গল্পেরঝুড়ির এ্যাপ ডাউনলোড করুন - get google app
গল্পেরঝুড়ি ফানবক্স ! এখন গল্পের সাথেও মজাও হবে! কুইজ খেলুন , অংক কষুন , বাড়িয়ে নিন আপনার দক্ষতা জিতে নিন রেওয়ার্ড !

গল্পেরঝুড়িতে স্বাগতম ...

আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

♦ছোবল♦

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মফিজুল (৪ পয়েন্ট)



আমার মালতি। কিন্তু মালতি বলে আমাকে খুব কম মানুষে ডাকে। গরীব মানুষকে অনেক সম্বোধনে সয়ে যেতে হয়। আমিও সহ্য করেছি। গায়ের রঙ ফর্সা হওয়ায় অনেকে সুন্দরি বলে মানলেও আমার নাক 'বাঁশির মত' না বলে আমাকে বাড়িতে ডাকতো বুচি বলে। যতবার আমাকে বুচি বলে ডাকা হতো ততবার আমার বুকে পাথর আছড়ে পড়তো। ছোটো ছিলাম বলেই হয়তো বুচি ডাকে খুব অপমানবোধ করতাম। আমার মা নারায়ণ কাকাদের বাড়িতে কাজ করতো। আমি স্কুল থেকে ফিরে বাড়ি না গিয়ে মায়ের কাছে যেতাম। যেতাম শুধু একটি কারণে। নারায়ণ কাকার ছেলে সৌনক দাদা আমাকে সুন্দর একটি নামে ডাকতো। মধুর সুরে বলতো, এই মিলু এদিকে আয়। পেয়ারা খাবি? আমি দাদার চারপাশে ঘুরঘুর করতাম মিলু ডাক শোনার জন্য। দাদা ভাবতো আমি খাওয়ার লোভে ঘুরঘুর করছি। তাই প্রতিবার কিছু না কিছু ধরিয়ে দিতো হাতে। আমাদের ৩ শতাংশ বাড়ির প্রথম প্রতিবেশি ছিলো শামেলা কাকিরা। আমাদের সাথে কোনো কারণে তাদের বৈরী সম্পর্ক। আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি। বেশ বড় হয়ে গিয়েছি। আবেগ-অনুভূতি খুব তীব্র। অনেক কিছু বুঝি। একবার শামেলা কাকিদের সাথে আমাদের কী নিয়ে তুমুল ঝগড়া। মাকে কীসব অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। আমি নিষেধ করতে গেলে শামেলা কাকি লোক শুনিয়ে আমাকে বললেন, আমি নাকি নষ্টা মেয়ে। নারায়ণের বাড়ির সৌনকের সাথে নাকি আমি রাত কাটাই। আমাকে দেখলেই শব্দ করে থুথু ফেলে গেঁয়ো অভিব্যক্তিতে দাঁতে দাঁত চেপে শামেলা কাকি আমাকে প্রায়ই বলে- পাড়ার নটি। আমি এই সম্বোধনেও চুপ করে সয়ে যাই। কতজন শুনিয়ে শুনিয়ে মালু বলেছে আমাকে, মাল বলেছে। শুনেছি শুধু। আমার জন্মই তো এসব শোনার জন্য। যেন সবাই বিষদাঁতওয়ালা সাপ। আর আমি নরম একতাল মাংস। এখানে ছোবল বসানো যেন সবার অধিকার। পাড়ার মহিলারা গল্পে বসলে আমাকে বলতো 'গোবরে পদ্মফুল'। পড়াশোনা করছি, চেহারা একটু ভালো, হয়তো তাই। মাঝে মাঝে রাতে খুব ভাবতাম। আমি কি আমাদের পাড়ার অন্যসব মেয়েদের চেয়ে আলাদা? চিন্তায়, মননে। কেবল অস্বচ্ছলতা আমাকে চেপে ধরেছে বলেই কি আমি এগিয়ে যাওয়া কেউ নই? তাই হবে। দরিদ্রতারো বিষদাঁত আছে তবে! ছোবল বসায়! সৌনক দাদার কাছ থেকে নিয়ে দাদার সব বই আমি পড়ে ফেলেছি। কই এলাকার আর কাউকে তো পড়ার প্রতি এত আগ্রহ দেখিনি কখনো। তাহলে কি আমি আলাদা? তাহলে কি আমার জীবন বদলে যেতে পারে? এসব ভেবে কতবার স্বপ্ন দেখে রাত পার করেছি আমি। না বদলায়নি