বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মধ্যবিত্ত
Writer--md. Omar
Part--02
দুজনে খুব ভালো ব্যাটিং করতেছি,,,
রান করার জন্য দৌড়াচ্ছি,,
হঠাৎ আমি হোঁচট খেয়ে পড়ে যাই,,,
ফলে রান আউট হয়ে যায়,,
আমি পা ধরে যেখানে পরেছি সেখানে বসে আছি,,
পায়ে খুব ব্যাথা পেয়েছি,, উঠার শক্তি টুকু পাচ্ছি না,,
সবাই আমার কাছে আসলো,,
রিমন--পায়ে কি হয়েছে দেখি,,?
রিমন আমার পা দেখে
রিমন--পা তো মুচড়িয়ে গেছে,,
রাফি--চল ওকে ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যাই,,
আমি--আমি ঠিক আছি,,আগে খেলা শেষ কর,,
রিমন--আরে হালা,,তুর এ অবস্থায় আমরা খেলবো,,
রাফি--খেলা এখানেই ডিসমিস,,
অন্য দল তা মেনে নিলো,,
আসিফ-----এই ওকে ধরে,, ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যাই,,
তারপর ওরা আমাকে ধরে ডাক্তার এর কাছে নিয়ে গেল,,
ডাঃ ভালো করে পাট্টি বেদে দিলো,,
তারপর ওরা আমাকে ধরে বাড়িতে নিয়ে আসলো,,
মা--কিরে তুর কি হয়েছে,,?পায়ে এভাবে পাট্টি বাধা কেন,?
রিমন--আন্টি ও হোঁচট খেয়ে পড়ে গেছে,,
মা--কোথায়,,?
রিমন--খেলার সময়,,
মা--তুকে বারবার বলি,,এসব খেলা খেলতে হবে না,,,দেখ এখন,,
আমি--বিপদ তো বলে বলে আসে না,,,
মা--আচ্ছা তোমরা ওকে ওর রুমে দিয়ে আসো একটু,,,
তারপর আমাকে রুমে দিয়ে আসলো,,
ওরা চলে গেছে,,
কিছুক্ষণ পর আম্মু আসলো,,
মা--নে বাবা দুধ টুকু খেয়ে নে,,
আমি---এখন খাবো না,, আমি ঘোমাবো,,
মা--আগে খেয়ে নে,, তারপর,
কি আর করার অনিচ্ছা সত্বেও খেতে হল,,
খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম,,
রাতে আম্মুর ডাকে ঘুম ভাঙল,,
মা--বাবা উঠ,,ভাত খাবি না,,
আমি উঠে বসলাম,,
মা--নিজের হাতে খাইয়ে দিলো,,
তারপর ওষুধ খাইয়ে দিল,,
এরিমধ্যে বাবা আসলো
বাবা--কি করে হলো এসব,,
আমি--চুপ,,(আসলে বাবাকে ভয় পাই)
বাবা---কি করে হলো এসব,,(ধমক দিয়ে)
আমি--হোচট খেয়ে,,
বাবা--কোথায়,,
আমি--খেলতে গিয়ে,,
বাবা--ভালো করছিস,,,এখন বিছানার মধ্যে পড়ে থাক,,
মা--ছেলেটার এই অবস্থা তার উপর ওর সাথে এমন করতেছো,,
বাবা--আর যদি খেলতে যাস,, তখন দেখবি,,তুর একদিন কি আমার একদিন,,
এই বলে চলে গেল,,
(((বাবা মায়ের এসব বকাঝকার মধ্যে লুকিয়ে আছে গবীর ভালোবাসা,,, আপনার কিছু হলে মা বাবা কোনদিন ঠিক থাকতে পারে না,,উপরে কঠিন দেখালেও ভিতরে আছে অশেষ মমতা,, সন্তানের ক্ষতি হোক মা বাবা চাইনা,,,,তাই শাষন এর মধ্যে রাখে,,,
দীর্ঘজীবী হোক পৃথিবীর সকল মা বাবা,, ভালোবাসা অবিরাম পৃথিবীর সকল মা বাবার প্রতি,,))))
মা--আচ্ছা বাবা তুই ঘুমা,,
আমি--হুম,,
তারপর মা চলে গেল,,
আমি শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম,,
-+---কেন যে পা টা মচকে গেল,,, জানিনা কখন ঠিক হয়,, ততদিন তো স্কুলে যেতে দিবে না,, আমার জানপাখি টাকে কি দেখতে পাবো না,,ওকে না দেখলে তো আমার দিন কাটে না,,পাগলি টা আমাকে না দেখলে কেমন করবে কে জানে,,,আমাকে না দেখে যে ও থাকতে পারে না,,
এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম টেরই পেলাম না,,
