বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিস্টি প্রেম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Salman al Riyad (০ পয়েন্ট)

X এই যে শুনছেন? . একটা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। এমন সময় একটা মেয়ে ডাকলো। পিছনে তাকিয়ে দেখি শাড়ি পরা একটা মেয়ে। চোখে চশমা। ভীষন রকমের সুন্দর। কিন্তু আমাকে ডাকছে কেন? তাই একবার ডানে বামে তাকিয়ে বললাম... -আমাকে ডাকছেন? -মেয়ে আপনার। তাহলে কি অন্য কাউকে ডাকবো? মেয়েটার কথাটা বুঝলাম না। আমার মেয়ে মানে? তাই শিউর হওয়ার জন্য আবার বললাম... -আপনি কি সত্যিই আমাকে ডাকছেন? -আজব তো। দাঁড়ান। বলে মেয়েটা একটা পিচ্চি মেয়েকে কোলে করে আমার সামনে নিয়ে আসলো। কিন্তু এ কি!! সায়মা এখানে কেন? আমি তারপর মেয়েটার কাছ থেকে সায়মাকে কোলে নিলাম। তারপর মেয়েটা আমাকে বলল... -সন্তানের স্কুলের কখন ছুটি হয় সেই খেয়াল নেই? মেয়েটা অনেকক্ষণ যাবত কান্নাকাটি করছে। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম... -আপনার কেন মনে হলো ও আমার মেয়ে? -আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাত দেখলাম ও কান্না করছে। কান্নাকাটি করতে করতে কথা বলতে পারছিলো না। বাচ্চা মেয়ে ভয় পেয়েছে অনেক। জিজ্ঞাসা করলাম আব্বুর নাম কি তারপর আপনাকে দেখিয়ে বলল "আব্বু"। বুঝলাম মেয়েটার বুঝার ভুল হয়েছে। সায়মা আমার ভাতিজি। ক্লাস নার্সারিতে পড়ে। ও আমাকে ছোট আব্বু বলেই ডাকে।মনে হয় কান্না করতে করতে ছোট আব্বু বলতে গিয়ে শুধু আব্বু বলে ফেলছে। তাই উনি ভেবে নিয়েছে ও আমারি মেয়ে। কিন্তু সায়মাকে তো প্রতিদিন ভাবী স্কুলে আনা নেওয়া করে। আজ আসতে এত লেইট হচ্ছে কেন বুঝলাম না। তাই আমিই সায়মাকে কোলে করে নিয়ে বাসায় ফিরলাম। মেয়েটার ভুল ভাংগানোর আগেই উনি একটা রিক্সা নিয়ে চলে যাচ্ছে। আমি শুধু ধন্যবাদ টাই দিতে পারলাম। . আমি রিয়াদ। লেখাপড়া শেষ করেছি। কিন্তু মামা চাচার অভাবে বেকার। দুই ভাই আমরা। বড় ভাই বিয়ে করে সংসার করছে। আমি কিছুই করি না। আমার সব বন্ধুরা প্রেম করছে। কেউ কেউ বিয়ে করে ফেলছে। কয়েকদিন আগেই তো অন্তর বলল ও নাকি বিয়ে করবে। অন্তরের প্রেমিকার কথা বাড়িতে বলতে ভয় পাচ্ছে তাই আমার কাছে হেল্প চাইছে। আন্টি মানে অন্তরের আম্মু আবার আমাকে অনেক পছন্দ করেন। অন্তরের সব কথা আবার আমার সাথে শেয়ার করে। . আমি আর আন্টি আসছি অন্তরের প্রেমিকা মিমের বাসায়। অনেক কষ্টে আন্টিকে রাজি করিয়েছি। অন্তর আসতে চায়নি একটা কাজের চাপে। আমি আর আন্টি বসে আছি। একটু পর মিমকে ডাকা হলো। মিম এসে বসে আছে আমাদের সামনে। . আন্টি কিছু প্রশ্ন করছে বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর আমিই দিয়ে দিচ্ছি। আসলে আন্টি খুব খুঁটিনাটি ধরেন। হঠাত করে ওনাদের বাসার কলিংবেল বেজে উঠলো। বাসার কাজের মেয়েটা গিয়ে দরজা খুলে দিলো। একটা মেয়ে আসলো। চশমা পরা। কোথায় যেন দেখছি মেয়েটাকে। ওহ মনে পরছে। সায়মার সাথে ঐদিন দেখে