আমার জীবন। ক্লাস টেনে পড়ি তখন। এক বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল থেকে ফিরে দেখি আমাদের অন্ধকার ঘরে লুঙ্গিপরা এক লোক বসে আছে। একটু বয়স্ক। গায়ের সাদা পাঞ্জাবি বিছানায় খুলে রাখা। লোকটার চেহারা এমন যে আমাদের অন্ধকার ঘরকে আরো অন্ধকার মনে হচ্ছিলো। একটু পরে এলাকার আরো কয়েকজন লোক আসলো। আমি অবাক হলাম। মা আমাদের শেষ সম্বল এই জমিটুকু বিক্রি করে দিচ্ছে তাহলে সত্যি সত্যি। এরপর আমরা কোথায় যাবো? মাকে ফাঁকে ডেকে বললাম, তুমি এই জমি বিক্রি করবে না মা। ভগবানের কসম লাগে। মা পানখাওয়া মুখে সৎমায়েদের মত রহস্যের হাসি হেসে উত্তর দেয়, আইজ তোর বিয়া। আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আমি কোনো উত্তর দিতে পারি না। অসহায়দের সাহস কম থাকে হয়তো। আমার কিছুই নেই। চুপচাপ ঘরের পেছনে ভাটিগাছের ঝোঁপে বসে কাঁদলাম কতক্ষণ। বটতলার মন্দিরে বিয়ে হবে। কোনো আয়োজন নেই। কীভাবে কী হবে কিছুই জানি না। কিন্তু সত্যি যে বিয়ে হবে আমি বুঝে গেলাম। তাই সন্ধ্যার আঁধারে দৌঁড়ে নারায়ণ কাকাদের বাড়িতে গিয়ে সিঁড়িতে বসে থাকলাম। সৌনক দাদা বের হয়ে আমাকে দেখে অবাক হয়ে বললো, কাঁদিস কেন মিলু, কী হয়েছে? লজ্জায় আমি কিছু বলতে পারি না। আমার মুখ বুজে আসে। কেবল 'আমাকে বিয়ে দিচ্ছে। আপনি আসেন আমাকে বাঁচান।' বলেই আমি উদ্ভ্রান্তের মত দৌঁড়ে চলে এলাম। সৌনক দাদা এলো না। অবিশ্বাস আর ঘোরের মধ্যে সত্যি সত্যি আমার বিয়ে হয়ে গেলো। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। সেই রাতের অন্ধকারেই লোকটি আমাকে নৌকায় করে কোথায় নিয়ে আসলো আমি কিছুই বুঝলাম না। শুধু বুঝলাম নৌকায় মাঝি আছে, এরপরেও নিজেকে সংযত করতে না পেরে বয়স্ক লোকটি স্বামীর অধিকারে আমার শরীরের উপর উঠে এসেছিলো। আমি অচেতনের মতোই ছিলাম। ঝাপসা চোখে রাতের অন্ধকার দেখার চেষ্টা করছিলাম তখন। কত গহীন অন্ধকার। আমার কষ্টটা তার চেয়েও গহীন। আমার ভাগ্যটা তারচেয়েও আরো গহীন। বিয়ের প্রথম মাসেই আমার পেটে বাচ্চা আসে। পেটে বাচ্চা আসার পরও প্রতিরাতে আমি ভাঙা চৌকিতে হাত পা ছড়িয়ে প্রাণহীন এক মাংসপিণ্ডের মত পড়ে থাকতাম। গায়ে সারাদিনের ঘাম শুকানো তীব্র এক কাছে না টানা গন্ধ নিয়ে লোকটি সুড়সুড় করে উঠে আসতো আমার শরীরে। আমি মুখে কাপড় দিয়ে শুয়ে থেকেছি শুধু। যেখানে ভালোবাসা নেই, সেখানে কাছে টানার কোনো উন্মাদনা নেই। নেই মায়া, টান, সেখানে কীসের সুখ? তাই আমি সুখ পাইনি। কেবল ছোবল খেয়ে গেছি মানুষের মত দেখতে এক বিষধরের। চারমাসের মাথায় আমার বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই নিলাম। সারাদিনের খাটনি। খেয়ে না খেয়ে থাকা। প্রতি রাতের অত্যাচার। শিশুটি হয়তো সইতে পারেনি। আমি শিশু নই। তাই তিনবেলা আয়নায় তাকিয়ে নিজের কান্না দেখেছি। দেখেছি একটি মেয়ের চোখের নিচে কীভাবে