বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"নামাজে আমার মন বসে না"!

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Shariful Islam (০ পয়েন্ট)

X ★বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম★ ????আল্লাহুম্মা সল্লি আ'লা মুহাম্মাদিন আফদ্বলা সলাতিকা???? "নামাজে আমার মন বসে না" আমরা যদি আমাদের সালাতগুলােকে সত্যিকার চোখ আর মনের প্রশান্তি লাভের মাধ্যম হিসেবে পেতে চাই, আমাদের উচিত সবার। আগে আমাদের নিয়তকে বিশুদ্ধ করা। আমাদের ঠিক করতে হবে, কেন আমি সালাত আদায় করছি। আল্লাহকে রাজি-খুশি করা, তাঁর প্রিয়ভাজন হওয়া, তাঁর নৈকট্য অর্জনই কি আমার সালাত আদায়ের উদ্দেশ্য? নাকি মানুষের কাছে নিজেকে ভালাে প্রমাণ করা, পরহেজগার সাজাই উদ্দেশ্য? শুরুতেই একটি বিশুদ্ধ নিয়ত নিয়ে আপনি সালাতে দাঁড়াবেন। আল্লাহু আকবার বলে সালাতের শুরুতে নিজেকে এক গভীর ভাবনার জগতে তলিয়ে দেবেন। আল্লাহু আকবার মানে কী? ‘আল্লাহু আকবার অর্থ হলাে ‘আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।' কথাটার নিগূঢ় যে অর্থ, সেটা উপলদ্ধি করার চেষ্টা করুন। আল্লাহু আকবার' বলে আপনি এমন এক সত্তার সামনে দাঁড়াচ্ছেন যিনি হচ্ছেন আসমান-জমিনের মধ্যে থাকা সবকিছুর উর্ধ্বে। তিনিই রাজাধিরাজ, অধিপতি। তার ওপরে আর কেউ নেই। আর কিছু নেই। ‘আল্লাহু আকবার' বলার সাথে সাথে আপনি এই মর্মে ঘােষণা দিচ্ছেন যে, আল্লাহ হলেন আপনার জ্ঞাত-অজ্ঞাত সকল সত্তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সত্তা। তাই, ‘আল্লাহু আকবার বলার সাথে সাথে একটি ব্যাপার মাথায় নিয়ে আসুন যে, আপনি এমন এক সত্তার সামনে দাঁড়িয়ে গেছেন, যার ক্ষমতার ওপরে দুনিয়ার আর কারও ক্ষমতা নেই। যার দয়ার ওপরে দুনিয়ার আর কারও দয়া নেই। আবার, যার শাস্তির ওপরে দুনিয়ার আর কারও শাস্তি নেই। আরও ভাবুন, নিজের অগণিত পাপের কথা, অবাধ্যতার কথা। আপনি ঠিক সে রকম অবস্থায় আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়েছেন, যে রকম অবস্থায় একজন অবাধ্য দাস তার মনিবের সামনে দাঁড়ায়। একজন দাস বা চাকর যেমন অন্যায় করার পরে খুব বিনীত ভঙ্গিতে, ভয়ার্ত চেহারায়, কাঁপা কাঁপা শরীর নিয়ে তার মনিবের সামনে ক্ষমাপ্রার্থনার আশা নিয়ে দাঁড়ায়, আপনিও সে রকম একজন। আল্লাহর ক্ষমালাভের আশায় আপনি শুরুতেই তাঁর মহিমা ঘােষণা করে দাঁড়িয়ে গেছেন। এরপর যখন আপনি সুরা ফাতিহা তিলাওয়াত করবেন। মনে রাখতে হবে, সুরা ফাতিহা কেবল একটি সুরা নয়। এটা উম্মুল কুরআন। কুরআনের মা। এই সুরার সমতুল্য আর কোনাে সুরা নেই। এটি সুরা তাে অবশ্যই, পাশাপাশি এটি একটি চমৎকার দুআও। অথচ দেখুন, সুরা ফাতিহা যে একটা চমৎকার