বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক:অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় MH2
সবাই এতোক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে।দীর্ঘ শ্বাসের শব্দ শুনছি।অনেকেই হয়তো ঘুমের মাঝে স্বপ্নও দেখছে,কারণ তাদের চোখের পাতা বারবার নড়ছে।আবার কারও চোখে ঘুম এখনও ততোটা গাঢ় হয় নি।ঘুম অনেক মূল্যবান।আমারও ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছা করছে,কিন্তু রাতের সৌন্দর্য আমায় অভিভূত করে নিয়েছে।তাই আর ঘুমাতে ইচ্ছা করছে না।
আজকে চাঁদটা আরেকটু বড় হয়েছে,তবে দ্রুতই অস্ত যাবে,তবে গতকাল যে সময় অস্ত গিয়েছে তার একটু পরে অস্ত যাবে।চাঁদের আলোয় সব কিছু সুন্দর দেখাচ্ছে,ঘুমন্ত মানুষগুলোকে তো আরও সুন্দর লাগছে দেখতে,ঘুমন্ত মানুষকেও যে অতোটা সুন্দর লাগে তা জিজে'সদের দেখলেই বুঝা যায়।আমরা এখন রহস্যময় এলাকায় আছি,যেখানটা এখনও আবিষ্কার হয় নি ভালো করে।আকাশের চাঁদের আলো এবং কুয়াশা আরও রহস্যময় এবং স্নিগ্ধ একটা সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলেছে চারিপাশে।নদীর তীরে সাধারণত কুয়াশা খুব গাঢ় হয়।এখন শীতকাল না হলেও নদীর তীরে থাকায় কুয়াশা আছে।একদিকে চাঁদের আলো অন্যদিকে কুয়াশা,আবার পূর্ব দিকে দেখছি কতোগুলো রাত্রির ফুল ফোটেছে,রাতের বেলায় এরা ফোটে,রাতেই এদের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় ভালো করে।কিছুক্ষণ ফুলগুলো দেখলাম,ছিড়লাম না,কারণ গাছের ফুল গাছেই সুন্দর,হাতে আসলে কিছুক্ষণ পরই তার সৌন্দর্য মলিন হয়ে যাবে।চাঁদের আলোয় এবং হালকা কুয়াশায় লম্বা লম্বা গাছগুলোকে মনে হচ্ছে যেন কোনো লম্বা দানব আমার সামনে দাড়িয়ে আছে,আর ছোট ছোট গাছগুলো যেন বামন।অপরূপ লাগছে সব।হুমায়ুন আহমেদ স্যারের হিমু সিরিজে তিনি বলেছেন চাঁদ দেখতে হলে শহর হতে দূরে কোনো জঙ্গলে বসে চাঁদ দেখতে হয়।আচ্ছা এখন চাঁদ দেখতে বসলে কেমন হয়,চাঁদের সৌন্দর্য মন দিয়ে যদি উপভোগ করতে চেষ্টা করি তো কেমন হবে।মনে মনে খুশি হয়ে গেলাম।রাতের ফুলগুলোর হালকা সুগন্ধ বাতাসে ভেসে আসছে,ব্যাপনের কাজ এটা,কেন এটা হয় সেটাও জানি,তবুও এই রাতে আবার নতুন ভাবে জানতে ইচ্ছা করছে।ফুলের সুবাস নাকে নিয়ে আকাশে চাঁদ দেখলে অনেক সুন্দর হবে ব্যাপারটা।একটা ফাঁকা জায়গায় বসলাম,আকাশের দিকে মুখ করে বসে আছি।
যদিও আকাশে কোনো মেঘ নেই,তবুও হালকা হালকা ধোয়ার মতো হালকা হালকা মেঘ ভেসে আসছে,মন দিয়ে চাঁদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাচ্ছি।প্রায় সফল হয়ে যাচ্ছি,এমন সময় গতকালের মতো আবার "ধপাস" মতো শব্দ হলো।কানে ভুল শুনছি না তো।কারণ আজ সবাইকে সাবধানে বিছানায় রাখা হয়েছে,নিজ নিজ হাত তারা সবাই বেধে শুয়েছে,তাহলে কেউ আবার দড়ি ছিড়ে বিছানাসহ নিচে পড়ে গেছে নাকি???
