বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ আরিফ আজাদ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
১৩. তােমায় হৃদ মাঝারে রাখব...
মানুষের একটি স্বভাব হলাে—সে তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটি, সবচাইতে মূল্যবান বস্তুটি সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গায় রাখতে চায়। এজন্যেই প্রিয় কোনাে উপহার আমরা আমাদের প্রিয় জায়গায় সাজিয়ে রাখি। মূল্যবান জিনিসটি সুরক্ষিত স্থানে এনে রাখি যাতে করে সেটা হারিয়ে না যায়। চুরি হয়ে না যায়। এভাবেই প্রিয় লেখকের অটোগ্রাফওয়ালা বই, প্রিয় মানুষের সাথে তােলা ছবি, প্রিয়জনের পাঠানাে চিরকুটকে আমরা পরম যত্নে আগলে রাখি।
প্রিয় মানুষ, প্রিয় মুখ, প্রিয় মুহূর্ত, প্রিয় ছবি, প্রিয় জিনিসের প্রতি আমাদের দুর্বার আকর্ষণ। সেই আকর্ষণকে কেন্দ্র করে পৃথিবীতে লেখা হয়েছে অসংখ্য কবিতা। লেখকদের কলমের কালিতে সেই আকর্ষণ হয়ে উঠেছে গল্প-উপন্যাসের বিষয়বস্তু। শিল্পীর রং-তুলির আঁচড়ে সেগুলাে হয়ে উঠেছে আরও জীবন্ত, আরও আগ্রহােদ্দীপক।
প্রিয় মানুষটাকে আমরা কখনােই চোখের আড়াল হতে দিতে চাই না। তার একটু অনুপস্থিতি আমাদের হৃদয়কে অশান্ত করে তােলে। তার একটু অভিমান আমাদের হৃদয়ে ঘটায় রক্তক্ষরণ। তার সাথে একটু দূরত্ব আমাদের হৃদয়পারে ভাঙনের প্লাবন তৈরি করে। আমরা তাকে কখনােই হারাতে চাই না। দূরে রাখতে চাই না। আমরা সবসময় তাকে কাছে কাছে চাই। চোখে চোখে চাই। চাই অন্তরে অন্তরে।
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও একটি জিনিসকে সর্বদা, সর্বক্ষণ । বুকের সাথে বেঁধে রাখতে বলেছেন। অন্তরে গেঁথে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।
হতে বলেছেন হৃদ মাঝারে এবং এই কাজের জন্য তিনি এমন এক মহাপুরকারের। Uেয দিয়ে রেখেছেন যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। তিনি সাতজন ব্যক্তিকে। কিয়ামতের মাঠে আল্লাহর আরশের নিচে ছায়া প্রদানের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সেই মহাদুর্যোগপন্ন দিন! যেদিন কোনাে ছায়া থাকবে না। একটু ছায়ার জন্য যেদিন সব। মানুষ হাহাকার-হাপিত্যেশ করবে। এমন বিভীষিকাময় দিনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া। তাআলা সাত শ্রেণির ব্যক্তিকে ভালােবেসে, পরম মমতায়, অপার অনুগ্রহে তাঁর আরশের ছায়ার নিচে আশ্রয় দেবেন। সেই সাত শ্রেণির মধ্যে একটি শ্রেণি হলাে এই সকল লােক, যাদের অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে।[১] অর্থাৎ, যাদের হৃদয় মসজিদেই পড়ে থাকে। ওই সকল লােক, যারা মসজিদকে হৃদয়ের সাথে বেঁধে রাখে, যারা মসজিদকে তাদের অন্তরের সাথে গেঁথে রাখে।