দুআ, এটা আমরা বুঝতে পারি না। কেন বুঝতে পারি না? কারণ, সুরা ফাতিহা কী বলতে চায় কিংবা সুরা ফাতিহায় আমরা আসলে কী পড়ি, সেটা আমরা কোনােদিন জানার চেষ্টা করিনি। এজন্যেই আমরা জানতে পারিনি কী অসাধারণত্ব বহন করছে সাত আয়াতের এই সুরাটি। সাধারণত, সালাতে আমরা এত দ্রুত আর এত তাড়াহুড়াের সাথে সুরা ফাতিহা তিলাওয়াত করে থাকি যে, আমরা কী বলছি আর কী পড়ছি তা বুঝতেও পারি না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হলেন সম্মানিতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম। গুরুত্বপূর্ণদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সামনে দাঁড়ালে ঠিক কতটা ধীরস্থির, কতটা বিনয় আর নম্রতার সাথে সুরা ফাতিহা পড়া উচিত আমাদের? সুরা ফাতিহা পাঠে আমাদের দ্রুততা কিংবা তাতে অমনােযােগিতার প্রধান কারণ হলাে সুরা ফাতিহায় আমরা কী পড়ি সেটা অনুধাবনে আমাদের ব্যর্থতা। আমরা সুরা ফাতিহায় পড়ি— الحمد لله رب العالمين সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক الرحمن الرجيم পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু। مالك يوم الدين তিনি বিচার দিনের মালিক। إياك نعبد وإياك نستعين আমরা কেবল তােমারই ইবাদত করি এবং কেবল তােমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি। اهدنا الصراط المستقيم আমাদের সরলপথে পরিচালিত করুন। صراط الذين أنعمت عليهم তাদের পথে যাদের আপনি করুণা করেছেন। غير المغضوب عليهم ولا الضالين তাদের পথে নয় যারা অভিশপ্ত হয়েছে। সালাতে সুরা ফাতিহা তিলাওয়াতের ব্যাপারে খুব সুন্দর একটি হাদিস আছে। ওই হাদিস থেকে জানতে পারি, সুরা ফাতিহা তিলাওয়াতের সময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের কথাগুলাের জবাব দেন। — বান্দা যখন বলে, ‘আল-হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’, তখন আল্লাহ বলেন, | আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। বান্দা যখন বলে, আর রাহমানির রাহিম’, তখন আল্লাহ বলেন, | আমার বান্দা আমার গুণ বর্ণনা করছে। বান্দা যখন বলে, ‘মালিকি ইয়াওমিদদ্বীন, আল্লাহ তখন বলেন, | আমার বান্দা আমার বড়ত্ব ঘােষণা করছে। বান্দা ‘ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাঈন’ বললে আল্লাহ বলেন, এ অংশ আমার ও আমার বান্দার জন্য। আমার বান্দা যা চাইবে আমি তাকে তা-ই দেবাে। মানে হলাে বান্দা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সাহায্য করবেন। বান্দার ‘ইহদিনাস সিরাত্বাল মুস্তাকীম। সিরাত্বাল লাযীনা আন-আমতা আলাইহিম। গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদদ্ব-ল্লীন’ বলার জবাবে আল্লাহ বলেন, | আমার