বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক:রোমান্টিক হৃদয় [MH2]
স্কুলে লাইন ধরে সাড়িবদ্ধভাবে সব ছাত্র ছাত্রী দাড়িয়ে আছে।ক্লাস ক্যাপ্টেনের পিছনে সকলে দাড়িয়ে আছে।প্রায় ২০০ জন ছাত্র ছাত্রী সমস্বরে জাতীয় সংগীত গাইছে।যদিও তাদের দেশের নির্দিষ্ট কোনো জাতীয় সঙ্গীত হয় নি এখনও,তবে এটাই প্রস্তাবিত সঙ্গীত,তাদের স্কুলে এটাই নিয়মিত গাওয়ানো হয়।সকলে সুর দিয়ে এবং যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে গাওয়ার চেষ্টা করছে,তারা গাইছে:
God save our gracious Queen,
Long live our noble Queen,
God save the Queen!
Send her victorious,
Happy and glorious,
Long to reign over us,
God save the Queen!
„„„„„„„„„„„„„„„„„„„„„„„
সকলের সাথে এক হয়ে আকাশও গাইছে।তবে তার কাছে কেন যেন গানটা ভালো লাগে না,মনে হয় এই গানটা কোনো সঙ্গীত হলো নাকি??? এটাতো শাসকের জন্য দোয়া করা।দেশপ্রেমের সঙ্গীত কেন গাওয়া হয় না??? এমন প্রশ্ন তার মনে সবসময় ভাসে।তার কাছে যদি প্রিয় কোনো জাতীয় সঙ্গীত বা কোনো প্রিয় গানের নাম জিজ্ঞেস করা হয় তাহলে সে একটু চুপ করে থাকবে,তার পরে সে গানটির নাম না বলে বরং গানটিই গাওয়া শুরু করে দিবে।সে তখন যে গানটি গাবে তা হলো:
"আমার সোনার বাংলা,
আমি তোমায় ভালোবাসি,
চিরদিন তোমার আকাশ,
তোমার বাতাস,
আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি,
„„„„„„„„„„„„„„„„„„„„„„
আমার সোনার বাংলা,
আমি তোমায় ভালোবাসি।।
অনেক আবেগ এবং মধুর করে গাওয়ার চেষ্টা করে ও।এই গানের প্রতি ওর মায়ার কারণ জন্মের পর থেকে ও কখনও নিজ দেশ দেখে নি,পারে নি সকলের সাথে সমস্বরে গানটি গাইতে।তার এ দেশের এমন গান পছন্দ না হলেও গাইতে তো হয়।যথারীতী তাদের এসেম্বলি শেষ হলো।সকলে নিজ নিজ ক্লাসে চলছে, আকাশও চলল নিজ ক্লাসে।ও অনেক গম্ভীর এবং চুপচাপ প্রকৃতির ছেলে,তাই তার কোনো বন্ধু নাই। পড়াশোনায় খুব ভালো হওয়ায় সকলে তার সাথে কথা বলে।ওর অভ্যাসও এমন হয়েছে যে কেউ কথা বললে বলে না হলে বলে না।কারণ এই বিদেশী ভাষায় কথা বলে তার মন ভরে না,কেমন যেন পাখির মুখের বুলি মনে হয়,তার মতে কবি যথার্থই বলেছেন "বিনা স্বদেশী ভাষা,মিটে কি আশা"।
ক্লাসরুমে ঢুকেই প্রথম যে কাজটা ও করে তা হলো সারা কক্ষটাকে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া।এভাবে প্রতিদিন চোখ বুলিয়ে নেয় বলে ও ওর ক্লাসের সকলকে চিনে।কিন্তু আজ একটা মেয়েকে চিনতে পারল না ও।দেখতে অনেকটা বাংলাদেশী লাগছে মেয়েটাকে,ও আগে কখনও তাকে দেখেছে বলে ওর মনে পরে না।এমনিতে মেয়েদের এড়িয়ে চলে ও,কখনও খুব একটা কথা বলে না।বলতেও ইচ্ছা করে না ওর।কিন্তু এই মেয়েটার মাঝে কিছু একটা আছে যা তাকে আকর্ষন করছে,তার ইচ্ছা করছে ওর সাথে কথা বলতে।কিন্তু মনের এই ইচ্ছাটাকে মনেই রাখে সে বাস্তবে তা রূপ নেয় না,কারণ মেয়েদের সাথে কী করে কথা বলতে হয় সে তা এখনও জানে না।