বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

♦নিয়তির বদলা♦

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মফিজুল (০ পয়েন্ট)

X সকালে নুসরাতের চিল্লাচিল্লি তে ঘুম ভেঙে গেল৷ আজকে অফ ডে থাকায় আরামে ঘুমাতে চেয়েছিলাম বেশি সকাল পর্যন্ত৷ তবে তা আর হল না। রুমের বাহিরে আসতেই নুসরাত যা বললো তা শুনে যেন গলার পানি শুকিয়ে গেল। নুসরাতঃ- নীরার বাবা নীরা বাসা থেকে পালিয়ে গিয়েছে।(কান্না করে দিয়েছে) আমিঃ- কি বলছো তুমি এইটা? নুসরাতঃ- এইটা দেখো আমি নীরার টেবিলের উপরে পেয়েছি কাগজ টা।। নুসরাতের হাত থেকে কাগজ টা নিয়ে দেখি তা তে লিখা। " বাবা ভালবাসার মানুষের হাত ধরে ভাল থাকায় আশায় বাসা থেকে পালাতে বাধ্য হলাম। আমাকে ক্ষমা করো। আর আমাকে খুজতে এসো না৷ আমি কখনো ফিরবো না।" লিখা গুলা পড়তেই যেন বুকের মাঝে ব্যাথা অনুভব করছি। আমার চোখ দিয়ে যেন অঝরে পানি ঝড়া শুরু হয়েছে৷ এমন সময়ে নুসরাত আমাকে জড়িয়ে কান্না শুরু করে দিল। নুসরাতঃ- আমার মেয়ে কে আমার কাছে এনে দাও। আমার মেয়ে কে ফিরিয়ে এনে দাও। আমি আমার মেয়ে কে আমার কাছে চাই। (কান্না করতে করতে বলতে থাকলো) আমি যেন পাথর হয়ে গেছি। নুসরাত কে কি সান্তনা দিব? নিজের মধ্যেই জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে। হটাৎ মনে হল নীরার তো এমন কারো সাথে রিলেশন নাই হয়ত। কারন আমি নিজেকে নীরার সাথে বন্ধুর মত মিশেছি। যা তার মা কে কোন দিন বলতে ভয় পেত তা আমার সাথে শেয়ার করতো। এবং কি ওকে ক্লাস সেভেনে একটা ছেলে প্রপোজ করেছিল। তাও আমাকে জানিয়েছিল। তাড়াতাড়ি নীরার রুমে চলে গেলাম। আর পিছেপিছে নুসরাত ও আসল। নীরার রুমের সব কিছু চেক করলাম। যা আমাকে সত্যি হতাশ করে দিল। নীরা সত্যি বাসা থেকে পালিয়ে গেছে। পুলিস কে খবর দিতে গিয়েও দিলাম না। কারন এতে নীরা আমার কাছে ফিরবে না। আমার মতই তার রাগ টা অনেক বেশি। পুলিশ দিয়ে খুজিয়ে নিলেও জোর করে ওকে আমি আনতে পারবো না। কারন এখন সে তো প্রাপ্ত বয়স্ক। তাই মেয়ে কে হারানোর ভয়ে আর পুলিশ কে খবর দিলাম না। আর একা আমি কোথায় খুজতে যাব? আর নুসরাতের অসস্থা ও এখন ভাল নেই। সে এমন মানসিক চাপে সুইসাইড ও করে নিতে পারে। অতিতেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। যখন নীরা প্রথম রাগ করে বাসা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। আমি খুজতে গিয়েছিলাম। আর তখন বাবা মা জীবিত ছিলেন তারা নুসরাতের এমন টা দেখে বাচিয়েছিল। এখন তো উনারাও নেই। আমি শুধুমাত্র নুসরাতের বন্ধুদের থেকে খোজ নিয়ে জানতে চাইলাম তার ব্যাপারে কিছু জানে নাকি। সবাই আমাকে নিরাশ করে দিল। আমি যেন সব থাকতেও নিঃস্ব হয়ে গেলাম। দুইদিন কেটে গেছে। এই দুইদিনে আমাকে আর নুসরাত যেন দুই মেরুর লোক মনে হয়েছে। দরকার ছাড়া তেমন কথাও হয় নি। একা একা বেশ কান্নাকাটি করে সে। আমার মধ্যেও যেন আমি নেই। তবে নুসরাত কে খাবার খেতে অনেকবার বলেছি। ঔষধ খাইয়ে দিতে গিয়েছি সে কিছুই খাবে না বলে পণ করে রেখেছে যেন। তিনদিন হয়ে গেল। নীরা এখনো ফিরেনি। আগে অনেকবার রাগ করে বাসা থেকে চলে গিয়ে আবার দুই / এক দিনের মধ্যে