বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কলমদানী (Part 5)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান NaiRa AhmEd (০ পয়েন্ট)

X ফাহাদ নিলয়কে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখে বড়সড় ধরনের একটা শক খেয়েছে।সে এরকম কোনোকিছু এক্সপেক্ট-ই করেনি।কারণ সে ফিক্সড করা সময়ের ১৬ মিনিট আগে এসেছে।ফাহাদ আস্তে করে নিলয়ের পাশে যেয়ে বসলো। নিলয় ফাহাদকে দেখে বলল, -ও তুই!আমি ভাবলাম গাছ থেকে কি না কি ঠাস করে আমার পাশে পড়লো। -শোন নিলয়,আমি আস্তে বসছি। -কিন্তু আমি শব্দটা জোরে পেয়েছি। -তোর তো কুত্তার কান।সবকিছু এক্সট্রা শুনিস। -ও আচ্ছা।কিন্তু তুই এত ঘামছিস কেনো? -আমি মানুষ।এই গরমে ঘাম তো হবেই! যত্তসব ফালতু কথা। -কই অতো গরম নাতো!আমি তো ঘামছি না। -তোর কান যেমন কুকুরের চামড়াও তেমন গন্ডারের। -ও।হয়তোবা।আচ্ছা তোর মনে আছে,ভার্সিটিতে রেজিস্ট্রেশন ফ্রমের সাথে বার্থ সার্টিফিকেটের ফটোকপি দিতে বলেছিলো।তুই ফটোকপি করেছিলি কিন্তু পরে খুঁজে পাসনি? -হুম।মনে আছে।তো? -ওই ফটোকপি কাল আমি আমার ফান্ডামেন্টালের ভিতর খুঁজে পেয়েছি। -বদমাইশ ছেলে।তোর জন্য আমার এক্সট্রা ২ টাকা খরচ হয়েছে।আর এই ফান্ডামেন্টাল আবার কি? -বই।বই। -ও।তো ৩ মাস আগের কথা এখন কেন? -একটা interesting জিনিস দেখলাম তোর সার্টিফিকেটে। -কি? -আন্টির নাম কি? চুপ করে আছিস কেনো? আরে তোর ফেস এমন হয়ে গেলো কেনো? বল.. -কুতুব মিনার। এই এই হাসছিস কেনো? এরকম নাম কজনের আছে? -না কিছুনা।আচ্ছা তো কুতুব উদ্দিন আইবেক,কি আন্টির নাম অনুসারে কুতুব মিনারের নাম রেখেছিল নাকি? -থাপড়ায়ে তোমার ই ফেলায় দিব। -কি? -আরে এইটাকে কি বলে? -কোনটাকে? -এইটাকে,এইটাকে। -ছি: ছি: তুই এইটার নাম জানিস না!!!তোকে বলবোনা। -আরে আমার ইসে আসছে কিন্তু ইসে আসছে না। -কিসে আসছে কিন্তু কিসে আসছে না? -আরে ধুর এইটাকে কি যেন বলে!বলনা... -দাত বলে দাত। -ইয়েস।রাইট।দাত।ই করে তোর দাত ফেলায় দিব। -কি করে? -থাপড়ায়ে,থাপড়ায়ে।গাধা।কুতুব মিনার নির্মাণ শুরু হয়েছে ১১৯৩ সালে।আমার মা কি অতো আগে হয়েছে নাকি? -ও।তাইতো। কাল মাথায় আসলো না কেনো? -তুই তো গাধা।তো কাল রাতে ফোন দিয়ে কি ম্যাও ম্যাও করছিলি? -কলমদানী। -হুম বল। -এখন মুড নেই। -কখন মুড হবে? -জানিনা। ও ভাল কথা।আঙ্কেল আন্টিকে কি বলে ডাকে? কুতুব নাকি মিনার? -ফাইজুর মা। -তোর মা বলেনা কেনো? -আমাকে পছন্দ করেনা তাই -ফাইজু হওয়ার আগে কি বলতো? -তখন ফাহাদের মা বলতো।আর কি বলবে! -আর তুই হওয়ার আগে কি বলতো? -সেটা আমি কিভাবে বলবো? -তাও ঠিক।লজিক আছে। -ফালতু কথা সাইডে রেখে এবার তোর কলমদানীর কথা বল। -বললাম তো মুড নেই। -ওকে।তাহলে যাই।ও আরেকটা কথা।সায়রার সুইসাইডের কাহিনীটা কি হলো? নিলয় ফাহাদের দিকে চমকে ওঠার দৃষ্টিতে তাকালো।