ক্লাস টিচার চলে আসলেন,মিস এনা,যথারীতী ক্লাস শুরু করে দিলেন।এই ক্লাস ৯ এর ছেলে মেয়েদের ওনার বেশ পছন্দ,কারণ এরা নিয়মিত উপস্থিত থাকে,পড়াশোনায়ও অনেক ভালো।রোল কলে সর্বশেষ যার নাম নিল তার নাম তরী।এনা ম্যাম তরীকে সামনে আসতে বলল,সে ও এল।সকলেরর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য বললেন," এ হলো তরী, একজন বাংলাদেশী,এ স্কুলে নতুন,আগে M.P. স্কুলে পড়ত।ওখানকার সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রী ও।এখন থেকে এ স্কুলে পড়বে।"ক্লাস গুলো শেষ হলো।টিফিন টাইম আসল।আকাশ ক্যান্টিনে একলা একটা টেবিলে বসে আছে,পড়ার সাথে সাথে বই পড়ছে,সাহিত্যিক বঙ্কিম চন্দ্রের "চাঁদের পাহাড় " উপন্যাস পড়ছে।এটা ওর নিয়মিত কাজ।স্কুলে ইংরেজিতে পড়তে পড়তে ওর মাথা ধরে যায়,একঘেয়ে লাগে,তখন ও বাংলা কোনো সাহিত্য পড়ে,তার একঘেয়েমী দূর হয়ে যায়।পড়ার সময় কেউ তার পাশে থাকুক তার ভালো লাগে না।তাই একলা কোনো টেবিলে বসে ও।আজও বসে বসে পড়ছে ও।কিন্তু আজ অন্যদিনগুলোর মতো কারও সঙ্গ ছাড়া ও থাকতে পারল না।কারণ ওর সামনের চেয়ারটায় এসে বসল তরী।অন্যকেউ বসলে আকাশ হয়তো খুব বিরক্ত হয়ে যেত,কিন্তু তরীর প্রতি ও রাগ করতে পারল না।তরী ওকে সালাম দিল,ও সালামের উত্তর নিল।
তরী: তুমিও একজন বাংলাদেশী,ঠিক বলছি???
আকাশ: হ্যা,আমি বাংলাদেশী।হঠাৎ স্কুল বদল করলে কেন???
নিজের মাঝে এ পরিবর্তন দেখে ও অবাক হলো।কারণ কারও সাথে অতিরিক্ত কথা বলা ওর পছন্দ নয়।আরও যে কতো পরিবর্তন হবে তা কি ও জানত।মনে হয় বাংলায় কারও সাথে কথ বলতে পারছে বলেই ওর মাঝে এ পরিবর্তন।
তরী: আমার বাবা মা একই অফিসে কাজ করেন,তাদের ট্রান্সফার হয়েছে এ শহরে,তাই এখানে আসলাম।জান বাংলায় কারও সাথে কথা বলতে পারছি ভেবেই অনেক ভালো লাগছে।
আকাশ: আমারও ভালো লাগছে।
তরী: আচ্ছা আমরা কি বন্ধু হতে পারি???
আকাশ: অবশ্যই।
তরী: তাহলে বল তোমার প্রিয় রং কী???
„„„„„„„„„„„„„„„„„„„„ এভাবে তাদের কথা চলতে লাগল।টিফিন পিরিয়ড শেষ হওয়ার ঘন্টা বাজল,তাই আজকের মতো তাদের কথা থেমে গেল।আজ আকাশ বই পড়তে পারে নি বলে ওর কোনো খারাপ লাগছে না।কারণ আজ মন খোলে কথা বলেছে ও, অনেক হেসেছে।মনে হয় আকাশের ইন্ট্রোভার্ট স্বভাব তরীর মতো চঞ্চল মেয়ে ভেঙ্গে দিবে।
ক্লাস শেষ হলো,বাসে উঠল আকাশ,একই বাসে উঠল তরী।এটাতে ওরা চমকায় নি,ভেবেছিল হয়তো একই রাস্তায় তাদের দুজনের বাড়ি।ও আরেকটা কথা,অতো কথা বললেও তারা তাদের ঠিকানা নিতে ভুলে গিয়েছিল।বাসে এক সাথে বসেছে ওরা।কথা বলছে,আকাশও কথা বলছে।তরীর এই মিশুক স্বভাব তার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।কথা চলার ফাঁকে ওদের নামার জায়গায় চলে আসল,এক জায়গায় ওরা নামল।দুজন খানিকটা অবাক হলো।
তরী: এই দেখ, তোমার ঠিকানা নিতেই ভুলে গেছি।তুমি কোথায় থাক???
আকাশ: আমি এবং আমার পরিবার সামনেরর ওই বিল্ডিংটার ৭ তলায় থাকি।তুমি???