কালি জমে। কীভাবে গলার হাড্ডি বেড়িয়ে যায়। কীভাবে মুখের মাংস শুকিয়ে একটি মেয়ে রুক্ষ চুলের বাসনামেটানো পণ্য হয়ে যায়। মানুষের কত বিচিত্র চাহিদা থাকে। আমার মায়ের চাহিদা ছিলো সামান্য পয়সা। তাই টাকা হাতে পেয়ে মা আমাকে 'মেয়ে বিয়ে দিলাম' ছলে কোথায় পাঠিয়ে দিলো। কোনো খোঁজ নিলো না আর। আমিও ক্ষোভে, রাগে মাকে ভুলে গেলাম। চাহিদার আরেক রূপ দেখলাম আমার স্বামির ঘরে এসে। এক রাতে সাথে করে এক লিকলিকে লোককে নিয়ে আসলো। দুজনকে খেতে দিলাম। খাওয়া শেষে আমাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে আমার স্বামি খুব স্বাভাবিকভাবে বলে, আইজ তোর লগে দুইজন মিল্ল্যা মজা করুম। কথা কইবি না একদম। আমি রাজি হলাম না। কোনোমতেই না। আমার চুল ধরে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে বললো, মাগী থাক তুই। আমি মেঝেতে পড়ে রইলাম। তারা দুজন কোথায় চলে গেলো। দুইদিন খোঁজ নাই। আমার সংসার করার সাধ একদম মিটে গেলো সেবার। তাই হুট করেই এক সন্ধ্যায় ট্রেনে চড়ে রমেসা খালার সাথে ঢাকা চলে এলাম। ঢাকা আসার ছয়দিনের মাথায় রমেসা খালা আমাকে একটা বাসায় কাজ ঠিক করে দিলো। বেশ পছন্দ হলো আমার। বাসার দায়িত্ব আমার হাতে সব। যেন আমিই এই বাসার মালিক। বাসাতে চারজন মানুষ। মামা, মামি, শান্তা আপা আর সুরুজ ভাই। মামি দীর্ঘদিনের ঘরে পড়া রোগী। বিছানাই এখন তার জীবন। তাকে দেখাশোনা করি। মামা চাকরি থেকে অবসরে আছে। শান্তা আপা ভার্সিটি পড়ে। সুরুজ ভাইয়ের ব্যবসা। বিয়ে করেনি এখনো। সবাই ভালো ব্যবহার করে। কাজ করি। খাই। রাতে শান্তির ঘুম দেই। ঘুমানোর সময় শরীরে কোনো জানোয়ারের স্পর্শ লাগে না, এটাই সবচে বড় সুখ। একদিন ছাদে কাপড় আনতে গেছি। হুট করে পেছন থেকে কে বলে উঠলো- মিলু, মোড়ের দোকান থেকে এক প্যাকেট সিগারেট এনে দিতে পারবি? সৌনক দাদা! আমার চোখে পানি চলে এলো। চমকে পেছনে তাকিয়ে দেখি সুরুজ ভাই। আমার অস্থির লাগতে লাগলো। আমাকে এই দ্বিতীয় কেউ মিলু বলে ডাকলো। কে শিখিয়ে দিয়েছে? কারো তো শেখানোর কথা না। নাকি মালতিকে যে মিলু বলে ডাকা যায় তা শুধু কেউ কেউ জানে। যারা বিশেষ কেউ হয়ে আসে জীবনে। আমি সুরুজ ভাইকে সিগারেট এনে দিলাম। সেদিন রাতে শুধু সৌনক দাদাকে মনে পড়তে লাগলো। দাদা কেমন আছে। আমি কোথায় আছি, কেমন আছি তা কি তার জানতে ইচ্ছা করে? দাদার পাশে যতদিন ছিলাম, কোনোদিন আমি অনুভব করিনি যে আমি তাকে ভালোবাসি। অথচ আজ এতদিন পর কোথায় এসে এই মাঝরাতে মনে হলো আমি সৌনক দাদাকে ভালোবাসি। যে ভালোবাসাকে প্রেম বলে। মালতির মত মেয়েরা যে প্রেমের কথা বলার সাহস কোনোদিন পায় না। কোনোদিন না। কয়েকমাসে আমার চেহারা বেশ বদলে গেছে। নিজেই নিজেকে সুন্দর বলতে ইচ্ছা করে এখন। পরিবেশ, মানসিক শান্তি, খাওয়া-দাওয়া কত কিছু বদলে দেয়। আমিও বদলে গেলাম। বহুদিন বহুধরণের ছোবল থেকে মুক্ত ছিলাম। বেশিদিন হলো