ছিলাম। ওনাকে ঐদিন শাড়িতে দেখেছিলাম। আজ সেলোয়ার কামিজে। আজ তো আমি মেয়েটার দিকে অপলক ভাবে তাকিয়ে আছি। আজ মেয়েটার প্রেমে পরে গেলাম। . মেয়েটা আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালো। তারপর অন্তরের হবু শ্বশুর বলল... -আমার ছোট মেয়ে ইলমা। ইলমা আমাদের সালাম দিল। আমাকে দেখে কিভাবে যেন তাকালো। তারপর ওর আব্বুকে জিজ্ঞাসা করলো... -বাবা এরা কারা? আর আপু এখানে বসে আছে কেন? -আরে মিমকে দেখতে আসছে। কথাটা শুনে ইলমা একটু রাগত স্বরে বলল... -মানে? আমার আপুর কি কোনদিক থেকে কমতি আছে নাকি? বিবাহিত ছেলের কাছে কেন বিয়ে দিবো? কথাটা শুনে সবাই হা করে তাকিয়ে আছে। তারপর আমার সামনে এসে বলল... - এই যে মিষ্টার। আপনার তো বাচ্চা আছে। আপনি আবার বিয়ে করতে আসছেন আমার আপুকে? কি ভাবছেন কেউ জানতে পারবে না আপনি বিবাহিত? তারপর আন্টিকে নির্দেশ করে বলল... -একটা নারী হয়ে কিভাবে অন্য নারীর জীবন নষ্ট করতে আসছেন? কথা শুনে আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না। তারপর বললাম... -আপনি ভুল ভাবছেন। -চুপ করুন আপনি। ধমক শুনে আমি চুপ হয়ে গেলাম। তারপর আন্টি আমাকে বলল... -বাবা রিয়াদ, তুই এখানে আমাকে নিয়ে আসলি কেন? দেখলি তোকেও কিভাবে অপমান করলো। -না আন্টি। উনি ভাবছে সায়মা আমার মেয়ে। আন্টি ব্যাপারটা কিছুটা বুঝে তারপর রেগে গেল। কারন এভাবে অপমানিত হওয়াটা আন্টি সহ্য করতে পারছে না। তাই উনি রেগেই বলল... -এই মেয়ে কি বলছো তুমি এসব? রিয়াদ, আমার ছেলের বন্ধু। আর আমার ছেলের জন্যই তোমার বোনকে দেখতে এসেছি। আর রিয়াদের বিয়ে হয়নি। ঐটা ওর ভাতিজি ছিলো। কথাগুলো শুনে ইলমা জিহ্বাতে কামড় দিয়ে দৌড় দিয়ে ওর রুমে চলে গেল। কিন্তু আন্টিকে শান্ত করতে হবে। তারপর অনেক কষ্টে আন্টিকে বুঝালাম। মিমের বাবা ও মেয়ের হয়ে ক্ষমা চাইলো। তারপর বিয়ের দিন তারিখ সব পাকা করে বাসায় ফিরলাম। ইলমা চলে যাওয়ার পর আর দেখতে পাইনি। আজ অন্তরের বিয়ে হয়েছে। ইলমা ওর বোনের সাথে অন্তরের বাড়িতে আসছে। তাই সারাক্ষণ আমি ইলমার আশেপাশে ঘুরাঘুরি করছি। ইলমা অবশ্য কয়েকবার খেয়াল করছে। অন্তর বলল ওদের বাসায় থেকে সব অনুষ্ঠান শেষ হলে যেতে তাই রয়ে গেলাম। কিন্তু আমার মেজাজ খারাপ। ইলমা একটা ছেলের সাথে সারা বাড়িতে ঘুরাঘুরি করছে। খোজ নিয়ে জানলাম যে ছেলেটা নাকি অন্তরের কাজিন। নাম শিহাব। বুঝলাম পোলাটা টাংকি মারতে চাইতেছে ইলমার সাথে।কিন্তু ছেলেটার বয়স ইলমার চেয়ে কম। কিন্তু ভালবাসায় বয়স কোন ফ্যাক্টই না। দুর্ঘটনা গুলো এরকম ভাবেই ঘটে। এর একটা বিহিত করতে হবে। কাল বৌ ভাত। আজ রাতেই অনেক কাজ করে রাখতে হবে। তাই আমি ভাবলাম অন্তরের কাজিনকে কাজেকর্মে ব্যস্ত রাখবো। তাই আন্টির কাছে গেলাম... -আন্টি ঐদিকের সাজানোর কাজ টা বাকি আছে। -বাবা রিয়াদ, তাহলে তুই একটু কষ্ট করে শেষ কর।