বান্দা আমার কাছে যা চেয়েছে সে তা-ই পাবে। কী চমৎকার, তাই না? আমরা আল্লাহকে ডাকছি আর আল্লাহ আমাদের তাকে দিচ্ছেন। কেবল ওই মুহূর্তটার কথা চিন্তা করুন তাে! আমরা যখন অনুধাবন করে, হৃদয়ের সমস্ত আবেগ ঢেলে সুরা ফাতিহা তিলাওয়াত করব, অল্প সুরা ফাতিহা পড়া নয়। আজ থেকে আমরা এক ভিন্নভাবে, ভিন্ন প্রেরণা, ভিন্ন ভবন, নিয়ে সুরা ফাতিহা পড়ব। এমনভাবে পড়ব যেন আল্লাহ আমাদের কথাগুলাে শুনছেন। আর জবাব দিচ্ছেন। আমরা তাঁর দেওয়া জবাবগুলাে শুনতে পাব না। কিন্তু তাতে কী আমরা বিশ্বাস করব যে, তিনি আমাদের তিলাওয়াত শুনছেন এবং জবাব দিচ্ছেন। সুরা ফাতিহা পড়া শেষ হলে কুরআনের যে অংশ আমার জন্য সহজ, সেই অংশ থেকে তিলাওয়াত করব। সেটা হতে পারে সুরা ইখলাস, নাস, ফালাক, লাহাব, কাফিরুন, সুরা আসর কিংবা অন্য যেকোনাে ছােট বা বড় সুরা। সম্ভব হলে এই সুরাগুলাের অর্থ শিখে নেব ইনশাআল্লাহ। তাহলে পড়ার সময় বুঝতে পারব আমরা আসলে আরবিতে কী বলছি। যদি বুঝতে পারি, তাহলে সালাতে মনােযােগ ধরে রাখা খুব সহজ হয়ে যায়। মনােযােগ বিচ্ছিন্ন হয় না। তিলাওয়াত শেষ করার পরে আমরা আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে চলে যাব। “আল্লাহু আকবার' বলার সময় মনের ভাবনায় কোন দৃশ্যপট আঁকতে হবে তা তাে আগেই বলেছি। এবার রুকু এবং সিজদা নিয়ে চমৎকার আরেকটি হাদিস উদ্ধৃত করি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বান্দা যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন তার গুনাহগুলাে তার শরীর থেকে তার কাঁধ এবং মাথায় চলে আসে। এরপর, সে যখন মাথা নিচু করে রুকুতে যায়, তখন সেই গুনাহগুলাে তার কাঁধ এবং মাথা থেকে ঝরে নিচে পড়ে যায়। কী চমৎকার একটি সুযােগ! কতই-না সুন্দর একটি দৃশ্য! আমরা যখন একাগ্রচিত্তে। সালাতে দাঁড়াই, অমনি আমাদের সকল গুনাহ পুরাে শরীর থেকে কাঁধ এবং মাথায় । চলে আসে। তিলাওয়াত শেষ করে যখন আমরা রুকুতে যাই, তখন আমাদের। গুনাহগুলাে ঝরে পড়ে যায়! এই কথাটা পৃথিবীর কোনাে সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ কিংবা অর্থশাস্ত্রবিদের নয়। এই কথা যিনি বলেছেন তিনি হলেন সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ—রাহমাতুল্লিল আলামিন। তাহলে এই কথায় কি কোনাে খাদ থাকতে পারে? এই কথা নিয়ে আমাদের কারও মনে কোনাে সন্দেহ থাকতে পারে? অবশ্যই নয়। তিনি যখন বলেছেন, রুকুতে গেলে বান্দার গুনাহ ঝরে পড়ে, তখন সেটা অবশ্যই অবশ্যই সত্য। বিশ্বাস করুন, এই হাদিসটির ওপর অন্তর থেকে আমল করে আমরা যদি খাঁটি নিয়ত আর বিশুদ্ধ ইখলাস নিয়ে সালাত পড়ি, আমাদের মনই চাইবে না রুকু থেকে মাথা ওঠাতে। মন চাইবে, থাকি না আরও কিছুক্ষণ। গুনাহগুলাে