বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
অলংকরণঃ সৌরভ দে।
পঞ্চম বর্ষ প্রথম সংখ্যা।
********************★*******************
১৭ এপ্রিল, ২০৬৪ স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন; ইউএস, ক্যালিফোর্নিয়া।
“এমিলি, কফি খাবে?” পেছনের সারি থেকে বলে ওঠে মাইক।
“একটু পর, একটা মজার জিনিস পেয়েছি। চাইলে তুমি একা খেয়ে আসতে পারো, আসার সময় আমার জন্যে এক কাপ নিয়ে এসো।”
এমিলি, নতুন জয়েন করেছে এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের জুনিয়র পর্যবেক্ষক হিসাবে। নতুন নতুন সবারই এমন উৎসাহ উদ্দীপনা একটু বেশি থাকে। যাই দেখে তাতেই অবাক হয়। মুচকি হেসে কফি বানাতে চলে যায় মাইক। প্রায় পাঁচ বছর ধরে একই জিনিস দেখতে দেখতে, একই কাজ করতে করতে আর ভালো লাগে না তার। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে ছেড়েই দেবে হতচ্ছাড়া এই চাকরিটা। কাজ বলতে সারাদিন সামনের সারি সারি কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা আর দিন শেষে স্যাটেলাইটে তোলা সকল ছবি আর্কাইভে ঢোকানো।
কফির মগটি এমিলির ডেস্কের উপর ঠক করে রেখে টেবিলের উপরেই বসে পড়ে মাইক; জিজ্ঞেস করে, “এতো মনোযোগ দিয়ে কী দেখছ?”
বিভিন্ন এলাকায় ভাগ করে তারা কয়েকজন সর্বক্ষণ সমগ্র পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণ করছে। সচরাচর চাঞ্চ্যলকর কিছু না ঘটলে মোটামুটি একঘেঁয়ে ছকে বাঁধা তাদের কাজ। এমিলি মধ্য আফ্রিকার পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে আছে।
“দেখ এই লোকগুলো এই গর্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সঙ্গে দুইটা জ্যান্ত হরিণ।”
“আফ্রিকার অঞ্চলে তো এখন রাত, তুমি স্যাটেলাইটের নাইট-ভিশন চালু করেছ?” কিছুটা অবাক হয়ে প্রশ্ন করে মাইক।
রাতে সাধারণত স্যাটেলাইটের ছবি তোলা হয় না, তবে বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে নাইট-ভিশন চালু করা হয়। অবশ্যই তার জন্যে আগে থেকে অনুমতি নিতে হয়। কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে যায় এমিলি। ফিসফিস করে বলে, “উঁহু, নেয়া হয়নি অনুমতি। এমন মজার একটা জিনিস যে দেখার লোভ সংবরণ করতে পারিনি। তবে এই ছবিগুলো আর্কাইভে তুলবো না।”
পাশের আরেকটি স্ক্রিনে রাতের স্বাভাবিক ছবিও দেখাচ্ছে। সেদিকে ইঙ্গিত করে এমিলি বলে, “এইগুলো সেভ করে নাইট ভিশনের রেকর্ডগুলো ডিলিট করে দেব। কেউ টেরই পাবে না।”
এমিলির সাহস দেখে কিছুটা অবাক হয় মাইক। যতই ডিলিট করুক না কেন, লগ ফাইলে ঠিকই সব রেকর্ড হয়ে থাকবে; তবে কিছু না বলে কফিতে হালকা চুমুক দিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকায় সে। স্যাটেলাইটের তোলা রাতের ছবি। হিট এন্ড রেডিয়েশন সিগনেচার ভিডিয়ো।
নীল রঙা সমতল অঞ্চলের মধ্যে কয়েকটা হালকা আকাশি টিলা আর তার মাঝে মাঝে ছোট ছোট কালো বিন্দু। তার মানে টিলা মধ্যবর্তী ওই অঞ্চলের গভীরতা বেশ বেশি। কোনও গর্ত জাতীয় কিছু হবে। আশপাশে কয়েক কিলোমিটার গভীর বনাঞ্চল। পাশ দিয়ে একটি সাদা রঙের রেখা এঁকেবেঁকে এগিয়ে গেছে; কোনও নদী বা লেক হবে হয়তো। এমিলি দৃষ্টি নিবন্ধ আছে স্ক্রিনের কেন্দ্রের একটি ছোট হালকা বেগুনী বিন্দুর উপর। সেটার চারধারে দিকে গোল হয়ে কতগুলো হলুদ রং নাচানাচি করছে। ড্যানিয়েলের বেশ কিছুক্ষণ লাগল বুঝতে যে ওগুলো আসলে মানুষ। স্যাটেলাইট হিট সিগনেচার মোডে মানুষ আর জন্তু সবসময় স্পষ্ট বোঝা যায় না।
মানুষগুলোর হাতে ধরা আগুন জাতীয় কিছু। হয়তো সবাই হাতে মশাল ধরে রেখেছে। হিট সিগনেচারের কারণে সম্পূর্ণ অবয়বটাই জ্বলজ্বল করছে। আরও দুইটা জ্বলজ্বলে হলুদ বিন্দুকে টেনে হিচড়ে গর্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে দলটি। কী ও দুটো? মানুষ নাকি?
