বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নেহা ম্যাম এর হাত থেকে দৌড়ে পালিয়ে তারপর আমার বাসায় আসলাম।বাসায় এসে গোসল করে তারপর খাওয়াদাওয়া করে দিলাম এক ঘুম।ঘুম থেকে উঠলাম সন্ধ্যার দিকে।ঘুম থেকে উঠে সায়েম এর কথা মনে পড়লো।হালা আমায় নেহা ম্যাম এর কাছে একা রেখে পালিয়েছে ওর তো খবর আছে।ওকে তাইলে একটু ফোন দেই।ফোন দিলাম সায়েম কে কিন্তু ফোন ঢুকছে না ওর ফোনে।হালা আমার ভয়ে কি ফোন বন্ধ করে রাখলো নাকি।একটু ফেসবুকে ঢুকে দেখি তো একটিভ আছে কি না।ফেসবুকে ঢুকেও দেখি সায়েম একটিভ নাই।ধুর আমি এবার বিরক্ত হয়ে গেলাম।আচ্ছা ঠিক আছে কাল সকালে ওর বাসায় গিয়েই ওরে মজা দেখাবো।
পরেরদিন সকালে ১০ টার দিকে বাহির হয়ে গেলাম সায়েম এর বাসার উদ্দেশ্যে।সায়েম এর বাসায় যেতে বাসে এক ঘন্টা লাগে।তেমন একটা দূরে নয়।তো বাসে উঠে এক ঘন্টা জার্নি করে সায়েম এর বাসায় অবশেষে পৌছালাম।ওর বাসার দরজার কাছে গিয়ে কলিংবেল বাজালাম।দরজা খুললো সায়েম এর মা।বলে রাখি সায়েম এর বাসায় আগেও আসছি আমি।তাই ওর বাবা মা আমায় খুব ভাল করে চেনে।যাই হোক দরজা খুলে দিয়ে আমায় দেখে
আন্টি বললেন আরেহ তুহিন আসছো।আসো বসো।অনেকদিন পর আসলে।তোমার আব্বু আম্মু কেমন আছে?
আমি:-আন্টি সবাই ভালো আছে।আপনি কেমন আছেন।আংকেল কোথায়?আর সায়েম বাসায় আছে?
আন্টি:-হ্যা বাবা ভাল আছি।আর তোমার আংকেল অফিসে গেছে।সায়েম তো ওর ঘরেই আছে।যাও ওর ঘরে।আজ দুপুরে কিন্তু খেয়ে যেয়ো।না খেয়ে আজ কিন্তু যেতে দিচ্ছি না তোমায়।
আমি:-আচ্ছা আন্টি আজ না হয় খেয়েই যাবো।
তারপর সায়েম এর ঘরের কাছে গেলাম।গিয়ে দেখি দরজা খুলাই আছে এবং দরজা ভিড়িয়ে দেওয়া।একটু ফাক দিয়ে তাকিয়ে দেখি।সায়েম দেখি জোড়ে জোরে বলছে"ওই আইবুল্লা তোর সামনে এনিমি মার হালারে।ভাল করে গুলি কর হেড শট লাগা হে।সায়েম আবার বলছে ওই সেলিম পল্টু রে রিভাইব দে ওরেহ নক করে দিছে ইনিমি।সবাই ভাল করে খেল চিকেন ডিনার কিন্তু পাইতেই হবে।
ওরেহ হারামি আমারে একা বিপদে রেখে চলে এসে এখন বাসায় সুয়ে সুয়ে পাবজি খেলা হচ্ছে।দাড়া তোরে দেখাচ্ছি মজা।তারপর সায়েম এর ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিয়ে.......
আমি:-চিকেন ডিনার করবি সায়েম লে তোরে চিকেন ডিনার করাচ্ছি আজ।
আমায় দেখে সায়েম তো সেই অবাক হলো আর ভয় ও পেল।
সায়েম:-তু.....তু....হিন তুই এখানে।
আমি:-ক্যারে এখন তোতলাচ্ছিস কেন।আমায় একা ফেলে খুব তো বাসায় বসে পাবজি খেলছিস।এবার দেখ আমি তোর সাথে পাবজি খেলি কিভাবে।
তারপর আর কি এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি আর লাথির ঝড় বয়ে যেতে লাগলো সায়েম এর উপর।
সায়েম:-উহ লাগছে এবার থাম।আর কখনো তোরে একা ফেলে পালোবো না দোস্ত প্রমিস করছি।
মার থামিয়ে দিয়ে।
আমি:-আগে এটা বল যে কাল তোকে কতবার ফোন দিছি ধরিস নাই কেন?ফেবুকেও দেখি নাই কেন?
