বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভূতের ভয়ংকর গল্প

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাদমান আল সিয়াম (০ পয়েন্ট)

X ##সাদমান আল সিয়াম মাঝ রাতে একটা বাচ্চার কান্নার শব্দ পাচ্ছি।ভালো করে শুনতে লাগলাম যে বাচ্চারা কান্না করলে যেমন শব্দ হয় তেমন শব্দ না অনেক টা অদ্ভুত শব্দ। কিছুটা ভয় করছে তাও সাহস নিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসলাম এর মধ্যে কুকুর ছানা ঘেউ ঘেউ করা শুরু করলো। আরো বেশি ভয় লাগছে। ফোন হাতে নিয়ে ফ্লাশলাইট অন করি আর অফ হয়ে যায়। কি করবো কিছু বুঝতে পারছি না। জোরে জোরে চিৎকার করে আমার কুকুর ছানাটাকে ডাক দিলাম, -পুনাহহহহ্ পুনাহহহ্ আমার কাছে আয়, ঘেউ ঘেউ করিস না। এদিকে আয়। পুনা আমার কোনো কথা শুনছে না।পুনা সারা রুমে দৌড়াদৌড়ি করছে। আমার শরীর ঘেমে একাকার হয়ে গেছে। এর মধ্যে বাচ্চার কান্নার শব্দ বন্ধ হয়ে গিয়ে নুপুরের ঝনঝন শব্দ শুরু হলো আবার কুকুর ছানা ঘেউ ঘেউ করতে লাগলো। মনে মনে ভাবতে আছি আজকে যা হওয়ার হবে তাও আমি দেখে ছাড়বো এই বাসায় কি আছে তাই খাট থেকে নেমে রুমের লাইট অন করলাম সাথে সাথে সব শব্দ বন্ধ হয়ে গেছে। রুমে লাইট অন রাখলে কোনো শব্দ আসে না তাই লাইট অন রেখে শুয়ে পরি। কুকুর ছানা (পুনা) ঘেউ ঘেউ করছে না চুপ করে ফ্লোরে শুয়ে আছে। আমার কিছুতে ঘুম আসছে না, এপাশ ওপাশ করছি। একটু পরে রুমের লাইট অফ হয়ে গেলো, কুকুর ছানা ঘেউ ঘেউ করতে শুরু করলো। ভয়ে কুঁকড়ে গেলাম তাই পাশে কাঁথা ছিলো সেটা মুড়ি দিলাম হঠাৎ অনুভব করলাম আমার শরীর কেউ স্পর্শ করছে। আমি হাত ছড়াছড়ি করতে লাগলাম কিন্তু কোনো লাভ হলো না শরীরে হাত বুলিয়ে যাচ্ছে, এক লাফে উঠে দাঁড়িয়ে লাইট অন করি সাথে সাথে সব ঠিক হয়ে গেলো। লাইটের সুইচের কাছে দাঁড়িয়ে আছি আবার যদি লাইট অফ হয়ে যায়। কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার পর শুনতে পেলাম কেউ হাড় কটমট করে খেলে যে শব্দ হয় সে রকম শব্দ হচ্ছে আর রক্তের বিশ্রী গন্ধ আসছে।গন্ধটা রান্না ঘর থেকে আসছে। আমি রান্না ঘরে যাওয়ার পরে নুপুরের ঝনঝন শব্দের সাথে হাড় কটমট খাওয়ার শব্দ দুটো মিলে পুরো বাসাটা কাঁপছে। আমি ঠিক করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না মনে হলো কেউ আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো। সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর দেখি আমি রান্না ঘরের দরজার কাছে শুয়ে আছি। রাতের সব ঘটনা মনে পড়ার সাথে সাথে আমি উঠতে লাগলাম কিন্তু উঠতে অনেক কষ্ট হচ্ছে সারা শরীর ব্যাথা হয়ে রয়েছে তাও কষ্ট করে উঠে ফোনটা হাতে নিয়ে আম্মুকে কল করলাম, -আম্মু তুমি আজকেই বাসায় আসো। -কেনো কি হয়েছে? রাতের সব ঘটনা আম্মুকে বলার পর বললো, -তুই কি ইলিশ মাছ এনেছিলি? -হ্যাঁ এনেছিলাম, কেনো ইলিশ মাছ এনেছি তাতে কি হয়েছে? - আমার আজকেই আসবো তারপর তোকে সব বললো আর হ্যাঁ দুপুরের জন্য মাছ, মাংস যা রান্না করবি তা রান্না ঘরের জানালা দিয়ে এক টুকরো ফেলে দিস। -আচ্ছা। এই বাসায় আম্মু -আব্বু দুইমাস আগে উঠেছে। এই দুই মাসে আমি বাসায় আসি নি। জব করি তাই পোস্টিং অন্য জায়গায় ছিলাম। কালকে সকালে বাসায় এসেছি আর বিকেলে আম্মু আব্বু নানু বাড়ি গিয়েছে নানু অনেক অসুস্থ দেখে। আমার যেতে ইচ্ছে করছিলো না সকালে জার্নি করে এসেছি আবার জার্নি করার ইচ্ছা নেই। দুপুরে খেয়ে ঘুমিয়েছি সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠে ইলিশ মাছ ভাজা আর খিচুড়ি খেতপ মন চাইছে। বাসায় ইলিশ মাছ নেই তাই বাজারে গিয়ে কিনে এনে রান্না করেছি। তারপর রাতে খাওয়ার পরের কাহিনী শুনছেন তো। আর হ্যাঁ আমার একটা কুকুর ছানা আছে (পুনা) ফ্রেস হয়ে নিচে গেলাম দারোয়ান আঙ্কেল কিছু জানতে পারে। -আঙ্কেল আমরা দোতালার পিছনের ফ্ল্যাটে থাকি, আপনার কাছে কিছু কথা জানার আছে। -বলো কি জানতে চাও? -কালকে রাতে আমি বাসায় একা ছিলাম তারপর আমার সাথে ভয়ংকর নানান ঘটনা ঘটেছে। একটু বলেন আমাদের বাসায় আগে কি হয়েছিলো। -না না আমি বলতে পারবো না -আপনার বলতেই হবে বলেন -নাহ্ বলবো না আমি কিছু জানি না -আঙ্কেল আপনার পরিবারের সাথে এমন কোনো ঘটনা ঘটলে আপনি কি চুপ করে বসে থাকতেন? আপনার পরিবারের কারো ক্ষতি হলে কি আপনার কষ্ট হতো না? আমার পরিবারের কারো কিছু হলে আমারও কষ্ট হবে তো। প্লিজ আপনি যা জানেন তাই বলেন । -আচ্ছা আমি সব বলছি কিন্তু কাউকে কিছু বলবে না যে আমি এসব বলেছি। -হুম -পনেরো বছর আগে এই ফ্ল্যাটে একটা পরিবার থাকতো। ছেলের বউকে গর্ববতী অবস্থায় শ্বাশুড়ি মেরে ফেলে তারপর মেয়েটার লাশ রান্না ঘরের সোজা বরাবর নিচে মাটি চাপা দিয়ে দেয়। মেয়েটাকে বটি দিয়ে খুন করে, সেদিন ইলিশ মাছ কেটে বটি না ধুয়ে রেখে দিয়েছিলো তারপর সেই বটি দিয়ে মেয়েটার গলা কাটে। এর পর থেকে এই ফ্ল্যাট যেই থাকে তারা যা রান্না করবে সেগুলো নিচে ফেলে দিলে খারাপ কিছু ঘটে না। -যে খুন করেছে তার কি কোনো শাস্তি হয় নি? -পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিলো তারপর শাস্তি কতোটা কি হয়েছে তা জানি না। -কোনো কি ব্যবস্হা নেই আত্মা মুক্তি পাওয়ার? -বাসার মালিক তেমন কোনো ব্যবস্হা নেয় না উনি ওসব বিশ্বাস করে না। -যদি আমরা ব্যবস্হা করি ওর আত্মা মুক্তি পাওয়ার তাহলে তো কোনো ঘটনা ঘটবে না। -হ্যাঁ, আমার চেনে জানা বড় মাওলানা হুজুর আছে সে পারবে এসব করতে। -আচ্ছা আঙ্কেল আপনি ব্যবস্হা করুন। -আচ্ছা বাসায় এসে একটু ঘুমিয়ে নিলাম তারপর গোসল করে দুপুরে খাওয়ার জন্য বাইরে গেলাম। বাসায় রান্না করে কোনো ঝামেলা বাঁধাতে চাই না। বিকেলে আম্মু আব্বু বাসায় এসেছে। সন্ধ্যার পরে দারোয়ান আঙ্কেল তার চেনে মাওলানা হুজুরকে নিয়ে এসেছে। তিনি সব ঘটনা শোনার পর বললেন, "লাশটা জানাজা দিলে তাহলে ওর আত্মা মুক্তি পাবে।" তিনি রাত বারোটার সময় মাটি খুঁড়ে লাশের হাড় খুঁজে বের করে জানাজা দিলো সাথে অনেক দোয়াদরুদ পড়লো এবং চারটি মোমবাতি জ্বালিয়ে দিয়েছে।তারপর আত্মাটা মুক্তি পেলো আর কারো ক্ষতিও হলো না। সমাপ্ত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সত্যিকারের ভূতের গল্প (ভয়ংকর পেত্নী)
→ ____ভয়ংকর_ভূতের_গল্প____
→ কুয়াশার ভূতের গল্প: ভয়ংকর এক লাশের কাহিনী
→ ভয়ংকর ভূতের গল্প
→ ইতিহাসের সেরা ভয়ংকর ভূতের গল্পঃ
→ ভয়ংকর সব মারাত্মক ভূতের গল্প
→ ভয়ংকর সব মারাত্মক ভূতের গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now