বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি মাহিন। এবার এইস.এইস.সি পরিক্ষা দেওয়ার কথা ছিল আমার।কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে আপাততো পরিক্ষা স্থগিত হয়ে আছে।কবে আবার হবে বা এই বছর আর হবে কি না কেউ জানে না নিশ্চিতভাবে।সবাই তো মজা করে ইন্টার ৩য় বর্ষ বলে যাচ্ছে।আমাদের এই বছরের এইস.এস.সি ব্যাচ কে।যাই হোক পরিক্ষা স্থগিত হওয়ার কারণে পড়াশুনার প্রতি আগে যেইটুকু মনোযোগ ছিল এখন তেমনটা নাই।লকডাউনে মধ্যে ঘরের মধ্যে সুয়ে বশেই দিন কেটে যাচ্ছে।কিন্তু যখন একা থাকা হয় বেশি তখন আগের কথাগুলো মনে বেশি চলে আসে।অতীত ঘটে যাওয়া ভাল কথাও মনে চলে আসে আবার খারাপ কিছু অভিজ্ঞতার কথাও মাথায় চলে আসে।আর আজ আমি আমার সাথে ঘটে যাওয়া তেমন ই একটা ছোট খারাপ অভিজ্ঞতার কথা বলবো।আসলে সেই ঘটনা আমার কাছে খারাপ অভিজ্ঞতার থেকে বেশি সমধানহীন একটা ছোট্ট রহস্য মনে হয়।যাই হোক আজ থেকে প্রায় এক বছর আগের কথা।সময়টা হচ্ছে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের আরকি।আমি তখন ইন্টার ১ম বর্ষে পড়ি।যাই হোক ঘটনার দিন রাতে পড়াশুনা শেষ করে খাওয়া দাওয়া করে একটু টিভি দেখে রাত ১২ টার দিকে শুয়ে পড়ে আমি।অন্য দিনের মতই যেমনটা করি আরকি।আমি আবার বিছানায় শোবার পর ফেসবুক চালাই প্রতি রাতে।এটা আমার একটা অভ্যাস।যাই হোক এক ঘন্টা ফেসবুক চালিয়ে রাত ১ টার দিকে মোবাইল অফ করে শুয়ে পড়লাম।কিছু ব্যাতিক্রম মানুষ বাদ দিয়ে বেশিরভাগ মানুষেরই কিন্তু শোবার সাথে সাথে ঘুম আসে না।কারো ৫ মিনিট বা ১০ মিনিট বা কারো ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টাও লেগে যায় চোঁখে ঘুম আসতে।ঠিক তেমনি আমি নিরিবিলি বিছানায় শুয়ে আছি।তখন ও ঘুম আসে নি আমার।আমি একটু বিছানার সামনের দিকে তাকিয়ে কিছুটা সোজা হয়ে শুয়ে ছিলাম।হঠাৎ কোনো সতর্ক ছাড়াই একটা বিভৎস চেহারার অবয়ব আমার সামনে চলে আসলো।আমার যতটুকু মনে আছে চুল তার অনেক বড় বড় আর সে আমার দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আসতে আসতে এগিয়ে আসছে আমার দিকে।এই দৃশ্য দেখে আমি প্রচণ্ড ভয় পাই।আমি তাড়াতাড়ি আমার চোঁখ সামনের দিক থেকে সড়িয়ে নিয়ে ডান দিকে তাকিয়ে চোঁখ বন্ধ করে ফেলি এবং সূরা পড়তে থাকি।কিছুক্ষণ পর চোঁখ খলে আবার সামনের দিকে তাকিয়ে দেখি সেই অবয়বটা আর নেই।উধাও হয়ে গেছে আমার সামনে থেকে।এরপর আমার ভয় একটু কমে।আমি আমার পাশে থাকা মোবাইলটা অন করে সময় দেখি ১টা ১৫ কি ১ টা ২০ বাজছে আমার সঠিক মনে নাই।সেই অবয়ব আমার সামনে ছিল সম্ভবত ১ মিনিট এর মত হবে।যাই হোক তারপর আমি ভয় নিয়েই চুপচাপ ডানদিকে ফিরে আবার ঘুমানোর চেষ্টা করি।আর সামনে তাকাই না।তারপর কোনো এক সময় ঘুমিয়ে যাই।সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতের ঘটনাটা আমি আমার আব্বু আম্মুকে বলি।কিন্তু তারা বলে আমি এগুলো স্বপ্ন দেখেছি বা হতে পারে আমায় বোবা জ্বীন ধরেছিল।তারা আরো বললো একেবারে সোজা হয়ে শুতে না।ঘুমানোর আগে সূরা পরে গায়ে ফু দিতে।কিন্তু আমি আব্বু আম্মুকে বলছি আমি স্বপ্ন দেখি নাই।আমি জাগা ছিলাম তখনই দেখছি এসব।কিন্তু তারা কেউ বিশ্বাস করে না আমার কথা।আম্মু আবার এটাও বলে যে তোমার তন্দ্রা ঘুম এসেছিল হয়তো তখন তুমি ওগুলো স্বপ্নে দেখেছিলে।কিন্তু যার সাথে ঘটে সেই বুঝে ব্যাপারটা কতো ভয়ংকর ছিলো।অন্য কেউ সেটা বিশ্বাস করবে না এটাই স্বাভাবিক।যাই হোক আব্বু আম্মুর থেকে এমন যুক্তি শুনে আমি একটু হতাশ হলাম।
সেই ঘটনার এখন এক বছর পার হয়ে গেছে।কিন্তু আমার মনে সেই ঘটনার সেই ভয়ংকর দৃশ্যগুলো এখনো রয়ে গেছে এবং হয়তো সারাজীবনই থেকে যাবে।যখন ঘটনা ঘটার পরেরদিন আমি আমার এই ঘটনা ভূত এফএম এ রাসেল ভাইয়ের এর কাছে ইমেইল করি।আমি জানতাম হয়তোবা সিলেক্ট হবে না।সেটাই সত্যি হলো সিলেক্ট হয় নি ঘটনাটা।যাই হোক আমি এখনো ভাবি আমার সাথে যা হলো সেটা কি সত্যি আমার মনের ভূল ছিল?আমি কি সত্যি ওগুলো স্বপ্ন দেখেছিলাম?আমায় কি সত্যি কোনো বোবা জ্বীন ধরছিল?বোবা জ্বীন ধরলে তো হাত পা নাড়ানা যায় না।আর আমি হাত পা নাড়াতে পারছিলাম কি না আমার সেটা মনে নাই।তাছাড়া বোবা জ্বীন এরকম বিভৎস ভাবে কি কাউকে দেখা দেয়?ওই রাতের পর আমার সাথে আর কখনো এমন হয় নি।ওই অবয়বটা আর কখনো আমার সামনে আসে নি।সবাই এটাকে স্বপ্ন বললেও আমার কাছে তা স্বপ্ন মনে হয় না।আমি নিজের চোঁখে স্পষ্ট সব দেখেছি এবং আমি জাগা ছিলাম।আমি মনে করি আমাকে হয়তো কোনো জ্বীন ভয় দেখাইছিলো আর এটাই মনে মনে এতদিন ভেবে আসছি আমি।কিন্তু আসলে আমার সাথে ঘটে যাওয়ার সেই ঘটনার আসল রহস্যটা কি?সেটা আমার কাছে এখনো একটা রহস্যই রয়ে গেলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now