বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আকাশনীলার চিঠি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান স্নিগ্ধা আফসানা রোশনী (০ পয়েন্ট)

X আকাশনীলার চিঠি খামের রঙ হালকা নীল।তাকালেই একটুকরো নীল আকাশের কথা মনে পড়ে।এত চমৎকার রঙের খামের পাশে রাখা কাগজটার রঙ তেমন সুন্দর না।হলুদ রঙ্গের,কটকটা ,চোখে লাগে। কাগজে কাঁচা হাতে লেখা কিছু লাইন।মনে হচ্ছে চিঠির লেখক তার ভেতরের অস্থিরতাকে লেখায় ছড়িয়ে দিয়েছে।খুব তাড়াহুড়া করে লেখা হয়েছে যেন।পেন্সিল দিয়ে লেখা।পরিষ্কার করে বুঝতে কষ্ট হয়।রাবার ঘষে কিছু লাইন তুলেও ফেলা হয়েছে।কাগজটা চোখের সামনে ধরে ভালো করে তাকালে মুছে ফেলা লাইনগুলো বোঝা যায়।হলুদ রঙের কাগজে পেন্সিলের লেখা মানায় না।পড়তে কষ্ট হয়। খাম আর কাগজের মালিকের এসব নিয়ে আপাতত চিন্তা নেই।এত টুকিটাকি বিষয় নিয়ে মাথা ঘামালে চলে না।তার মাথায় ঘুরছে অন্য মাথায় ঘুরছে অন্য জিনিস।হলুদ রঙের কাগজটা চোখের সামনে ধরে দ্রুত চোখ বুলিয়ে গেল ও।কাগজটা ভাঁজ করে খামে ভরে ফেলল।খামটা এখন ঠিকঠাক জায়গায় পৌছাতে পারলে হয়।তর্জনীর মাথায় ভাতের আঠা লাগিয়ে বিথী যত্ন করে খামের মুখটা বন্ধ করে দিল। লম্বা করে একটা শ্বাস নিল বিথী।মিশনের প্রথম অংশ ঠিকঠাকভাবে শেষ হয়েছে।বাকিটা করাই মুশকিল।এটা করার জন্য অনেকখানী সাহস তাকে সঞ্চয় করতে হয়েছে।রাতের পর রাত জেগে কাটাতে হয়েছে।বাক্যের পর বাক্য সাজাতে হয়েছে।ব্যাপারটাকে যতটা সহজ মনে হচ্ছে ততটা সহজ আসলে ছিল না।সে মনে হয় সাহস ঠিক মতো সঞ্চয় করতে পারেনি।আরো করতে হবেই বলে মনে হচ্ছে।বুকের মধ্যে কেমন ঢিপঢিপ শব্দ হচ্ছে।এত জোরে শব্দ হচ্ছে কেউ পাশে থাকলে হয়ত শুনতে পেত!ভাগ্যিস এই ভরদুপুর বেলা তার হার্টবিট শোনার জন্য কেউ জেগে বসে নেই।সবাই ভাতঘুম দিয়েছে। একটু পরেই বিকেল নামবে,সবাই ঘুম থেকে উঠে যাবে।কাজেই তাকে যা করার তা এখনই করতে হবে।সে ভুল করছে না ঠিক করছে জানে না,জানে শুধু নিজের কথাগুলো না বললে সে মরেই যাবে।বিথী চোখ বন্ধ করল।তার গা কাঁপছে। শীতের দুপুরগুলো ঘুমানোর জন্য ভালো।খাওয়া-দাওয়ার পর লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুম।আরামে ঘুম দেওয়া।এক ঘুমে সন্ধ্যা। ইচ্ছা থাকলেও জহির এই আরামের ঘুম দিতে পারেনা,উপায় নেই।তাকে বাইরে যেতে হয়।ক্লাস টেনের একটা ছেলেকে সে সপ্তাহে তিনদিন ছাত্রের মা চান জহির প্রতিদিন পড়াতে আসুক।প্রথম কয়েকদিনেই ছাত্রের অবস্থা জহির টের গেছে।কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানো গেলেও একে পাকানো যাবেনা।সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।কোনমতে পরীক্ষায় পাশ করিয়ে আনতে হবে।নয়ত বেতনের টাকাটা হালাল হবেনা। প্রায়ই তার ইচ্ছা করে টিউশনীটা ছেড়ে পালাতে।ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই।এটা অনেক কষ্টে জোগাড় করেছে সে।ছেড়ে দিলে না খেয়ে থাকতে হবে তার। সবাই যখন দিনের ব্যস্ততা সেরে একটু জিরিয়ে নিতে ঘরে ফেরে দুপুরে,জহির তার চিলেকোঠার ছোট্ট ঘরটাতে তালা মেরে বের হয়।সারাটা সকাল ভালো একটা কাজ খুঁজতে পুরো শহর সে হেঁটে বেড়ায়।দপুর বেলাটায় ইচ্ছা করে বিছানায় একটু পিঠ দিতে।ক্লান্তিতে তার শরীর ভেঙ্গে আসে।ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসতে চায়।শীতের দুপুরের মিষ্টি একটু টুকরো রোদ তার জানালা দিয়ে ঘরে আসে,জহিরের ইচ্ছা করে আলোটা ছুঁয়ে বসে থাকতে।ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তার বড় মন খারাপ লাগে। ছাদের চিলেকোঠার ঘরটা খালিই পড়ে ছিল। চিলেকোঠার ঘরের চাবি দুটা।একটা বিথির মায়ের কাছে থাকে,অন্যটা বিথীর।মায়ের চাবিটা এখন তাঁর কাছে না থাকলেও বিথী তারটা এখনো রেখে দিয়েছে।এই মুহুর্তে সে চাবিটা হাতের মুঠোর মধ্যে নিয়ে বসে আছে।যেন মহামূল্যবান এক সম্পদ,মুঠো খুললেই হারিয়ে যাবে।বিথীর জন্য অবশ্যি তার রাগঘরের চাবিটা মূল্যবানই বটে। পা টিপে টিপে সে তা মায়ের ঘরে উঁকি দিয়ে এল একবার।ভারী নিশ্বাঃসের শব্দ শোনা যাচ্ছে।আরাম করে ঘুমোচ্ছেন।বিথী ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলল।তার নিজের ঘুম হারাম হয়েছে অনেক আগেই।দুপুর দূরে থাক,রাতের ঘুম হারাম হয়েছে আরো মাস তিনেক আগেই। ছাদের ছোট্টঘরটা হাত থেকে চলে যাচ্ছে এটা ভেবে প্রথমে প্রচন্ড রাগ হয়েছে বিথীর।যখন-তখন ছাদে যাওয়া যাবে না।মা নিষেধাজ্ঞা জারি করবেন।আরে সে কি বলেছে অন্য মানুষকে ছাদে জায়গা দিতে?এখন নিজের ঘরে বনবাসী হয়ে থাকো। এই ঘরটা তার নিজের,ছোট্ট একটা পৃথিবী।কত যত্ন করে সাজিয়েছে এটা।রঙ্গিন কাগজ কেটে দেওয়ালে লাগিয়েছে,মা জানালায় নতুন পর্দা বানিয়ে দিয়েছেন।বেতের বুকসেলফ ভর্তি করেছে বই দিয়ে।বাবা ঘরটাতে নতুন করে রঙ করে দিয়েছেন।বিথীর প্রিয় আসমানী নীল।ঘরের মাঝে বিথীর নিজের আকাশ তৈরী করেছে।এই ঘর এখন অন্য কাউকে ছেড়ে দিতে হবে ভেবেই তার গা জ্বলে যাচ্ছে।ঐ লোক যা দুপুরে খেয়ে-দেয়ে একটা গল্পের বই নিয়ে শুয়েছে বিথী।চোখটা কেবল লেগে এসেছে, তার মা থাকে ঠেলে উঠিয়ে নিচে নামিয়ে নিয়ে এলেন।ঘরটা ছেড়ে দিতে হবে!