আর চাঁদ দেখা হলো না।মশাল নিয়ে দেখতে গেলাম কী হলো।চারপাশে যারা যেখানে ছিল সবাই ঠিক সেখানেই আছে।কেউ মাটিতে পরে নি।দেখি তো তাবুতে যারা আছে তাদের তো কিছু হলো না আবার।না তো,তাবুতেও তো কারও কিছু হয় নি।তাহলে কি কানে ভুল শুনলাম,হতে পারে,কারণ আমি চাঁদের দিকে ধ্যান দিয়ে বসেছিলাম,তাই হয় তো ভুল শুনেছি।তবুও মনে একটা খটকা রয়েই গেল।
এখন আর চাঁদ দেখায় মন দেওয়া যাচ্ছে না,বারবার মন ওই শব্দটা নিয়ে ভাবছে।রাত মনে হয় এখন দুইটা বাজে,চাঁদটাও পশ্চিমে চলে গেছে,আর একটু পর ডুবে যাবে।ঠিক তাই হলো চাঁদ ডুবে গেল।রাতের একটা অদ্ভূত আলোয় আমি একা একা বসে আছি।ভাবছি কবিতা চর্চা করব এখন।কবিতা নিজের মতো করে ছন্দ দিচ্ছি।হঠাৎ আবার ওই শব্দটা শুনলাম,কেউ যেন পরে গেছে,এবার খটকা লাগল।কী হচ্ছে এসব।আবার মশাল হাতে গেলাম,গাছের নিচ থেকে উপর পর্যন্ত দেখছি,মাটিতেও দেখছি।এবারের শব্দটা মনে হয় আমি ছাড়াও আরও কয়েকজন শুনেছে,তানিম ভাইয়াও ঘুম হতে উঠল,আমার সঙ্গে আসল।ওনি আর আমি প্রায় আধঘন্টা ভালো করে সব খুঁজলাম।কেউ পড়ে যায় নি আবার শব্দটার কোনো উৎসও পাচ্ছি না।ভুল হলে একজনের হয়,দুজনের তো হয় না।
এবার আর কোনো কিছুতে মনোযোগ দিলাম না। আবার শব্দটা শুনব বলে অপেক্ষা করলাম।কিন্তু আর শব্দটা হলো না।একটা নিশাচর প্রাণীকে দেখেছিলাম,ওইটার চোখ জ্বলজ্বল করছে।কাছে আসে নি।
ফজরের ওয়াক্ত মানে সুবাহ সাদিকের আগের সময়টাও চলে আসল।সবাইকে ডেকে তোললাম।সবাই ওঠল।আজও রনি ভাইয়া আজান দিল,ইয়াসির চাচা নামাজ পড়ালেন।নামাজ শেষে আমি ঘুমাতে গেলাম।
ঘুমে একটা দুঃস্বপ্ন দেখলাম,দেখলাম আমি একা বসে আছি,আমার পাশে একটা অ্যানাকোন্ডা সাপ পড়ল গাছ থেকে।আমার দিকে হাঁ করে আছে এবং এগিয়ে আসছে,ভয়ে আমার শরীর শিহরীত হয়ে যাচ্ছে।আমি দৌড়াতে লাগলাম।সাপটাও আমার পিছনে আসছে।হঠাৎ আমায়য় একটা কিছু পেঁচিয়ে ধরল,বুঝলাম আমায় অ্যানাকোন্ডাটা ধরেছে।আমি চিৎকার করতে লাগালম।
রুবি আপু বললেন,,,"এই তুমি এমন করছ কেন,চিৎকার করছ কেন,কী হয়েছে???"
আমি ছটফট করে ঘুম হতে উঠলাম।এটা স্বপ্ন ছিল নিশ্চিত হয়ে মনটা শান্ত হলো।
হৃদয় ভাইয়া:কী এমন হলো যে চিৎকার করছ???