ভাবছেন মসজিদকে আবার অন্তরের সাথে বেঁধে রাখে কীভাবে, তাই না? আসলে এটি একটি উপমা। এই উপমার মাধ্যমে নবিজি হৃদয়ের কাকুতি, অন্তরের ব্যাকুলতা বুঝিয়েছেন। যে কাকুতি হবে সালাতের জন্য। যে ব্যাকুলতা হবে আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দেবার জন্য। তাঁর কাছে নিজেকে সমর্পণ করার জন্য হৃদয়গভীরে যে উদ্বেলতা কাজ করবে, সেটাকেই উদ্দেশ্য করেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত পড়ে আসার পর আপনার অন্তর আবার ছটফট করতে থাকবে পরবর্তী ওয়াক্তের জন্য। আপনার হৃদয় তড়পাতে থাকবে পুনরায় মসজিদে যাওয়ার জন্য। আবার সালাতে শামিল হওয়ার জন্য আপনার মন সবসময় উদগ্রীব থাকবে। প্রচণ্ড ব্যস্ততার মাঝেও আপনার কান সর্বদা সজাগ থাকবে যেন পরবর্তী সালাতের আযান মিস না হয়। আপনি বারবার ঘড়ির দিকে তাকাবেন সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেল কি না বা ওয়াক্ত হতে আর কতক্ষণ সময় বাকি আছে সেটা দেখার জন্য। সেই মােতাবেক আপনি আপনার কাজকর্মগুলােকে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত করে আনবেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই ওযু করে রাখবেন অথবা ওযু করার সময়টুকু হাতে রেখেই মসজিদে যাবেন। মসজিদে জামাআত হয় এমন সময়ে আপনি কখনােই মিটিং রাখবেন । জরুরি কাজে ব্যস্ত থাকবেন না। আপনার কাজ আর ব্যস্ততার মাঝেও মনের মধ্যে একটা তাড়না কাজ করবে, ‘জামাআতেই আমাকে সালাত আদায় করতে হবে। এটাই হলাে মসজিদকে বুকের সাথে বেঁধে রাখা। অন্তরের সাথে গেঁথে ফেলা। হৃদ মাঝারে স্থান দেওয়া। এই জিনিসটা যারাই রপ্ত করতে পেরেছে, তাদের জন্যই।
হাদিসের ওই মহা সুসংবাদ। তাদেরই হাশরের ময়দানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা। তাঁর আরশের নিচে ছায়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কিন্তু এই অভ্যাস রপ্ত করার কৌশল কী? কৌশল হচ্ছে—অন্তরের যে ব্যাপারগুলােতে আল্লাহর স্থানে নিজেদের নফসকে প্রাধান্য দিয়ে রেখেছি, সেগুলাে সংশােধন করে। নেওয়া। তাকওয়ার বদলে যেখানে প্রবৃত্তি শেকড় গেড়ে বসেছে, সেসব জায়গা। থেকে প্রবৃত্তিকে শেকড়-সহ উপড়ে ফেলা। নিজের কৃত পাপের একটা তালিক তৈরি করা। সেই তালিকা ধরে ধরে নিজেকে প্রশ্ন করা যে, এসব পাপ থেকে আমি বেরুতে পেরেছি কি না বা আদৌ বের হওয়ার চেষ্টা করেছি কি না। যদি বের হতে পারি, তাহলে এখন আমার ঠিক কী করা উচিত?
আরেকটু সহজ করা যাক। আচ্ছা, নিজেকে প্রশ্ন করি তাে, আমি কি সিনেমা দেখি? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে কখনাে কি জানার চেষ্টা করেছি, সিনেমা দেখা আমার জন্য হালাল না হারাম? এটা কি আমার জন্য বৈধ না অবৈধ? যেখানে অর্ধনগ্ন মহিলারা অভিনয় করে, যেখানে একজন পুরুষ আর একজন নারীর পরকীয়া প্রদর্শিত হয়, অবাধ মেলামেশাকে প্রদর্শন করা হয়—এমন জিনিস কি একজন মুসলিম হয়ে আমি দেখতে পারি? আল্লাহ কি আমার জন্য এটা অনুমােদন করেছেন?
নিজেকে প্রশ্ন করি, আমি কি গান শুনি?' গানে একজন নারীর প্রতি আসক্তির কথা থাকে। তার জন্য হৃদয় হাহাকার করার কথা থাকে। আরও অনেক অশ্লীল কথাবার্তা গানের মধ্যে পাওয়া যায়। এই গান শােনা কি আমার জন্য শরিয়ত-সম্মত? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কি এটা আমার জন্য বৈধ করেছেন? গান শুনলে কি আমার পুণ্য হয় না পাপ?
