বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখকঃ আরিফ আজাদ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
人 ১১.বসন্ত এসে গেছে 人
হৃদয়ে যে বসন্ত আসে, সেই বসন্তের নাম দ্বীন। এই বসন্তের আগমনে হৃদয়কাননে ফোটে শুদ্ধতার ফুল। অন্তরমননে জাগে শুভ্রতার শিহরন। এই বসন্ত অন্তরে জ্বেলে দেয় আলাের মশাল। সেই আলােতে দূর হয় হৃদয়ের সমস্ত অন্ধকার। জেগে উঠে ম্রিয়মাণ বৃক্ষরাজি। এই বসন্ত অন্তরে বইয়ে দেয় খুশির কল্লোল। হৃদয়গহীনে প্রস্ফুটিত করে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন।
দ্বীনটাকে জীবনে বাস্তবায়ন করা এক অর্থে খুব সহজ, আবার অন্য অর্থে খুব বেশি সহজ নয়। যারা সত্যিকার অর্থে দ্বীনে প্রবেশ করতে চায়, যাদের অন্তর আপাত বিস্মৃত থাকলেও ইসলামের ভালােবাসা হৃদয় থেকে একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি, তাদের জন্য আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, নিজের নফসের ধোঁকা থেকে পরিত্রাণ লাভ করা, সর্বোপরি দ্বীনকে নিজের ব্যক্তিগত জীবনে বাস্তবায়ন করাটা সহজ হয়ে যায়। কোনাে ব্যক্তি যখন জাহিলিয়াতের আবরণ ছেড়ে ইসলামের দিকে ধাবমান হতে চায়, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই তার জন্য সিরাতুল মুস্তাকিমের রাস্তা খুলে দেন। পথের প্রতিবন্ধকতাগুলাে দূর করে দেন। অন্তরকে প্রশস্ত করে দেন। এ বিষয়ে কুরআনে চমৎকার একটি আয়াত আছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলছেন-
ومن يتق الله يجعل له مخرجا ويرزقه من حيث لا يحتسب ومن يتوكل على الله فهو حسبه
যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য সমস্যা থেকে উত্তরণের)। রাস্তা বের করে দেন। আর তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক প্রদান করেন। যা সে কল্পনাও করতে পারে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট [1]
আল্লাহকে ভয় করা মানে আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা পালন করা এবং আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা এড়িয়ে চলা। এই একটি বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে একজন মুমিনের গােটা জীবনপ্রণালি। তার অন্তরে হয় তাকওয়া তথা ‘আল্লাহভীতি থাকে, নয়তাে তার অন্তর হয় তাকওয়াশূন্য। যার অন্তরে তাকওয়া থাকে, সে কখনােই আল্লাহর অবাধ্য হতে পারে না। সে কখনােই সালাত ছেড়ে দেয় , সিয়াম ছেড়ে দেয় না। তার দুনিয়ার জীবনের পরতে পরতে থাকে আল্লাহভীতির ছাপ। সে যখন নির্জনে, একাকী অবস্থায় থাকে, যখন পাপের সাগরে নিশ্চিন্তে ডুব দেওয়ার অবাধ সুযােগ তার সামনে আসে, যখন দুনিয়ার কোনাে চোখ তাকে দেখতে পায় না, কোনাে কান তাকে শুনতে পায় না, ঠিক তখনাে সে গুনাহের কাজে লিপ্ত হয় না। সে বিশ্বাস করে, দুনিয়ার সকল চোখ আর কানকে ফাঁকি দেওয়া গেলেও আসমানে যিনি আছেন তাকে ফাঁকি দেওয়া যায় না। তিনি সর্বাবস্থায় সব দেখেন, সব শােনেন। গভীর সাগরতলে