আমি স্বপ্নটা সবাইকে বললাম,তবে গতকাল রাতের শব্দটার কথা কাওকে বললাম না।ভয় পাবে।
মেহেদী ভাই:কাল আমি পাহাড়া দিব,তুমি ঘুমিয়ে নিও,না হলে না ঘুমিয়ে শরীর খারাপ করে ফেলবে।
মফিজুল:আমিও মেহেদী ভাইয়ার সঙ্গে পাহাড়া দিব।
আমি বিছানা থেকে নামলাম,দাঁত মাজলাম।মুখ ধুয়ে আসলাম নদীর পানিতে।সারা,পুষ্প,সুস্মিতা, তুবা,ইভা,রামিশা,শিখা,আনিকা সবাই একসাথে খেলা করছে।রান্নার কাজ শেষ,তানিম ভাইও এতোক্ষণে সব খাবার চেখে ফেলেছেন।মেহেদী ভাই,রনি ভাই,ফারহান, সিয়াম,মফিজুল,সামির,মেহরাজ ভাইয়া, সবাই বসে আছে,আড্ডা দিচ্ছে।রুবি আপু,তাহিরা আপু,রেহনুমা আপু,জান্নাত আপু,এরা সবাই নিজেদের মাঝে দুষ্টুমি করছে।আকিতা ভাবী পাশে বসে আছে,বাংলা তো বুঝে না,তাই ফ্যালফ্যাল করে তাকাচ্ছে,সবাই যখন হাসে তখন তিনিও হাসেন।
মি.A,, মাহিন,ফাহাদ,হৃদয় ভাই,আর উপজাতি যোদ্ধারা এক জায়গায় বসে আছে।কিছু কথা হচ্ছে তাদের মাঝে।আমি তানিম ভাইকে ডেকে জেনে নিলাম রাতের শব্দটার কথা কাওকে বলেছেন কিনা, ওনি বললেন বলেন নি,ওনার বুদ্ধি দেখে খুশি হলাম।আর ব্যাপারটা গোপন রাখতে রাজি ওনি।
সকালের খাবারটা যথারীতী হলো।আজ আমার শরীরটা কাহিল লাগছে,প্রায় সবাই কাহিল হয়ে গেছে,এই দুইদিন নৌকা বেয়ে।আজ আর নৌকা বাওয়ার ইচ্ছা নেই।মি.A বললেন,চলো আজ এখানে একদিন বিশ্রাম নিয়ে নিই।আমরা রাজি।ঠিক হলো আমরা দলে দলে জঙ্গলে যাব।আমি,মি.A, হৃদয় ভাইয়া,মেহেদী ভাইয়া,রুবি আপু,আনিকা,সারা,সিয়াম আর ফারহান একসাথে দল বেধে যাব।অন্যান্য দলে আছে রনি ভাই,সাঈম ভাই,ফাহাদ,সামির,মেহরাজ ভাইয়া,তাহির আপু,রেহনুমা আপু,সুস্মিতা,মফিজুল,ঐশী,তুবা আপু,ইভা,শিখা,সামিয়া,লারা,কথা,মাহিনসহ আরও অনেক জিজে।মোট পাঁচটা দল হলো।আমরা দল ঠিক করার পর,এবার রেডী হয়ে নিচ্ছি।মূলত স্কাউটদেড মতো সবটা এলাকা দেখে এসে রিপোর্ট করতে হবে।এটাতে একটা লাভ হলো আমরা এই এলাকাটা নিয়ে তাহলে ভালোকরে জানতে পারব।আমিও রেডী হচ্ছি।সবাই রেডী হয়ে এলাম।একটা জায়গায় জরো হলাম।মি.A আমাদের উদ্দেশ্যে একটা বক্তৃতা দিলেন,কী করে নিরাপদ থাকতে হবে,কী হডে সাবধানে থাকতে হবে সবই তিনি বলার চেষ্টা করলেন।মনোযোগ দিয়ে সবটা শুনলাম।এবার কাজ হলো রওনা হওয়া।
এবার বনে ঘুরতে যাব।বনে কী কী হবে জানতে পরের পর্বে চোখ রাখুন।
[নিজেকে আমি চরিত্রে কল্পনা করুন,আর সব ঘটনাটা কল্পনা করার চেষ্টা করুন।তাহলে ভালো লাগবে।কেমন লাগল গল্পটা জানাবেন।ভুল ত্রুটিগুলো বলবেন।]
চলবে,,,
আল বিদা,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now