বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক:অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় MH2[হৃদয়]
গাছের রাস্তা দেখে অবাক হয়েছি।কারণ আমরা যেমন ভাবছিলাম তেমন হয় নি।বরং আমাদের ভাবনার চেয়েও অনেক সুন্দর আর অন্যরকম এই রাস্তা।অ্যামাজনে প্রায় সময়ই বৃষ্টি হয়,ফলে কাঁদা হয়ে যায় সব জায়গায়,তবে বালি হলে অন্যকথা।কিন্তু এ রাস্তা সম্পূর্ণ শুকনো,এবং প্রায় সোজা।চারদিকে গাছপাপালার ঘন জঙ্গল হয়ে আছে।আশ্চর্যজনক ভাবে গাছগুলো সব লম্বা লম্বা এবং একদম সোজা,আবার তা রাস্তার ধারে একদম সমান্তরা হয়ে অবস্থান করছে।কিছু ফুল ফোটে আছে চারিদিকে,হলুদ ফুল গুলো ছোট ছোট হলেও দেখতে অনেক সুন্দর।সকালে যে জায়গায় ছিলাম,সেখানে নীল রংয়ের সুন্দর ফুলের গাছ ছিল।এখানেও এই ফুলটা আছে।আমার ভীষন পছন্দ এ ফুলগুলো,তবে কেউই নাম বলতে পারে নি।ভাবছি যাওয়ার সময় কয়েকটা ফুলের স্যাম্পল নিয়ে যাব সঙ্গে করে।আর বীজ পাওয়া গেলে তো আরও ভালো।
মোট কথায় অনেক সুন্দর রাস্তা,দেখে মনে হচ্ছে কেউ পূর্বপরিকল্পনা নিয়ে রাস্তাটা বানিয়েছে।অ্যামাজনের গহীণ অরন্যে এমন একটা জায়গা কে বানালো??? নাকি এটা প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট??? কোনো জবাব হয়তো পাওয়া যাবে না।তবে এভাবে এখানে না থেকে নামতে হবে,কারণ অন্ধকার প্রায় হয়ে এল।জিনিস পত্র সব নামাতে হবে।আমরাও লেগে পড়লাম।এখানে দড়ির বিছানা টানতে কোনো অসুবিধা নাই।তাছাড়া রান্নার চুলা বানতেও সুবিধা আছে,কারণ মাটি যথেস্ট নরম,অন্য জায়গাগুলোর মতো অতো শক্ত না।আমি, হৃদয় ভাই,ফারহান,মফিজুল, তানিম ভাই আর জাহিদুল নৌকা হতে রান্নার সামগ্রীগুলো নামাতে লাগলাম।টিনে সংরক্ষিত খাবার আমাদের সঙ্গে,কারণ এখানে শিকার যোগ্য প্রাণী পাওয়া যাবে কিনা কে জানে, আর টিনে যদি সংরক্ষণ না করা খাবার সঙ্গে আনতাম তাহলে হয়তো এতোদিনে সব পঁচে যেত।সাবধানে নামাতে হচ্ছে টিনগুলো।প্রায় ২০ টা টিন আছে।প্রতিটা অন্তত আধমন ওজন তো হবেই।