নিজের কাছে এভাবে প্রশ্নের ডালা মেলে বসি, চলুন। নিজেকে একের পর এক প্রশ্নে জর্জরিত করি—আমি কি হারাম রিলেশানশিপে আছি? আমি কি মিথ্যে কথা বলে মানুষ ঠকাই? আমি কি অন্যের হক নষ্ট করে চলি? পিতা-মাতার ব্যাপারে যে দায়িত্ব ও কর্তব্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাকে দিয়েছেন, তা কি আমি পালন করছি? আমি কি কোনােভাবে আমার পিতা-মাতার অসন্তুষ্টির কারণ? আমার দ্বারা কি আল্লাহর কোনাে বান্দা কিংবা সৃষ্টির ক্ষতি সাধিত হচ্ছে? আমি কি আমার সহপাঠী মেয়ের দিকে কুনজরে তাকাই?
নিজেকে প্রশ্ন করে উত্তরগুলাে একের পর এক সাজাতে হবে। যদি আমরা এই ধরনের পাপে সত্যি সত্যিই নিমজ্জিত থাকি, তাহলে আজকে, এই মুহূর্ত থেকেই।
তাওবা করে ফিরে আসতে হবে। বদলে যেতে হবে নিজেকে। পাল্টে ফেলতে হবে। অভ্যাস। এভাবে কৃত পাপগুলাে থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই আমরা সহজে। আমাদের অন্তরকে মসজিদের সাথে সংযুক্ত করতে পারব।
পাপের মধ্যে নিমজ্জিত থাকার দরুন আমরা ভালাে কাজ থেকে দূরে সরে যাই। পাপ কাজগুলাে কখনােই আমাদের আল্লাহর কাছাকাছি আসতে দেয় না। পাপের সাগরে। আমগ্ন অবগাহনের ফলে আমাদের অন্তর তাওবার দিকে ঝুঁকে আসে না। তখন আমাদের সালাত ভালাে লাগে না, সিয়াম ভালাে লাগে না। রামাদান মাসকে তখন আমাদের কাছে বাড়তি একটা বােঝা মনে হয়। কেবল চক্ষুলজ্জা এড়াতেই আমরা তখন সিয়াম রাখি আর মসজিদে গিয়ে থাকি।
এ প্রসঙ্গে খুব চমৎকার একটি কথা বলেছেন হাসান আল বাসরি রাহিমাহুল্লাহ। একবার একলােক তার কাছে জানতে চাইল, আচ্ছা, আপনি তাে বলেন, পাপ কাজ করলে নাকি আল্লাহ তাঁর নিআমতগুলাে থেকে বান্দাকে বঞ্চিত করেন। আমি কিন্তু প্রচুর পাপ কাজ করি এবং ভালাে কাজ একদম করিই না বলা চলে। কিন্তু দেখুন, আমার খুব সুন্দর একটি স্ত্রী আছে। সন্তানসন্ততি আছে। আমার রয়েছে প্রচুর টাকা ও ধনসম্পদ। বলা চলে, আল্লাহ আমাকে কোনাে কিছু থেকেই বঞ্চিত করেননি। তাহলে আপনি কীভাবে এই কথা বলেন যে, পাপ কাজ করলে আল্লাহ বান্দাকে তাঁর নিআমত থেকে বঞ্চিত করেন?
