বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বন্ধুর ক্রাশ-শেষ পর্ব
সায়েম এর বাসা থেকে আমার বাসায় চলে আসার পর আবারো মনে মনে দৃড় সংকল্প করলাম যাই হোক কয়েকদিন আর ভার্সিটিতে যাওয়া যাবে না।যদি এর মধ্যে যাই ভার্সিটি তাইলে নেহা ম্যাম আর আস্ত রাখবে না আমাদের।তো যেই ভাবা সেই কাজ পনেরো দিন গেলাম না ভার্সিটি।
১৫দিন পর..........
বাসায় বসে বসে ভাবছি আমি যে এতদিন হয়ে গেলো গেলাম না ভার্সিটি।বাসা থেকেও তো আব্বু আম্মু খালি বকা দিচ্ছে যে কেন যাচ্ছি না ভার্সিটি।এখন সব তো আবার খুলেও বলা যাবে না আব্বু আম্মুকে।আব্বু আম্মু যদি জানতে পারে সব তাইলে আমি তো শেষ।কিন্তু এটা ওটা বলে আর কতোদিন কাটাবো আব্বু আম্মুকে।এবার দেখছি ভার্সিটি যাওয়াই লাগবে।সারাজীবন তো নেহা ম্যাম এর হাত থেকে পালিয়ে পালিয়ে বাঁচা যাবে না।হঠাৎ আমার ফোনে ফোন আসলো।
দেখি সায়েম ফোন করছে।আমি ফোন ধরা মাত্র
সায়েম:-বন্ধু পনেরো দিন হয়ে গেলো।আর কত দিন বাসায় বসে থাকবো।এতদিন হয়ে গেছে ভার্সিটি যাই নি।বাসায় খালি আমায় বকা দিচ্ছে বাপ মা।কেন যাচ্ছি না জিজ্ঞেশ করলে কিছু বলতেও পারছি না।এভাবে আর কতোদিন চলবো তুহিন? এখন কি করা যায় বলতো?
আমি:-আরেহ ভাই এই সমস্যায় তো আমিও জর্জরিত।এভাবে আর চলতে পারছি না।সামনে পরিক্ষা আমাদের এখন ভার্সিটি কামাই করলে আমাদের পড়াশোনার ই ক্ষতি হবে।তাছাড়া স্যার ম্যাম এর দেওয়া নোটসগুলো তো আবার সংগ্রহ করতে হবে।নইলে তো আবার সমস্যায় পড়বো আমরা।
সায়েম:-হুম সেটাই বলছি যে সবমিলিয়ে ক্ষতি তো শুরু হয়ে গেছে আমাদের।এখন কি করবি বল?
আমি:-হালা নেহা ম্যাম এর উপর ক্রাশ খেয়ে দিছিস তো ফাসিয়ে।এখন নিজে উপায় বার কর যে কিভাবে এর থেকে বাঁচা যায়।
সায়েম:-দোস্ত মাফ চাই তোর কাছে আবারও।আমার ভূল হইছে।আর কখনো এমন ক্রাশ খাবো না।প্লিজ এবার কোনো উপায় বের করে এই ঝামেলা থেকে বাঁচা আমায়।
আমি:-ঝামেলা তো তোর একা না আমারো।যাই হোক আমার কথা হচ্ছে কাল ভার্সিটি যাবো।আর ভার্সিটি কামাই করবো না।তুই আর আমি গিয়ে নেহা ম্যাম এর কাছে ক্ষমা চাবো।দরকার পড়লে না হয় পা ধরে ক্ষমা চাইবো দেখিস ম্যাম আমাদের ঠিক ক্ষমা করে দিবে।আর ম্যাম যদি এতদিনে ভার্সিটির উপধ্যাক্ষ কে বলে দিত সব তাইলে আমাদের বাসায় কি ফোন আসতো না।কিন্তু এখনও তো কোনো ফোনই আসে নি।তাই আর চাপ নিস না।কাল গিয়েই সব মিটমাট করে ফেলবো।
সায়েম:-ঠিক বলছিস।কাল তাহলে দেখা হচ্ছে এখন রাখি।
সায়েম ফোন কেটে দিল।আমিও ভাবছি এবার এই বিষয়টা এখানেই শেষ করতে হবে।এত টেনশন নিয়ে বাঁচা যায় না।
তো পরেরদিন সকালে ভার্সিটির যাওয়ার জন্য বের হলাম বাসা থেকে।আমায় ভার্সিটি যেতে দেখে আব্বু আম্মু তো সেই অবাক হলো।যেন তারা আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে।এতদিন আমায় বলে বলেও ভার্সিটিতে যাওয়াইতে পারে নি আর আজ আমি নিজে থেকে যাচ্ছি।যাই হোক ভার্সিটিতে এসে সায়েম এর সাথে দেখা হলো।
আমি:-কিরে সায়েম মন খারাপ করে বসে আছিস কেন?