পরদিন সকালে আম্মর ডাকে ঘুম ভাঙল,,
আম্মু পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে দিল,,আমাকে বিছানা থেকে উঠতে দেইনি,,
তারপর নাস্তা করে নিলাম,,
ওষুধ খাইয়ে দিয়ে চলে গেলো,,
তারপর আমি আবার শুয়ে থাকলাম,,
পাগলিটার জন্য মন খুব চটপট করছে,,
জানিনা পাগলি টা আমাকে না দেখে কি করছে,,হয়তো মন খারাপ করে বসে আছে,,
এভাবে বিকাল হয়ে গেল,,
সন্ধ্যার আগে বন্ধুরা আসলো,,
রিমন--কিরে এখন কেমন লাগছে,,
আমি--ভালো,,আদিবার কি খবর,,
রাফি--ও তুকে না দেখে তো পাগল এর মতো হয়ে গেছে,,, আমাদের থেকে জিগ্গেস করছিলো,, তুই কোথায়,,আমরা বলে দিছি,, তুই পায়ে ব্যাথা পেয়েছিস,,
আমি--ওকে বললি কেন,, মেয়েটা বাসায় গিয়ে কান্না শুরু করে দিছে মনে হয়,,
রিমন--মিথ্যা বলা মহা পাপ,,
রাকিব--ওরে আমার সত্যবাদী রে,, মিথ্যা কথা বলে তুর আব্বুর থেকে কত টাকা হাতিয়ে নিন মনে আছে,,
রিমন--ওই চুপ থাক,,,পাঠক ভাইদের সামনে আমার মান সম্মান কিছু রাখলি না,,
সবাই হুঁ হুঁ করে হেসে দিলাম,,
ওরা আড্ডা দিয়ে সন্ধায় পর চলে গেল,,,
আস্তে আস্তে আমি সুস্থ হচ্ছি,,
আজ সাত দিন পর পুরোপুরি সুস্থ,ঠিকমত হাঁটাচলা করতে পারছি,,
খুব ভালো লাগছে,,
কাল থেকে পাগলি টাকে দেখতে পাব
পরদিন,,
স্কুলে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে,,
আমি--আম্মু আমি গেলাম,,
মা--কোথায় যাচ্ছিস,,(রান্না ঘর থেকে এসে,)
আমি--স্কুলে,,
মা--আজ যেতে হবে না,,আরো কিছু দিন পর মাস,
আমি--আমি এখন পুরোপুরি সুস্থ,, এমনিতেই অনেক দিন আমার--(এইরে কি বলে ফেলেছিলাম,,)
মা--কি,,
আমি--এমনিতেই অনেক দিন মিস দিছি,,, তুমি কোন চিন্তা কর না,,,
মা--আচ্ছা,,যা,,
আমি স্কুলের দিকে হাঁটা ধরলাম,,
কিছুক্ষণ পর পৌঁছে গেলাম,,
এদিকে ওদিক না তাকিয়ে সুজা ক্লাসে চলে গেলাম,,পাগলি টা ক্লাসে থাকবে,,
কিন্তু ক্লাসে গিয়ে ওকে দেখতে পেলাম না,,
ব্যাগ রেখে বাইরে চলে আসলাম,,
এসে বন্ধুদের কাছে গেলাম,,
আমি--কি খবর মামা,
--ভালো তুর,,
আমি--ভালো বলেই তো আজ আসতে পারলাম,,
রিপন--ভাবি আসছে,,?
আমি--নারে,,(মন খারাপ করে)
রাফি--ও দুই দিন ধরে আসতেছে না,,
আমি--কেন,,
রিমন--জানিনা,,
সবাই আড্ডা দিচ্ছে,, কিন্তু আমার মন কখন আদিবা আসবে সেই দিকে,,
বারবার গেইট এর দিকে তাকাচ্ছি,,
কিন্তু আদিবা আসতেছে না কেন,,
ক্লাসের সময় হয়ে গেল,,
তাই সবাই ক্লাসে চলে গেলাম,,
কিন্তু আমার ক্লাসে যেতে ইচ্ছে করতেছে না,, তবুও স্যার এর খেলানির ভয়ে গেলাম,,
চুপচাপ এক কোনায় বসে পড়লাম,,
মাথা নিচু করে বসে আছি,,
কিছুক্ষণ পর স্যার আসলো,,
সবাই দাঁড়িয়ে গেছে,,
কিন্তু আমি খেয়াল করি নাই,,তাই দাঁড়ায়নি,,
সেটা স্যার এর চোখ এড়ালো না,,
-----এই ছেলে দাঁড়াও,,
আমি তখনি মাথা নিচু করে বসে আছি,,
-----এই ছেলে দাঁড়া,,
এবার কথাটা আমার কানে আসলো,,
তাই মাথা তুলে এদিক ওদিক তাকালাম,,
স্যার--এই বেয়াদব ছেলে তুকে দাঁড়াতে বলছি না,,
সারা ক্লাস জুড়ে নিরবতা,,
আমি--স্যার এর দিকে তাকালাম,,
স্যার--একে কান ধরে দাঁড় করাও,,
আমি-স্যার আমাকে,,?
স্যার--হ্যা,,
আমি--কিন্তু কেন,,?
স্যার--ক্লাসে স্যার আসলে দাঁড়াতে হয় যে জাননা,,
আমি-+সরি স্যার,,(দাঁড়িয়ে)
স্যার--এভাবেই দাঁড়িয়ে থাক,,
আমি আর কিছু বললাম না,,সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,
স্যার--ওর দিকে সবাই হা করে তাকিয়ে আছো কেন,,(ধমক দিয়ে)
সবাই ভয়ে সামনে ফিরলো,,
স্যার এবার রোলকল শুরু করলো,,
যখনি আমার রোল ডাকলো,,
আমি --ইয়েস স্যার,,
স্যার আমার দিকে তাকালো,,
স্যার--এতদিন আসোনি কেন,,?
আমি--চুপ,,
স্যার--কি হল,,
তখনি রিমন দাঁড়িয়ে,,
----স্যার ওর পায়ে আঘাত পাইছিলো তাই আস্তে পারে নাই,,
স্যার--এটা তোমাকে বলতে বলছি,,?ওর মুখ নাই,,
রিমন--সরি স্যার,,
স্যার--দুজনে দাঁড়িয়ে থাক,, বন্ধু কে বাচাচ্ছে,,
দুজন কে সারা ক্লাস দাঁড়িয়ে থাকতে হলো,,
স্যার যাওয়ার পর বসে পড়লাম,,
এভাবে কোনরকম ক্লাস করে বাসায় চলে আসলাম,,
মন টা ভিষন খারাপ,,
পরদিন ও একি,,
আজ ও আদিবা আসেনি,,,
তাই ক্লাসে না গিয়ে সুজা বাসায় চলে আসলাম,,
মা এত তাড়াতাড়ি কেন এসেছি জিগ্গেস করলে,,
ভালো লাগছেনা বলে রুমে চলে আসলাম,
সারাদিন আর রুম থেকে বের হয়নি,,
পরদিন খুব তাড়াতাড়ি স্কুলে চলে গেলাম,,,
গিয়ে আদিবার অপেক্ষা করতে লাগলাম,,
অনেক্ষণ অপেক্ষার পর আজ আদিবার দেখা মিলল,,
ফলে আমার মুখে হাসি ফুটলো,
কিন্তু আদিবার চেহারার দিকে তাকিয়ে আমার মন টা খারাপ হয়ে গেল,
আদিবার চোখ মুখ ফুলে গেছে,,
আদিবা আমাকে দেখে ওর মুখে হাসি ফুটলো,,
আমাকে ইশারা দিয়ে শহিদ মিনারের এদিকে ডাকলো,,
আমি ও গেলাম,
আমি--কেমন আছো,,,
আদিবা--আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো,
আমি-----এই কেউ দেখে ফেললে সমস্যা হবে,,প্লিজ কান্না থামাও,,
আদিবা--দেখলে দেখুক,,তোমাকে না দেখে এতদিন খুব কষ্টে ছিলাম,,,(কান্নূ করে)
আমি--আমার বুঝি কষ্ট হয়নি,,,
এমন সময় কে যেন আমাদের ডাক দিলো,,
আমরা তাড়াতাড়ি একে অপরকে ছেড়ে দিলাম,,
তাকিয়ে দেখলাম,, হ্যাড স্যার চোখ লাল করে দাঁড়িয়ে আছে,,
যা ভয় পাচ্ছিলাম তাই হলো,,
স্যার আমাদের কাছে এসে আমার গালে সজুরে একটা থাপ্পর মারলো,,,
কিন্তু আদিবাসী কে মারতে গিয়ে ও মারলো,, না
স্যার--দুজন অফিসে আসো,, তোমাদের বাবা মা কে ডাকছি,,আই অফিসে আই,,
স্যার আমাদের অফিসে নিয়ে গেল,,
যাওয়ার সময় স্কুলের সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিলো,,
অফিস এ যাওয়ার পর,,
চলবে------
সবার মতামত আশা করছি,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now