বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ইসরাত বই নিয়ে বসে আছে।রনির কথা মনে পড়লো।কেমন যেন করে তাকিয়ে থাকে রনি।তাহলে সত্যিই এই ইসরাতের প্রেমে পড়ে গেলো রনি।ইসরাত এসব ভাবতে লাগলো।রিফাহ বলল,"কিরে কি ভাবিস তুই?"
"না কিছু না এমনি।"
"এমনি মানে?বল না কি ভাবছিস?"
"এই তোর রনি ভাই কি মেয়ে দেখলে তাদের দিকেই হা করে তাকিয়ে থাকে?"
"আরে না না না।রনি ভাইয়া মোটেও ঐরকম ছেলে না।"
"তাহলে যে আমার দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে।"
"এইটাই বুঝিস না?ভাইয়া তোর প্রেমে পড়েছে?"
"কি সত্যিই রনি আমার প্রেমে পড়েছে!!"
"হুমম এ কয়েকদিন ভাইয়ার আচার আচরণও পাল্টে গেছে।হিহিহিহি"
ইসরাত মনে মনে ভাবতে লাগলো"সত্যিই কি রনি আমার প্রেমে পড়েছে! কেমন করে যেন তাকিয়ে থাকে।মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে।"
ইসরাত রিফাহর দিকে তাকিয়ে বলল,"ওহ।"
"শোন ইসরাত ভাইয়া কিন্তু খুব ভালো ছেলে কিন্তু একটু দুষ্টু।দুষ্টু হলেও মানুষ ভালো।বিয়ের প্রস্তাব যদি নিয়ে যায় আমার মনে হয় তোর বাবা মা এত সহজে না করবে না।"
"এসব কথা বাদ দে তো।"
ইসরাত আবার পড়তে লাগলো।পরদিন ইসরাত পার্কে গেল।রনিও গেল।দেখলো ইসরাত।কাছে যেয়ে বলল,"এইযে আমি কি পাশে বসতে পারি?"
ইসরাত রনির দিকে তাকিয়ে বলল,"হুমম বসো।"
রনি ইসরাতের পাশে বসলো।রনি বলল,"আচ্ছা তোমার বাড়ি কোথায়?"
"বগুড়ায় আমার বাড়ি।"
"ওহ।"
"শুনেছি তোমাকে মানুষ নাকি ইচ্ছামতো সুন্দর নামে ডাকে।"
"হুমম ডাকে।তুমিও ডাকবে নাকি?"
"কি নামে ডাকবো?"
"অনেকেরই ইসরাত থেকে রাত্রি বলে ইসরাত্রি বলে।তুমি আমাকে রাত বলে ডাকতে পারো।এই নামে অবশ্য কেউ ডাকে না।তুমি ডেকো।"
"দিন রাতের ওই রাত বলে ডাকবো?"
"হ্যা দিন রাতের রাত ইংলিশে নাইট।"
"ওহ সুন্দর এটাই সুন্দর।"
"রাত আমার খুব পছন্দ।পূর্নিমার রাত আরো অনেক সুন্দর।পূর্ণিমার রাতে আমি একা একা ছাদে যাই।রাত ১-২ টায়।মাঝে মাঝে রিফাহও আমার সাথে যায়।"
"হুমম রাত।"
"আচ্ছা তুমি কি করো মানে তোমার তো পড়ালেখা শেষ তো কি করো?"
"আমি ইঞ্জিনিয়ার।"
"ওহ আচ্ছা রনি আমি এখন যাই।"
রনি ভাবতে লাগলো,"এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবে?আরেকটু থাকলে কি হতো?"
রনি বলল
"আচ্ছা যাও।"
ইসরাত হাঁটা শুরু করলো।রনি খেয়াল করলো ইসরাতের পা থেকে পায়েল পড়ে গেলো।কিন্তু ইসরাত বুঝতে পারেনি।রনি পায়েলটা তুলে পকেটে রাখলো।ইসরাত বাসায় গেলো।পায়েলের কথা মনে পড়লো।পুরা বাসা খুজল কিন্তু পেলো না।রিফাহকে বলল,"এই রিফাহ আমার পায়েল দেখেছিস?"
"নাতো।"
"সত্যি বলছিস তো?"
"আরে দেখলে তো বলতামই।সত্যি বলছি।"
"আমি খুঁজে পাচ্ছি না।পুরো বাসা খুঁজেছি।"
"তাহলে বাইরে কোথাও ফেলে এসেছিস?"