সায়েম:-আরেহ দোস্ত আজ যে কি হবে সেই ভয়ে আছি।
আমি:-চিন্তা করিস না আজ সব ঝামেলা মিটিয়েই ছাড়বো।
সায়েম:-আজ তো নেহা ম্যাম এর ক্লাসও নেই আমাদের।
আমি:-আমাদের নেই তো কি হইছে অন্য ক্লাসে এ তো আছে ক্লাস।কিন্তু নেহা ম্যাম কে পাই কোথায় রে এখন।কোথায় যে আছেন তিনি।
সায়েম:-আচ্ছা ভার্সিটি শেষেই না হয় খুজবো নি।আগের দুইবার তো ভার্সিটি শেষেই দেখলাম আর এত সব কাহিণি ঘটালাম।যাইহোক এখন বসে থাকি আর খেয়াল করি আশেপাশে যদি দেখা হয়ে যায় নেহা ম্যাম কে।
আমি:-আচ্ছা ঠিক আছে।
তারপর আমি আর সায়েম ভার্সিটির মাঠে বসে আড্ডা দিচ্ছি।হঠাৎ পিছন থেকে মেয়ে কণ্ঠে কেউ বললো এই যে দুই মানিকজোড় এতদিন পর ভার্সিটিতে কি মনে করে।এই কথা শোনার আমি আর সাহেম পিছনে তাকিয়ে দেখি নেহা ম্যাম দাঁড়িয়ে আছে।ম্যাম কে দেখে তো আমরা দুজন ভূত দেখার মতো চমকে গেলাম।
আমি:-ম্যাম আপনি!
নেহা ম্যাম:-কেন তোমরা অন্য কাউকে আশা করেছিলে নাকি।
সায়েম:-নাহ ইয়ে মানে ম্যাম আসলে....
সায়েম কে থামিয়ে দিয়ে......
নেহা ম্যাম:-এই কি মানে মানে করছো সায়েম।তুমি তো আবার চোঁখ দেখে ক্রাশ খাও।তা ওইদিন ক্রাশের সাথে কথা না বলে তো দেখি দৌড়ে পালিয়ে গেলে।
সায়েম:-ম্যাম ভূল হয়ে গেছে।চোঁখ দেখে ভাল লেগেছিল কিন্তু বুঝতে পারে নি যে ওটা আপনি।ম্যাম আমাকে ক্ষমা করে দেন।
আমি:-ম্যাম আমিও ক্ষমা চাচ্ছি।সায়েম আমার ভাল বন্ধুতো তাই ওর কথায় এসব করেছি।কিন্তু ওই মেয়ে যে আপনি বুঝতে পারি নি।সরি ম্যাম।
নেহা ম্যাম:-হইছে থামো।সেইদিন যেভাবে পালিয়ে গেলে তোমরা বুঝি না তোমাদের আমায় এত ভয় পাওয়ার কি আছে।আর আমি তোমাদের উপর এখন আর রাগ করে নাই।
আমি:-ম্যাম তাহলে আপনি সব ভূলে গেছেন এবং আমাদের ক্ষমা করে দিছেন।আমাদের উপর আর রাগ করে নাই তো আপনি?কিন্তু আবার কাউকে কিছু বলেন নি তো এই ব্যাপারে।
ম্যাম:-হুম বলছি অনেক জনকেই বলছি এই ব্যাপারে।
এই কথা শোনার পর সায়েম আমার কানে কানে এসে বললো সব শেষ বন্ধু। ম্যাম দেখি সব ফাস করে দিছে।
নেহা ম্যাম:-এই সায়েম কানে কানে কি বলো তুহিন কে।
সায়েম:-নাহ ম্যাম কি আর বলবো এটাই বলছি যে আমাদের মনে হয় বাঁচার আশা আর নেই। আপনি তো সব বলেই দিছেন কয়েকজনকে।
নেহা ম্যাম:-হাহাহাহাহাহাহাহা।
আমি:-ম্যাম হাসছেন কেন কি হয়েছে?