না নিজেকে বাঁচিয়ে চলা। সুরুজ ভাই আমাকে নানাভাবে জ্বালাতন করতে লাগলো। লজ্জায় সেসব বর্ণনা করার সাহস আসে না আমার। একবার, দুবার, বারবার আমি নিজেকে বাঁচাই। সুরুজ ভাইয়ের শক্তি, জবরদস্তি আর শাসানীতে একদিন আমি পরাজিত হয়ে যাই। সুরুজ ভাইও সুযোগ পেয়ে যায়। ফর্সা টুকটুকে সুরুজ ভাই। যাকে ফুলের মত লাগতো, তাকেও আমার জানোয়ার স্বামির মতো মনে হতে লাগলো। বেশিরভাগ পুরুষেরা আড়ালে এতটা অন্ধকারমাখা জন্তু হয়ে থাকে, আমি এবার বিশ্বাস করে নিলাম। সৌনক দাদা কি তবে সবার থেকে আলাদা ছিলো? নাকি সেও? আমি আর ভাবতে পারি না। কোথায় যাবো, কী করবো। রাতে আমি ঘুমাতে পারি না। মেয়েরা পদে পদে কত ছোবল খেয়ে নিজেই নিজের বিষ নামিয়ে বেঁচে থাকে, ভেবে আমার ঘুমহীন রাত সকাল হয়ে যায়। খুব তাড়াতাড়িই একদিন আমি বুঝতে পারি আমি মা হতে চলেছি। আমার বেঁচে থাকা বোধহয় শেষ হয়ে এলো। এই লজ্জা আমি কোথায় মাটি চাপা দেবো? সেই জায়গা আমার আছে? আমাকে কে বিশ্বাস করবে? মামা আমাকে মেয়ের মত দেখে, একথা সবার কাছে অনেকবার বলেছে। তাই মামাকে জানানো দরকার বলে মনে করলাম। এক সন্ধ্যায় বাসা ফাঁকা। শান্তা আপা বড়খালার বাড়ি। সুরুজ ভাই ফেরেনি। মামি ঘুমায়। মামাকে আজই তাই সব বলে দেবো বলে ঠিক করলাম। মামা আলাদা ঘরে থাকে। একান্তে সব খুলে বললে মামা একটা সিদ্ধান্ত দিবে। সব আমি মেনে নেবো। ত্রিফলা ভেজানো তেলের বাটি নিয়ে মামার ঘরে এলাম। মামা শুয়ে আছে। বললাম, মামা কিছু কথা ছিলো। মামা আমাকে বললো, মালতি আয়। বল। বল বললেই সব কথা বলে ফেলা যায় না সহজে। আমি চুপ করে রইলাম। মামা বললো, পায়ে মালিস দে। আর বল। কোনো সমস্যা? আমি মামার পায়ে তেল মাখতে মাখতে কাঁদছি। আমার কান্না মামা বুঝলো কিনা কে জানে, মামা উঠে বসলো। আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই মামা আমাকে জড়িয়ে ধরে বুকে হাত দিয়ে বিশ্রীভাবে বললো, তোর অনেক কষ্ট তাই না মালতি। আমি তোকে সুখ দেবো। সেই সন্ধ্যায় মামা আমাকে আর কিছুই করতে পারেনি। সেই প্রথম আমার সাহস বেড়ে গিয়েছিলো। নিজেকে ছাড়িয়ে চড় দিয়েছিলাম মামাকে। যাকে নিজের মামার মত দেখেছি, যার কাছে বিচার পাবো বলে বুক ভরা আশা নিয়ে গিয়েছি, সেই আমাকে ছোবল মেরে বসলো? মানতে পারিনি। তখন রাত বেশি হয়নি। সারা শহরে লোডশেডিং। আকাশে চাঁদও নেই। সেদিন ঘন অন্ধকারে বাঁচার আশায় আবার পথে নেমেছি আমি। কোথায় যাবো জানি না। তবু কোথাও তো যাবো, এই আশায় হাঁটছি। যেখানে যাবো, সেখানটা শ্বাপদসংকুল নয়, এমন আশায় আলো জ্বলে ওঠে আমার চোখে। আমার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। ভাবি, আমার চোখে আলো। অথচ আমার পেটে, বুকে, গলায়, মুখে, সারা শরীরে গহীন অন্ধকারের ক্ষত করে দিয়েছে অসংখ্য বিষাক্ত ছোবল। ::: ছোটোগল্প:: ছোবল ✍নাসির খান


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ...