বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বেয়াদব হয়ে উঠার গল্প

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান M A Kadir Efthe (০ পয়েন্ট)

X ময়মনসিংহ থেকে আমার এক কলেজ বন্ধু রাজু ফোন-কল করে জানালো, তার ছাত্রী আয়েশা রাজশাহী যাবে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে। আয়েশা এবং তার বাবার থাকার জন্য একটা আবাসিক হোটেলে রুম বুকিং দিতে আর রাজশাহীতে থাকাকালীন সময়ে তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করতে। সময়টা তখন ২০১৬ সাল অক্টোবর মাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার মৌসুম। আমি তখন রাবিতে ২য় বর্ষের ছাত্র। আমিও রাজুকে তাদের থাকার ব্যাপারে কথা দিলাম আর নিশ্চয়তা দিলাম। তার পরের দিন, রাজুর কথা অনুযায়ী রাজশাহীতে একটা হোটেলের রুম ‍অগ্রীম বুকিং দিলাম। . ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন, তারা (আয়েশা-তার বাবা) ময়মনসিংহ থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হল, সকালে আংকেল ফোন-কল করল। -- হ্যালো, এটা কি রাজুর বন্ধুর নাম্বার..? -- জ্বি, আমি রাজুর বন্ধু। আসসালামু আলাইকুম। -- ওয়ালাইকুম আসসালাম। শোন বাবা, আমি আর আয়েশা রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। আমরা রাজশাহীর কিছুই চিনি না, তোমাকে আমাদের জন্য একটু কষ্ট করতে হবে বাবা। -- আরে, ব্যাপার না আংকেল। আল্লাহ্ এর নাম নিয়ে এসে পড়েন। বাস রাজশাহীর পৌছার আনুমানিক সময় দুপুর ১ টায়, আমি পৌনে ১ টায় রাজশাহীর শিরোইল বাস টার্মিনাল গেলাম আর তাদের রিসিভ করলাম। . কাহিনী শুরু এখানেই। আমি রিসিভ করেছি শুধু আংকেলকে, আয়েশাকে নয়। আমি বললাম -- আপনাদের আসতে কোন অসুবিধা হয় নি তো..? -- না, কোন অসুবিধা হয় নি। -- আয়েশা কোথায়..? -- সে তার বান্ধবীদের নিয়ে তোমাদের ক্যাম্পাস ঘুরতে গেছে। চলো, আমরা দুইজন হোটেলে যাই, সে (আয়েশা) পরে আসবে। আংকেলের কথা শুনে কিছুটা টাস্কি খাইলাম। সকালে তারা বলল রাজশাহী চিনে না আর এখনই মেয়ে তার বান্ধবীদের নিয়ে অচেনা-অজানা শহরের ক্যাম্পাস ঘুরতে গেল আর আংকেল একা ছেড়েও দিল, এই মেয়ের তো অনেক সাহস..! হোটেলে গিয়ে তাদের রুম বুঝিয়ে দিয়ে, হোটেলের নিচতলায় রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেতে বসলাম। খাওয়ার সময় দেখলাম, আংকেল হোটেল থেকে বের হয়ে কোথায় জানি গেল। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে মেসে গিয়ে হোটেল ম্যানেজারের ফোন-কল। -- তুমি হোটেলে যে রুম ভাড়া নিয়েছো, আর যে লোককে রুমটা দিয়েছো, সেই লোক তো একটা মেয়ে নিয়ে রুমে ঢুকছে। -- আরে কি বলেন..! এটা উনারই মেয়ে। -- ওহ আচ্ছা। ঠিক আছে। মনে মনে ধরে নিলাম, আংকেল তার মেয়ে আয়েশাকে নিয়ে আমার আড়ালে হোটেলে আনছে। আমি যা বুঝার বুঝে নিলাম। . সন্ধ্যায় আংকেল ফোন-কল করে তাদের হোটেলে যেতে বলল। হোটেলের পাশেই আমার মেস ছিল। হোটেল-রেস্টুরেন্ট-মেস তিনটার মালিক আর