বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পড়ন্ত বিকেলে অহনা মন খারাপ করে বসে আছে তার বাসায়।কারণ তার বন্ধুদের সাথে কক্সবাজার ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।কিন্তু প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে।এর মধ্যে অহনার বান্ধবী মিলি এসে হাজির হলো অহনার বাসায়।অহনার বাশার পাশেই মিলির বাসা।আর তারা দুজন খুব ভালো বন্ধু।
মিলি এসে অহনাকে বললো কিরে অহনা মন খারাপ করে বসে আছিস কেনো?
অহনা:-কলেজ এর বন্ধুরা মিলে সবাই ঠিক করলাম কক্সবাজার ঘুরতে যাবো।সব পরিকল্পনাও তৈরি ছিল।বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুমুদ্র সৈকত কক্সবাজার দেখতে যাবো এটা ভেবে আমরা অনেক খুশি ছিলাম।কিন্তু হঠাৎ করোনা ভাইরাস এসে সব মাটি করে দিল।এখন তো ঘর থেকে বের হওয়াই মুশকিল।কবে যে এই ভাইরাসটা যাবে তার তো কোনো লক্ষণই দেখতে পাচ্ছি না।ধ্যাত কিছু ভাল লাগে না আর।
মিলি:-সত্যি করোনা ভাইরাস এসে সব কিছু উলটপালট করে দিল।তোর মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক।কিন্তু অহনা আসল সৌন্দর্য কিন্তু তোর বাড়ির আশেপাশে আছে তুই কিন্তু সেটার দিকে নজর দিচ্ছিস না।
অহনা:-মানে কি বলতে চাচ্ছিস তুই মিলি?কোথায় আসল সৌন্দর্য আছে?
মিলি:-কেনো তোর বাসার পাশে পেয়েরা গাছে টুনটুনি পাখি বাসা বেধেছে।তাছাড়া গাছে গাছে আম, লিচু,কাঠাল ধরছে।পাখির কিচিরমিচির শব্দ,তোদের বাসার সামনে ফুল বাগানে গোলাগ,গাঁধা,সন্ধ্যামালতি সহ আরো কত ফুল ফুটে আছে এগুলোই তো আসল সৌন্দর্য।এগুলো নিয়ে কি ভাবিস না তুই?
অহনা:-তুই কি পাগল হলি নাকি।এগুলো কি বলছিস।এসব তো সাধারণ বিষয়।প্রকৃতির নিয়মে এসব হবেই।তাছাড়া এসব দেখে আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি।আমার একটাই আফসোস আমি কক্সবাজারে যেতে পারলাম না।
মিলি:-তুই কক্সবাজারে যেতে পারিস নি তাতে তুই আফসোস করছিস।কিন্তু অনেক মানুষ আছে যাদের সামর্থ নাই দূরে যাওয়ার।তারা নিজে বাড়ির নিজ গ্রামেই থেকে যায়।এতেই তারা কিন্তু খুশি।আবার কত মানুষের কাছে বিদেশে থাকার সৌভাগ্য হয়।যেখানে অনেক সুযোগ সুবিধা থাকে দেশটাও ছবির মতো সুন্দর হয়।কিন্তু সেই ব্যাক্তি যায় না।তার কাছে তার মায়ের কোল নিজ গ্রাম নিজ এলাকার সৌন্দর্য টাই বেশি গূরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে।আর যারা বিদেশে চলেও যায় পরিস্থিতির কারণে,পেটের দায়ে তাদের মনটা পড়ে থাকে সেই গ্রামের মেঠো পথ,ধানের ক্ষেত,গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পুকুর,পুকুরের পাশে কাশফুল,শীতকালে ঘাসের উপর শিশির বিন্দু,শীতের সকালের মিষ্টি রোদ এগুলো সে খুব মনে করতে থাকে বিদেশ থেকে।তাই বার বার সে ফিরে আসে দেশে এবং তার সেই গ্রামে।নিজ গ্রামেই সে প্রক্রিত সৌন্দর্য খুজে পায়।
অহনা:-সত্যি তো এভাবে ভেবে দেখি নি কখনো।কিন্তু তাই বলে কি আমরা দূরে কোথাও ঘুরতে যাবো না?