সব ধুয়েমুছে ঝরে যাক। আমাদের মনে এই ব্যাপারটি বদ্ধমূল হয়ে গেলে রুকুতে আমরা অন্য রকম একটা মজা পেয়ে যাব। রুকুতে আমরা আরও কিছু ব্যাপার মাথায় রাখতে পারি। যেমন—আমি এমন এক সত্তার কাছে মাথা নুইয়ে দিয়েছি যিনি এই সুবিশাল সৃষ্টিজগতের অধিপতি। মালিক। যার কাছে আমি নিতান্ত তুচ্ছ। আমি হলাম দাস আর তিনি মালিক। আমি মাথা নুইয়ে তাঁকে বলছি, ‘মালিক, আপনি মহান। মালিক, আপনি মহান। এরপর গভীর মনােযােগের সাথে রুকুর তাসবিহ পাঠ শেষে ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলে মাথা ওঠাব। এই ‘সামিআল্লাহু লিমান হামীদাহ' অর্থ কী? এর অর্থ হলাে আমার রব সেই ব্যক্তির প্রশংসা শােনেন, যে তাঁর প্রশংসা করে। কী দুর্দান্ত একটি কথা! আমি যখন আমার রবের প্রশংসা করি, আমার রব তখন সেই প্রশংসা শােনেন। একটু ভাবুন তাে—আমরা যখন ফুটবলার মেসির প্রশংসা করি, মেসি কি আমাদের সেই প্রশংসা শােনে? আমরা যখন কোনাে অভিনেত্রী, কোনাে গায়ক, কোনাে শিল্পী বা পৃথিবী বিখ্যাত কোনাে সেলিব্রিটির প্রশংসায় গদগদ হই, তাদের কেউ কি আমাদের সেই প্রশংসাবাক্য শােনে? আমাদের স্তুতিবাক্য, প্রশংসা আর গুণকীর্তনের ফুলঝুরির বাক্যগুলাে তাদের কান পর্যন্ত পৌঁছায়? অথচ এই আসমান- জমিন, এই মহাজগৎ, বিশ্বজাহানের যিনি মালিক, যার কাছে দুনিয়ার সেলিব্রিটিদের বালুকণা পরিমাণও মূল্য নেই, সেই সুমহান সত্তা আমার প্রশংসা শােনেন, যখন আমি তাঁর প্রশংসা করি। তিনি আমার স্তুতি শােনেন, যখন আমি তাঁর স্তুতি গাই। আমি যখন ঠোঁট নেড়ে বলি, আল-হামদু লিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর), তখন আমার সেই শব্দ, সেই স্তুতিবাক্য সাত আসমানের পর্দা ভেদ করে সােজা আরশে আযিমে পৌঁছে যায়। তাতে কোনাে বিমান দরকার হয় না, দরকার হয় না কোনাে। সুপার পাওয়ারের রকেট। তাতে দরকার হয় না কোনাে মাধ্যম, কোনাে ওয়াসিলা। দরকার হয় কেবল আমার একাগ্রতা, বিনয় আর ইখলাস। ব্যস, আর কিছু না। এই যে, রাজাধিরাজ আল্লাহ আমার প্রশংসা শুনছেন—এই ব্যাপারটাই তাে অন্য রকম! রুকু শেষ করে আমরা সিজদায় যাই। সিজদা হলাে আল্লাহ এবং বান্দার মধ্যকার। সম্পর্কের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠতম মুহূর্ত। বান্দা সিজদায় আল্লাহর সবচাইতে নিকটবর্তী। হয়ে যায়। আমরা যখন সিজদায় যাব, তখন আমরা আরও কিছু ব্যাপার মানসপটে এঁকে নেব। আগের মতাে এবারও আমরা স্মরণ করব নিজেদের পাপের কথা, অবাধ্যতার কথা। মনিবের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে একজন দাস কী করে হাউমাউ করে কেঁদেকুটে মনিবের পা জড়িয়ে ধরে বলে, ‘মাফ করে দেন হুজুর। আমি অন্যায় করেছি। আমি জানি আমি ঠিক করিনি। আমি আপনার কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। আপনি আমায় ক্ষমা করে দিন। আপনি মাফ না করলে কে আমাকে মাফ করবে, বলুন? আপনি ছাড়া আমার আর কে আছে? হ্যাঁ, সত্যিই আল্লাহ ব্যতীত আমাদের আসলে আর কেউই নেই। আল্লাহর চাইতে উত্তম অভিভাবক আমাদের জন্য আর কেউ হতেই পারে না। সিজদায় আমরা সেই সত্তার কাছে লুটিয়ে পড়ব, যিনি আমাদের লালনপালন করেছেন আমাদের মায়ের পেটে, যিনি আমাকে দুনিয়ার আলাে-বাতাস দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমি পাপী, গুনাহগার। নিজের আত্মার সাথে নিত্য যুলুম করে চলা এক জালিম আমি। আমাকে ক্ষমা করতে পারে শুধু আল্লাহ। সেই আল্লাহর কাছেই সিজদায় আমি লুটিয়ে পড়েছি। আমার এখন কাজ কী? আমার কাজ হচ্ছে যেভাবেই হােক ক্ষমা আদায় করে নেওয়া। বাচ্চা যেভাবে মায়ের কাছ থেকে বুকের দুধ আদায় করে নেয়। ক্ষুধা পেলে সে যেমন হাউমাউ করে কান্না জুড়ে দেয়, ঠিক সেভাবে গুনাহের ভারে নুইয়ে পড়া এই আত্মাকে জাহান্নামের লেলিহান আগুনের শিখা হতে বাঁচাতে আমাকেও কাঁদতে হবে। হুহু করে কান্না! চোখের জল ফেলতে হবে। বলতে হবে, ‘আল্লাহ, পাপ করতে করতে নিজেকে পাপের অতল সাগরে ডুবিয়ে ফেলেছি। নিঃশ্বাসজুড়ে কেবল পাপ আর পাপ। শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত হচ্ছে পাপের অবাধ প্রবাহ। আমার পাপের তূপের কাছে হিমালয় পর্বতও নস্যি। কিন্তু আপনি তাে রাহমানুর রাহিম, দয়ালু। আপনি ক্ষমা না করলে কে এমন আছে যে আমাকে ক্ষমা করবে? রাস্তা দেখাবে? কেউ নেই। আমায় ক্ষমা করে দিন। আমাকে সরল-সহজ পথে পরিচালিত করুন। সিজদায় আন্তরিক হতে হবে। মনপ্রাণ এক করে আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। যা কিছু চাওয়ার, যা কিছু পাওয়ার সব সবিস্তারে আল্লাহর কাছে খুলে বলতে হবে। আল্লাহর বড়ত্বের কাছে নিজের তুচ্ছতা অন্তরে এনে আল্লাহকে মন থেকে ডাকতে হবে। যদি সালাতের সাথে আমাদের মন জুড়ে যায়, যদি আমাদের সালাতগুলাে প্রাণ ফিরে পায় নতুন করে, তবে নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, ইনশাআল্লাহ সালাতের জন্য আমাদের মন সর্বদা ব্যাকুল হয়ে থাকবে। প্রিয়জনের দর্শনলাভের জন্য যেমন করে ব্যাকুল, অস্থির হয়ে থাকে মন, ঠিক সেভাবে সালাতের জন্য, সালাতে আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়ার জন্যও আমরা ব্যাকুল হয়ে পড়ব। সে সকল মুমিন সফলকাম হয়ে গেছে, যারা তাদের সালাতে বিনয়ী। [সূরা মু'মিন,আয়াত ১ ও ২] বইঃবেলা ফুরাবার আগে। লেখকঃআরিফ আজাদ। হে আল্লাহ আমাদের নবীজি (সাঃ) এর তরিকা মতো তোমার ইবাদত করার তৌফিক দান করুন। ????_____ভালোবাসা অবিরাম_____????


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now