বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রফিক আজাদ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন ,
হা হয়ে যাওয়া গুহাটার দিকে ।
এমন ভাবে হা করে আছে যেনো আস্তো পুরে
ফেলবে ভিতরে ।
টর্চটা জালালেন ।
উজ্জল হয়ে উঠলো গুহাটার ভিতরকার পরিবেশ ।
সন্দেহের মতো তেমন কিছু নেই ।
অন্যসব গুহার মতোই স্যাতসেতে ।
তবে ছোটো গুল্ম লতা টাইপের কিচ্ছু নেই ভিতরটায় ।
সাধারনত অন্য সব গুহা এসব দিয়ে ভর্তি থাকে ।
এক জনের মতো ঢুকবার জায়গা আছে ভিতরে ।
তাহলে তিন তিন জন বালক গুম হলো কি করে ?
নাকি সব অবাস্তব কল্প কাহিনী ??
বন্ধুরা অন্য কোথাও গুম করে এই গুহার উপর দোষ চাপিয়ে
দিয়েছে ।আজ কালকের ছেলে পেলে বলে কথা !
ধুর ! এই গোয়েন্দা গিরী পেশাটা যতো সব যন্ত্রনার ।
___
সেদিন বিকেলে বসে ছিলেন অফিসে ।
হঠাত্ আদিম যুগের টেলি ফোনটা অর্তনাদ করে উঠলো ।
ধরতেই ..
__স্যার ,ভালো আছেন ।
__কে আপনি ?
__মানে স্যার আমি জয় পুর হাটের মকবুল ওসি বলছিলাম ।
__ও .. তো কি খবর টবর ?
__খবর তো ভালোই ছিলো এতো দিন । কিন্তু কালকের
ঘটনাটায় মস্ত ধকল যাচ্ছে ।
__কাল আবার কি হলো ?
__কেনো স্যার পত্রিকা পড়েন নি ।
__আরে এতো প্যেচানোর কি দরকার খুলে বল্লেই
তো পারেন ।
__মানে ,স্যার আমাদের গ্রামের পুব পাড়ে একটা টিলা আছে
। বহু বছর পুরোনো ।
টিলাটার একপাশে একটা গুহা ।
মানুষ বলতো ঐ টিলায় নাকি কেউ একবার ডুকলে আর ফিরে
আসে না ।
তো কয়েকটা ইস্কুলের ছেলে ওদের বন্ধুদের
সাথে বাজি ধরে গুহাটায় ঢুকে । আর ফিরে আসে নি ।
মহা টেনশনের আভা টা রফিক আজাদের ভাজ হয়ে যাওয়া
কপালে ফুটে উঠলো।
কালকের বন্ধটা একটু পরিবারের সাথে কাটানোর কথা
ছিলো তাও আর বুঝি হলো না ।
বিরক্তি মাখা ঝাঝালো স্বরে বল্লেন
__তো এখন কি আসতে হবে ??
__হ্যা ,যদি আপনি এসে একটু কুল কিনারা ধরিয়ে দিয়ে
যেতে পারতেন ।
না করতে পারলেন না । বহু পুরোনো বন্ধু বলে কথা ।
সেই রাতের ট্রেনেই ব্যাগ গুছিয়ে রওনা দিলেন ।
___
আস্হির হয়ে পায়চারী করছেন রফিক আজাদ ।
কিছুর সাথে কিছুই মিলছে না ।
এই সাইন্সের যুগে ও যদি ঐসব কল্প কাহিনী নিয়ে বসে
থাকতে হয় ।
মনে মনে দৃড় সংকল্প আটলেন ।
না , তিনি নিজেই নামবেন গুহাটাতে । আজগুবি কল্প কিহিনী
গুলো সব মিথ্যা প্রমান করবেন ।
আর সময় নষ্ট করলেন না ।
এখুনি নেমে পড়বেন তিনি ।
কেমন যেনো একটা আকর্ষন কাজ করছে । রফিক আজাদ
তা টের পেলেন না ।
টের পেলে হয়তো গুহাটার ধারে কাছে ও ঘেসতেন না
।
____
দুহাতে ভর দিয়ে নেমে পড়লেন ।
একটা ভেপসা গন্ধ ।
চর্তুপাশে গাছের গুড়ি ।তবে অদ্ভূত ব্যাপার হচ্ছে একটা
জীবের অস্তিত্ব ও ঠাওর করা যাচ্ছে না ।
এই মাঘ মাসে ও তিনি ঘামছেন ।
দর দর করে ঘাম আরো স্যাত স্যাতে করে তুলছে গুহার
মাটি কে ।
কেমন একটা শব্দ হচ্ছে ।
সাধারনত গুলি বাতাসকে ভেদ করে যাওয়ার সময় যে শব্দ হয়
ঐ রকম ।
ভয় ভয় করছে ।
মন কে অভয় দিতে উপরের দিকে তাকালেন ।
আগের তুলোনায় অনেকটা সরু হয়ে এসেছে গুহা মুখ ।
আকাশ দেখা যাচ্ছে না ।
এই ভর দুপুরে ও কুয়াশার মতো কিছু ভাসছে ।
বেশ ভয় পেয়ে গেলেন তিনি ।
না আর একমূহুতো ও নয় এই রাক্ষুসে গুহাটায় ।
বহু কষ্টে নিজের দেহটা বের করলেন গুহোটা থেকে
।
____
বেরিয়েই ভ্যাব চেকা খেয়ে গেলেন ।
এই মস্ত বড়ো দালান গুলো কখোন হলো !??
ঐ পশ্চিম পাশের জংঙ্গল টা গেলো কোথায় ?
চিমটি কেটে দেখলেন । অহু করে একটা অদ্ভূত শব্দ
বেরুলো মুখ থেকে ।
না সব তো ঘটছে বাস্তবেই ।
আরেকটু সামনে এগিয়ে এলেন ।
তাকে একা ফেলে গেলো কোথায় ওসি টা ?
হঠাত্ কোথাথেকে যেনো দুটো যুবক দৌড়ে এলো ।
অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো উনার দিকে ।
মুখ খুল্লো একজন ।
__দেখ ! এই সেই গোয়েন্দা রফিক আজাদ না ?
যিনি গুহার রস্য উদঘাটন করতে গিয়ে নিজেই রহস্য হয়ে
গিয়েছিলেন ???
__হ্যা ,হ্যাতো ! এই একই কাপড়ে আজথেকে দুশো
বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি ।
______
আর শুনার প্রয়োজন বোধ করলেন না তিনি ।
অসম্ভব ক্ষমতা আছে গুহাটার ।
টাইম চেন্জিং এর মতো ক্ষমতা ।
"
এখন তিনি যাবেন কোথায় ?কার কাছে যাবেন?
অত্নিয় স্বজনদের কবর ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাবে না ।
"
ফিরতি পথে হাটা দিলেন তিনি ...
ধিরে ধিরে এগুলেন গুহাটার কাছে ।
এর চেয়ে ভালো ,দেখাই যাক না কালের ঘুর্নন বলয় কে
পাশ কাটিয়ে কোন এক নবাগত যুগে পৌছে দেয় তাকে
গুহাটা .!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now