বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কলমদানী (Part 3)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান NaiRa AhmEd (০ পয়েন্ট)

X ফাইজু দরজা খুলে ফাহাদকে দেখে একটা সুন্দর হাসি দিলো। ফাহাদের চেহারা ভাবলেশহীন। ফাইজু ফাহাদকে জিজ্ঞেস করলো, -কি হয়েছে? -মশা কামড়াইছে। ফাহাদের কথা শুনে ফাইজু হেসে উঠল।মশা কামড়ালে মানুষের রাগ হয়,কিংবা বিরক্তি হয়।কিন্তু মন খারাপ হয় এটা তার জানা ছিল না। ফাহাদ ভিতরে ঢুকে মার দিকে একবার তাকিয়ে নিজের রুমে চলে গেল। মাঝারি আকৃতির রুম।পিছনের দিকে একটি জানালা আছে।এই জানালা দিয়ে কিন্তু সুন্দর প্রকৃতি দেখা যায়না।পাশের বাড়ির বেলকনি দেখা যায়।আর নিচ থেকে যে ড্রেনটা চলে গেছে,তার গন্ধটা ভালমতো পাওয়া যায়।যদিও এই বিষয় নিয়ে ফাহাদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই।কারণ সে ইদানিং নাকে কোনো গন্ধ পাচ্ছেনা। ফাহাদ টেবিলে পড়তে বসলো। এদিকটা থেকে ড্রয়িংরুমের মানুষের কার্যকলাপ ভালোমতো দেখা যায়। ফাহাদের ইচ্ছা থাকা না সত্তেও তার চোখ বার বার ওদিকেই যায়। তখন ওখানের কেও এদিকে তাকালে চোখাচোখি হয়ে যায়। ব্যাপারটা অস্বস্তির হয়ে দাড়ায়। ফাহাদের বাবা নিজের রুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িংরুমে এসে বসলেন।তিনি এখানকার বেসরকারি গার্লস স্কুলের টিচার।মানুষটার চেহারার ভিতর গাম্ভীর্য ভাব থাকলেও কোনো শিক্ষক শিক্ষক ভাব নেই।এনাকে দেখলে মনে হয় ইনি খুব গম্ভির ধরনের মুদি দোকানদার।যদিও এনার গম্ভিরতার দুই এক ফোটাও দুই ছেলেমেয়ের কেও পায়নি। ফাইজুর টিচার পড়াতে এসেছেন।অতিরিক্ত ফর্সা হওয়ার কারনে এনাকে মাঝেমাঝে কুষ্ট রুগির মতো লাগে।লম্বা চওড়া ধরনের চিকন চাকন মানুষ। ফাইজুর বাবা বিনা কারনে এই লোকটাকে অত্যন্ত পছন্দ করেন।টিচারের নাম আব্দুল মুত্তালিব।নামটা বুড়ো বুড়ো ধরনের হলেও ইনি নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বয়সী। মানে ২২ বছর বয়স।অনার্স সেকেন্ড ইয়ারের পরীক্ষা দিয়েছেন।এখনো রেজাল্ট বের হয়নি। ফাইজু আব্দুল মুত্তালিবের কাছে পড়তে বসলো। আব্দুল মুত্তালিব বলল, -আজ গনিতের হোমওয়ার্ক করেছো? -না স্যার। -কেনো? -আমার কতো কাজ,স্যার। -কি কাজ? -অভিকে খাওয়ানো, গোসল করানো,ভাইয়ার কাছে নিয়ে যাওয়া, ওকে টাইম দেওয়া,আরও অনেক কিছু স্যার। -অভি কে? -আমার বিড়াল,স্যার। -ওহ আল্লাহ!আর ভাইয়ার কাছে নিয়ে যাওয়া মানে? -আসলে ভাইয়ার কাছে নিয়ে না গেলে ওর টয়লেট হয়না, স্যার। -আজব মেয়ে!আচ্ছা নতুন Math করতে হবে।খাতা দাও।তোমাকে Practically বোঝাই। দেখো,এটা একটা চাকা।আর এটা আরেকটা চাক্কা।বলোতো কি বললাম.. -দেখো,এটা একটা চাকা।আর এটা আরেকটা চাক্কা। তাকিয়ে আছেন কেনো,স্যার? -তুমি আমাকে ব্যাঙ্গ করলা কেনো? -কই স্যার?আপনিই তো বললেন। -ওহ।আর শোনো,প্রত্যেক sentence এর শেষে স্যার বলার কোনো দরকার নেই।আমি জানি আমি তোমার স্যার। -ওকে স্যার। আব্দুল মুত্তালিব একটি হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে ফাইজুকে পড়াতে শুরু করল। রাত ২:৫১ মিনিট। ফাহাদের বালিশের তলায় লাইট জ্বলছে।বোধহয় কেও কল করছে।লাইটটা কিছুক্ষণ জ্বলে আবার নিভে গেলো। আবার লাইট জ্বলছে।ফাহাদ এবার ফোনটা হাতে নিয়ে রিসিভ করলো।ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলল, -হ্যালো,নিলয়। -হুম।ফাহাদ শোন।আমার এই কলমদানী আসলে তেমন কোনো স্পেশাল ম্যাটিরিয়াল দিয়ে তৈরী না।এটা একটা স্পেশাল ডিজাইন দিয়ে করা।এটাকে যদি কেও দূর থেকে দেখে,তাহলে তার এটার কাছে আসতে ইচ্ছা করবে।কাছে আসলে এটাকে হাতে নিতে ইচ্ছা করবে।মানে এটা মানুষকে Attract করে।আর এই কলমদানিটা যার সে এটার মাধ্যমে মানুষ কে হিপটোনাইজ ও করতে পারে।বুঝছিস? -হুম। -কি বুঝছিস? কি হলো কথা বলছিস না কেন? -ঘুমাই -ওহ নো।তুই আমার কথা কিছুই শুনিসনি।আমাকে আবার তোকে নতুন করে বোঝাতে হবে। ফাহাদ এবার ফোনটা ঠিকভাবে কানে ধরে শোয়া থেকে উঠে বসল।আর নিলয়কে বলল, -এই কুত্তার বাচ্চা,তোর কি আমাকে রাস্তার কুত্তা বিড়াল মনে হয়?আমি কি ওদের মতো সারারাত জেগে কাটাই?তুই এতক্ষণ কি ছাগলের মতো ভ্যা ভ্যা করছিস,আমি কিচ্ছু বুঝিনাই।তুই এখন ফোন রাখ।ঘুমাইতে দে। -আরে শোন তো -তোরে ফোন রাখতে বলছি।তুই ফোন রাখ। নিলয় ফোনটা কেটে দিয়ে হাসতে হাসতে শুয়ে পড়লো। চলবে...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কলমদানী (Part 6)
→ কলমদানী (Part 5)
→ কলমদানী (part 4)
→ কলমদানী (Part 2)
→ কলমদানী (part 1)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now