বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আম কুড়ানোর দিনে

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:ভৌতিক MH2 সেদিন কাল বৈশাখি ঝর হওয়ার সময় ছিল।আমাদের একটা আম বাগান আছে।আমার বাড়ি রাজশাহী জেলার পাটুলিয়াতে।আমাদের আম বাগান সহ আরও অনেক আম বাগান আছে আমাদের গ্রামে।যখনই আমের মৌসুম থাকে তখন যদি ঝর হয় তো প্রতিটা আম গাছের নিচে মানুষের ভিড় হয়।আম কুড়ানোর মজায় মেতে উঠা মানুষগুলোর বেশিরভাগই ছোট বাচ্চা বা কিশোর বয়সী ছেলে মেয়েরা। আমাদের বাড়ির পূর্ব দিকে আম বাগান আছে।বাগানটা আমার দাদার আমলের।আমাদের পাঁচ জন চাচা।আর আমার চাচাতো ভাই বোন বা আমরা মোট সংখ্যায় ১০ জন।আম বাগানে আম কুড়ানোর জন্য আমরা সবাই কাড়াকাড়ি করতাম।প্রায় ১ বিঘা জমির উপর বাগান।তাই ১০ জনের দৌড়াদৌড়ি করে আম কুড়ানোর প্রতিযেগীতা বেশ ভালোই জমত। সেদিন বৈশাখ মাসের ১৫ তারিখ।তখন কিন্তু বর্তমান সময়ের মতো এমন বৈশ্বিক জলবায়ু সমস্যা ছিল না।বৈশাখী ঝর গ্রীষ্মকালেই হতো।এখন তো আর তেমন দেখা যায় না সঠিক সময়ে ঝর আসতে।যখনকার কথা বলছি,তা আজ থেকে ৪০ বছর আগের কথা।তখন আমার বয়স আর কতো হবে এই ধর ১৪/১৫।তাই কিশোর বয়সে খুবই চঞ্চল চিত্ত নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম।আমার সমবয়সী আরেক চাচাতো ভাই ছিল তার নাম ছিল শাহেদ।তো বৈশাখ মাসের ১৫ তারিখ ছিল সেদিন,আমাদের বাড়ির মানুষ প্রায় অনেকেই সেদিন আমার ফুফাত বোনের বিয়ে খেতে গিয়েছিল।বাড়িতে ছিলাম আমি আর শাহেদ।আমরা বাগান পাহাড়ার জন্য ছিলাম।দুপুর বেলা যখন ভাত ঘুম দিচ্ছি তখন বাইরে জোরে বাতাসের শব্দ শুনলাম।বুঝলাম কাল বৈশাখী ঝর হচ্ছে।আমি আর দেরী না করে বাইরে এসেই বাগানে দৌড় দিলাম।কারণ আমি না এলে হয় শাহেদ সব আম নিয়ে নিবে নয়তো বা বাইরের প্রতিবেশীরা নিয়ে নিবে। বাইরে এসে দেখলাম শাহেদ আম গাছের নিচে দাড়িয়ে আছে।খানিকটা লম্বা লম্বা লাগছিল তাকে,কেন জানি না।তবু ব্যাপারটাকে পাত্তা দিলাম না।বললাম শাহেদ চল দেখি কে কত বেশি আম কুড়াতে পারি।শাহেদ কিছু না বলেই আম কুড়াতে লাগল।তো আমি কী আর বসে থাকব!!!আমিও আম কুড়াতে শুরু করলাম।আম কুড়াতে কুড়াতে কখন আমাদের পুরনো পুকুরের ধারের আম গাছের নিচে চলে এসেছি নিজেও জানি না।আরেকটা কথা বলে রাখি,জায়গাটা খারাপ বলে পরিচিত ছিল সবার মাঝে।আর দুপুর বা দিনের বিশেষ কয়েকটি সময়ে আমাদের ওইখানে যাওয়া মানা ছিল।কিন্তু তখন আমায় আম কুড়ানোর নেশায় পেয়েছে।আমি সাতপাঁচ না ভেবে আম কুড়াতে লাগলাম।এদিকের বড় আম গাছটা হতে প্রচুর আম মাটিতে পরছিল।আমিও তা আমার ছালা(পাটের বস্তায়) ভরছিলাম। আমি ওই বড় আম গাছটার নিচে আসলাম,এই গাছটা একদম পুকুর পাড়ে।আমি আসতে আসতে একদম পুকুরের পাড়ে চলে আসলাম।একটা অনেক বড় আম পড়েছিল সেখানে।কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো আমটি তার জায়গা হতে নড়ে নি।