আমি এদিকটা দেখছি। এটা বলেই আন্টি চলে যাচ্ছে। আসলাম অন্যজনের পস্তানোর ফাঁদ তৈরী করতে। কিন্তু নিজের ফাঁদে নিজেই পা দিলাম। তারপর আবার আন্টিকে ডাকলাম। উনি একটু বিরক্ত হয়েই বলল... -আবার কি? -আসলে আমি সাজানোর কাজ টা খুব একটা পারি না। আমার ঐদিক টা দেখতে হবে। ঐ যে শিহাব আছে। ও তো আমাদের নিজেদেরই লোক। কথাটা শুনে আন্টি শিহাবের দিকে তাকিয়ে দেখলো শিহাব ইলমার সাথে কথা বলছে।আমার দিকে তাকালো। একটা হাসি দিয়ে বলল... -নীরবতা মাঝে মাঝে অনেক কিছু কেড়ে নেয়। সব কিছু প্রকাশ করে দেয়াই ভাল। আন্টির কথাটা কেমন যেন রহস্যজনক মনে হলো। কিছুসময় আমি এটা নিয়েই ভাবছি। আন্টি কি বুঝাতে চাইলো? আন্টি কি তাহলে কিছু আচ করে ফেলল? তাহলে তো আন্টি এত হেসে কথা বলতো না। কারন আন্টি প্রেম ভালবাসা একদম পছন্দ করে না। কিন্তু আমার মস্তিষ্ক যতটুকু কাজ করছে আন্টি আমাকে উৎসাহ দিলেন। যাক ভালই হলো। একজনের সাপোর্ট তো পেলাম। আমার সাহস টা এবার একটু বেড়ে গেলো। "সে যে বসে আছে একা একা রঙ্গিন স্বপ্ন তার বুনতে, সে যে চেয়ে আছে ভরা চোখে জানালার ফাঁকে মেঘ ধরতে। তার গুণগুণ মনের গান বাতাসে উড়ে কান পাতো মনে পাবে শুনতে, তার রঙের তুলি নাচে মেঘলা চোখে চোখ মেল যদি পারো বুঝতে।" -বাহ। বেশ ভাল গান গাইতে পারেন তো। গান থামিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখি ইলমা। প্রচণ্ড গরম পরেছে তাই ছাদে বসে গান গাচ্ছিলাম। শুধু প্যান্ট পরে আছি। গায়ের শার্টটা গরমের কারনে খুলে ফেলেছি। কে জানতো রাত ১২ টায় ইলমা ছাদে আসবে। ইলমার সামনে খালি গায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে লজ্জা করছিলো তাই সাথে সাথে তড়িঘড়ি করে শার্টটা কোনমতে পরলাম। আমার কান্ড দেখে ইলমা হেসে ফেলল। তারপর বলল... -অসময়ে এসে পরলাম সেজন্য সরি। আমি একটা ভেটকি মাছের মতো হাসি দিলাম শুধু। তারপর ইলমা আবার বলল... -সরি। -আবার সরি কেন? -ঐদিন আপনাকে অনেক কিছু বলে ফেলেছিলাম। আসলে বুঝতে পারিনি। -ওহ আচ্ছা। তারপর ইলমা আস্তে আস্তে আমার কাছে আসছে। আমি কিছু বুঝতে পারছি না। কেন জানি আমিও একটু একটু করে পিছনে সরে যাচ্ছি। আর অমনি ইলমা আমার শার্ট টেনে সামনে নিয়ে এসে বলল... -আরেকটু হলেই তো ছাদ থেকে পরে যেতেন। ওর কথাটা শুনে তেমন ভ্রুক্ষেপ করিনি। কারন ইলমা এখন আমার খুব সামনে। ওকে এতটা কাছ থেকে দেখতে পারবো আশা করিনি। চশমা পরেনি আজ। ওর চোখ, ঠোঁট গুলো দেখে ক্রাশ খেলাম। আমি অবাক দৃষ্টিতে যখন ওকে দেখছি তখন ও এক আশ্চর্যজনক কাজ শুরু করলো। ও আমার শার্টের বোতাম খুলা শুরু করলো। ওর কান্ড দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। তারপর বললাম... -কি করছেন এসব? ছাড়ুন। বলেই আমি একটু পিছনে সরে গেলাম। ও আমার দিকে একটু রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল... -আপনার শার্টের বোতাম তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে আবোলতাবোল ভাবে লাগিয়ে ফেলেছেন। সেটা ঠিক করছি। আজব। সত্যিই আমি বোতামগুলো ঠিক মতো লাগাতে পারিনি। -আচ্ছা আচ্ছা আমিই ঠিক করছি। এবার ও হাসি দিয়ে নিচে চলে গেল। আমি নিচে যাওয়ার আগে আশেপাশে ভাল করে দেখে নিলাম। ভাগ্যিস কেউ আমাদের