পাথরের ওপর হাঁটতে থাকা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীব থেকে শুরু করে কোটি আলােকবর্ষ দূরের গ্রহাণু—সবকিছুর ওপর রয়েছে তাঁর সমান সজাগ দৃষ্টি। এই বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করার নামই হলাে তাকওয়া। এটাই হলাে আল্লাহভীতি। এই বৈশিষ্ট্য যার হৃদয়-মননে প্রােথিত, সে কখনােই আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে পারে না। পারে না আল্লাহর নিষেধকে জীবনে জড়িয়ে নিতে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন, যে আল্লাহকে ভয় করে, অর্থাৎ যার অন্তরে তাকওয়া আছে তার জন্য বিপদ থেকে উত্তরণের পথ আল্লাহ নিজেই তৈরি করে দেন। আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে চাওয়া মানুষের জন্য এরচেয়ে খুশির সংবাদ আর কীই-বা হতে পারে? আমার মনে পড়ে, আমি যখন দাড়ি রাখা শুরু করি, তখন নানান লােক আমাকে নানান কথা শােনাত। এলাকার মুরব্বি গােছের লােকগুলাে। চোখের কোণা দিয়ে তীব্র অবহেলা মিশ্রিত চাহনি সহকারে বলত, ‘মাথায় ভীমরতি। চেপেছে নাকি? তােমার বাপে মােছ রাখে নাই, তুমি বানাইছ একহাত লম্বা দাড়ি।
তখন দ্বীনে একেবারেই নতুন। কেবল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের। সুন্নাহকে ভালােবেসেই দাড়ি রেখে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তী প্রতিক্রিয়া হিশেবে । এলাকার মানুষগুলাের তির্যক মন্তব্য, এমনকি আমার পরিবারের সদস্যদের নানান কটু। কথায় আমি তখন খণ্ডবিখণ্ড প্রায়। একে তাে বেকার অবস্থা, তার ওপর হঠাৎ করে। এমন পরিবর্তন! চারদিক থেকে আমার ব্যাপারে নানান আলাপ, নানান গুঞ্জন চাউর হতে লাগল। এমন বিপদের দিনে আমার ওপর বর্ষিত হয়েছিল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অপার দয়া। তিনি আমার জন্য সহজ করেছেন বিপদসংকুল যাত্রা। আমার অন্তরকে তিনি ভরে দিয়েছেন ঈমানী জযবাতে। দ্বীনের বুঝটাকে আমার জন্য খুব সহজ করে দিয়েছেন যার ফলে মানুষের কথায় আমি কষ্ট পেতাম না, হতাশ হতাম । দাড়িতে নিজেকে কখনাে পশ্চাৎপদ মনে হতাে না। বরং অন্তরে এক অন্য রকম স্নিগ্ধতা বিরাজ করত সর্বদা। মনে হতাে আমি আল্লাহর রাস্তায় আছি। এই পথেরই তাে সন্ধান করে বেড়াই প্রতি রাকআত সালাতে। ইহদিনাস সিরাত্বাল মুস্তাকীম। এটাই তাে সেই আরাধ্য জীবন যার স্বপ্ন বুকে বুনে চলেছি প্রতিনিয়ত। তাহলে এই জীবনে কেন আমি আশাহত হব? কেন ভাবব, আমি অন্যদের চেয়ে অসুন্দর আর পশ্চাৎপদ? আমার এই যে চিন্তার শক্তি, এই শক্তিটুকু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই আমার অন্তরে দান করেছিলেন। ফলে দ্বীনে ফেরার প্রথম দিকের সেই দিনগুলােতে আমি সংযমী হতে শিখেছি। ধৈর্যধারণের প্রাথমিক পাঠ আমি তখনই লাভ করেছি। বুঝতে শিখেছি, আল্লাহর রাস্তায় চলতে গেলে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার দরকার হয়।