নৌকাকে পাড়ের কাছে টেনে এনে বেঁধে নেওয়া হয়েছে, তাই টিনগুলো নামাতে আমাদের তেমন কষ্ট হচ্ছে না। অন্যাদিকে মেহেদী ভাইয়া,রনি ভাইয়া ,সাঈম ভাইয়া আনিস ভাইয়া, সামির,সিয়াম এরা আমাদের বিছানা পত্র এবং অস্ত্রশস্ত্র নামচ্ছে।রুবি আপু, আনিকা,শিখা, সারা, সুস্মিতা, পুষ্পিতা,তুবা, তানহা এরা হাড়ি পাতিল এবং অন্যান্য রান্না সামগ্রী নামাচ্ছে।তাহিরা আপু,রেহনুমা আপু এবং মেহরাজ ভাইয়া বইগুলো নামাচ্ছে।সবকিছু নামানোর পরও যা নামানো কষ্টকর হয়েছিল তা হলো রান্নার জন্য শুকনো লাকড়ী।সব নামালাম।প্রায় আধঘন্টা ধরে কাজ করার পর সব নামানো শেষ হলো।বিশ্রাম নিলাম। এরপর রান্নার কাজ শুরু হলো।আমি, হৃদয় ভাই,সিয়াম সবসময় রান্না হতে দূরে থাকি,কারণ অনেক ভেজালের কাজ হলো রান্নার কাজ।আজ রান্নায় মেয়েদের সাহায্য করার জন্য যারা আছে তারা হলো তানিম ভাই,মেহেদী ভাই,মফিজুল, রনি ভাই আর মেহরাজ ভাইয়া।রুবি আপু আর সারা রুটি বানাচ্ছে, তাহিরা আপু,রেহনুমা আপু রুটি সেকার কাজ করছে।ঐশী, পুষ্প আর শিখা তরকারি রান্না করছে।সুস্মিতা আর মফিজুল পেঁয়াজ,মরিচ, রশুন কাটাকাটি করছে।মেহেদী ভাইয়া আর তানিম ভাইয়া পেঁয়াজ রশুন বেছে বেছে দিচ্ছে,সেই সাথে পিঁয়াজেরর ঝাঁঝে কান্নাও করছে দুজন।মফিজুল আর সুস্মিতা যে কান্না করছে না এমন নয়।রনি ভাই কী কাজ করছেন???
আকিতা ভাবী প্রতিদিনই তাদের ঐতিহ্যের একটা রান্নার পদ অন্তত রান্না করে।সবাই খাই,যথেষ্ট সুস্বাদু হয়।সেই কাজে ওনাকে সাহায্য করছেন রনি ভাই।আমরা এতোক্ষণ বসে ছিলাম,বসে বসে এদের কাজ দেখছিলাম।হঠাৎ সাঈম ভাইয়ের ডাক দিলেন,
সাঈম ভাই: সবাই বসে আছ কেন??? বলি বিছানাগুলো কারা টানাবে???
ফারহান: আসছি আমরা ফেলুদা
সাঈম ভাই: এই দেখ,মন খারাপ করে,আরে তোপসে আমি তো কাজের জন্যই বললাম,আর তোকে তো বকি না বা রাগও দেখাই না।
ফারহান: তোপসেও কখনও ফেলুদার উপর রাগ করবে না ভাই।
হৃদয় ভাই: আপনি নিজেও গরুর ঘাস আর ঘোড়ার ঘাস না কেটে আমাদের সঙ্গে আসুন।
সাঈম ভাই: আমি ফেলুদা,কর্মঠ, কাজ না করে বসে থাকব না।
তুবা: ওনি তো হাফ হিমু,তাই এমন।
রুবি আপু: তোমরা খালি আমাদের কাজ দেখে হাসছ,যাও তোমরা তোমাদের কাজে যাও।
হৃদয় ভাই: তুমি আমার উপর রাগ করতে পারলা আপু??? আমি কি কখনও মজা করেছি???