সায়েম:-আরে বন্ধু তুই ফোন দিছিস সেটা আজ সকালে দেখছি।গতকাল আমারে এখানে সাড়াদিন কারেন্ট ছিল না।কারেন্ট এর কাজ চলছিল একটু।
আমি:-তাইলে আজ সকালে আমার কল দিছি এটা বুঝতে পেরে আমায় ফোন দিস নি কেন?
সায়েম:-তুরে একা ফেলে চলে আসছিলাম তো তাই ভয়ে ফোন দেই নি তোকে।
আমি:-হালা হারামি বন্ধুকে ফেলে চলে যাস।বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধুই আর তুই আমায় ওই নেহা ম্যাম এর কাছে একা রেখে পালাইছিস।নেহা ম্যাম তো আমার আব্বুর নাম্বার চাইছিল।আমি তো কোনভাবে কাটিয়ে পালিয়ে আসছি।
সায়েম:-কি উপায়ে পালিয়েছিস রে?
আমি:-ম্যাম রে বলছি ম্যাম আপনার পিছনে সাপ।ম্যাম পিছানে তাকালো আর আমি ওমনি দিছি এক দৌড়।যেই দৌড দিছি কয়েক মূহুর্তেই পগাড় পাড় হয়ে গেছি।
সায়েম:-হাহাহা দারুন উপায়ে কিন্তু পালিয়েছিস।
আমি:-আবার মার দিব নাকি তোকে।তুই আবার হাসছিস।খুব কষ্টে এই যাত্রায় বাচছি।কিন্তু এখনো নিরাপদ নই আমরা।ম্যাম যদি ভার্সিটির উপাচার্য এর কাছে সব বলে দেয় তাইলে তো আমরা গেছি আর যদি খবরটা বাসায় চলে আসে তাইলে আমি তুই দুজনের ই জায়গা হবে বাইরে।দুজনকে ভিক্ষা করা লাগবে তখন।ধুর ফাসিয়ে দিলি রে সায়েম।
সায়েম:-আমিও তো সেটাই ভাবছি।ধুর মেয়েটা যে নেহা ম্যাম হবে বুঝতেই পারি নি।ম্যাম যে হিজাব দিয়ে মুখ ঢেকে রাখে এটা তো জানতাম ই না।তাই এই বিপদে পড়ছি।আমার মনে হয় কি ম্যাম ওতো টাও নির্দয় হবে না।কাউকে মনে হয় বলবে না তুই দেখিস।
আমি:-আমার তো মনে হয় না।গতকাল যেভাবে কথা বললো আমারে সাথে মনে হচ্ছিল যেন জেন্ত চিবিয়ে খাবে আমাদের।যাই হোক কয়েক দিন আর ভার্সিটি যাবো না আমি তুই ও যাস না।এর মধ্যে সব ঝামেলা মিটে যাবে দেখিস।ম্যাম ও ভূলে যাবেন ব্যাপারটা আস্তে আস্তে।তারপর আমরা না হয় ম্যাম এর কাছে গিয়ে সরি বলবো।
সায়েম:-আচ্ছা ঠিক আছে।
তারপর সায়েম এর সাথে ওর ঘরে আড্ডা দিলাম।দুজনে পাবজি খেললাম।দুপুরের দিকে আন্টি খেতে ডাকলেন।তারপর সায়েম এর বাসায় খেয়ে আমার বাসার দিকে রওনা দিলাম।
চলবে............
[বন্ধুর ক্রাশ গল্পটি আমার পর্ব করার কোনো ইচ্ছা ছিল না।কিন্তু গল্পটি প্রকাশিত হওয়ার পর ভালো সাড়া পেয়েছি।অনেকে আমায় অনুরোধ করেছে যাতে এই গল্পের একটা সিরিজ করি।একটা শেষ পরিণিতি দেই গল্পের।তাই দুই নাম্বার পর্বটা লিখলাম।আর এই গল্প হয়তোবা আর একটা পর্ব লিখেই শেষ করে দিতে পারি।হয়তো চাইলেই অনেক বড় করা যাবে গল্পটি কিন্তু আমি চাই না বেশি বড় করতে।চাই একটু আলদা ভাবে তাড়াতাড়ি শেষ করতে গল্পটা।বেশি বড় করলে অন্য অনেক গল্পের সাথে অনেকটা মিল থেকে যেতে পারে।যাই হোক গল্পের ভূল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।ধন্যবাদ।]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now