যারা সত্যিকারঅর্থেই আল্লাহর জন্যই বদলাতে চায়, তাদের জন্য এই আপাত অসম্ভব খুব সহজেই সম্ভব হয়ে যায়। ফিরাউন বাহিনীর কবল থেকে মুসা আলাইহিস সালামকে উদ্ধারের জন্য নদীর মাঝে আল্লাহই তাে রাস্তা তৈরি করে দিয়েছিলেন। তিনিই তাে ইবরাহিম আলাইহিস সালামের জন্য নমরুদের আগুনকে শান্ত করে দিয়েছিলেন। মাছের পেটে ইউনুস আলাইহিস সালামকে তিনিই রক্ষা করেছেন। যখন ইহুদিরা ঈসা আলাইহিস সালামকে হত্যা করতে আসে, তখন আল্লাহই পরম মমতায় তাকে দ্বিতীয় আসমানে তুলে নেন। হিজরতের দিন যখন গুহামুখে অত্যাচারী কুরাইশরা ঘুরঘুর করছিল, তখন মহামহিম আল্লাহই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করেছিলেন। এসব হলাে তাকওয়ার ফল। তাদের অন্তরে এমন উঁচু স্তরের তাকওয়া বিদ্যমান ছিল।
উক্ত আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেছেন, তাকে এমন উৎস। থেকে রিযিক প্রদান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। এই অংশটার খুব। উদাহরণ আছে নবি মুসা আলাইহিস সালামের জীবনে। ফিরাউনের রাজ্য থেকে পালিয়ে তিনি যখন মাদইয়ান নগরে চলে আসেন, তখন তিনি স্রেফ একজন আগন্তুক। হরহারা পথিক। মাথা গোঁজার এতটুকু ঠাঁই নেই কোথাও। কিন্তু অন্তরভরা ঈমান আছে। দিল-ভরতি তাকওয়া। সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর আছে অগাধ আস্থা, বিশ্বাস। আল্লাহর প্রতি এমন নতজানু হৃদয় যার, তার কি রিযিকের ব্যাপারে কোনাে চিন্তা থাকতে পারে? মুসা আলাইহিস সালামকেও চিন্তিত হতে হয়নি। একেবারে অপরিচিত আগন্তুক হয়েও তিনি মাদইয়ানে পেয়ে গেলেন আশ্রয়ের সন্ধান। দুজন মহিলার বকরিকে পানি পান করিয়ে দেওয়ার পর তিনি হাত তুলে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করলেন, হে আমার রব, নিশ্চয় আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবেন, আমি তারই মুখাপেক্ষী।[১] তার এই দুআর মধ্যে ভাববার মতন অনেক উপকরণ রয়েছে আমাদের সামনে। মহিলাদের উপকার করে তিনি তাদের কাছে আবদার করে বলেননি, আমাকে আজ দুপুরে কিছু খেতে দেবেন?। উপকারের প্রতিদান তিনি মানুষের কাছে চাননি। চেয়েছেন আল্লাহর কাছে। এটাই তাকওয়া। এটাই ঈমান। আল্লাহর কাছে চাইতে গিয়েও তিনি বলেননি, ‘আল্লাহ, আমি তাে মেয়ে দুটোর উপকার করলাম। এখন আপনি আমাকে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিন। তিনি এভাবেও চাননি। বরং তিনি বলেছেন, “হে আমার রব! আমার প্রতি যে অনুগ্রহ আপনি নাযিল করবেন, আমি তারই মুখেপেক্ষী।
তিনি আল্লাহর কাছে নির্দিষ্ট করে কিছু চাননি। কী দেবেন সেই ব্যাপারটা আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করেছেন। আল্লাহ যা-ই দিবেন তাতেই তিনি খুশি। তিনি নির্ভর করেছেন আল্লাহর ওপরে। আর যারা আল্লাহর ওপরে নির্ভর করে তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হয়ে যান। মুসা আলাইহিস সালামের বেলাতেও তা-ই ঘটল। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কন্যাদ্বয়ের বাবার মাধ্যমে তাদের বাড়িতে নবি মুসার থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করে দিলেন। এটাই আল্লাহর অনুগ্রহ। এটাই আল্লাহর অপার দয়া। মুসা আলাইহিস সালাম খানিক পূর্বেও জানতেন না, মাদইয়ানে তিনি কোথায় থাকবেন, কী খাবেন, কী করবেন। একটু পরেই আল্লাহ তার জন্য রিযিকের সমস্ত দরজা উন্মুক্ত করে দিলেন। যারা আল্লাহর ওপরে ভরসা করে, আল্লাহর রাস্তায় থাকতে চায়, আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে চায়, তাদের জন্য এভাবেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সবকিছুকে সহজ করে দেন।
সেই ছােট্ট বয়সেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে হৃদয়ে বসন্ত। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু তখন খুব ছােট। মাত্রই ১৩ বছরের বালক। আনয়নের জন্য কিছু কার্যকরী উপদেশ দিয়েছিলেন। হৃদয়কাননে বসন্ত বাহার চাষের সেই গল্পটা আমরা আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাসের মুখ থেকেই শুনতে পাই। তিনি বলেছেন।
একদিন আমি ঘােড়ায় চেপে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেছন পেছন যাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘আব্দুল্লাহ, আজ আমি তােমাকে কিছু কথা শিখিয়ে দেবাে। তুমি সর্বদা আল্লাহকে স্মরণে রেখাে, তাহলে আল্লাহ তােমার ব্যাপারে যত্নশীল হবেন। তুমি তাঁকে স্মরণে রেখাে, তাহলে তাঁকে তােমার পাশে পাবে। যখন কিছু চাইবে তখন কেবল আল্লাহর কাছেই চাও। যখন তােমার সাহায্যের দরকার হবে, তখন কেবল তাঁরই মুখাপেক্ষী হও। বাবা, মনে রেখাে, যদি গােটা দুনিয়াও তােমার কল্যাণার্থে একত্র হয়, তথাপি আল্লাহ তােমার কল্যাণ না চান, তাহলে কারও সাধ্য নেই যে, তােমার একবিন্দু পরিমাণ কল্যাণ করে। আবার, যদি গােটা দুনিয়াও তােমার ক্ষতি করার জন্য একত্র হয়, তথাপি আল্লাহ তােমার কল্যাণ চান, তাহলে কারও সাধ্য নেই যে, তােমার একবিন্দু পরিমাণ ক্ষতি করে।”l1]
চমৎকার এই উপদেশগুলাে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছিলেন বালক ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুকে। নিজের জীবনে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে উপাদান দরকার, তার সবটুকুই এই হাদিসের মধ্যে বিদ্যমান। তিনি বলেছেন আল্লাহর হকগুলাের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে। যদি আল্লাহর হকের ব্যাপারে সতর্ক থাকা যায়, তাহলে আল্লাহ আমাদের প্রতি যত্নশীল হবেন। আমরা আল্লাহকে আমাদের পাশে পাব। আমাদের সুখে-দুখে, সর্বদা। আল্লাহর হকগুলাে কী? ইবাদতই হলাে আল্লাহর হক। আমাদের সালাত, আমাদের সিয়াম, হজ, যাকাত এবং কুরবানি। আমরা যদি এগুলাের ব্যাপারে যত্নশীল হই, তাহলে আল্লাহও আমাদের ব্যাপারে যত্নশীল হবেন। তিনি আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হবেন। আমাদের রিযিক বাড়িয়ে দেবেন। তিনি বলেছেন যদি কিছু চাইতে হয়, তাহলে কেবল আল্লাহর কাছেই চাইতে। আমরা মনে করি, আল্লাহর কাছে কেবল পরকালের বিষয়াদিই চাইতে হয়। দুনিয়ার কোনাে কিছুই মনে হয় চাওয়া যায় না কিংবা চাওয়া ঠিক না। এটা নিতান্ত ভুল ধারণা। কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দুনিয়ার