রুবি আপু: আমি আমার ভাইয়ের উপর কখনও কি রাগ করি??? আমি রাগ করি নি তো তোমার ওপর।
শিখা: সব কয়টা ন্যাকার ষষ্ঠী
সিয়াম: তুমি চুপ করো তো শিখা।
তাহিরা আপু: সবাই এবার কাজে লেগে পড়।
আমরা কাজে লেগে পড়লাম।গাছগুলো অনেক লম্বা আর সোজা,বিছানা বাধতে সহজ হয়ে গেল আমাদরে জন্য।আমি আর হৃদয় ভাই একমনে একসাথে কাজ করছি,দুরুদ শরীফ পাঠ করছিলাম,হঠাৎ সামিরের ভয়ার্ত চিৎকার কানে আসল।আমরা কাজ ফেলে দৌড়ে গেলাম তার কাছে।কী হয়েছে??? কী হয়েছে??? সবার একটাই প্রশ্ন।সামিরকে পানি খাওয়ানো হলো,স্বাভাবিক হয়ে ও বলল বিছানা টানানোর সময় উপরে গাছে একটা কিছুকে নড়তে দেখেছে ও,অনেকটা অ্যানাকোন্ডার মতো।আমরা ভয় পেয়ে গেলাম।মশাল নিয়ে আর একটা ইলেক্ট্রিক লাইট নিয়ে গাছটার উপর দিকে ধরলাম।দেখলাম গাছকে মোটা লতা পেঁচিয়ে পেচিয়ে উপরে উঠে গেছে,মনে হয় কোনো লতা হবে,কিন্তু না লতাটা নড়ে উঠল।অন্তত ৩০ ফুট লম্বা হবে এটা।সাপটা নড়ছে,আমরা অবাক হওয়ার সময় পেলাম না,সাপটা নামতে লাগল,দ্রুত দৌড়ে গিয়ে আমরা বন্দুক আর রাইফেল নিয়ে আসলাম।মি.A.,আমি,হৃদয় ভাই আর ফারহান গুলি চালাতে লাগলাম। উপজাতি দুইজন যোদ্ধাও বসে নেই,তাদের বিষাক্ত তীর দিয়ে অ্যানকোন্ডার গায়ে লাগালো।মি.A সফলভাবে অ্যানাকোন্ডাটার মাথায় গুলি করল,মাথাটা এ ফোড় ওফোড় হয়ে গেল।ততক্ষণে সাপটা নিচে নেমে এসেছে,গুলি খেয়েও ক্ষান্ত হয় নি সে,তেড়ে আসছে,আবার গুলি চলল একযোগে,এবার সাপটা ধরফর করে নড়তে নড়তে মারা গেল।যারা রান্না করছিল তারা তো জানত না কী হয়েছে। গুলির শব্দে সবাই ছোটে এল।অ্যানাকোন্ডার মতো বিশল সাপের মরদেহ দেখে ভয় পেয়ে গেল সবাই।সাপটাকে সড়িয়ে ফেলতে হবে এখান থেকে।তাই হৃদয় ভাই সাপটার গলার দিকে আর মফিজুল গেল লেজটার দিকে বাধতে।তারা তখন সাপটা থেকে মাত্র ৩ হাত দূরে,তখনই সাপটা আবার লেজ নাড়িয়ে মফিজুলকে পেঁচিয়ে ধরতে গেল,মি.A আবার গুলি করলেন,এবার সাপটা মারা গেল।তবুও কাছে যেতে ভয় করছিল।কারণ অ্যানাকোন্ডা মারাত্মক শক্তিশালী,হাতিকেও পেচিয়ে ধরে মেরে ফেলতে পারে,এমন নজির অনেক আছে।আজ নিজের চোখের সামনে অ্যানাকোন্ডার ভয়াবহতা দেখলাম।সারা বলল ওর নাকি গলা শুকিয়ে গেছে,সুস্মিতার শরীর তো কাঁপছে,পুষ্পের নাকি মাথা ঘুরাচ্ছে।বড় মেয়েরা যেমন তাহিরা আপু,রেহনুমা আপু,রুবি আপু,আকিতা, এরা কোনো ভয় পায় নি তেমন একটা।ছেলেদের মাঝে সামির মনে হয় হালকা ভয় পেয়েছে,মফিজুল, ফারহান এরাও ভয় পেয়েছে।সবাই যে একেবারে ভয় পায় নি এমন নয়, সাপটা যখন নেমে আসছিল এবং লেজটা নাড়া দেয় তখন প্রায় সবারই হৃৎপিন্ড গলার কাছে চলে এসেছিল।ছেলে মেয়ে সবাই চিৎকার করে উঠেছিল। এখনও সবার হৃৎস্পন্দন বেড়ে আছে।