তরী: আমরাও তো ওই বিল্ডিংএর ৭ তলার ডান পাশের ফ্ল্যাটটায় থাকি।
আকাশ: তাহলে তো তোমরা আমাদের সামনের ফ্লেটে থাক।আমি তো সবসময় অলস ভাবে সময় কাটাই বা পড়াশোনা করি,তাই আমি জানিই না যে আমাদের সামনের ফ্লেটে নতুন ফ্যামিলি এসেছে।
তরী: তুমি তো চোখ থাকতেও অন্ধ।
ওরা দুজনেই তাদের নিজ নিজ ফ্ল্যাটে ঢুকল।
আকাশ তার বাবা মি. লতিফ এবং মা মিসেস নীলুফার একমাত্র ছেলে,ওর বাবা মা দুজনেই চাকরি করে।আকাশ চুপচাপ আর গম্ভীর হওয়ায় তার বাবা মায়েরও মন খারাপ থাকত,কারণ এভাবে থাকলে ছেলের মানসিক সমস্যা হয়ে যেতে পারে।কিন্তু তাদের ছেলের কোনো পরিবর্তন হয় না।
অন্যদিকে তরী ওর বাবা মা এবং ছোট বোনটার সাথে থাকে।ওর বাবা মি. রফিক এবং মা মিসেস মিলি দুজনেই চাকুরীজীবী। তরীর ছোট বোনটার নাম রিহা।তরী আর রিহার দুষ্টুমিতে সবসময় সারাটা ঘর ভরে থাকে।বাবা মা সারাদিন অফিসে কাটিয়ে আসার পর যখন তাদের দুই বোনের হাসি মুখ দেখে তখন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
বাসায় আসার পরেই আকাশ ফ্রেশ হয়ে ছাদে চলে যায় প্রতিদিন।সন্ধ্যার সূর্য অস্ত যাওয়ার পর রুমে এসে পড়তে বসে।আজও তার ব্যাতিক্রম হলো না।সে ছাদে গেল,গিয়ে দেখল তার আগেই তরী এসে হাজির।তরী ছাদে দোলনায় বসে বসে আকাশ দেখছে।ও বলাই হয় নি,ওদের ছাদে একটা দোলনা আছে।ছোট থেকেই আকাশ ওই দোলনায় বসে,ছাদে এই সময়টায় কেউ থাকে না বলে সে এই সময়েই আসে।দোলনায় বসে আকাশ দেখে,মাঝেমাঝো আকাশ নীল হয়, আবার কখনও কালো,কখনও সাদা।তার মনটাও কখনও সুখের স্মৃতি টেনে এনে মনটাকে ভালো করে,কখনও কষ্ট পেয়ে মনটা কালো হয়ে যায়,আবার কখনও মনকে তার নিজের মতো ছেড়ে দেয়,এই সময় আকাশ পাতাল ভাবতে থাকে সে।ভাবনার সময় পাশে মানুষ থাকলে ভাবনা ভালো করে হয় না,তাই ও চায় একলা থাকতে,নিজের মতো করে থাকতে।কেউ থাকলে তার মনের গহীণে ভাবনারা থাকে না,যা তার মোটেও পছন্দ নয়।স্বভাবতই এখানে তরীকে দেখে তার বিরক্ত হওয়ার কথা,কিন্তু মেয়েটার মাঝে কিছু একটা আছে,যা তাকে একদম নরম করে দেয়।সে তার উপর রাগ করতে পারে না,এমনকি স্বভাবসুলভ ভাবে বিরক্তও হয় না তরীর উপর।মাত্র এক দিনের পরিচয়,কিন্তু মনে হচ্ছে যেন অনেক পরিচিত।আকাশ সামনে এগিয়ে গেল,বাতাসে তরীর লম্বা চুলগুলো হাওয়ায় উড়ছে।ইংরেজ মেয়ে হলে লম্বা চুল থাকার সম্ভাবনা কম ছিল।আকাশের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ভালো।সে ভালো করে দেখেছে তরীকে,তরী খানিকটা মোটাসোটা মেয়ে,সারাক্ষণ মুখে হাসি লেগে আছে।দোলনার কাছে গিয়ে বলল,
আকাশ: আমি কি বসতে পারি???
তরী: বসতে অনুমতি লাগে নাকি??? আমরা তো ফ্রেন্ড,তাহলে অনুমতি কেন??? নেক্সট টাইম অনুমতি চাইবে না।
আকাশ: আচ্ছা, আর অনুমতি চাইব না।
তরী: তা তোমার পরিবারের সবার কী খবর???
আকাশ: আমি তো একমাত্র ছেলে,ভাই বোন নাই।বাবা মা এখন অফিসে।তোমার সবার কী খবর???
তরী: আমার ছোট বোন আছে,রিহা,খুব দুষ্টু।আমার বাবা মা ও তো অফিসে।সবাই ভালো আছে।
এভাবেই কথা এগুতে থাকল।কখনও হাসির কথা হচ্ছে,কখনও নিজেদের ভালোলাগা নিজের বর্ণণা এসব চলছে।তরী তো সবসময় হাসি খুশি থাকতেই পছন্দ করে।তার সংস্পর্ষে এসে গম্ভীর এবং চুপচাপ ছেলে আকাশকেও আজ অনেক হাসতে দেখা যাচ্চে,যে ছেলে কখনও খুব একটা কথা বলত না, তার মুখেও আজ কথার ফুল ফোটছে।
[ কেমন লাগল??? পরে কী হলো জানতে,পরের পর্বে চোখ রাখুন]
বি.দ্র.: যথেস্ট সময় ব্যায় করে এবং মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে এক একটি গল্প নিজ থেকে লিখি।তাউ কপি করবেন না।
চলবে,,,
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now