মিলি:-কেনো যাবি না অবশ্যই যাবি।আমি নিজেও দূরে ঘুরতে যেতে চাই।অজনাকে জানতে চাই।তুই ও দূরে যা সব জায়গা পারলে ঘোর।তাছাড়া কোনো জায়গার সৌন্দর্য ভালোভাবে অনুধাবন করতে হলে সেই জায়গাতে গিয়েই সেটা অনুধাবন করা দরকার।কিন্তু পরিস্থিতি সবসময় অনূকুল থাকে না যেমন এখন নাই।তাই আমার মত হচ্ছে পরিস্থিতি অনূকুল থাক বা না থাক আগে নিজের ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্য গুলো ভালোভাবে দেখা দরকার আমাদের।তারপর যাওয়া দরকার দূরে কোথাও ঘুরতে।মানুষ আজ হাজার হাজার টাকা খরচ করে বাইরে ঘুরতে যায়।কিন্তু নিজ বাড়ির পাশে যে কত ফুল ফুটে আছে, পাখিরা গান গাচ্ছে,শীতকালে বাড়ির আশে পাশে কুয়াশা জমে আছে,শীতের সকালে কুয়শা কে সড়িয়ে দিয়ে মিষ্টি রোদের আগমন ঘটছে,শড়িষার খেতে শড়িষার ফুল ধরে চারিদিক হলুদের সমারোহ হয়ে আছে,বর্ষাকালে বৃষ্টির পরে আকাশে রংধনুর দেখে মিলেছে,কদম গাছে কদম ফুল ফুটেছে ইত্যাদি হাজারো রকম সৌন্দর্য একজন মানুষের বাড়ির আশে পাশেই আছে।কিন্তু আমারা সেই সৌন্দর্য দেখার প্রতি আগ্রহ পোষণ করি না বা নজর ই দেই না।বাড়ির আশেপাশের সৌন্দর্যের সব নমুনা আমাদের সামনা সামনি থাকে না থাকে একটু লুকিয়ে তাই বলে কি সেই সৌন্দর্য আমরা খুজবো না?কিন্তু আমরা তো বাড়ির আশেপাশে লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্য কে না খুজে ছুটে যাই দূরে কোথাও সৌন্দর্য দেখতে।
অহনা:-হুম তুই ঠিক বলছিস মিলি।আমার ভূল হয়ে গেছে মিলি।প্রকৃত সৌন্দর্য যে আমার বাড়ির আশে পাশেই থাকতে পারে সেটা কখনো চিন্তাই করি নি আমি।যাই হোক চল আমাদের পেয়ারা গাছের কাছে গিয়ে দেখি টুনটুনি পাখিটা বাসায় ডিম দিলো নাকি এবং ডিম ফুটে নতুন বাচ্চা বের হলো নাকি।তারপর অহনা এবং মিলি তাদের বাড়ির পাশের সৌন্দর্য দেখতে চলে গেলো।
জীবনের এই কর্মব্যাস্ত সময়ে আমরা একটু ঘুরাফেরা সময় তেমন পাই না।আর যখন সময় পাই,একটু ছুটি পাই তখন হাজার হাজার টাকা খরচ করে চলে যাই দূরে পাহাড় দেখতে সমুদ্র দেখতে।কিন্তু নিজ বাড়ির আশেপাশে যে হাজারো সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে সেই কথা নিয়ে আমরা কয়জন ভাবি বা ভাবার মত মন মানসিকতা থাকে কয়জনের?বাড়ির পাশের সৌন্দর্য দেখতে কিন্তু আপনার পকেট থেকে কোনো টাকা খরচ হবে না।আপনার যদি সামর্থ্য থাকে তাইলে আপনি অবশ্যই দূরে যাবেন,বেড়াবেন, সৌন্দর্য উপভোগ করবেন কিন্তু তার আগে নিজ বাড়ির আঙ্গিনার দিকে একটু লক্ষ রাখবেন।পরে দেখবেন হয়তো আপনি সেখানেই পেয়ে গেলেন লুকিয়ে থাকা প্রকৃত সৌন্দর্যের হাজারো নমুনা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now