সবাই আবার সাবধানের সহিত কাজে লাগলাম,মাটি থেকে গাছের উপর সব জায়গায় নজর বুলাচ্ছি।আমাদেরর কাজ শেষ,রান্নার কাজও শেষ।এবার চলছে সাপটাকে সড়ানোর কাজ।অনেজ ওজন সাপটার।এই সাপটা সবুজ অ্যানাকোন্ডা,আর সম্ভবত মেয়ে সাপ,কারণ মেয়ে অ্যানাকোন্ডাই সবচেয়ে বড় আর ভারী হয়।সপটার ওজন কমপক্ষে ২০০ কে.জি. হবেই।দড়ি দিয়ে বাধা হয়েছে,বেঁধে সব ছেলেরা মিলে টানছে,টেনে টেনে নিয়ে যাওয়া হলো নদীর তীরে,তারপর অন্যদিকে নিয়ে গিয়ে পানিতে ফেলে দেওয়া হলো দড়ি সমেত।পানিতে ঝপ করে একটা শব্দ হলো,সাপটা আংশিক ডুবে আছে।
সবাই ঘেমে নেয়ে অস্থির হয়ে আছে।হাপানো চলে এসেছে আমারও।পানি খেয়ে আর বিশ্রাম নিয়ে তবেই শান্ত হলাম।এবার কাজ হলো রাতের খাবার খাওয়া।আজ একটু দ্রুতই খাওয়া হচ্ছে,কারণ আজ অনেকক্ষন নোখা বাইতে হয়েছে,তারউপর এই সাপটা সড়াতে মারাত্মক পরিশ্রম হয়েছে।মেয়েরাও জিনিস পত্র নামাতে আর রান্নার কাজ করে কাহিল,সবাই খেতে বসলাম।তানিম ভাই আর মেহেদী ভাইয়া আগেই বলে দিয়েছে তারা নাকি চেখে দেখেছে,অনেক সুস্বাদু হয়েছে আজকের খাবার। সত্যিই খাাবার অনেক সুস্বাদু হয়েছে,ক্ষুধাও ছিল সকলের প্রচুর,তাই সবাই পেটপুড়ে খেলাম।যারা ডায়েট করে আজ তারাও খেয়েছ যথেষ্ঠ। খাবার খাওয়া শেষে আমি,হৃদয় ভাই,জাহিদুল, মেহেদী ভাই,তানিম ভাই পান খেলাম,খাবারের সরঞ্জামগুলোর সাথে পান সুপাড়ি আর চুন ছিল।পান খেয়ে খেয়ে গল্প করছি।ইভা আর ঐশী গেছে চা বানাতে।চা বানিয়ে নিয়ে এসে বলল,,,
ঐশী:" আলসের দল সব নাও চা খাও।"
সিয়াম: আমরা আলসে না,তুমি অলস।
মফিজুল: দেখলা না আমরা কতো কাজ করলাম।
আনিকা: আমরা সবাই অলস আবার অলসও না।
সাঈম ভাই: ঠিক বলেছ,সবাই অলস আবার সবাই অলসও না।
হৃদয়: আনিকা,আমরা সবাই এমনই।ঐশীই খালও আমাদের অলস বলে।
ঐশী: আমার কথাকে সিরিয়াসলি নেয় সবাই,যাও কথাই বলব না।
শিখা: আরে আরে রাগ করে কেন??? ঐশী পাগলি রাগ করিস না তো।
সারা: ঐশী আপুর কাজই রাগ করা।
আবার আলোচনা শুরু হলো।আজ প্রসঙ্গ সবার অজান্তেই অ্যানাকোন্ডা বিষয়ক হয়ে গেছে। আড্ডা চলছে।তবে মি.A এর কথায় চিন্তা হলো।কথাটা হলো:" মেয়ে সাপ মরেছে,পুরুষ সাপটা তো বেঁচে আছে,যদি ওইটা আবার আক্রমন করে বসে।"সবার মনেই একটা অজানা ভয় কাজ করছে।আজ রাতে তাই পাহাড়ার জন্য সংখ্যা বাড়ানো হলো,আজ পাহাড়া দিব আমি,হৃদয় ভাই,মফিজুল,মেহেদী ভাই,ফারহান আর রনি ভাইয়া।সকলকে প্রস্তুতি নিতে বলা হলো।
আমি এখন প্রস্তুতি নিব।পরে কী হলো তা জানতে পরের পর্ব পড়ুন।
[কেমন লাগল???নিজেকে আমি চরিত্রে কল্পন করে পড়বেন,তাহলে আসল মজাটা পাবেন]
বি.দ্র.: অনেকটা সময় খরচ করে এবং মেধা ব্যাবহার করে ও ধৈর্য্যসহকারে টাইপ করে গল্পগুলো লিখি।তাই কপি করবেন না।
চলবে,,,
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now