স্ক্রিনের এক কোণায় জ্বলজ্বল করছে ওই এলাকার কোর্ডিনেট, পাশে লেখা কঙ্গো। আজ পূর্ণিমা, আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি এই অঞ্চলে এখনও। আদিবাসী দলটা কি পূর্ণিমা রাতে নরবলি দেয়? এমিলি স্যাটেলাইট ইমেজ আরও জুম করতে ড্যানিয়েল আশ্বস্ত হল। নাহ, ওই দুটো বিন্দু মানুষ নয়। জুম করতেই সাধারণ হলদেটে আলোক-অবয়ব সংক্রান্ত তথ্য বলে দিল স্যাটেলাইট। বিন্দু দুটো হরিণ।
কিছুক্ষণ পর হরিণদুটোকে গর্তে ফেলে দিয়ে আরও কিছুক্ষণ সেটিকে কেন্দ্র করে নাচতে থাকে আদিবাসীরা। তারপর ধীরে ধীরে ফিরে যায়। সম্পূর্ণ উৎসবটি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে মাইক ও এমিলি।
মাইকের অনুসন্ধিৎসু মনে কিছু একটা খচখচ করছে, কিন্তু তাৎক্ষণিক ধরতে পারছে না ব্যাপারটি কী। তার মনে হয় কোথায় যেন একটু অস্বাভাবিকতা আছে সম্পূর্ণ উৎসবটিতে। হাতের কফি অনেক আগেই ঠান্ডা হয়ে গেছে, হঠাৎ মনে পড়তেই ঠান্ডা কফিতেই আলতো চুমুক দিয়ে বলে, “এমিলি, তুমি হঠাৎ আজ এই ব্যাপারটা নিয়ে এত উৎসাহ বোধ করছ কেন?”
“জানি না! জংলিদের কাজকারবার কখনও দেখিনি তো, তাই আজ একটু সরাসরি দেখতে ইচ্ছা করছিল। আমি গত কয়েক মাসের আর্কাইভ ঘেঁটে দেখেছি, প্রতি পূর্ণিমায় ওই আদিবাসীগুলো এই গর্তটাকে ঘিরে এমন যজ্ঞ পালন করে।”
“এমন উদ্ভট ধরণের অনেক আনুষ্ঠানিকতা তুমি আমাজনের বনে, হিমালয়ের পাদটিকায়, আফ্রিকার গভীর অরণ্যে, আন্দেজ পর্বতমালার উপজাতিদের ভেতরও দেখতে পাবে। এতে খুব আশ্চার্যন্বিত হওয়ার কিছু নেই। খোদ আমেরিকাতেও শয়তানের উপাসনাকারী নামের একটি গোপন সংঘ আছে। বছরে একটি দিন কোনও এক বনের ভেতর গিয়ে তারা উদ্ভট সব কীর্তিকলাপ করে থাকে।” মাইক বলল। এমিলিকে জ্ঞান দান করলেও তার মনের ভেতর ঠিকই অস্বস্তিবোধ হচ্ছে। আজকে যা দেখেছে সেটিকে অন্য সব পূজা পার্বনের সঙ্গে ঠিক মেলাতে পারছে না সে। কোথায় কী যেন একটা ঝামেলা আছে ঠিক ঠাহর করে উঠতে পারছে না।
বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে রাতে বাসায় ফেরে মাইক। হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়, চমকে ঘুম থেকে উঠে জেগে ওঠে। সে ধরতে পেরেছে অবচেতন মনে কী খোঁচাচ্ছিল আজ সারাদিন ধরে। ভোর হতে না হতেই আবার ছুটে যায় অফিসে। লগ ফাইল থেকে গতকালের ভিডিয়োটা নামায়। তারপর সেটা বারংবার চালিয়ে গতকালের সেই দৃশ্য আবার দেখতে থাকে সে। তার বুক দুর দুর করছে উত্তেজনায়! দ্রুত হাতে কম্পিউটার খুলে অফিসে ইমেল করে এক সপ্তাহের ছুটির আবেদন জানিয়ে দেয়। তাকে একবার স্বচক্ষে দেখতেই হবে গর্তটা।
ঘুণাক্ষরেও কি সে টের পেয়েছিল কঙ্গোর সেই গভীর বনে কী ভয়ংকর সত্য অপেক্ষা করছে তার জন্যে?
**********************★*******************
তথ্যসূত্রঃ কল্পবিশ্ব।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now