একটু হকচকিয়ে গিয়ে ফাহাদকে বলল, -এখন এসব কথা আসছে কেনো?বাদ দে।ভালো লাগছে না। -ভাল না লাগলে কাজ হবেনা।আজ তোকে বলতেই হবে।বল। -সে সেক্রিফাইজ করেছে তার ক্লোজ ফ্রেন্ডের জন্য। -মানে তুই বলতে চাচ্ছিস করবীর জন্য? -করবী আমাকে পছন্দ করে ওটা জানার পরেই তো......পথ থেকে সরে গেলো। -তুই সিওর? -মেসেজ পাঠিয়েছিল ছাদে আসার জন্য।গিয়ে দেখি সামনের ছাদে দাড়িয়ে আছে। বৃষ্টি পড়ছিলো।তবুও বোঝা যাচ্ছিলো,মেয়েটা কাঁদছে।চোখ দুটো লাল হয়ে ছিল।আর ওই চোখে ছিল আমার জন্য হাজার অভিমান।আর বান্ধুবির জন্য করা সেক্রিফাইজ। আমার চিৎকার করে করে না বলার আগেই রেলিং থেকে ঝাপ দিলো। আর সব.... -শেষ।আচ্ছা ওরা তোদের সামনের ফ্লাটে থাকত নাকি? -১ থেকে ২ সপ্তাহ আগে ভাড়া এসেছিল। -করবী ব্যাপারটা জানে? -জানিনা। -ও।আচ্ছা তোর কথা মতে তুই সায়রা ইভেন কোনো মেয়েকেই রিয়েল লাভ করিসনি।কিন্তু সায়রার সুইসাইডের পর তুই সবার সাথে ফ্রেন্ডশিপ নষ্ট করলি প্লাস দুই আড়াই মাস পুরো ঘরে বন্দি হয়ে গেলি।কেনো? -করবীকে দেখানোর জন্য যে আমি সায়রাকে সত্যি ভালোবেসেছিলাম।যাতে ও আমাকে পরে ডিসটার্ব না করে। -ও তো কোনোদিন তোকে ডিসটার্ব করেনি।শুধু কথা বলতে চেয়েছিলো। -আমার কোনো মিডিল ক্লাস মেয়ের সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করেনা। -ওরা তো তোদের লেভেলের ই বড়লোক।তো মিডিল ক্লাস কোন আ্যংগেল দিয়ে লাগে? -নাম শুনেই তো মিডিল ক্লাস মনে হয়।শোন,মিডিল ক্লাস ফ্যামিলির লোকেরা তাদের ছেলেমেয়ের নাম ফুলের নাম দিয়ে রাখে।যেমন,বেলী,জবা,জুঁই,প্যারাসুট আরও কতকিছু।আর ওর তো ফুলের নাম প্লাস বিষাক্ত ফুলের নাম।ওই করবী ফুলের পাতা খেলেই মানুষের হার্টে আর মাথার ওই সুষম্নাকান্ডে কি যেন হয়।আর বাচ্চারা তো মরেই যায়। -বাবাহ,গনিত ডিপার্টমেন্টের ছাত্র হয়েও তো উদ্ভিদ বিদ্যা সম্পর্কেও ভাল জানিস।আমি গনিত ডিপার্টমেন্টে যাইনি কেন জানিস,এই বড় বড় গনিতবিদরা ম্যাথ করতে করতে লাস্টে পাগল হয়ে সুইসাইড করে।কীয়েক্টা অবস্থা!!! -হুম।আর তোদের ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের গুলা অটিস্টিক হয়ে যায়।লাইক...স্টিফেন হকিং। -শোন উনি অটিস্টিক না।ওটা ওনার রোগ ছিল।মটর নিউরন ডিজিজ। -তোরও হতে পারে।বলা যায়না। -যদি হয় তাহলে তুই আমাকে হুইল চেয়ার কিনে দিস,আর তোর বাড়িতে রাখিস।কারন বাবা আমাকে বের করে দিবে। আচ্ছা বাসায় যাই। ভাল লাগছে না। -তুই আমার বাসায় যাবি।কলমদানী দেখাবো। চলবে....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কলমদানী (Part 6)
→ কলমদানী (part 4)
→ কলমদানী (Part 3)
→ কলমদানী (Part 2)
→ কলমদানী (part 1)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now