন দূর থেকে আফসোস করে ভাষা আন্দোলনে শহীদ ভাষা সৈনিকরা বলে......... হায়রে মানুষ।যেই ভাষার জন্য নিজের প্রাণ দিলাম আর আজ সেই ভাষাকে উপেক্ষা করে সারাবছর ইংরেজী চর্চা করে এখন একুশে ফ্রেব্রুয়ারীর দিনে আমাদের স্মৃতিতে ফুল দিচ্ছো।আমরা চাই না তোমরা শহীদ মিনারে ফুল দাও। আমরা চাই তোমরা যেন বাংলা ভাষাকে ভালোবেসে বাংলা ভাষাকে আরো আরো প্রতিষ্ঠিত করে বাংলা ভাষাকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষায় পরিণত করো।যেদিন আমরা বিশ্বের মধ্যে বাংলা ভাষাকে শ্রেষ্ঠ হতে দেখবো সেই দিন আমাদের মনে হবে যে আমাদের আত্মত্যাগ সফল হয়েছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now