নেহা ম্যাম:-ধুর তোমরা দুজন একটা পাগল।আমি একটু মজা করলাম তোমাদের সাথে।আমি কাউকে বলি নাই।যদি বলতাম তাইলে তোমাদের বাবা মায়ের কাছে এতদিনে খবর চলে যেত।আর তোমরা আমার ভয়ে এতদিন ভার্সিটি আশ নি।এত ভিতু তোমরা।অবশ্য আমি ওইদিন তোমাদের দুজনের উপর একটু রাগ করেছিলাম কারণ তোমাদের ওই ব্যাপারটা আমার ভালো লাগে নি।তাই বলে আমি পুরো ঘটনা সবাইকে বলে দিব।আমি এতো টা খারাপ না বুঝলে।তাছাড়া তোমরা আমার ছাত্র তাই একটা সাধারণ ব্যাপার নিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে আমি তোমাদের ক্যারিয়ার নষ্ট করতে চাই না।
ম্যাম এর এই কথা শোনার পর যেন আমরা একটু হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।
আমি:-ধন্যবাদ ম্যাম।বুক থেকে যেন আজ একটা পাথর নেমে গেল।
সায়েম:-আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ম্যাম।আপনাকে কথা দিচ্ছি আর ক্রাশ খাবো না কোনো মেয়ের উপর।
নেহা ম্যাম:-খাবে না কেন ক্রাশ খাবে।ভার্সিটিতে এসব তো এখন সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে।কিন্তু দেখে শুনে ক্রাশ খেয়ো।ভাল করে না দেখে ক্রাশ খেয়ে আবার এমন বিপদে যেন দ্বিতিয়বার পইরো না।সবাই তো আর আমার মতো সব ভূলে যাবে না বা ক্ষমা করে দিবে না।যাই হোক তোমরা ভার্সিটি অনেকদিন কামাই করেছো।এখন থেকে প্রতিদিন আসবে ভার্সিটিতে।সামনেই পরিক্ষা তোমাদের।ভালো করে পড়াশোনা করবে তোমরা।পড়াশোনা ঠিক রেখে প্রেম করো আর যাই করো না কেন আমি দেখতে যাবো না।কিন্তু তোমাদের দুজনের থেকে ভালো রেজাল্ট চাই আমি। কথাটা যেন মনে থাকে তোমাদের।
আমি আর সায়েম এবার একসাথে বললাম আচ্ছা ঠিক আছে ম্যাম।আপনার কথা মেনে চলবো আমরা।হঠাৎ সায়েম এর ফোনে ফোন আসলো।
সায়েম:-আব্বু ফোন দিয়েছে তুহিন।আমি একটু দূরে গিয়ে কথা বলছি।তুই ম্যাম এর সাথে কথা বলে আয়।
সায়েম একটু দূরে গেল ওর বাবার সাথে কথা বলতে।
আমি:-ম্যাম আমিও তাইলে আজ যাই।
নেহা ম্যাম:-আচ্ছা যাও।কিন্তু এখন থেকে প্রতিদিন এসো আর মিস করো না ক্লাস।আমার ক্লাসে যেন উপস্থিত দেখি তোমাদের।
আমি:-আচ্ছা ঠিক আছে।আচ্ছা ম্যাম একটা কথা বলি আপনাকে?
ম্যাম:-কি কথা বলো?
আমি:-না থাক আপনি আবার কিছু মনে করতে পারেন।
নেহা ম্যাম:-আরেহ ভয় পাচ্ছো কেন।আমি তো তোমার ম্যাম হই।যা বলবে আমায় নির্ভয়ে বলো।
আমি:-ম্যাম আপনাকে নিল শাড়িতে হ্যাব্বি লাগছে।কপালে একটা নিল টিপ পড়লে আরো ভালো লাগতো।
ম্যাম:-হারামি,ফাজিল ছেলে।দাঁড়াও তুহিন তোমায় এবার মজা দেখাচ্ছি।
ম্যাম এর কথা শোনামাত্রই দিলাম এক দৌড়।
ম্যাম ও আমার পিছনে ছুটছে আর বলছে দুষ্টু হয়েছো খুব তাই না। একবার তোমায় কাছে পাই তারপর মজা দেখাবো।
ম্যাম কিছুটা দৌড়ে থেমে গেলো।
আমিও অনেকটা দৌড়ে একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে ম্যাম কে দেখতে লাগলাম।ম্যাম দেখি একটু হাফাচ্ছে।আর নিজের কপালে হাত দিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।
আহা কি হাসি ম্যাম এর।আমি যেন এবার ম্যাম এর উপর ক্রাশ খেয়ে গেলাম।আহা কি হাসি একেবারে হৃদয় জুরিয়ে গেল আমার।ম্যাম ও এবার মুখে হাসি রেখেই চলে গেলেন।
আর আমি গাছে হেলান দিয়ে বুকের বাম পাশে হাত রেখে চোঁখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছি।হঠাৎ সায়েমের ডাক কানে আসলো।
সায়েম:-কিরে তুহিন গাছে হেলান দিয়ে বুকে হাত দিয়ে চোঁখ বন্ধ করে কি এতো ভাবছিস।
আমি:-চোঁখ দেখে খেলি তুই ক্রাশ
কিন্তু দেখলাম হাসি আমি অনেকবার।
সেই হাসি দেখে আমার
পরানটা গেল জুরিয়ে।
তাইতো আমি চোঁখ বন্ধ করে
আছি এই গাছের ছায়াতে।
সায়েম এবার নিজের মাথা চুলকিয়ে চুলকিয়ে বলছে.....
সায়েম:-বুঝলাম না এসবের মানেটা কি তুহিন?
আমি এবার সায়েম এর মাথায় একটা গাট্টা মেরে বললাম........
আমি:-তোর বেশি মানে বুঝা লাগবে না।চল এখন বাসায় যাই।
তারপর সায়েম আর তুহিন তাদের নিজ নিজ বাসায় চলে গেল এবং এখানেই শেষ হলো তাদের বন্ধর ক্রাশের ঘটনা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now