বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
কুকুরের দৌড়ানি। পর্ব- ৩ {শেষ}
"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সিয়াম (০ পয়েন্ট)
X
আসসালামু আলাইকুম
গল্প:- কুকুরের দৌড়ানি পর্ব- ৩ ও শেষ
২৫/৭/২০১৯
আমি এখন নারায়নগন্জে। এখানে আসছি বেড়াতে আমার খালুর শালার বাপের বৌয়ের শাশুরির এক নাম্বার নাতির বৌয়ের বাসায়
তো এসে খাওয়াদাওয়া করলাম দুপুরের। তারপর বিকেল বেলায় Battle of warships গেম খেলে আর জিজেতে কাটিয়েছি।
এখন সন্ধ্যা। নামাজ পড়ে ছাদে বসে আছি। মাঝেমাঝে হাটছি চারপাশে। চারপাশে শুধু অট্টালিকা আর অট্টালিকা। অনেকে ছাদে বসে গল্প করছে তো কেউ বউয়ের সাথে রোম্যানটিক মোডে আছে।
হঠাৎ একটা বাড়ির ছাদে চোখ গেলো একটা ছোট্ট মেয়ের উপর। কেমন যেনো চেনা চেনা লাগছে। আমি চোখটা খুলে ভালো করে পরিষ্কার করে আবার দেখার চেষ্টা করলাম। হ্যা! চিনতে পারছি এতো সাবিরার ছোট বোন। তারমানে ওরা এখানেই থাকে। যাক পরে একদিন দেখা করে আসা যাবে।
এরপর এশার আযান দিলো। নামাজ পড়ে খাওয়াদাওয়া করে একটু RF খেলে ঘুম দিলাম
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠলাম। তারপর খাওয়াদাওয়া করলাম। তখনই মামি(মনে হয়) বললো যা তো বাবা অমুক মিল থেকে ১৭ কেজি আটা নিয়ে আয়তো। এইতো কাছেই একটু যা। কালকেই দিয়েছিলাম ভাঙাতে
- ১৭ কেজি। আচ্ছা চেষ্টা করছি
আটা নিয়ে ফিরছি। বাবারে কি ওজন। এখনই মনে হয় পড়ে যাবো। তখনই দেখলাম কারা যেন দৌড়ে আসছে? ওরে বাবা এত দেখি চার বালিকা সেই শিখার মতো উড়াধুরা দৌড় দিয়ে আসছে তাও আবার চোখ হাফ বন্ধ করে সামনে না তাকিয়েই। এদেরও মনে হয় কুকুর তাড়া করছে। বলতে বলতে একজন ধাক্কা দিলো কোনরকম সামলে নিলাম । দ্বিতীয় ধাক্কা এখনই পড়ে যাচ্ছিলাম। তৃতীয় ধাক্কা পড়ে যাবো যাবো ভাব। অবশেষে চতুর্থ ধাক্কা আমি আটার বস্তা সহ ,,,,,,,,,,,,,ধপাস। চতুর্থ বালিকার মনে হুশ টুশ ছিলো তাই ওই বালিকা একজনকে ধাক্কা দিয়ে ভুলুন্ঠিত করে দিয়েছে বুঝতে পেরে
আমাকে সরি বলতে আসলো। কুকুরগুলো দুরেই ছিলো। সরি জানাতে এসেই ভুত দেখার মতো চমকে উঠলো। বলে উঠলো সিয়াম ভাইয়া আপনে।
আমি কষ্ট করে দাড়িয়ে বললাম হ্যা আমিই সিয়াম । কিন্তু তুমি কে বালিকা?