একাই ফিরেছিল। এইবার আর তা হল না। এই দিকে নুসরাত অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে যা আমি মানতেও পারবো না। সাথে নিজের চারপাশের সব কিছু যেন থেমে যাচ্ছে। হটাৎ নুসরাতের সামনে গিয়ে তার হাত ধরে বেড়িয়ে গেলাম। উদ্দেশ্য নুসরাতের বাবার বাসা। আজ দীর্ঘ ২১ বছর পর নুসরাত তার বাবার বাসা যাচ্ছে৷ আর আমি যাচ্ছি আমার ভুলের ক্ষমা চাইত। আজ আমি আর নুসরাত যেমন টা কষ্ট পাচ্ছি। আজ থেকে ২১ বছর আগেও নুসরাতের বাবা আর মা পেয়েছিল। আর সেইদিন তাদের কষ্টের কারন ছিলাম আমি। আমি নুসরাত কে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছিলাম। আর কোন দিন নুসরাতকে তার ফ্যামিলির সাথে যোগাযোগ যোগাযোগ করতে দেই নাই। কারন তারা আমার নামে মামলা করেছিল। তবে নুসরাত আমার পক্ষ নেয়ায় আর কিছুই হয় নি। আমার ফ্যামিলি মেনে নিয়েছিল। তবে মাঝে মাঝে নুসরাত কে ফুপিয়ে কান্না করতে দেখেও আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম। দুই বছর পর নীরার জন্ম হয়। খবর শুনে নুসরাতের মা আমার ফোনে কল দিলে আমি কথা না পরিচয় শুনেই কল কেটে দিয়েছিলাম। নুসরাতদের বাসায় পৌছে গেলাম। গেটের দাড়োয়ান টা অচেনা থাকায় পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করতে হল। আর গেট দিয়ে প্রবেশ করে এগিয়ে যেতেই সামনের বাগানে অনেককেই দেখা গেল। সবাই আমাদের দিকে এগিয়ে আসল। এরা নুসরাতের চাচাত ভাই আর সাথে নুসরাতের ছোট চাচা কে দেখছি। নুসরাত তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। নুসরাতের চাচা কে দেখে নুসরাত জড়িয়ে কান্না করে দিলেন। আমি তাদের কাছে ক্ষমা চাইলাম। উনারা আমাদের সাদরে গ্রহন করে নিলেন। আর জানতে পারলাম নুসরাতের বাবা মা বেশ আগেই মারা গিয়েছেন। শুনে এখন সত্যি নিজের কাছে বড় অপরাধী লাগছে। নুসরাতের বাবা মায়ের কবর যিয়ারত করতে নিয়ে যাওয়া হল আমাদের৷ কবরের কাছে যাওয়া মাত্রই নুসরাত কবর জড়িয়েই কান্না করে দিল। এ যেন বাবা মাকে হারিয়ে তাদের থেকে এতদিন দূরে থেকে আবার ফিরে এসেও তাদের না দেখতে পাওয়ার অতি কষ্টের কান্না৷ যার জন্য অপরাধী আমি নামের মানুষ টা। নুসরাত কে উঠিয়ে বুকে জড়িয়ে নিলাম। আমার চোখেও পানি ভাসছে। মনের হাজারো আকুতি মিলিয়ে ক্ষমা চাইলাম তাদের কাছে। আমিও যে এখন তাদের কষ্টের মূল্য বুঝতে পারছি। নিয়তি যে তার নিজের মত করে বদলা নিয়েছে আমার সাথে। বেশ অনেক সময় কাটিয়ে কবরের জায়গা থেকে নুসরাত কে সাথে করে তাদের বাসার দিকে আবার যেতে থাকলাম। আর মনে মনে খুব করে চাইছি আমার অপরাধের ক্ষমা যদি হয়ে নীরা আবার আমাদের বুকে ফিরে আসে৷ আমরা হয়ত সব ভুলে তাকে বুকে টেনে নিব। হয়ত এমন টা প্রায় বাবা মায়েরাই করবে৷ কারন তারা যে সন্তান হারা হতে চায় না। সন্তান হারানোর কষ্টটা যে এই ধরনীর তটে একটু বেশি হয়ে থাকে।। যেমন টা নিজের অপরাধে নিয়তির বদলার জালে আমাদের থেকে হারিয়ে গেল আমার সন্তান৷ এখন শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে দুজনকে। নিয়তিও বদলা নিতে জানে। ছোট গল্প। নিয়তির বদলা ✍Rh Bokul ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now