উত্তম জিনিসও চাওয়ার জন্য বলেছেন। আমরা দুআর মধ্যে পড়ি, রাবানা আতিনা। ফিদ-দুনইয়া হাসানাহ। দুনিয়ার উত্তম বস্তু চাওয়াতে কোনাে মানা নেই। জীবনে বসন্তের ছোঁয়া আনতে এগুলােই হলাে বুনিয়াদি ব্যাপার। ইবনু আব্বাসকে দেওয়া নবিজির এই উপদেশগুলাে উম্মাহর সকল যুবকের জন্যই প্রযােজ্য।
আপনি যখন দ্বীনের পথে হাঁটতে শুরু করবেন, তখন আপনার মনে অন্য রকম এক খুশির কল্লোল প্রবাহিত হবে। সেই খুশি হারাম থেকে বেঁচে থাকতে পারার খুশি। সেই খুশি আল্লাহর আনুগত্য করতে পারার খুশি। সেই খুশি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে, তার শিক্ষাকে জীবনে বাস্তবায়িত করতে পারার খুশি। মােবাইল-কম্পিউটার থেকে আপনি যখন গান আর মুভির ফোল্ডারটা এক ক্লিকে ডিলেট করে দেবেন, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আপনি যখন এতদিনের হারাম রিলেশানশিপকে এক মুহূর্তে ত্যাগ করে ফেলবেন, আল্লাহর আদেশ মানার জন্যই যখন আপনি হারাম টাকার লােভনীয় বেতনের চাকরিটা চোখ বন্ধ করে ছেড়ে আসবেন, তখন আপনার মন এক অনুপম আনন্দে নেচে উঠবে। সেই আনন্দ পবিত্রতার আনন্দ। সেই আনন্দ হারাম থেকে নিজেকে মুক্ত করার আনন্দ। সেই আনন্দ রবের কাছে আত্মসমর্পণের আনন্দ। পাছে লােকে কিছু বলে'—কথাটাকে তােয়াক্কা না করে যখন আপনি মুখে দাড়ি রেখে দেন, তথাকথিত আধুনিকতার বলয় ছেড়ে যখন আপনি নিজেকে হিজাবে আবৃত করে নেন, যখন জীবনের প্রতিটি কাজে, কথায়, চিন্তায় আপনি সৎ থাকেন, তখন আপনার মনে দোলা দিয়ে যায় বসন্তের হাওয়া। হাজারাে প্রতিকূলতায় আপনি দিশেহারা হন না। শত ঝড়-ঝঞাটেও আপনি ভেঙে পড়েন না। আপনার হৃদয়ে বয়ে চলা বসন্ত বাতাসের স্নিগ্ধতার কাছে এ সমস্ত সংকট নিতান্তই তুচ্ছ। হৃদয়মননে যে বসন্ত এসে গেছে তা ধরে রাখুন। আল্লাহর কাছে আকুল ফরিয়াদ করে বলুন, ‘ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত কালবি আলা দ্বীনিক। এই দুআটা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের শিখিয়েছেন যার অর্থ—“হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আপনি আমার অন্তরকে দ্বীনের ওপর দৃঢ় রাখুন।[১]
দ্বীনে প্রবেশের অর্থই হলাে একটা যুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়া। সেই যুদ্ধটা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বলবৎ। সেই যুদ্ধটা নিজের সাথে। নিজের নফসের সাথে। শয়তান ওয়াসওয়াসার সাথে। এই যুদ্ধে লড়তে গিয়ে আমরা বারবার পিছিয়ে পড়তে পারি।। ভেঙে পড়তে পারি। আশাহত হতে পারি। তাই এ রকম অবস্থাতেও যেন আমাদের। পদস্থলন না ঘটে, যাতে আমরা সিরাতুল মুস্তাকিমের পথ থেকে বিচ্যুত না হই, এজন্যেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দুআ আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন।
চলবে ইনশাআল্লাহ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now