"হয়তো হতে পারে।পার্কে গিয়েছিলাম।"
"ওহ।"
"পায়েলটা আমার খুব পছন্দের ছিল।"
"ওহ কি করবি বল?হারিয়ে গেল যে।তুই তার চেয়ে সুন্দর পায়েল কিনিস।"
"হুমম তাই করতে হবে।"
ইসরাতের মনটা খারাপ হয়ে গেল।সত্যি ওই পায়েল ইসরাতের পছন্দ খুব।
রনি দেখলো তার খুব কাছের বন্ধু শান্ত আর নীরব গল্প করছে।রনি তাদের দুজনের মাঝে যেয়ে বসলো।তারপর পায়েলটা বের করে দেখতে লাগলো।শান্ত বলল,"কিরে রনি কি হয়েছে তোর?এই পায়েল কার?"
নীরব বলল,"আরে বুঝিস না?রনি প্রেমে পড়েছে হয়তো।পায়েলটা মনে হয় ওই মেয়ের?"
রনি বলল,"শান্ত তোর বউ ভালো আছে?"
"হ্যা খুব ভালো আছে।"
রনি এখনো পায়েলের দিকে তাকিয়ে আছে।বলল,"নীরব তোর হবু বউয়ের কি অবস্থা?"
"ভালো কিন্তু তোর কি অবস্থা?"
রনি পায়েল পকেটে রেখে দিল।ফোন করে ইসরাতের ফটো বের করে বলল,"দেখ তো এই মেয়েটা কেমন?"
শান্ত বলল,"অসাধারন সুন্দর!!"
নীরব বলল,"হুমন অনেক সুন্দর।"
রনি বলল,"শুধু দেখতে সুন্দর না রূপে গুনে সব সুন্দর কন্ঠ এতো সুন্দর গান জানে।আচার আচরণ কথাবার্তা সবই সুন্দর।হাসলে অনেক সুন্দর লাগে।"
শান্ত বলল,"ওহ তারমানে তুই এই মেয়ের।"
রনি শান্তর দিকে তাকালো।নীরব বলল,"তাহলে এটা আমাদের ভাবি।"
এখন রনি নীরবের দিকে তাকালো।শান্ত বলল,"আচ্ছা রনি তোদের প্রথম দেখা হয় কবে?"
রনি বলল,"আমার খালাতো বোন রিফাহর সাথে ইসরাতকে প্রথম দেখেছি।রিফাহ ইসরাতকে সাথে করে আমাদের বাড়িতে এসেছিল আমার সাথে দেখা করতে ।সেদিনই।নাম তার ইসরাত।"
শান্ত আর নীরব বলল,"ওহ।"
নীরব বলল,"আচ্ছা ভাবীর সাথে আমাদের দেখা করাবি কবে?"
"হবেনি দেখা নীরব।আচ্ছা নীরব তোর বিয়ে কবে?"
"এইতো সামনের মাসে।"
"ওহ খুব ভালো।আমাকে এখন যেতে হবে।"
রনি একটা সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে গেলো।যে লোকটার কাছে গেল তিনি বসে আছেন।রনি তার সামনে বসলো।
লোকটি বলল,"আপনার নাম কি?"
"আমার নাম রনি।"
"কি করেন?",
"আমি ইঞ্জিনিয়ার।"
"আপনার সমস্যার জন্য এসেছেন নাকি অন্য কারোর।"
"জ্বি আমার সমস্যা।"
"বলুন কি সমস্যা।"
"কয়েকদিন ধরে আমার কি যেন হয়েছে একটা মেয়েকে দেখার পর থেকে।মেয়েটিকে যেদিন প্রথম দেখি সেদিন বিছনায় শুয়ে ভাবছিলাম মেয়েটার কথা।ভাবতে ভাবতে বিছানা থেকে পড়ে যাই।তবুও ভাবনা শেষ হয় না।আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখি মাথা থেকে রক্ত ঝরছে।তারপর অজ্ঞান হয়ে যাই।"
"তারপর?"
"তারপর খালি ওই মেয়ে আর ওই মেয়ে।সকালে ঘুম থেকে উঠেই সবার প্রথমে তার কথা মনে হয়।চলাফেরা খাওয়া দাওয়া কাজ করার সময় একেবারে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত তার কথা মনে হয়।ঘুমের মাঝে হালকা জাগা পেলেও তার কথা মনে হয়।এক কথায় বলতে গেলে যতক্ষন জেগে থাকি ততক্ষণই।"
"তারপর?"
"তারপর তার একটা ফটো লুকিয়ে লুকিয়ে তুলি সারাক্ষনই খালি ওই ফটো দেখতে মন চায়।তার কথা বার্তা সবকিছু ভালো লাগে।হাসলেও ভালো লাগে রাগ করলেও ভালো লাগে।তবে কাঁদলে হয়তো কষ্ট লাগবে।সামনে কখনো কাঁদেনি।সব তো বললাম।"
"হুমম শুনলাম।"
"এখন বলুন আমার কি হচ্ছে এসব?"
"আপনি প্রেমে পড়েছে ওই মেয়েটার।তারপর ভালোবেসে ফেলবেন।"
"হুমম আমি এখন যাই।"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now