আমি যেই আমটা ধরতে যাব অমনি পা পিছলে পানিতে পরে গেলাম।বৃষ্টিতো পানিতে পা পিছলে পড়তেই পারি,কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যে ব্যাপারটা তা হলো আমার পায়ের নিচে মনে হচ্ছে কেউ আছে,সে আমার পা টেনে ধরছে,আমি কোনো মতে পানিতে ভেসে উঠছি।কানের কাছে যেন দাদার বলা কথাগুলো বাজছে,দাদা বলেছিলেন মুক্তিযোদ্ধের সময় এইখানে মতি রাজাকার অনেক মানুষকে মেরে পুকুরে ফেলে দেয়।তাদের নাকি অনেকসময় এখানে দেখা যায়।আমি বুঝতে পারছি না কী করব,এরাই কী তবে সেইসব অপশক্তি।শরীর যেন অবশ হয়ে আসছে,তখনই আমার মনে হলো আমার পাশে কেউ দাড়িয়ে আছে,পাশে ফিরলাম অতিকষ্টে,দেখলাম শাহেদ দাড়িয়ে আছে।আমারর গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছিল না,তবুও জোর করে অনেক কষ্টে ফিসফিস করে বললাম,"আমায় টেনে তোল শাহেদ।" শাহেদ আমার কথা শুনতে পেল কিনা জানি না,কারণ ও তখন বিভৎস রকমের হয়ে গিয়েছিল,ওর চোখ লাল হয়ে রয়েছে,আর কেমন যেন বিভৎস এক হাসি।সে আমার মাথা পানিতে চেপে ধরতে লাগল।আমার তখন মনে হলো আায়াতুল কুরসি পড়লে সব খারাপ কিছু চলে যায়,তাই কোনো মতে আয়াতুল কুরসী পড়া শেষ করলাম,যখনই আমার পড়া শেষ হলো তখনই আমার পা থেকে কারও হাতটা সরে গেল,আর শাহেদও অদৃশ্য হয়ে গেল। আমি তখন হতবাক,তবে তখনই লাফ দিয়ে কোনো মতে পাড়ে ওঠেই দৌড় লাগালাম।আর যখনই বাগানের মাঝ খানে আসলাম,তখনই কেউ একজন আমার ঘাড়ের বাম দিক দিয়ে টিপে ধরে,আর সামনে ছিল শাহেদ,ও জোরে জোরে খিলখিল করে হাসছিল।আমার শরীরের সমস্ত শক্তি তখন শেষ।আমার চারিদিকে অন্ধকার হয়ে গেল। যখন আমি চোখ খুললাম দেখলাম আমার মা বাবা,চাচা আর সব ভাইবোনরা আমার পাশে দাড়িয়ে বা বসে কাঁদছে।আমি বুঝতো পারছিলাম না যে আমি মরে গেছি না বেঁচে আছি।আমার বুঝতে দেরী লাগে নি যে আমি অজ্ঞান ছিলাম সেই সময়।আমার চারপাশে তাকাতে চাইলাম।কিন্তু চারপাশে তাকাতে পারছিলাম না,কারণ আমার ঘাড়ে প্রচন্ড ব্যাথা।দেখলাম,আমার মাথার কাছে একজন হুযুর বসে আছেন,ওনি কিছু দোয়া পড়ে আমার গলায় ফুঁ দিলেন আর সব ঠিক হয়ে গেল।পরে সবার কাছ থেকে জানতে পারি,সেদিন যখন আমি ঘুমিয়ে পরেছিলাম,তখন শাহেদ আমায় না বলে বিয়ে বাড়িতে চলে গিয়েছিল।বাড়িতে ছিলাম আমি একা।তাহলে আমি যাকে দেখলাম সে কে??? হুযুর বলেছিলেন,আম বাগানেরর একটা জ্বীন আমার উপর প্রচন্ড ক্ষ্রিপ্ত ছিল।ও এসব করেছে।আমায় নাকি মেরে ফেলার ইচ্ছা ছিল ওর,কিন্তু আমি আয়াতুল কুরসী পড়েছিলাম বলে নাকি পারে নি।আজও আমার সেই দিনের ঘটনার কথা মনে পরে। [অনেকদিন পর আবার একটা ভূতের গল্প লিখলাম।এটা আমার নিজের লেখা গল্প,আজ খুব দ্রুত লিখেছিলাম,তাই ভুল হতেই পারে।ভুল ত্রুটিগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।কেমন লাগল জানাবেন] আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now