বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
কুকুরের দৌড়ানি। পর্ব- ২
"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সিয়াম (০ পয়েন্ট)
X
আসসালামু আলাইকুম
গল্প:- কুকুরের দৌড়ানি পর্ব- ২
পরের দিন সকাল।
আমি ঘুম থেকে উঠে একটু হাটাহাটি করার জন্য বাইরে বের হলাম। এখন একটা গলির ভিতর দিয়ে হাটছি। ভালোই লাগছে গলি হলেও বাড়ির সংখ্যা অতো বেশি না । হাটতে হাটতে যাচ্ছি তখনই দেখলাম একটা মেয়ে আমার বিপরীত দিক থেকে সেই কি বলবো উসাইন বোল্টের চেয়েও জোরে দৌড়ে আসছে। এরকম দৌড়ানোকে দৌড় বলেনা। জীবন বাচানো বলে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই সকাল সকাল ওকে কে তাড়া করলো? ইতিমধ্যে ও আমার কাছাকাছি চলে আসলো।
এসেই বললো ভাইয়া বাচান আমাকে।
- আহা! সে না হয় বাচাবো কিন্তু কাদের কাছ থেকে?
- ওই গুলোর কাছ থেকে (সামনে হাত দেখিয়ে)
আমি দেখলাম তিনটা বড় শক্তি শালি কুকুর দৌড়ে আসছে। ওদের দেখে মনে হচ্ছে খুব রেগে আছে?
- এগুলা তোমারে কেন তাড়তাছে?
- জানিনা। কোচিংয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তাড়া করা শুরু করলো
- আচ্ছা আমি দেখছি। কি করা যায়? আচ্ছা তোমার নামটাতো বলো।
- শিখা নাম আমার
- শিখা। জিজের শিখা?
- হ্যা ।
- হইয়েৎসুন ভাই মনে হয় এরেই বাচানোর কথা বলছিলো।
- আমি সিয়াম। ভয় নেই। আমি কুকুরদের কথা বলবো।
- ও তাই তুই সিয়াম। আর কুকুরদের সাথে কেমনে কথা বলবি?
- শুধু দেখে যা আর শুনে যা।
কুকুরগুলো অনেক কাছে চলে আসছে। আমি আমার কমুনিকেটর যন্ত্রটা বের করলাম। তারপর সামনে যেয়ে বললাম।
- থাম সব✋✋✋।
কুকুর গুলো থেমে গেলো। একটা সাদা আরেকটা লাল আরেকটা কালো রঙের কুকুর ছিলো।
সা কুকুর:- ভাই সরেন এহেনতো আজকে আমরা ওই শিখারে কামড়ামুই
লা কুকুর:- হ ভাই সরেন। প্লিজ।
আমি:- আরে দাড়া দাড়া কামড়া কামড়ি পরে হবে। এখন বল শিখাকে তোরা কেন তাড়া করছিস?
সা কুকুর:- তাড়া কি এমনি করছি ভাই। গত একবছর ধইরা জালাইতাছে মোগো।
আমি:- কিভাবে জালাচ্ছে তোদের মারছে নাকি?
লা কুকুর:- আরে ভাই মারলে তো হইতোই ওই শিখা মোদের ফিজিকালি এন্ড মেনটালি দুইরকম ভাবেই জালাইছে ।
কা কুকুর:- হ। অনেক সহ্য করছি আর না। আজকে কামড়াবো।
আমি:- কেমন জালাইছে কয়েকটা বল দেখি।
সা কুকুর :- শোনেন তাইলে। একবার রাতের বেলায় মনে হয় তিনটা বাজে। এলাকা পাহাড়া দিয়া আইয়া ঘুমাইছিলাম। কিন্তু একটা গানের ঘুম ভাইঙ্গা গেলো। উইঠা দেহি ওই শিখা কোচিংয়ে যাইতেছে আর রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনছে।
এবার কন গান শুনবি শুনবি হেডফোন লাগাইয়া শোন। খামোখা আমাগো কাচা ঘুম কেনো ভাইঙ্গাইতে হলো।
আমি:- আহারে। তোদের কত দুঃখ। (গ্লাভস পরে কুকুরের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে।) আর কোন অভিযোগ?।
লা কুকুর:- আমার আছে✋। আমি একদিন শীতের সময় ওই শিখাদের বাড়ির পাশে ঘুমাইছিলাম। হঠাৎ দেহি আমার উপর পানি পড়তাছে। আমিতো ঠান্ডা পানিতে ভিজে কাপতে কাপতে উপরে চেয়ে দেখলাম ওই শিখা আকাশ পানে চেয়ে নিচে ফুলের টবে পানি দিচ্ছে। কিন্তু ফুলে পানি পড়ে ওই ঠান্ডা পানি পড়ছে আমার গায়ে। কেমন লাগে বলেন কুকুর বইল্লা কি আমাগো নিউরন নাই যে ঠান্ডা লাগবো না?
কা কুকুর:- ভাই আমিও একদিন ঘুমাইছিলাম আরামে। হঠাৎ লেজের উপার পারা পড়লো। চোখ খুইল্লা দেহি ওই মাইয়া যাইতেছে ফোনে কথা কইতে কইতে কেমন লাগে বলেন? একটু সরিও কইলো না
আমি:- সব শুনলাম। আচ্ছা ওকে কি মাফ করা যায় না?
সা কুকুর:- বস বললে মাফ করা যেতে পারে।
আমি:- বস কেডা আবার?। আচ্ছা চল তোর বসের কাছে।
লা কুকুর:- চলেন। আর ওই শিখারেও লইয়া আসেন
শিখারে বললাম কিছু বুঝলি আমার আর কুকুরদের কথা।
শিখা:- তোরটা বুঝছি। কুকুরদের খালি ঘেউ ঘেউ শুনছি।
আমি:- আয় আমার লাগে কুকুরদের বসের কাছে ওখানে গেলেই মাফ পাইতে পারিস। আর তিনটা অভিযোগ কি সত্যি?
শিখা:- কোনগুলা?
আমি বললাম সবগুলা ওকে।
শিখা:- হ্যা সত্যি
কুকুরদের বসের বাড়ি
কা কুকুর:- বস শিখারে বাচানোর লাইগ্গা এই ভাইটা আসছে।
বস কুকুর:- ভাই আপনি। কেমন আছেন? কি সৌভাগ্য আমার আপনার দেখা পাইছি।
আমি:- আরে নিকিযে তুই এখানকার বস।আমারতো বিশ্বাস হচ্ছে না।
আসলে নিকি হলো আমার পোসা কুকুর টমির শশুরের ভাইয়ের একমাত্র ছেলে।
বস কুকুর:- ভাই কি করতে হবে বলেন? শুধু একবার বলেন
আমি:- এই শিখাকে ছেড়ে দাও। ওকে যেনো আর তাড়া করা না হয়।
বস কুকুর:- ঠিকাছে। এই পিন্টু কিল্টু, সিল্টু শিখারে তাড়া করার দরকার নেই।
আমি:- শিখা তুই মাফ পাইছিস। তোরে আর কামড়াবে না।
শিখা:- ধন্যবাদ সিয়াম। বাচালি আমারে।
হেটে হেটে যাচ্ছি আর ভাবছি একজনকে বাচানো হলো। এবার নেক্সট কে ? কে জানে।
(শিরোনামের সাথে কি গল্প মিল পাচ্ছে। পেলে ঠিকাছে না পেলে বলবেন যে কোনটা দিতে হতো)
পড়ার জন্য আইসক্রিম^490
জগিং করবে,,,,,,,,,,,,,,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now