দেখেনি। আজ সারাদিন মন টা খারাপ ছিল। কারন ইলমা আজ সকাল অনেকক্ষণ শিহাবের সাথে কথা বলেছে। তাই সকালের পর আর ইলমার সামনেই যাইনি। অনেক রাগ হইছে ওর উপর। বুঝলাম ও কখনো আমার হবে না। তাই আমি আন্টির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় চলে যাওয়ার জন্য বের হলাম। আর তখনি পকেটের ফোন বেজে উঠলো। অচেনা নাম্বার। -আসসালামু আলাইকুম। কে বলছেন? (আমি) -ও আলাইকুম আসসালাম। আমি ইলমা। আপনি কই? -আমি রাস্তায়। বাসায় চলে যাচ্ছি। আপনি আমার নাম্বার পেলেন কই? -রাস্তায়। আপনি এখনি ফিরে আসুন। -কেন? -আসতে বলছি আসুন। টুট টুট টুট বুঝলাম না ও কেন যেতে বলল। আবার আসলাম অন্তরদের বাসায়। ইলমা গেইটে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি সামনে যেতেই ও কিভাবে যেন চোখ বড় বড় করে তাকালো। তারপর আমাকে অন্তরদের বাসার ছাদে নিয়ে গেল। এরপর বলল... -আজ সারাদিন আপনি কই ছিলেন? -এখানেই তো। -সকালের পর আর আপনাকে দেখলাম না। -একটু ব্যস্ত ছিলাম। -একদম মিথ্যা বলবেন না। সারাদিন আপনাকে খুঁজছি। কিন্তু পাইনি। ইলমা সত্যিই বলছে। আমি এখানে ছিলাম না। বাড়ির বাইরে ছিলাম। কিন্তু ও আমাকে খুঁজছে কেন? -তুমি আমাকে কেন খুঁজছো? তোমার সাথে তো শিহাব ছিল। কোন কিছুর প্রয়োজন হলে ওকে বললেই পারতে। -আপনার মাথায় কি একটু জ্ঞান বুদ্ধি নেই? শিহাব আমার থেকে দু বছরের ছোট। আর ও আমার সাথে সারাক্ষণ থাকে কারন ও আমার পুর্ব পরিচিত। -তাই বলে সারাক্ষণ থাকবে? কথাটা আমি মাথা নিচু করে বললাম। তারপর ও বলল... -আমার দিকে তাকাও। ইলমা আমাকে তুমি করে সম্ভোধন করায় আমি চোখ বড় বড় করে ওর দিকে তাকালাম। - এই তুমি চোখ এত এত বড় করে তাকিয়ে আছো কেন? স্বাভাবিক ভাবে তাকাও। আমি স্বাভাবিক ভাবে তাকালাম। দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছি। কেন জানি মুখ ফসকে বের হয়ে গেল... -তোমায় খুব ভালবাসি ইলমা। আমার কথাশুনে ওর চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা জল গড়িয়ে পড়ল। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। ও কান্না করছে কেন? -কি ব্যাপার কান্না করছো কেন? -তোমাকে না দেখতে পেরে খুব খারাপ লাগছিলো আমার। -আচ্ছা সরি। আর কখনো দূরে যাবো না। -সত্যি তো? -হুম এরপর থেকে আমাদের ভালবাসার গল্প শুরু। খুব ভালভাবেই প্রেম চলছিলো আমাদের। কিন্তু আমার মাথায় একটা টেনশন ছিল। সেটা হলো চাকরী। একটা চাকরী জোগাড় করতে হবে। আর নয়ত ইলমার বাবার সামনে কি নিয়ে যাবো। কোনভাবেই চাকরী পাচ্ছিলাম না। আমাদের প্রেমের কথা আমি অন্তরকেও জানাইনি। কিন্তু ও কিভাবে যেন শুনতে পারে। আজ বিকালে অন্তর আমাকে দেখা করতে বলল। তাই পার্কে অপেক্ষা করছি। দেখলাম অন্তর আসছে। -কিরে কি খবর?(আমি) -হুম ভাল। তোর? (অন্তর) -আছি আর কি। -তোর সাথে কিছু কথা ছিল। -হুম বল। -তুই ইলমাকে ভুলে যা। -মানে? -হুম। দোস্ত ইলমার বাবা যদি জানতে পারে তাহলে বলবে আমার বন্ধু খারাপ। সেটা আমার কাছে ভাল লাগবে না। আর তাছাড়া.. -তাছাড়া কি? -তুই যদি কোন ভাল চাকরী করতিস তাহলে আমি নিজে গিয়ে বলতাম। কিন্তু বেকার ছেলের কাছে কেউ বিয়ে দিতে চাইবে না। ভেবেছিলাম সবাই আমার বিপরীতে থাকলেও অন্তর আমার পাশে থাকবে। কিন্তু আমার ধারণা ভুল প্রমাণ হলো। বন্ধুর মান সম্মানের কথা ভেবে ইলমার কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে। তাই আমি অন্তরকে বললাম... -আচ্ছা আমি তোর সামনেই সব কিছু শেষ করে দিচ্ছি। ইলমাকে ফোন দিলাম। ও রিসিভ করে বলল.. -হ্যালো সাহেব বলুন। -তোমার সাথে কিছু কথা আছে। -হুম বলো। -ইলমা আমি আসলে.. -আসলে কি?? -আসলে তোমাকে ভালবাসি না। তোমার সাথে মজা করার জন্য প্রেম করেছি। -মানে? -হুম। আমাকে তুমি ভুলে যাও। পারলে মাফ করে দিও। বলেই ফোনটা রেখে দিলাম। কিছু মিথ্যা বলতে গেলে অনেক কষ্ট হয়। কথা গুলো বলতেই আমার চারিদিক ঘোলাটে হয়ে গেল। চোখ গুলো ছলছল করছে। ভিতরটা দুমরে মুচরে যাচ্ছে। দুটো মিথ্যা কথায় ভালবাসা হারিয়ে গেল। আমার চোখে পানি দেখে অন্তর হাসতে লাগলো। আমি চোখ মুছে বললাম... -হ্যাপি তুই? -তুই আমার কথাতে তোর ভালবাসা ছেড়ে দিলি? -আমি শুধু তোর কথা ভাবিনি। বেকার হয়ে প্রেম করতে নেই। -তুই আমার বন্ধু। তুই আমার ভালবাসা আমার কাছে এনে দিয়েছিস আর আমি তোর ভালবাসা কেড়ে নিবো ভাবলি কি করে? -মানে? -এই নে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার। চাকরীতে কাল জয়েন করবি। পরশু আমি তোর আব্বু আম্মুকে নিয়ে ইলমাদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাব। সাথে আম্মুও যাবে। আর ভয় পাওয়ার কিছু নেই, সব প্লান ইলমারই। আমি এবার অন্তরকে জড়িয়ে ধরলাম। আসলে সত্যিকারের বন্ধুরা সব সময় উপহার দেয়। কেড়ে নেয় না। . ফোনটা বেজে উঠলো। ইলমা কল দিয়েছে আমাকে দেখা করতে বললো..আমি ওর সামনে দাড়িয়ে আছি.... -হ্যালো। -বন্ধুর জন্য আমাকে ছেড়ে চলে যাবে? -আসলে... তোমার সুখের কথাটা বেশি ভাবছি। -কি ভাবছো? আমাকে ভুলে গেলেই আমি তোমাকে ভুলে যাবো? সুখী হবো?? তোমাকে খুন করে ফেলব আমার থেকে দূরে যেতে চাইলে। -সরি। বলেই ওকে জড়িয়ে ধরলাম ও অভিমানী ভাবে বলল... -ছাড়ো আমাকে। এখন ঢং করতে হবে না। আমি ছাড়িনি। ওকে শক্ত করে ধরে আছি। . আমার আজ বাসর রাত। ইলমা আবদার করছে গান শুনবে। -একটা রোমান্টিক গান গাও। -"ঐ দেখা যায় তাল গাছ ঐ আমাদের গাঁ ঐখানেতে বাস করে কানা বগির ছা।" -রোমান্টিক গান এটা? -আমার তো সেরকমি লাগে। -যাও। কথা বলবো না। ও রাগ করে অন্যদিকে ঘুরে আছে। তখনি আমি আমার কর্কশ গলায় গান ধরলাম... "এক পা দুপা করে তোমার মাঝে যাচ্ছি চলে কেমন করে, কোন সে টানে টানছো আমায়, পারিনা রাখতে নিজেকে ধরে।" এবার ও লজ্জা পেয়ে আমার বুকে মুখ গুজলো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মিস্টি প্রেমের গল্প :বাই মামুন (RM)
→ মিস্টি প্রেমের গল্প
→ মিস্টি প্রেম
→ আকাশ আর মৌ-এর গল্প (একটা মিস্টি প্রেমের মিস্টি গল্প)
→ আকাশ আর মৌ-এর গল্প (একটা মিস্টি প্রেমের মিস্টি গল্প)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now