লােকটার কথা শুনে হাসান আল বাসরি রাহিমাহুল্লাহ বললেন, ‘আচ্ছা, তুমি কি রাতে তাহাজ্জুদ পড়তে পারাে? আন্তরিকতার সাথে কখনাে আল্লাহর কাছে দুআ করতে পারাে? তুমি কি তৃপ্তি সহকারে কখনাে সালাত আদায় করতে পারাে? কুরআন পড়তে পারাে? এসবই তাে আল্লাহর নিআমত থেকে বঞ্চিত হবার জন্য যথেষ্ট।
হাসান আল বাসরি রাহিমাহুল্লাহর সুন্দর এই জবাবটির মাঝে অনেক উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের জন্য। বাহ্যিকভাবে, আমরা আমাদের চারপাশে এমন অনেক লােককে দেখি যারা আগাগােড়া পাপের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। সুদ খাচ্ছে, ঘুস খাচ্ছে। দুর্নীতি করছে, মানুষ ঠকাচ্ছে। অশ্লীল কাজে জড়িয়ে আছে। কিন্তু তারপরও তাদের ধনসম্পদ উত্তরােত্তর বৃদ্ধি পেয়েই চলছে। এই ধরনের মানুষের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন তাে, শেষ কবে তারা আল্লাহর কাছে আন্তরিকতার সাথে কাঁদতে পেরেছে, মনে আছে কি না। শেষ কবে তারা কেবল আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য সালাত আদায় করেছে,
মনে আছে কি না। শেষ কবে সালাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনােযােগ ধরে। রাখতে পেরেছে, মনে পড়ে কি না। পাপের মধ্যে ডুবে থাকার ফল এমনই। আপনার। সাথে দুনিয়ার সম্পর্ক বেড়ে যাবে, কিন্তু আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্কের দূরত্ব। কেবল বাড়তেই থাকবে। আপনি পাপের মধ্যে আমগ্ন ডুবে থাকলে কখনােই সালাতে। মনােযােগ দিতে পারবেন না। রুকু এবং সিজদার তাসবিহগুলােতে কী বলছেন সেটা বুঝতে পারবেন না। আপনার সালাত তখন আপনার কোনাে কাজেই আসবে না। তা কেবল শারীরিক ব্যায়ামে পরিণত হবে। আযান হলেই আপনার বিরক্ত লাগবে। চেয়ার ছেড়ে মসজিদে যেতে মন চাইবে না। তবুও, আমার সহকর্মীরা মসজিদে যাচ্ছে, আমি না গেলে কেমন দেখায়—এমন চক্ষুলজ্জা এড়াতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও আপনাকে মসজিদে যেতে হবে। গৎবাঁধাভাবে কিয়াম, রুকু, সিজদা করতে হবে। এসবের কোনাে কিছুতেই আপনি মজা পাবেন না। বরং আপনি ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে উঠবেন। মনে হবে, যেন সালাত থেকে পালাতে পারলেই আপনি বেঁচে যান। অবস্থা যদি এমন হয়, তাহলে বুঝে নিতে হবে যে, আমাদের অন্তরজুড়ে এক মহামারি চলছে। সেখানে পাপের বীজগুলাে একেকটা মহিরুহে পরিণত হয়ে আছে। সেই মহিরুহগুলােকে উপড়ানাে না গেলে তা একদিন আমার সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
সুতরাং, আমাদের অন্তরকে মসজিদের সাথে বেঁধে ফেলার একটি শর্ত হলাে পাপ থেকে মুক্ত থাকা। যখনই আমি মিথ্যে বলা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত করব, যখনই অন্যের হকের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকব, যখনই অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে যথাসম্ভব বাঁচিয়ে রাখব, যখনই নিজের জীবন থেকে আমি সমস্ত অশ্লীলতা ও তার নিয়ামকসমূহকে ঝেটিয়ে বিদেয় করে দেবাে, তখনই সেখানে প্রতিস্থাপিত হবে একটি নুর। সেই নুর হলাে হিদায়াতের নুর। সেই নুরের ঝলকানিতে ঝলমল করে উঠবে আমাদের দেহ-মন। তখন সালাতের জন্য আমরা সারাক্ষণ উদগ্রীব থাকব। কবে আযান হবে, কবে মসজিদমুখী হব—এমন চিন্তায় বিভাের থাকবে আমাদের অন্তর। যাদের অন্তরে মসজিদের জন্য এমন মায়া, এমন টান, এমন ভালােবাসা বিদ্যমান, তাদের জন্যই তাে সুসংবাদ দিয়েছেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া । সাল্লাম। তারাই হবে সেই ছায়ার নিচে আশ্রয়প্রাপ্ত সৌভাগ্যবানের দল। যেদিন | আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতীত অন্য কোনাে ছায়া থাকবে না, সেদিন এই ছায়ার । নিচে থাকতে হলে আমরাও কি মসজিদকে আমাদের অন্তরের সাথে বেঁধে রাখতে। পারি না? পারি না আমাদের হৃদ মাঝারে মসজিদকে সত্যিকার স্থান দিতে?
চলবে ইনশাআল্লাহ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now