ম্যানেজার একজনই। হোটেলে তাদের রুমে গেলাম। সেখানেও টাস্কি খাইলাম। রুমে গিয়ে দেখি, আয়েশা নাই, আংকেল একা। হোটেলে রুম একটা, সাথে এটাচ ওয়াশরুম-টয়লেট। তাহলে মেয়েটা গেল কোথায়..? ধরে নিলাম, ওয়াশরুমে আছে। আংকেল বলা শুরু করল -- তোমার নাম কি..? -- প্রতিক। -- হিন্দু..? -- না, মুসলিম। আমার ভাল নাম ইফতেখার খান প্রতিক। -- দেশের বাড়ি কোথায়..? -- ময়মনসিংহ, গৌরীপুর উপজেলায়। -- আমরা ময়মনসিংহ সদরের। এখানে কিসে পড়..? -- অনার্স ২য় বর্ষ, গণিত বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। -- মেয়েটা ইন্টার পরীক্ষা একটু খারাপ করে ফেলছে। অল্পের জন্য জিপিএ ৫ পায় নি। এখানে ৪ টা ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিবে। কোন কোন ইউনিটে কি রকম মার্কস পেলে চান্স পাওয়া যায়..? -- সাইন্সে..? -- হ্যা, সাইন্সে। -- পরীক্ষা যে দিবে, সে কোথায়..? -- সে বেলকনিতে। (হোটেলের কোন রুমে বেলকনি নাই, একটা বেলকনি সেটা হোটেলের করিডোর বরাবর) -- পরীক্ষা যে দিবে, তাকে এই পরামর্শ দিলে ভাল হয় না..? সেই তো এগুলা ভাল বুঝবে। -- তাকে বলে কোন লাভ হবে না, আমাকে বল, আমি বুঝে নিব। কি আর করা, কিছু টিপস আর ট্রিকস বলে দিলাম। এদিকে, প্রায় ১ ঘন্টার মত আংকেলের সাথে আলাপ করলাম অথচ মেয়ে সেই রুমে আসে নাই, নাকি বাপে রুমে আসতে নিষেধ করে রাখছে..! কোনটা হবে..? আমি এবারও যা বুঝার বুঝে নিলাম। . পরের দিন, রাবিতে ভর্তি পরীক্ষার দিন। ভদ্রতার খাতিরে+আমার কর্তব্য অনুযায়ী, সকালে বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার সময়, তাদের হোটেলে গেলাম। বললাম -- আংকেল, আমি এখন ভার্সিটি যাব, চলেন একসাথে যাই, পরীক্ষা কেন্দ্র অল্প সময় খুজে দেয়া যাবে। -- না, লাগবে না। আমরা নিজেরাই খুজে নিতে পারব। এবারও যা বুঝার বুঝে নিলাম। তবে, এবার কেন জানি চরম অপমনিত হলাম। দুইদিন ব্যাপী রাবিতে বিভিন্ন ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হল। আমি এই দুইদিনে তাদের কোন খোজ-খবর নেই নাই, তারাও আমার কোন খোজ-খবর নেয় নাই। তারপর সেই আংকেলের ফোন-কল -- একটা কাজ করে দিতে পারবা..? -- কি কাজ..? -- আসলে, আমরা ময়মনসিংহ যাওয়ার ফিরতি টিকেট কাটি নাই। ময়মনসিংহ যাওয়ার বাসও তেমন নাই। ভেঙে ভেঙে কিংবা ট্রেনে ময়মনসিংহ যাওয়া যায়..? -- ১ম বার আমার বন্ধুর রেফারেন্সে আমার কাছে রাজশাহী এসে আমাকে ছাড়া, আমাকে পাত্তা না দিয়ে আপনারা যখন এতকিছু করে ফেললেন, এই কাজটা আমার জন্য রাখলেন কেন..? এটাও আপনারাই করেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনারা পারবেন। আমি আর কিছু করতে পারব না, Sorry. . ভদ্রলোকের টিকেট আবদারের কথা শুনে আমার মেজাজটাও গরম হয়েছিল। এদিকে, উনি আমার কথায় ভীষন রাগ পেয়েছেন। সেই ভদ্রলোক আমার সেই কলেজ বন্ধু রাজুর বাবার কাছে আমার নামে বিচার দিল, আমি নাকি চরম বেয়াদব। . ~~বেয়াদব হয়ে উঠার গল্প~~( সংগৃহীত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now