- আমি সাবিরা
ততক্ষনে বাকি তিন বালিকারাও থেমে গেছে✋।
- তাইইইইই
- সিয়াম ভাইয়া বাচান আমাদের ওই কুকুরগুলার হাত থেকে।
বাকি তিন বালিকা:- হ্যা সিয়াম ভাই বাচান।
কুকুরগুলোও এসে গেছে। চারটা কুকুরছিলো দুইটা কমলা রঙের আর বাকি দুইটা সাদা ও কালো। আমি কমুনিকটর যন্ত্রটা বের করলাম।
- এটা কি সিয়াম ভাইয়া? ⬅সবাই
- এটা হচ্ছে,,,,,,,,না থাক কমু না। এখন শুধু দেখে যাও।
কুকুরগুলো অনেক কাছে এসে গেছে
- থাম তোরা ✋✋✋✋
কমলা১ কুকুর:- ভাই সরেন মোদের পথ থেকে আজকে মোরা ওই মাইয়াদের কামড়ামুই✊
আমি:- আরে দাড়া দাড়া তাড়া কিসের এত সব হবে। আগে বল কেন এদের তাড়া করছিস
সাদা কুকুর:- সে অনেক দুঃখের কথা ভাই। কুকুর সমাজ এমনে এমনে কাউরে তাড়া করে না। কিন্তু পাগলা হইলে আলাদা কথা।
আমি:- আচ্ছা এখন বল কি করছে যে এইরকম তাড়া করতাছোস
কালো কুকুর:- আচ্ছা শোনেন। আমরা তো বুঝেনই ঘুইরা বেড়াই খাবারের খোজে। একদিন যাইতেছি তহন ওই চার মাইয়ার একজন মোরে পাউরুটি দিলো। আমিও ভাবলাম ভালো মানুষ ওর জন্য দিছে। কিন্তু যেই মুখে নিছি বুঝতে পারলাম পাউরুটির ভিতর করলা আছে। ভাই ওইদিনের সব খাবার পেটেরতা বের হয়ে গেছিলো তিতার জালায়। এমনে কুকুর জাতি ননভেজ। তারপর আবার করলা দিলে কেমন লাগে বোঝেন
আমি:- আহারে। কি কষ্ট। আর কোন অভিযোগ?
কমলা২ কুকুর:- আমার আছে✋
আমি:- বলে ফেল
কমলা২ কুকুর:- ভাই আমি হইছে গিয়া বিবাহিত। ৩ মাস আগে ছানা হইছে তিনটা। ভাই একদিন আমি ও আমার বউ খাবারের সন্ধানে গেছিলাম। যখন আহলাম দেখলাম ১ টা ছানা নাই। খুজতে খুজতে যেয়ে দেখি এই মাইয়ারা আমার ছানাটাকে শীতলক্ষ্যার পানিতে চুবাচ্ছে। বলেন বাপ হয়ে এই দুঃখ দেখা যায়
আমি:- সো সেড। এরকম করা ঠিক হয় নি ওদের। এর শাস্তি পাবে ওরা নো টেনশন
আচ্ছা আর কোন অভিযোগ?
সাদা কুকুর:- আমার আছে✋।
আমি:- বলে ফেল
সাদা কুকুর:- ভাই বোঝলেন একদিন খুব খিদা নিয়া খাবারের সন্ধান করছিলাম। তখন দেখলাম একটা বিল্ডিংয়ের দেয়ালে একটা ভালো হাড্ডি পড়ে আছে। আমি যেই নিতে গেলাম তখনই হাড্ডি উপরে উঠে গেলো। আবার নিচে নামলে আমি লাফ দিয়ে ধরতে গেলাম তখন আবার উপরে উঠে গেলো। আমি একটু উপরে তাকাতেই দেখলাম আপনি যারে সাবিরা বলছেন সে হাড্ডিতে সুতা বেধে এরকম করছে। কেমন লাগে বলেনতো? এমনিতে খিদা তারউপর এরকম মজা কার বা ভালো লাগে
আমি:- খুব কষ্ট দিছে তোমাদের। আচ্ছা এখন ওদের না কামড়ালে হয় না। মানে ওন্য শাস্তি দেওয়া আর কি?
সব কুকুর:- হুম। ঠিকাছে কামড়াবো না । কিন্তু এখনই ১৫০ বার কান ধরে উঠবস করতে হবে ওদের
আমি:- এই সাবিরা ওরা যে অভিযোগ করলো মানে ওই পাউরুটিতে করলা, কুকুরের ছানাকে পানিতে চুবানো আর হাড্ডি খেতে না দেওয়া এসব সত্যি?
সাবিরা:- হ্যা এগুলো সত্যি
আমি:- আচ্ছা শোন তোরা যদি ১৫০ বার কান ধরে কুকুরদের সামনে উঠবস করিস তাহলে আর তোদের কামড়াবে না।
সবাই:- রাজি সিয়াম ভাইয়া। রাজি।
আমি:- তাহলে শুরু কর☀। আমি যাই নয়তো লোকজন দেখলে বলবে নারী নির্যাতন করছে
সাবিরারা ১৫০ বার উঠবস করে মুক্তি পেলো কুকুরের কামড়ের হাত থেকে।
রাতে বসে আছি ছাদে। তখন হইয়েৎসুন ভাই আসলো
- কিরে দুজনকে বাচিয়েছিস
- দুজন কোথায় আমিতো পুরো পাচ জনকে বাচালাম
- তাহলে যন্ত্র টা এবার দে
- নেবেন এই নেন।
- ধন্যবাদ তাহলে যাই।
- হুম। বাই বাই
পড়ার জন্য আইসক্রিম
^493
সমাপ্ত,,,,,,,,,,,,,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now