বিথী কিছুই বুঝতে পারছেনা,ঘুম থেকে উঠলে তার সবকিছু এলোমেলো লাগে। মানুষটা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে,রোগা,তালগাছের মতো লম্বা একটা মানুষ।যেন সে বিশাল অপরাধ করে ফেলেছে।পাশে মাটিতে রাখা তার জিনিসপত্র,বালতি,গামলা,লেপ,তোশক!এই সব জিনিস নিয়ে এই লোক বিথীর ঐ সুন্দর চিলেকোঠায় থাকবে!রাগে বিথীর গা জ্বলে যেতে লাগল।মেজাজ খারাপ করে ও দোতলায় উঠে গেল। বাবার উপর খুব রাগ হয় বিথীর।কি দরকার ছিল ঘরটা ভাড়া দেওয়ার!দিব্যি সে ছিল আরামে।আরামের তেরটা বেজে গেল। জহির নিজের ছোট্ট পৃথিবী বেশ গুছিয়ে নিয়েছে,বিছানায় ফুলতোলা চাদর দিয়েছে।জানালায় আসমানী পরদা।চিলেকোঠার দরজা খোলা রাখে সে,স্নিগ্ধ বাতাসে ঘর সুবাসিত হয় তার।বিকেলে ছাদে হাঁটতে হাঁটতে চোখের কোণা দিয়ে খোলা দরজার দিকে চোখ দেয় বিথী।আসমানী নীল তার প্রিয় রং।বিথীর কেমন অদ্ভুত লাগতে থাকে।সবকিছু ভালো লাগতে শুরু করে ওর।এমন অদ্ভুত অনুভূতি কেন হচ্ছে বিথী বুঝতে পারেনা,তার নিজেকে বড় এলোমেলো লাগে।সে বুঝে ফেলেছে তার কি করতে হবে! রাতে শোওয়ার আগে আরাম করে বিছানায় বসে দিনের শেষ সিগারেটটা ধরান বিথীর বাবা।দরজায় শব্দ হচ্ছে,বিথী দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। কি গো মা,কিছু বলবে? বিথী বুঝতে পারছেনা সে ঠিক করছে না ভুল!একটা মানুষ যার দিন কাটে রাস্তায় চাকরি খুঁজে,টিউশনি করিয়ে তার ব্যাপারে বাবাকে সে কি করে বলবে!বাবা-মা কি ভাববেন ওকে।কিন্তু বিথী এই মানুষটাকে...ওর কান্না পাচ্ছে খুব। তিন প্যাকেট রসমালাইয়ের দাম নিয়েছে প্রায় চারশ টাকা।জহিরের জন্য অনেক টাকা।কিন্তু আজ এটা |অড় গায়ে লাগল না,যে চাকরীটা হবেই না ভেবেছে,সেটাই হয়েছে।চিঠিটা পেয়ে আনন্দে ওর কাঁদতে ইচ্ছা করছিল।আরো একজনের চিঠি পেয়ে ওর কাঁদতে ইচ্ছা করে!প্রতিদিন চিঠি না পেলে ওর হাঁপানির টান ওঠে।একটাও ফিরতি চিঠি পাঠানো হয়নি।পাঠাবেও না,এবার ও সামনা-সামনিই উত্তর দেবে!এতটা সাহস কি কখনো জহিরের ছিল?ও জানেনা।জানতেও চায়না। বিথী শব্দ করে কাঁদছে।মতিন সাহেব তার মেয়েকে এমন ভাবে দেখেননি।তিনি মেয়ের মাথায় হাত রাখলেন। আগে কোনদিন চিঠি লেখেনি জহির,অনেক ভেবে-চিন্তে একটা লিখে ফেলেছে আজ।তার হাতের লেখাও ভাল না।সেটা নিয়ে তার সামান্য চিন্তা হচ্ছে।বিথী হেসে ফেলে কিনা কে জানে!জহির ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলল। আপনার হাতের লেখা তো খুব খারাপ! জহির মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে,সে খুবই লজ্জা পাচ্ছে। বিথী হেসে ফেলল,কোমল গলায় বলল,এতদিন লাগিয়ে দিলেন উত্তর দিতে!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now